এই সপ্তাহের খবর্নয় (জানুয়ারী ২৫)


লিখছেন --- খবরোলা এন্ড কোং


আপনার মতামত         


তমসো মা: জ্যোতির্গময়:
-------------------------

আপনার মোবাইল ফোন দিয়ে আপনি কি কি করতে পারেন?

কথা বলতে পারেন, মেসেজ করতে পারেন, যদি দামী ফোন হয় তাহলে ছবি তুলতে পারেন বা এফ এম রেডিও শুনতে পারেন? কিন্তু আপনার ফোন কি একজন অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? অবাক হবেন না, এমনই এক ফোন আমাদের জন্য আনতে চলেছেন প্রাক্তন আই আই টি ছাত্র টি ভি রমণ। অনেক হাল আমলের মোবাইলে ব্যবহৃত GPS এবং কম্প্যাস প্রযুক্তি-দুটির সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এমন একটি মোবাইল ফোন সৃষ্টি করতে অগ্রসর হয়েছেন, যা তাঁর দাবী অনুযায়ী একদিন আক্ষরিকভাবে অন্ধদের পথ দেখাবে।

তবে শুধু অন্ধদের জন্যই নয়, এই ফোন থেকে সুবিধে পাবেন সেই সব ব্যবহারকারীরা, যাঁরা ব্যবহারের সময়ে বোতাম-এর দিকে না তাকিয়ে টাচস্ক্রিন-এর মাধ্যমে ফোনের বিভিন্ন পরিষেবা উপভোগ করবেন। নিজে অন্ধ রমণ এর আগে ইন্টার্নেট-কে দৃষ্টিহীন-সহায়ক করার জন্য অনেক টুল আবিষ্কার করেছেন। তাঁর তৈরী ব্রেল রিডার একটি ওয়েবপেজের বিজ্ঞাপন বা অপ্রয়োজনীয়ো অংশ বাদ দিয়ে শুধু মূল লেখাটি পড়তে পারে। তিনি অন্ধদের জন্য রুবিক কিউবের একটি সংস্করণও বার করেছেন। তাঁর অপর একটি যন্ত্র কঠিন গাণিতিক ফর্মুলা পড়ে শোনাতে পারে। তিনি অন্ধদের জন্য গুগ্‌ল্‌ সার্চ পরিষেবারও একটি পদ্ধতি তৈরী করেছেন। দৃষ্টি না থাকার করুণা নয়, দৃষ্টিভাঙ্গীর সদর্থকতার উদাহরণ হিসেবেই এই বিজ্ঞানী আমাদের মনে থাকুন।


শিশু শিক্ষক
--------------

আট বছরের একজন ছোট্ট ছেলেকে কলেজে দেখলে আপনি কি করবেন?

মজা করে জিগ্যেস করবেন 'স্যার, আমাকে এই পড়াটা একটু দেখিয়ে দিন না?' কিন্তু সেই ছেলেটি যদি হয় দেহ্‌রাদুনের কলেজ অফ ইন্টার‌্যাক্টিভ আর্টসের আমন রহমান, তাহলে কিন্তু সে গম্ভীর মুখে বলতেই পারে - পরের ক্লাসে মনে কোরো, বুঝিয়ে দেবো।

বিশ্বের সবচেয়ে খুদে শিক্ষক হিসেবে নাম তুলতে গিনেস বুকের দ্বারস্থ আমন-এর জন্ম অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবারে, যেখানে তার আনপড় মোটর মেকানিক বাবা নিজের বড় ছেলের জন্য কোন একদিন কিনে এনেছিলেন একটি সেকেন্ড হ্যান্ড কম্পিউটার। দাদার এই নতুন সম্পত্তিতে প্রচন্ড আকৃষ্ট হয় শিশু আমন এবং অচিরেই শিখে ফেলে অ্যানিমেশনের অনেক টুকিটাকি। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে সে লিখে ফেলে তার প্রথম অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম - লাফানো অক্ষরের খেলা। পড়শীদের উপদেশে আমনের বাবা তাকে নিয়ে যান কলেজ অফ ইন্টার‌্যাক্টিভ আর্টসে, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে মুখোমুখি হতে হয় ঠাট্টা এবং অবিশ্বাসের। কিন্তু এক সপ্তাহের অনড় অনুরোধের ফলে শেষ পর্য্যন্ত আমন কম্পিউটারের সামনে বসার সুযোগ পায়, আর তারপর তাকে নিয়ে আর কেউ হাসাহাসি করে নি।

বর্তমানে আমন ১৮টি অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম জানে। ছুটি পেলেই সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকা আমন এখন কৃষ্ণগহ্বর, ভিনগ্রহ এবং জলসঞ্চয় নিয়ে অ্যানিমেশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত।


খোঁজবার গরুরা -- তর্জনীভাগ্যে সাফল্য
-----------------------------------

আপনার তর্জনী আর অনামিকার দৈর্ঘ্য কি আপনি কখনো মেপে দেখেছেন?

আপনার কি সন্দেহ হয় যে আপনার অনামিকা তর্জনীর চেয়ে আকারে বড়? তাহলে আপনার মুঠিতে, বা বলা ভাল আঙুলের ডগায় নাচছে বড়লোক হওয়ার বিশাল সম্ভাবনা। না, ইয়ার্কি নয়, সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন কেম্‌ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন কোট্‌স এবং তাঁর সহযোগীরা। লন্ডনের চুয়াল্লিশ জন ব্যাপারীর ২০ মাসের পর্য্যবেক্ষণ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে সমস্ত ব্যাপারীর অনামিকা তুলনামূলকভাবে বড়, তাঁরা যে সমস্ত ব্যাপারীর তর্জনী তুলনায় বড়, তাঁদের থেকে ১১ গুণ বেশী লাভ করেছেন। প্রসঙ্গত: এর আগেই তর্জনী-অনামিকার দৈর্ঘ্যের অনুপাতের সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের যোগাযোগ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন। বিজ্ঞানীদের অনুমান, মাতৃগর্ভে থাকাকালীন টেস্টোস্টেরোণ হর্মোনের অধিক ক্ষরণের ফলেই এই ব্যাপারী এবং ক্রীড়াবিদরা অধিক মন:সংযোগ এবং আগ্রাসী মনোবৃত্তির অধিকারী হতে পেরেছেন। একই ব্যবহার দেখা গিয়েছে লম্বা অনামিকার অধিকারিণী মহিলাদের মধ্যেও।

অন্য এক গবেষণায় একদল বেলজিয়ান গবেষক লক্ষ্য করেছেন যে লম্বা তর্জনীবিশিষ্ট মানুষেরা আগ্রাসী চলচ্চিত্র দেখার পরে হয়ে উঠেছেন কম 'সমাজমনস্ক' - এবং অস্বীকার করেছেন টাকা ধার দিতে, এই ব্যবহারের ঠিক উল্টোটা দেখা গিয়েছে ছোট তর্জনীবিশিষ্ট মানুষদের ব্যবহারে - তাঁরা আরো বেশী টাকা উপুড়হস্ত হতে রাজী হয়েছেন। তাহলে যদি আপানার তর্জনীভাগ্যে বড়লোক হওয়া নাও হয়, অন্তত: এটুকু মাথায় রাখুন, কার কাছ থেকে ধার নিতে হলে তাকে আগে কি ধরণের সিনেমা দেখাবেন।

জানুয়ারী ২৫, ২০০৯