এই সপ্তাহের খবর্নয় (ফেব্রুয়ারী ৮)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


স্টারবাক্স যখন জীবনদাতা
===============

মাইকেল গেটস গিল ছিলেন বিজ্ঞাপণ জগতের একসময়ের ডাকসাইটে কর্তা। স্বভাবতই তাঁর আয় ছিল গড়পড়তা আর চার পাঁচজনের থেকেও বেশ বেশি। দামী স্যুট, দামী বাড়ি, দামী গাড়ি ইত্যাদিতে বিলাস বহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন গিল। হঠাৎই একদিন কর্পোরেট জগতের নিয়ম মেনে গিলের চাকরী গেল, বেশ বেশী বয়সে। আর কোনো চাকরীও তিনি খুঁজে নিতে পারলেন না। একে একে দামী গাড়ি, দামী স্যুট সব গেল। এমনকি ডিভোর্স অবধি হল, ধরা পড়ল ব্রেণ টিউমার। জীবন যুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত গিল একদিন যখন স্টারবাক্সে কফি খাচ্ছেন, তখন দোকানের ম্যানেজার তাঁকে বললেন একটা পোস্ট খালি আছে তিনি ইচ্ছুক কিনা। গিল এক মূহুর্ত চিন্তা না করে সেই চাকরী নিলেন। এ গল্প আজ থেকে পাঁচ বছর আগের। গিল এখন কফি তৈরী করেন, পরিস্কার রাখেন নিউ ইয়র্কের একটি ব্যস্ত স্টারবাক্সের দোকান। আর ফাঁকে ফাঁকে লিখে রাখতেন নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতা - এবারের নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার ""হাউ স্টারবাক্স চেঞ্জড মাই লাইফ""। আবার একটা নাটকীয় মোড়। জীবনের এই রোলার কোস্টারে চড়তে চড়তে গিলের অনুভূতি দামী চাকরী নয় দামী সময়ই জীবনের জন্য দরকার। এই মন্দার সময়ে ওনার বই যে বেস্ট সেলার হবে সে মোটেও আশ্চর্য্য নয়।

কয়েকটি দামী দূর্ঘটনা
==============

কতই না দূর্ঘটনা ঘটে চলছে। এই তালিকাটি শুধু মাত্র টাকার হিসেবে করা। বলাই বাহুল্য যে এই সব কটি দূর্ঘটনার সাথে এক বা একাধিক মানুষের জীবন জড়িত যার মূল্য টাকায় মাপার মতন সমীকরণ আজও অধরা।

১। টাইটানিক - ১৫০ মিলিয়ন ডলার
১৯১২ সালের ১৫ ই এপ্রিলের এই দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১৫০০ লোক এবং নষ্ট হয়েছিল ৭ মিলিয়ন ডলারের জাহাজ। আজকে ঐ জাহাজের দাম হত ১৫০ মিলিয়ন।

২। ট্যাঙ্ক ও ব্রীজ - ৩৫৮ মিলিয়ন ডলার
২০০৪ সালের ২৬ শে আগস্ট জার্মানীর ওয়াইহটল ব্রীজ থেকে একটি ট্রাক ৩২,০০০ লিটার নিয়ে পড়ে গেলে যে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে তাতে ব্রীজের লোড বিয়ারি`ং নষ্ট হয়ে যায়। সাময়িক ভাবে সারানোর খরচ ছিল ১৮ মিলিয়ন এবং ব্রীজটি পরিবর্তনের খরচ ৪০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ৩৫৮ মিলিয়ন।

৩। চ্যালেঞ্জারে বিস্ফোরন - ৫.৫ বিলিয়ন ডলার
চ্যালেঞ্জারের কথা সবার মনে আছে নিশ্চয়ই। ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরুর মাত্র ৭৩ সেকেণ্ডের মধ্যে ভেঙে পড়ে স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার। নতুন স্পেস শাটল বানানোর খরচ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার - আজকের মূল্যে ৪.৫ বিলিয়ন - আর পরীক্ষা নিরীক্ষা, সমাধান খোঁজা ইত্যাদিতে খরচ হয়েছিল ৪৫০ মিলিয়ন - আজকের মূল্যে ১ বিলিয়ন ডলার।

৪। স্পেস শাটল কলম্বিয়া - ১৩ বিলিয়ন ডলার
এই দূর্ঘটনার কথা আমাদের মানে ভারতীয়দের সবারই বিশেষ করে মনে আছে। সব মিলিয়ে এই দূর্ঘটনায় খরচ হয়েছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার।

৫। চেরনবিল - ২০০ বিলিয়ন
১৯৮৬ সালের ২৬ চে্‌শ এপ্রিল বোধহয় আধুনিক কালের সবথেকে বড় আলোড়ন সৃষ্টিকারী দূর্ঘটনাটি ঘটে ইউক্রেনে। এর মূল্য শুধুই টাকায় মাপা অসম্ভব। চেরনবিলের এই দূর্ঘটনায় শুধু মাত্র ক্যান্সার থেকেই প্রাণ হারান প্রায় ১২৫,০০০ মানুষ। যাইহোক সব মিলিয়ে যদি টাকায় মাপতে হয় তাহলে এই দূর্ঘটনার মূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলার।


কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তেল
===================

সারা পৃথিবী জুড়ে এখন মূল সমস্যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণায় ব্যস্ত কি করে তৈরী করা যায় বিকল্প এনার্জী। ইউকের জন লেনন বিমানবন্দর একটি যুগান্তকারী পরীক্ষা করতে চলেছে। এই পরীক্ষা যদি সফল হয় তাহলে বিমান যাত্রীদের নিশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডই হবে বিকল্প এনার্জীর যোগান। লক্ষ্য এই পরীক্ষা থেকে ২৪,০০০ গ্যলন ডিজেল তৈরী করা যা ব্যবহৃত হবে বিমানবন্দরের ডিজেল চালিত যানে। শুধু তাই নয় লক্ষ্য বিমানবন্দরের গরম জল এবং গরম হাওয়ার যোগানও দেবে কার্বন ডাই অক্সাইড। অরিগো কোম্পানী ইকো-বক্স নামে একটি যন্ত্র বানিয়েছে যা দিয়ে সম্ভব হচ্ছে এই পরীক্ষা। যদি সফল হয় বিকল্প শক্তির খোঁজ পাবে মানব সভ্যতা।

ফেব্রুয়ারী ৮, ২০০৯