খবর্নয়? (২৮শে এপ্রিল)


খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         





এবারের খবর্নয়? : ভোটপর্ব - আরো আধ ডজন

যাঁরা ভোট দিলেন না
স্বত:স্ফূর্ত ভোট বয়কট এবার কর্ণাটকের বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্রে। বারোটির বেশী বুথে টিকি মেলেনি একটি লোকের । গত বৃহষ্পতিবারের খাঁ খাঁ পোলিং বুথ, জনতার তরফ থেকে উন্নয়নের দাবীতে অনুপস্থিতিকে এক মৌন চ্যালেঞ্জ রূপেই দেখছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার। বেশ অনেক অঞ্চলেই এরা পানীয় জল, রাস্তা, সেতুর মত মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ব্যাঙ্গালোর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদেও ভোট পড়েনি বেশ কিছু বুথে।
২০০৪ এর লোকসভার ৬১ % র তুলনায় এবারের ৫১ % ভোটার উপস্থিতির হার উদ্বেগজনক বৈকি। এটি রাজনৈতিক দল ও জনমাধ্যম গুলির ভাববার বিষয় বলেই মনে করেন,কমিশনার বিদ্যাসুন্দর।
একটিও ভোট পড়লো না আসামের ধুবড়ী, লক্ষ্মীপুর, কাসেরুগুড়ি, গৌরীপুরের বেশ কিছু বুথে। সরকারের প্রতি বিক্ষোভের প্রতীক হিসেবে।
http://ibnlive.in.com
http://www.assamtribune.com



যাঁরা ভোট দেবেন না
ডেরা । দিল্লির থেকে মাত্র ১১৫ কিমি দূরে, দলিত অধ্যুষিত গ্রাম। কদিন আগের খবর্নয়(? )-তে খবর হওয়া দলিতদের সেই খানপুর মাধো গ্রামের সাথে পুরোপুরি মিলে যায় এই ডেরার অবস্থা। সেও এই দলিতনেত্রী শাসিত রাজ্যেই । সারা দেশে যেখানে ৬৯% লোকের কাছে বিদ্যুত পৌঁছেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি জনপ্রতিনিধিত্বকারী প্রদেশে সেই সংখ্যা মাত্র ৩৮ % আর ডেরা আর খানমাধোপুরের মত গ্রামে ? ০ %।
আর তাই ঐ গ্রামবাসীদের মতনই এঁদেরও আর আস্থা নেই কোন রাজনৈতিক দলের কোন প্রতিশ্রুতিতে। আস্থা নেই দলিত-রাজের উপরেও। আম্বেদকর বিদ্যুত প্রকল্পের তার চলে যায় পাশ দিয়ে ফার্মিং-এর জন্য। ডেরা গ্রামে ঢোকে না। 'আম্বেদকর গ্রাম' হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তেরো বছর পর ও খানপুর মাধো গ্রামে কিকরে আলো পোঁছায় না, সে নিয়ে
সরকারী আধিকারিকেরাও অন্ধকারে।
বান্তাহরা। লখ্‌নৌ থেকে মাত্র ২২ কিমি দূরের গ্রাম। কিন্তু রাজধানীর এই নৈকট্য এই গ্রামে সারা দিনে ৯০ মিনিটের বেশি বিদ্যুতের বন্দোবস্ত করে দিতে পারেনি, দূর করতে্‌ পারেনি জলের সমস্যা।
নিজেদের বঞ্চনার খবর পৌঁছে দিতে কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার থেকে নির্বাচন বয়কট করে দৃষ্টি আকর্ষণ করাই অধিকতর ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন এই সমস্ত গ্রামের অধিবাসীরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী কমল নাথের কেন্দ্র মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলা। পেঞ্চ তাপবিদ্যুত প্রকল্পের আওতায় এই গ্রামগুলি জলমগ্ন হয়ে যাবার প্রতিবাদে সেখানে বত্রিশটি গ্রামের তিরিশ হাজারেরও বেশি মানুষ ভোটার ভোট দেবেন না ও সেই মর্মে প্রতিবাদের রাজ্যপালের কাছে স্মারক লিপিও পেশ করার কথা ছিল কিষন সংঘর্ষ সমিতির। গত ২৩ শে এপ্রিল এই জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ার খবর এলেও এখনো জানা যায়নি, সত্যিই শেষ অব্দি ভোট বয়কট করলেন কিনা এই বত্রিশ হাজার মানুষ।
http://www.youtube.com/watch?v=CXL1C3vZvF0
http://www.screenindia.com
http://timesofindia.indiatimes.com
http://timesofindia.indiatimes.com/



আর যাঁরা ভোট দেবেন, তাঁরা যা বলছেন

   ভোট লড়ুন বাঁচতে
বিদর্ভের দেহগাঁও সহ দশটি গ্রাম খবর হয়েছিল ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে, গ্রামের কৃষকদের আত্মহত্যার প্রতিবাদী প্রতীক হিসেবে। সেই বিদর্ভেই এক কৃষক খবর হলেন, ভোটের প্রার্থী হয়ে। সদাশিবরাও চাতপ দাঁড়াচ্ছেন কংগ্রেস, বি জে পি র বিরুদ্ধে, নির্দল প্রার্থী হয়ে। এই সব বড় বড় পার্টিগুলির ঋণ মকুব করার পলিসি যে আদতে স্থানীয় কৃষকদের ঋণের সমস্যাটাকেই ধরতে পারেনা, সেই কথা বলতে। ব্যাংক ঋণ মকুব করার পলিসি ঘোষণা করা হয়, এদিকে অধিকাংশ চাষী ই এলাকার মহাজনের কাছে আটকা। কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা যে কিছুই কমে না, আশ্চর্য কি! এই সমস্যার পুরো সমাধান করার ব্যাপারে তাঁর সীমিত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেও তিনি মনে করেন,নিজেদের স্বার্থে পলিসি চাইলে নিজেদেরকেই পলিসি তৈরির জায়গায় যেতে হবে।
উল্লেখ্য,কৃষক আত্মহত্যার সাথে সমার্থক হয়ে যাওয়া এই বিদর্ভে কোন বড় পার্টি ই কিন্তু কোন কৃষককে প্রার্থী করার কোন প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি, দশটি কেন্দ্রের একটিতেও।

পুণের কাছে পিম্প্রির কাউন্সিলর মারুতি ভাপকর এবার মাভল লোকসভার প্রার্থী হলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ( SEZ ) বাতিল করার মূল অ্যাজেন্ডা নিয়ে। গত পাঁচ বছর ধরে এই অ্যাক্টিভিস্ট রয়েছেন নগ্নপদে। আর থাকবেন ও , যতদিন না অব্দি কৃষক, শ্রমিক আর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের অবস্থার উন্নতির জন্য উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন এনে দিতে পারেন। এটা গিমিক না আন্তরিক প্রচেষ্টা তা বিচার করবেন এলাকার ভোটাররাই।

দক্ষিণ মুম্বই শহরতলী। সুউচ্চ তাজ প্রেসিডেন্টের অনতিদূরেই বেঁটেখাটো জেলেবস্তির সারি। নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাতেও সেই বৈপরীত্যের সহাবস্থান। বর্তমান কংগ্রেস সাংসহ মিলিন্দ দেওরা, কর্পোরেট এক্সেকেটিভ মীরা সান্যাল এর মত হাই প্রোফাইল প্রার্থীদের সাথে রয়েছেন এক চওলের বাসিন্দা টেক্সটাইল শ্রমিক সূর্যকান্ত শিন্দে ও। কারণ দেওরা , সান্যালের মত প্রার্থীরা বোঝেন না তাঁদের সমস্যা, এঁদের দলের ইউনিয়ন গুলো দেখে না তাঁদের স্বার্থ। অসংগঠিত ক্ষেত্রের ন্যূনতম নিরাপত্তাহীন শ্রমিকদের স্বার্থ। নিজেরাই তাই বানিয়েছেন সংগঠন , লোক রাজ সংগঠন নামক সিভিল সোসাইটী গ্রুপের মত আরো কিছু সংগঠনের সমর্থন নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন লোকসভা নির্বাচনে।
মুম্বই এর সাম্প্রতিক সন্ত্রাস যেখানে সব পার্টির অ্যাজেন্ডাতেই, সেখানে শিন্দে ব্যবহার করছেন সন্ত্রাসের এক অন্য সংজ্ঞা।
বলছেন, 'সন্ত্রাস তো শুধু ২৬/১১ ই নয়। যে পলিসি একজন কৃষককে আত্নহত্যার মুখে ঠেলে দ্যায়, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকের শোষণের পথ কায়েম করে, সেই পলিসি ও সন্ত্রাস। অপুষ্টি , অনাহার, অমানবিক পরিবেশে বড় হতে থাকতঅ কৃষক, শ্রমিকের সন্তান ও ঐ সন্ত্রাসেরই শিকার। '
আরো।
ইনি একটি এফিডেফিট ও করিয়েছেন, এই মর্মে যে, তিনি জেতার পর যদি কাজ না করেন, ভোটারদের অধিকার থাকবে তাঁকে পদচ্যুত করার।
http://www.telegraphindia.com/

   চাই বুথ সংরক্ষণ
বিহারের এই দলিত গ্রামবাসীরা কিন্তু ভোট দিতে চান। ফুলওয়ারি শরিফ ব্লকের হাসানপুরের বাসিন্দারা। আর দিতে গিয়েও দিতে পারেন না। উচ্চবর্ণের দাভঙ দের কাছে দলিতদের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগের ইচ্ছা স্পর্ধার নামান্তর। তাই ভোটের লাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে উপেন্দ্র মাঝিকে এই শুনে ফিরে আসতে হয় যে তাঁর নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়ে গেছে। কখনো বা স্রেফ ভয় দেখিয়ে তাঁদের বুথ থেকে বিদায় দিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের আশংকা যে অমূলক নয় তা প্রমাণ হয়ে গেছে বিহারের প্রথম পর্বের ভোটে। ছাপড়ার লালবাজারের দলিত ভোটারদের একই কায়দায় ভোট দিতে দেওয়া হল না। প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ভাড়া করা গু¾ডাদের হাতে ছুরিকাহত হলেন এক দলিত ভোটার পি¿টু।
নাটকের পুনরাবৃত্তি আর চান না হাসানপুরের লোকজন।
সমাজের থেকে আলাদা ব্যবহার পেতে পেতে অভ্যস্ত এই ব্রাত্যজনেরা এবার চান "আলাদাই' ভোট দিতে। তাই তাঁদের দাবি আলাদা বুথের।
http://www.littleabout.com
http://www.dailyindia.com


   "নেতা শুনছেন?'
ভোট বয়কট নয়, পাল্টা প্রার্থীও নয়। তার বদলে রাজস্থানের গ্রামবাসীরা নিজেদের দাবীকে তুলে ধরার জন্য প্রকাশ করলেন পাল্টা ম্যানিফেস্টো। বারমের জেলার মরু অঞ্চলে কিছুদিন আগে গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কুয়ো খোঁড়ায় কোন লাভ তো হয়ই নি, উল্টে ক্ষতিই বেশী হয়েছে। আর তার পরই গ্রামবাসীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তৈরী করেন "উন্নয়ন চুক্তি'। এই কাজে তাঁদের সাহায্য করেছেন "জল ভাগীরথী ফাউন্ডেশন' নামে একটি গঋঘ, যাঁরা আশেপাশের অন্তত: ২০০ টি গ্রামে জল সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেন, এবং Transparency International (TI) নামে একটি দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থার স্থানীয় শাখা।
এই অভূতপূর্ব ম্যানিফেস্টোটিতে গ্রামবাসীরা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন পরবর্তী ছ'মাস বা এক বছরের মধ্যে কি কি উন্নয়নের কাজ করা প্রয়োজন। তাঁরা চান হবু সাংসদকে দিয়ে ম্যানিফেস্টোটি সই করিয়ে নিতে। চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে যে নির্বাচিত হবার প্রথম ১৫ দিনের মধ্যেই সাংসদকে অবশ্যই নিজের কেন্দ্রে আসতে হবে। TI এর অনুপমা ঝা উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন একই রকম ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করার ব্যাপারে। উন্নাও জেলাতে দূষিত পানীয় জলের সমস্যার জন্য আগে নির্বাচকরা ভোট বয়কট করার কথাও জানিয়েছিলেন।
একই রকম ভাবে মুম্বাইয়ে "নাগরিক দাবীপত্র' প্রকাশ করেছেন অগ্নি - ১৬ টি মিউনিসিপ্যাল ওয়ার্ডের জয়েন্ট এরিয়া অ্যাকশন গ্রুপ। নামী গঋঘ অক্সফ্যামের সহায়তায় তৈরী হয়েছে "অল ইন্ডিয়া পিপ্‌ল্‌স্‌ ম্যানিফেস্টো' - এখনও অবধি ১০০টি মতো কেন্দ্রে বিলিও হয়েছে এই ম্যানিফেস্টো। চুপ করে নেই জন স্বাস্থ্য অভিযানের মত জাতীয় সংস্থাও, যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন "পিপ্‌ল্‌স্‌ হেল্‌থ্‌ ম্যানিফেস্টো'। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট-এর অধ্যাপকদের উদ্যোগে তৈরী অ্যাসোশিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্ম্‌স্‌ প্রতিবারের মতো এবারও প্রার্থীদের অপরাধের ( criminal records ) তথ্য ও পরিসংখ্যান ছাপিয়ে বিলি করছেন অবাঞ্ছিত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া আটকাতে।
http://www.business-standard.com/


   ক্ষুধার রাজ্যও ভোট দ্যায় / পেটে খিদে, তবু ভোট
মধ্যপ্রদেশে গত ছয় মাসে মারা গেছে ছ'শোর ও বেশি শিশু, অপুষ্টিতে।
রাজা আসে রাজা যায়, সুলভে খাদ্য দেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। উলুখাগড়াদের প্রাণ কিন্তু সেই অনাহারেই শেষ হয়।
বাচ্চাদের জন্য বরাদ্দ দৈনিক অংগনওয়াড়ির মিল সপ্তাহে এসে পৌঁছয় মাত্র দ'¤বার।
প্রশ্ন করলে সাতনার বিজেপি সাংসদ বিস্মিত হয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ""এই লোকগুলো সবকিছুর জন্য সরকারের উপর কেন নির্ভরশীল? সরকার তাদেরই সাহায্য করে, যারা নিজেরা নিজেদের সাহায্য করে''। অতএব সরকার ভগবান ঠুঁটো জগন্নাথ হয়েই থাকেন।
একই গল্প ওড়িশা, মিজোরাম, ঝাড়খন্ড, রাজস্থানেও। নি:শব্দ ঘাতক "ক্রনিক হাংগার'। তার মোডাস অপারেন্ডি মোটমুটি একই রকম। খরা বা খাদ্য শস্যের অপ্রতুলতা ? উঁহু, উহা ক্যামোফ্লেজ মাত্র। আসল কথা হল, খাদ্যশস্য চাষ করার মত নিজেদের জমি নেই, সাবসিডাইজ্‌ড্‌ খাদ্যের যোগান নেই, যা আছে তা কেনারও বিলকুল সামর্থ্য নেই, কারণ রোজগার নেই। একে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা ও ভোটের পর সেগুলো ভুলে যাওয়া আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার গল্পও সব কটি রাজ্যেই একই রকম।
আর, আশ্চর্যের কথা, এসবের পরেও, একই রকম ভাবে আশাবাদী এখানকার লোকজন।
ওরিশার কাশিপুরের ধীরু কাকা , যাঁর স্ত্রী, কন্যা, জামাই, দুই নাতি - সকলে মারা গেছে অনাহারে, কিম্বা কালাহান্ডির হালদার মাঝি, যাঁর মা ও স্ত্রী খিদের জ্বালায় বিষাক্ত পাতা খেয়ে মারা যান, বাকি আরো জনা কুড়ি গ্রামবাসীর মতন , অথবা মধ্যপ্রদেশের শেওপুরের কালুনা সিং এর মতন লোকজন, যাঁর তিন সন্তান মারা গেছে অপুষ্টিতে।
কয়েক মাস আগেও এই সব এলাকায় ভোট বয়কটের সুর শোন গেলেও, এখন অন্য টেম্পো।
এঁরা সকলেই এখন মনে করছেন, সব কিছু গেলেও এখনো ভোট নামক একটি অস্ত্র তাঁদের কাছে আছে, যা দিয়ে তাঁরা তাঁদের মত করে শাস্তি দিতে পারেন অপদার্থ অপরাধী রাজনীতিকদের, পরিবর্তন আনতে পারেন।

এঁরা সবাই জানাচ্ছেন গণতন্ত্রের উপর আস্থা, ভোট দিয়ে।

http://www.tehelka.com


এবং, যাঁরা ভোট চাইছেন
কোন ইস্যুতে কী বক্তব্য তাঁদের ?
রাজনৈতিক দলগুলির গরমাগরম চাপানউতোর, প্রার্থীদের তরজা,গালগল্প, কেচ্ছা কাচাকাচি নিয়েই ভোটারদের যখন ব্যস্ত রাখছে চালু মিডিয়াগুলি, সেই বাজারে সংবাদ মন্থন প্রকাশ করলেন নির্বাচন নিয়ে একটি জরুরি প্রতিবেদন।
বড় রাজনৈতিক দলগুলির ইস্তেহারের ইস্যুভিত্তিক একটি তুলনামূলক সংকলন।
যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রঙীন ফানুস বৈ তো নয়, তবু চোখ বোলালে কিছু আশাপ্রদ ব্যাপার দেখা যেতে পারে। প্রায় অভাবিতভাবেই প্রায় সবকটি সংসদীয় দলের ইস্তেহারে একচেটিয়া কর্পোরেট পুঁজির দাপটের বিরুদ্ধে কথা।
নজর কাড়ে দলগুলির আরো কিছু তুলনামূলক অবস্থান।
জমির মালিকের স্বাথে Ñজমি অধিগ্রহণ আইনের সংস্কার করতে চায় প্রায় সব দল ই ,কংগ্রেস, সি পি আই এম, তৃণমূল।
এদিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ( SEZ ) বাতিল যখন সম্পূর্ণবাতিল করার দাবী তুলেছে তৃণমূল, এস ইউ সি আই, লিবারেশন, এমনকি তৃণমূলের মত অ-বামপন্থী দল ও , সেখানে সি পি আই এম, সি পি আই এই বামদলগুলি এই আইনের কেবল সংস্কার চায়।


আবার ধরুন শহর ও নগরজীবন প্রসঙ্গে, সি পি আই এম এর দাবী বস্তি ধ্বংস বন্ধ হোক, কম খরচে পরিবহন ব্যবস্থা ও ধনীদের জন্য রিয়েল এস্টেট নির্মাণে লাগাম দেওয়া, কংগ্রেসের দাবী কম-দামী সামাজিক আবাসন ও শৌচ ব্যবস্থা, বি জে পি-র দাবী গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা ঠেকাতে "গ্রাম্য শহর' তৈরী। বি এস পি, সি পি আই এম, বি জে পি, তৃণমূল সবাই চান দলিতদের জন্য সংরক্ষণ। বি জে পি চিন্তিত অবহেলিত মুসলিমদের নিয়ে, সি পি এম চায় সাচার কমিটির সুপারিশ মেনে মুসলিমদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বামদল গুলি জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে আর ও সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির উপর, কংগ্রেস চায় সকলের জন্য বীমা , ত্‌্‌ণমূল চায় বিনামূল্যের মেডিক্যাল কার্ড, সেখানে বি জে পি র দাবী দেশজ চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরো গুরুত্ব আরোপ।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
http://sites.google.com


এপ্রিল ২৮, ২০০৯