খবর্নয়? (১লা মার্চ)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


দখল হল ¢বশ্ব¢বদ্যালয়
---------------------

গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারী নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিমেল স্টুডেন্ট সেন্টারের দখল নিল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। দু বছর আগে, ২০০৭ এ Students Creating Radical Change নামে একটি ছাত্র সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সচ্ছতার দাবীতে "টেক ব্যাক NYU ' কর্মসূচী শুরু করে। এই কর্মসূচীর চুড়ান্ত প্রোগ্রাম হিসেবে প্রায় এক ডজন সংগঠন ও একশরও বেশী ছাত্র "দখল' নেয় কিমেল স্টুডেন্ট সেন্টারের, চলে রাতভর অবস্থান, পেশ করে ১৩ দফা দাবি। ৪০ ঘন্টা অবস্থানের পর অবশ্য বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের সাহায্যে হঠিয়ে দেয় দখলকারী ছাত্রদের, সাসপেন্ড হয় ১৮ জন। তাদের ১৩ দফা দাবীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল - ১) বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় এর পুরো হিসেব প্রকাশ করতে হবে, যাতে বোঝা যায় কেন ছাত্রছাত্রীদের অন্ধকারে রেখে Inflation এর সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে প্রতিবছর টিউশন ফি বাড়ছে, টাকা এমন কোন প্রোজেক্টে খরচ হচ্ছে কিনা যাতে পরিবেশ এর ক্ষতি হয়, কর্মীদের ন্যায্য মাইনে দেওয়া হচ্ছে কিনা, পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের মাইনেতে কোন বৈষম্য আছে কিনা ইত্যাদি। ২) ছাত্রছাত্রীদের মাইনে বাড়ানো চলবে না ৩) ছাত্রছাত্রীরা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি Socially Responsible Finance Committee তৈরী করবেন যার প্রথম দুটি কাজ হবে - যুদ্ধ ও গণহত্যায় জড়িত সংস্থাগুলির বিশ্ববিদ্যালয়ে "বিনিয়োগ' খতিয়ে দেখা ও Coca cola প্রোডাক্টস এর ওপর ব্যান তুলে নেওয়ার পুণর্মূল্যায়ন করা ৪) প্যালেস্টাইনের ১৩ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দিতে হবে। পাশাপাশি ছাত্র-সংগঠনগুলি আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বাড়াবাড়ির নিন্দা করেছেন।এখানকার মেইনস্ট্রীম মিডিয়া খুব একটা উৎসাহ না দেখালেও বিশ্বের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-সংগঠন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। আমাদের দেশে ছাত্র-আন্দোলন মানেই যারা বিশৃংখলা বোঝেন তাঁরাও একটু পড়ে দেখুন।
http://takebacknyu.com/2009/02/19/nyu-occupied/
http://www.normanfinkelstein.com/article.php?pg=11&ar=2714

আরো একটি বিনায়ক সেন কান্ড?
------------------------------

সপ্তাহ দুয়েক আগের ঘটনা। গ্রেপ্তার হলেন শামিম মোদী, মধ্যপ্রদেশের হার্দা জেলায় দলিত আদিবাসীদের মধ্যে কর্মরতা বিশিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী। খাতায় কলমে যে অভিযোগগুলির ভিত্তিতে গ্রেপ্তার, সেগুলি বছর দুয়েক আগের। অভিযোগ, বনবিভাগের কর্মচারীদের খুনের অভিপ্রায়ে ডাকাতি এবং কিডন্যাপিং । ইতি গজ হিসেবে এফ আই আরে অবশ্য উল্লেখ আছে যে, উপরোক্ত ঘটনার সময়ে শামিম ও তাঁর স্বামী অনুরাগ অকুস্থলে ছিলেন না। প্রসিকিউশান জানিয়েছে তাঁদের কোনোকালে দেওয়া কোন এক বক্তৃতা নাকি এই ঘটনার 'প্ররোচনা' দিয়েছিল।

এই কিডন্যাপিং ও ডাকাতি বিষয়ক দু চারটে কথা, যা ওখানকার আদিবাসী সংগঠন জানাচ্ছে, তা হল এই, যে, বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা সেদিন গ্রামে গিয়ে বনবিভাগের জমিতে কৃষিকাজ জনিত বচসার জেরে দুই আদিবাসীকে যথেচ্ছভাবে মারধোর ও গুরুতরভাবে জখম করেন। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা এরপর এঁদের আটকে রাখে। সেই খবর পুলিশকে গ্রামবাসীরা ও শামিম মোদী নিজেরাই জানিয়েছিলেন এবং তাঁদের সেই এফ আই আর যে গৃহীত হয়নি সে অবশ্য অন্য কথা। এখানেই শেষ নয়, উলটপুরাণের কিছু পাতা উল্টানো এখনো বাকি। যে দুজন আহত আদিবাসী দের চিকিৎসা ও অভিযোগ দায়ের করানোর জন্য প্রশাসনের দরজায় ঘুরেছেন তিনি, তাঁদের দুজনকেই খুনের অভিপ্রায়ে কিডন্যাপিং এর দায়ও চাপে শামিমের উপর। আদিবাসীদের ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত করা, দারিদ্র-সীমার নীচের তালিকায় আদিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ ও বনবিভাগের কর্মচারীদের আরো নানা দুর্নীতি ইত্যাদি ইস্যুতে আন্দোলন করে শামিম যে না-প্রশাসনের অনেকদিনের বিরাগভাজন সেকথা বলাই বাহুল্য।

তবে দু বছরের পুরানো কেস খুঁচিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়া ও শামিমের গ্রেপ্তার নেহাতই ভোটের আগে নিছক প্রশাসনিক তৎপরতা, এমনটি কিন্তু নয়। এটা নেহাতই কাকতালীয় ঘটনা নয় যে এই কেসের ফাইল রি-ওপেন হবার আগের দিন ই প্রশাসনের কাছে হুমকি আসে স্থানীয় করাত মিল ও কারখানার মালিকদের কাছ থেকে। শামীমকে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে এলাকার সব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে। মোদী দম্পতি যে শ্রমিক আদিবাসী সংগঠনের পুরোধা, তারা ঐ করাত মিলের শ্রমিক ও কুলিদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে বহুদিন যাবত আইনী ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে আসছে। ইদানীং এই করাত মিল গুলিতে শ্রমিক আইন অমান্য হওয়া নিয়ে একটু বেশিমাত্রায় সোচ্চার হওয়াতেই কি শামিমের মুখ বন্ধ করার প্রয়োজন হয়ে পড়লো ? সেজন্য ই মালিকপক্ষের এই ব্ল্যাকমেল আর ফলশ্রুতি এই গ্রেপ্তার ?

সম্প্রতি বন-মাফিয়া -প্রশাসন ও বিজেপি র মধ্যে আঁতাতের খবর বেপর্দা করেও শামীম হই-চই ফেলে দ্যান। ভোটের মুখে সেটিও একটি কারণ বলে অনেকের ধারণা। তবে এই 'কিডন্যাপিং', 'ডাকাতি' কে উপর 'রাষ্ট্র-বিরোধী কার্যকলাপের তকমা লাগানো, এবং 'একজন "উচ্চশিক্ষিত আইন জানা মহিলা" এধরণের আচরণ' করলে তা জামিনাযোগ্য অপরাধ হয়,ডিস্ট্রিক্ট জাজের এহেন বক্তব্যের মধ্যে অনেকেই বিনায়ক সেন কেসের পুনরাবৃত্তির সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করে দিয়েছেন। এবং সেটা আটকাতে চেয়েই এই পিটিশান :

http://www.petitiononline.com/Shamim/petition.html

মৌলবাদ মৌলবাদ
-----------------
¢বলেতের "দ্য ই¢¾ডপে®¾ডন্ট' প¢ত্রকার এক¢ট ¢নবন্ধ পুনর্মুদ্রণ করে ঝামেলায় পড়লেন কলকাতার দৈ¢নক "দ্য স্টেটসম্যান'এর সম্পাদক। সমع রকম ধর্মীয় গোঁড়া¢মর ¢বরুদ্ধতা করে এবং ধর্ম¢নরপেক্ষতা ও বাক-স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে, "আ¢ম এইসব ¢নপীড়নমূলক ধর্মকে সম্মান করতে যাব কেন?' ¢নবন্ধ¢টতে লেখা হয়ে¢ছল, ""কোনো এক কুমারীর গর্ভে জাত একজন মানুষের ধারণা, ¢য¢ন না¢ক জলের উপরে হেঁটে¢ছলেন, এবং ম«ত্যু থেকে বেঁচে উঠে¢ছলেন, তাকে আ¢ম সম্মান ক¢রনা। একজন "প্রফেট'কে অনুসরণ করতে হবে, এই ধারণাকে আ¢ম সম্মান করতে পা¢রনা, ¢য¢ন, ৫৩ বছর বয়সে একজন ৯ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে¢ছলেন, এবং ইহুদীদের গোটা গ্রাম ধ্বংস করতে আদেশ ¢দয়ে¢ছলেন, কারণ তারা তাঁকে অনুসরণ করে¢ন। আ¢ম এই ধারণাকে সম্মান ক¢রনা, যে, স্বয়ং ভগবানই ওয়েস্ট ব্যাঙ্ককে ইহুদীদের হাতে তুলে ¢দয়ে¢ছলন, এবং ঐ এলাকার চারপাশে ¢ঘরে থাকা প্যালেع¡ইনীদের সে কারণে বোমা মেরে উ¢ড়য়ে দেওয়া উ¢চত।''

প্রবন্ধ¢টতে আপাতদ«¢ষ্টতে তেমন ভয়ংকর ¢কছু না থাকলেও, এই লেখা¢ট ছাপার জন্য হাজতবাস করতে হল, খোদ কলকাতা শহরের এক দৈ¢নকের সম্পাদক ও প্রকাশক রবীন্দÐ কুমার এবং আনন্দ ¢সনহাকে। প¢ত্রকার অ¢ফস ¢ঘরে গোঁড়া ইসলামপন্থীদের লাগাতার ¢বক্ষোভের পর, তাঁদের গ্রেপ্তার করে পু¢লশ, ফেবФয়া¢র মাসের শুরুর ¢দকে। অ¢ভযুক্ত করা হয়, ভারতীয় দ¾ড¢ব¢ধর ২৯৫এ ধারাতে, যে ধারা অনুযায়ী, " deliberate and malicious acts intended to outrage religious feelings ' ¢ন¢ষদ্ধ। আর বাক-স্বাধীনতার এই চূড়ান্ত অবমাননায়ও আশ্চর্যজনক ভাবে চুপচাপ রয়ে গেল, একদা তস¢লমা নাস¢রন ¢নয়ে প্রচুর আলো¢ড়ত হওয়া "প্রগ¢তশীল' শহর কলকাতা।

http://www.independent.co.uk/news/world/asia/editor-arrested-for-outraging-muslims-1607256.html


গ্রেপ্তার ভুখন এবং আনসা¢র
----------------------------
NRGEA , মানে সহজ বাংলায় যাকে একশো দিনের কাজের প্রকল্প বলে, তা নিয়ে টাকা নয়ছয়, দুর্নীতির অভিযোগ আছে সব জায়গাতেই। গ্রামে গ্রামে এই নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন বহু কর্মী, তাই স্থানীয় প্রশাসনের রোষেও পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এরই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ভুখন সিং আর নিয়ামত আনসারি। ঝাড়খন্ডের লাটেহার জেলার কোপে আর জেরুয়া গ্রাম প্‌ঞ্চায়েতে তাঁরা গ্রামবাসীদের লড়াইয়ের পাশে থেকেছেন, লোক আদালতের রায়ে ঐ জেলার বিডিওকে জরিমানা দিতে হয়েছে, গ্রামবাসীরা পেয়েছেন বেকারভাতা। তারই বদলা নিতে ভুখনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ই ফেব্রুয়ারী, পরেরদিন জেলেও পাঠানো হয়েছে তাঁদের। অভিযোগ, তাঁরা নাকি বনদপ্তরের কর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছেন, "হ্যারাস' করেছেন! এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকেই, আপনিও যোগ দিতে পারেন, এই পিটিশনটিতে সই করে- http://petitions.aidindia.org/jharkhand2009/index.php

মার্চ ১, ২০০৯