এই সপ্তাহের খবর্নয় (ফেব্রুয়ারী ১)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


সোনা বাঁধানো নর্দমা
-------------------------
সে কোন রুপকথার দেশ, যেখানে সোনার গাছে হীরের ফুল আর পান্নার পাতা দেখা যায়? রাস্তার পাশে সোনার ধুলো পরে থাকে? এমন এক রুপকথার দেশে পৌঁছে যাওয়া তো সেই ছোটবেলার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন যদি সত্যি পুরণ করতে চান, তো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বানিয়ে ফেলুন জাপানের ভিসা। ওখানে রাস্তার পাশে সোনার ধুলো না পেলেও, নর্দমায় সোনার আবর্জনা পেয়েই যাবেন। সম্প্রতি খবর মিলেছে যে টোকিওর কিছু নর্দমা হঠাৎ করে সোনার খনি হয়ে উঠেছে। টোকিও অঞ্চলের এক sewage treatment সংস্থা নর্দমার ময়লা থেকে রেকর্ড পরিমাণ সোনা পেয়েছে, যা বিশ্বের যে কোনো বড় সোনার খনিকে লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। এক টন ময়লা ঘেঁটে তারা পেয়েছে প্রায় ১,৮৯০ গ্রাম সোনা। জাপানের Hishikari স্বর্নখনি, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি, তার উৎপাদনক্ষমতাও এর চেয়ে অনেক কম। Sumitomo Metal Mining কোম্পানির হিসেব অনুযায়ি এক টন আকরিক ঘাঁটলে সোনা মেলে ২০ থেকে ৪০ গ্রাম মতন। সেখানে প্রায় দুই কেজির মতন সোনা পাওয়াটা প্রায় অবিশ্বাস্য। sewage treatment সংস্থার এক কর্তার মতে টোকিওর ঐ অঞ্চলে অনেক গুলো কারখানা আছে যারা সোনার জিনিস বানায়। খুব সম্ভবত তাদের বর্জ্য পদার্থ গুলো থেকেই সোনা এসে মিশতে থাকে শহরের নর্দমায়।

তবে যে ভাবেই আসুক না কেন, এই নর্দমায় পাওয়া সোনা উপার্জন বাড়িয়ে দিয়েছে sewage treatment সংস্থাটির। প্রায় পাঁচ মিলিয়ান ইয়েনের সোনা বেচেছে তারা। এই বছর মার্চের মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ান ইয়েন মুল্যের সোনা বেচার টার্গেট রয়েছে সংস্থাটির। পাঠকরা চাইলে একবার চেষ্টা করে দেখতেই পারেন জাপান গিয়ে। ধনতেরাসের আগে নর্দমার ধারে লাইন দিয়ে সস্তায় সোনা পাওয়ার আইডিয়াটা খারাপ হবে না।

স্মৃতিতে জুতো
----------------------
আল জাইদিকে নিশ্চয় মনে আছে সবার। ভরা সাংবাদিক সন্মেলনে সবার সামনে বুশকে জুতো ছুঁড়ে আর গালাগাল দিয়ে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন ইনি। সারা দুনিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল সেই ঘটনা। আর তার পর থেকেই নিজের দেশে বীরের সন্মান মিলেছে আল জাইদির। একদিকে যেমন বুশকে জুতো মারার ভিডিও গেম ছরিয়ে গেছে দুনিয়া জুড়ে অন্যদিকে তেমন জাইদির ছোঁড়া জুতো উঠেছে নিলামে। জুতো নির্মাতা সংস্থার বিক্রিও বেড়ে গেছে প্রচুর হারে। আর এখন জাইদির টুপিতে জুড়লো এক নতুন পালক। ইরাকের ঝভযক্ষভঢ় শহর, যা সাদ্দাম হুসেনের জন্মস্থান হিসেবে বিখ্যাত, সেখানে জাইদির নামে তৈরী হলো একটা বড় মনুমেন্ট।
গত বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হয় এই মনুমেন্টটির। প্রায় ৬ ফুট উঁচু এই মনুমেন্টের ওপরে রাখা আছে বিশাল এক ব্রোঞ্জের জুতো। দেড় টন ওজনের এই মনুমেন্টের নির্মাতা লাইত আল আমিরি। মনুমেন্টটির নীচে জাইদির উদ্দেষে লেখা রয়েছে, "Muntazer: fasting until the sword breaks its fast with blood; silent until our mouths speak the truth" । লাইতের মতে এই মনুমেন্ট ইরাকি মানুষদের হৃদয়ের কথা ভেবে তৈরী। জাইদির জন্য ইরাকের সাধারণ মানুষ কতটা গর্ব অনুভব করে তারই প্রকাশ এই মনুমেন্ট। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে এই জুতো ছোঁড়ার ঘটনার পর থেকেই বাগদাদের জেলে বন্দী হয়ে আছেন জাইদি। বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর আক্রমণের অভিযোগে মামলা চলছে তাঁর নামে।

নাম দিয়ে যায় চেনা
------------------------
শিশুদের নামকরণ নিয়ে তাদের বাবা মার চিন্তার শেষ থাকে না। কতদিন ধরে চলে নাম খোঁজা, নাম বাছাইএর পর্ব। তবে সম্প্রতি জানা গেছে যে শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই নয়, বাড়িতে পোষা গরু থাকলেও তার নাম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিৎ বাড়ির লোকের। নিউক্যাসল ইউনিভারসিটির এক গবেষক, ক্যাথেরিন ডগলাস জানিয়েছেন যে গরুদের নাম ধরে ডাকলে তাদের কাছ থেকে অনেক বেশী দুধ পাওয়া যায়।

প্রায় ৫১৬ ব্রিটিশ ডেয়ারী ফার্মের ওপর গবেষণা চালান তিনি। তার থেকে তিনি সিদ্ধান্তে এসেছেন যে বেনামী গরুর থেকে নামযুক্ত গরুদের দুধ দেওয়ার ক্ষমতা অনেকটা বেশী। যেসব গরুদের নিজেদের নাম আছে তারা দিনে প্রায় ১ লিটারের মতন অতিরিক্ত দুধ দেয় অন্যান্য গরুদের থেকে। একটা মাঝারি সাইজের ডেয়ারী ফার্ম এই পদ্ধতিতে বছরের শেষে প্রায় ৬৮০০ গ্যালন অতিরিক্ত দুধ পেতে পারে। আর শুধু অতিরিক্ত দুধ দেওয়াই নয়, নামযুক্ত গরুরা বেনামীদের থেকে অনেক বেশী শান্তশিষ্ট হয়। মালিকের কথা শুনে চলে তারা। দুধ দোয়ার সময় লাথি মারা বা মালিককে আহত করার মতন অভ্যাসও অনেক কম হয় এদের। ক্যাথেরিনের মতে, মানুষের মতন গরুরাও যত্নআত্তি পছন্দ করে খুব। তারাও চায় যে বাড়ির মালিক তাদের দিকে নজর দিক একটু বেশী। তাই গরুদের নাম ধরে ডাকলে তারা খুশী হয় খুব। ফলে cortisol হর্মোনের ক্ষরণও কমে যায় অনেকটা। ফলে বেড়ে যায় দুধের উৎপাদন।


নাম ও বানান
----------------
বানান, বিশেষ করে ইংরাজি বানান নিয়ে আন্দোলন যে সর্বত্র শুরু হয়ে গেছে এনিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। এখন এই আন্দোলনে অংশ নিলেন বার্মিংহাম পৌরসভাও। তারা ঘোষণা করেছেন যে এখন থেকে তাদের শহরের কোনো রাস্তার নামে apostrophes থাকবে না। ফলে এখন থেকে St Paul's square অথবা Acock's green এর নামে দেখা যাবে না ঐ অ্যাপস্ট্রপ্সটিকে। যদিও বহুদিন আগে থেকেই এই অ্যাপস্ট্রপস ঝরা শুরু হয়েছিল এই শহরে। প্রায় পঞ্চাশের দশক থেকেই পাল্টাতে শুরু করেছিল নামের বানান, তবে এতদিনে পৌরসভা সরকারি ভাবে ঘোষণা করে জানিয়ে দিল যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্ত রাস্তার নাম থেকে অ্যাপস্ট্রপ তুলে দেবে তারা।

এই নিয়ে বিশুদ্ধতাবাদীদের প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেছে কিছুদিন আগে থেকেই। নানা জায়গায় ক্যাম্পেন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি ব্রিটেনের এমার্জেন্সি সার্ভিসের সাথে যুক্ত ম্যাপিং এজেন্সি Ordnance survey এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে অ্যাপস্ট্রপ থাকাতে কি অসুবিধা হচ্ছিল এতদিন, তা ওঁদের কাছে পরিস্কার নয়। বরং এখন ওঁদের সমস্ত রাস্তার নাম নতুন করে লিখতে হবে ম্যাপে। ব্রিটিশ লেখিকা Lynne Truss ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌরসভার বিরুদ্ধে।

এসব প্রতিবাদে বিন্দুমাত্র কান দিতে রাজি নয় Transport scrutiny সংস্থা। কাউন্সিলর Martin Mullane জানিয়েছে যে অ্যাপস্ট্রপস নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমস্যা চলছিল। এমনকি GPS ডিভাইসের সমস্যা হতো এসবের জন্য। ফলে বেশীর ভাগ GPS ডিভাইস রাস্তার নাম ছেরে পোস্টাল কোড দিয়ে জায়গা চেনার চেষ্টা করে। এমারজেন্সি সার্ভিসের সমস্যা তৈরী হয় এসবের জন্য। তাই অনেক আলাপ আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বার্মিংহামের রাস্তায় আর থাকবে না কোনো অ্যাপস্ট্রপস। বাংলার যতি চিহ্ন নিয়ে কিছু ভাবছেন কি কোলকাতা পৌরসভা ?


ফেব্রুয়ারী ১, ২০০৯