খবর্নয়? (১৫ই মার্চ)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


বাজারচলতি কাগজ বা চ্যানেলগুলির কোণায় পড়ে থাকা এইসব টুকরোগুলি এমনিতে চোখে পড়েনা। মিডিয়ার মার্জিনে পড়ে থাকা সেই সব এবড়োখেবড়ো টুকরোটাকরাগুলি তুলে এনে তৈরি করা হল এই বিভাগ।

নন্দীগ্রাম - ছোটদের চোখে
-----------------------------
৬ বছরের মামনি বাই এর কাছে "শিল্প' শব্দটার মানে হল উচ্ছেদ আর জমি কেড়ে নেওয়া। তার কাছে "প্রশাসন' কথাটার মানে পুলিশ, আর "সন্ত্রাস' মানে ভয়ংকর একটা কিছু। নন্দীগ্রামের এরকম ৪-৬-১০ বছরের শিশুদের স্মৃতিতে দু বছর আগের ১৪ই মার্চ ও তার পরের সন্ত্রাসের ঘটনাগুলো এখনও দগদগে ক্ষতের মত। ভরত মন্ডলের মেয়ে পম্পার বয়স আট। সোনাচুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস থ্রী'তে পড়ে। তাকে বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলেই চুপ করে যায়, কিছু বলতে পারে না। ২০০৭ এর জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের বেশ কিছু ঘটনা তার স্মৃতি থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে গেছে। মনেই করতে পারে না সে বছর স্কুলের অ্যানুয়াল পরীক্ষা দিয়েছিল কিনা। পম্পার ভাই বিকাশের বয়স ১০। বাবা ভরত মন্ডলের মৃত্যুর পর,এই বয়সেই তাকে চিন্তা করতে হয় তার মা, বোন, ঠাকুরমার কি ভাবে চলবে। এর মধ্যেও সে মন দিয়ে পড়াশুনা করতে চায়। তবে নন্দীগ্রামের স্কুলগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। গোকুলনগর হাই স্কুলের বিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হত খোলা আকাশের নিচে। কারণ স্কুলের ল্যাবরেটরীতে ১৪ই মার্চের পর থেকে পুলিশ ক্যাম্প। এই গোলমালের জন্য অনেকদিন ধরেই পড়াশুনা বন্ধ বিকাশ, পম্পা, অভিজিৎ-দের। ফলে রেজাল্ট খারাপ করায় অনেকেরই নাম কাটা গেছে স্কুলের খাতা থেকে। এর ওপর দিনের পর দিন ধরে স্কুলে পুলিশের উপস্থিতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী ভয় বাসা বাঁধছে শিশুদের মনের মধ্যে।

আট বছরের অভিজিৎ মাইতির দাদা বিশ্বজিৎ মারা যায় ৭ই জানুয়ারী। বিশ্বজিতের বয়স ছিল ১২। দাদার মৃত্যু কোন দাগ কাটেনি অভিজিতের মনে, কারণ অভিজিৎ মৃত্যুর মানেই বোঝে না। শুধু বলে রাত্রিবেলা দাদার কথা ভেবে তার ভয় করে। ২০০৭ এর ১৪ই মার্চ, কৃষকদের ওপর পুলিশকে গুলি চালাতে নিজের চোখে দেখেছে ১২ বছরের সুশান্ত পাল। সেদিনের পর থেকে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। সে দেখেছে কি ভাবে মায়ের কোল থেকে বাচ্চাকে কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। দু বছর আগে তার সামনেই সেদিন মারা যায় পাঁচ জন। নন্দীগ্রামের এই সব বাচ্চাদের শব্দভান্ডারে নিজেদের মত করে ঢুকে পড়েছে "শিল্প', "প্রশাসন', "সন্ত্রাস'-এর মত শব্দগুলি। CRY এর সমীক্ষকদের তারা তাদের মত করে জানিয়েছে কি ভাবে তাদের বেড়ে ওঠাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেই ১৪ই মার্চ ও তার পরের সন্ত্রাসের স্মৃতি। CRY এর সমীক্ষকদের তারা তাদের মত করে জানিয়েছে কি ভাবে তাদের বেড়ে ওঠাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেই ১৪ই মার্চ ও তার পরের সন্ত্রাসের স্মৃতি।
http://www.indiatogether.org/2008/oct/chi-chinand.htm


ছাড়া পেয়েই গ্রেফতার হলেন ইরম শর্মিলা চানু
---------------------------------------------------
মণিপুরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির মোকাবিলায় সেনাবাহিনী-কে যে কুখ্যাত Armed Forces ( Special Powers ) Act প্রদান করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে জীবন্ত কিংবদন্তী ইরম শর্মিলা চানু-র আটবছরব্যাপী অনশন-লড়াই। এই আইনের বলে সেনাবাহিনী বিক্ষোভরত জনতার উপরে গুলি চালাতে পারে, ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে তল্লাশি বা গ্রেফতার করতে পারে। ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে, এই অমানবিক আইনের আওতায় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা ১০ জন মণিপুরি যুবককে হত্যা করলে, আইনটির বিলোপ চেয়ে চানু তাঁর অনশন শুরু করেন। আত্মহত্যার প্রচেষ্টার অভিযোগে মণিপুর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে ( http://www.kanglaonline.com/index.php?template=kshow&kid=786 )। ইতিমধ্যে ২০০৪-এর মনোরমা হত্যাকান্ড সহ আরো বিভিন্ন অত্যাচারের ঘটনা চলেছে মণিপুরের মানুষের ওপর, এবং নাকে নল দিয়ে force - feed করানো হলেও চানু তাঁর অনশন ভঙ্গ করেন নি । চানুর প্রতিবাদের ফলেই মণিপুরের কিছু অংশ থেকে এই আইন প্রত্যাহার করা হয়। গত সাত-ই মার্চ, বিশ্ব নারী দিবসের প্রাক্কালে আটবছর বন্দীত্বের পরে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির অব্যবহিত পরে তিনি ঘোষণা করেন যে, আইনটি যেহেতু সম্পূর্ণ রূপে বিলুপ্ত হয়নি তিনি আবার অনশনে বসবেন। তার পরেই তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। বর্তমান আইনে তাঁকে একবছরের বেশী যেহেতু বন্দী করে রাখা যাবেনা, চানু আগামী বছরে আবার মুক্তি পেলেও সঙ্গেসঙ্গেই ফের গ্রেফতার হবেন বলে আশংকা করা হচ্ছে ( http://www.ndtv.com/convergence/ndtv/story.aspx?id=NEWEN20090086330&ch=392009101600AM )। অথচ উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মেঘালয়ের রাজ্যপাল-ও, যিনি National security guard -এরও একজন ভূতপূর্ব অধিকর্তা ( http://e-pao.net/GP.asp?src=22..080309.mar09 ) ; তাঁর মতে এধরণের আইন জনসাধারণের থেকে প্রশাসনকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, । আইনটির বিরুদ্ধে জনগণের সার্বিক প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও, মণিপুরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী বীণালক্ষ্মীর মতে সামরিক বাহিনীর চাপেই কেন্দ্র-সরকারের পক্ষে এই আইন বাতিল করা সম্ভব হচ্ছেনা ।
http://news.bbc.couk/2/hi/south_asia/7932116.stm


বাংলাদেশে ব্যান হলো ইউটিউব, ইস্নিপস
---------------------------------------------
খবরটি প্রথম আসে সচলায়তন নামের ব্লগ সাইটে, গত ৮-ই মার্চ, যে, বাংলাদেশ সরকার ইউটিউব, এসনিপস, মিডিয়ফায়ার প্রভৃতি কিছু ওয়েবসাইট ব্যান করে দিয়েছেন, ( http://www.sachalayatan.com/omicronlab/22348 )। বিডিআর-বিদ্রোহের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সে-দেশের সেনা প্রধানদের বাদানুবাদের ভিডিও এবং অডিও ক্লিপিংস লন্ডন-স্থিত ‘ বাংলা টিভি কমিউনিটি চ্যানেল ’ -এর এক রিপোর্টার ইউটিউবে আপলোড করেন। এবং কোনোরকম সরকারী নোটিশ ছাড়াই ব্যান করা হয় আপলোড সাইটগুলিকে। পরেরদিন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হয় ( http://www.voanews.com/english/2009-03-09-voa36.cfm , http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7932659.stm )। এরপর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে রাষ্ট্রের সংহতি ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করার জনয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, যখন আপলোড সাইটগুলির মাধ্যমে উক্ত মিটিং-এর খবর সারাদেশ ও পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মিডিয়া সাইটগুলির উপরে ব্যানিং-এর সিদ্ধান্তে সে দেশের মানুষ দৃশ্যত:-ই ক্ষুব্ধ, এবং, মিটিং-এর গোপনীয়তা ভঙ্গের দায় যে উক্ত মিটিং-এ উপস্থিত কারুর-ই তা যথেষ্ট স্পষ্ট তাদের কাছে, সচলায়তনের ব্লগটিতে বিভিন্ন কমেন্ট এ বিষয়ে দ্রষ্টব্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ধরণের ইন্টারনেট ব্যানিং বাংলাদেশে খুব বিরল ঘটনা নয়। সচলায়তন সাইটটিকেও অতীতে ব্যানিং-এর সম্মুখীন হতে হয়েছিল ( http://www.banglasavvy.com/2008/07/sachalayatan-and-the-ban.htm ) ।


চেঙ্গারার লড়াই
---------------
প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে চেঙ্গারার দলিতদের অসামান্য লড়াই। ২০০৭ সালের ৫ই অগাস্ট সাধু জনবিমোচনা সংযুক্ত বেদীর ( SJVSV ) নেতৃত্বে প্রায় ২০০০ ভূমিহীন আদিবাসী দখল করে হ্যারিসন মালায়ালম রাবার প্ল্যান্টেশন এর ২৫০০ হেক্টার জমি। প্রসংগত, আর পি গোয়েঙ্কা গ্রুপ এর এই কোম্পানির লিজ শেষ হয়ে গিয়েছিলো ২০০৬ সালে। তার পর থেকে বেআইনি ভাবে জমিটি দখল করে রয়েছে রাবার এস্টেটটি।

এরপর শেষ দেড় বছরে আরো বহু পরিবার এসে যোগ দিয়েছেন এদের সাথে। এখন প্রায় ৭০০০ পরিবার এর বাস এই জমিতে। এদের মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী,দলিত, খ্রিষ্টান পরিবার, যাদের মধ্যে একমাত্র যোগসূত্র এদের কৃষিযোগ্য জমির জন্য লড়াই। এই দেড় বছরে এদের লড়াই এ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি কোনো রাজনৈতিক দল, বরং অপ্রত্যাশিত বিরোধিতা এসেছে বহু তথাকথিত কৃষক শ্রমিক বন্ধু শিবির থেকে। CITU , INTUC , BMS প্রমুখ ট্রেড ইউনিয়ান গুলি একযোগে এই জমিদখলের বিরোধিতা করেছেন, রাবার এস্টেট এর শ্রমিক দের রুজি রোজগার এ হাত পড়ছে,এই যুক্তিতে।

এস্টেটে বসবাসকারী এই পরিবারগুলির চরম দুরাবস্থার প্রতি মিডিয়া আশ্চর্যজনক ভাবে উদাসীন। ট্রেড ইউনিয়ান এবং পাটি কর্মীদের হাতে দৈনন্দিন হেনস্থা হওয়ার ঘটনা তো আছেই, এর সাথে আছে মেয়েদের উপর যৌন অত্যাচার এর শাসানি। দু একটি NGO ছাড়া খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌছে দেওয়ার ব্যাবস্থা সেভাবে কেউ করেনি। পুলিশ এবং ট্রেড ইউনিয়ান কর্মীদের অবরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টাও ভীষণ ভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অবরোধের কারণে চেঙ্গারায় মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়ার প্রবেশ ও নিষিদ্ধ হয়ে যায় এক সময়ে।

হ্যারিসন মালায়ালম রাবার প্ল্যান্টেশনের করা মামলায় হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে এক মাসের মধ্যে দখলকারীদের উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশ দিয়ে জোর করে উচ্ছেদ করার দায় রাজ্য সরকার নিতে চায়নি, কিন্তু বিভিন্নভাবে পুলিশের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে উচ্ছেদ করার চেস্টা হয়েছে। অথচ ২০০৬ সালে SJVSV র সাথে সরকারের যে চুক্তি হয় যাতে এক বছরের মধ্যে প্রতিবাদী ভূমিহীন আদিবাসীদের এক একর করে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো, তার সম্বন্ধে সরকার একেবারে নীরব।
চেঙ্গারার লড়াই সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য পাবেন এখানে :
http://chengarastruggle.blogspot.com/