এই সপ্তাহের খবর্নয় (জানুয়ারি ১১)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


আদর্শ ভেনিস হোটেল
---------------------
গত বছরের শেষের দিকে খবরের শিরোনামে এসে গেছিল ভেনিস, তাও আবার বন্যার জন্য। সবাইকে চমকে দিয়ে সত্যিই ভেসে গেছিল ভেনিস। প্রায় ৬১ ইঞ্চি ওপরে উঠে গেছিল জলের লেভেল। হাঁটুজল জমেছিল St. Mark's Square এর মতন জায়গাগুলোতেও। গত ত্রিশ বছরে এমন ঘটনা কেউ দেখেনি ভেনিসে। জলের সাথে সখ্যতা করে বিখ্যাত ভেনিস সত্যি সমস্যায় পড়েছিল অতিরিক্ত জল চলে আসাতে। ট্যুরিস্ট আসা কমে গেছিল ভয়ানকভাবে। জলের জন্য আটকে পড়া ট্যুরিস্টদের অভিজ্ঞতাও ছড়িয়ে গেছিল ই-মেলে, ব্লগে। কিন্তু এবারে সেই বন্যারই ফায়দা তুলতে জলে নেমে পড়েছে হোটেলওলারা। ভেনিসের হোটেল অ্যাসোসিয়েসানগুলোর ওয়েবসাইট www.veneziasi.it এ গেলেই দেখা যাচ্ছে তাদের নতুন অফার, "Venice and the High Water" প্যাকেজ। এক রাতে মাত্র ১৯০ ইউরো খরচ করতে পারলেই আপনি পেয়ে যাবেন ভেনিসে বসে বন্যা দেখার দুর্লভ সুযোগ। তার সাথে আপনি পাবেন রাবারের বুটও। যা পরে আপনি স্বচ্ছন্দে হেঁটে বেড়াতে পারবেন জলে ডোবা ভেনিসের অলিগলিতে। আর একান্ত যদি জলে হাঁটা আপনার পছন্দ না হয়, তবে হোটেল থেকেই বিনামূল্যে আপনাকে দেবে 'Alternative pedestrian routes during the high water' এর ম্যাপ। হোটেলগুলোর আশা যে এই নতুন প্যাকেজ ফের ট্যুরিস্ট আগমন বাড়িয়ে দেবে ভেনিসে। দু:সময়ে হোটেলগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন ভেনিসের মেয়র Massimo Cacciari । তাঁর আশ্বাসবাণীও দেখা যাচ্ছে ওয়েবসাইটের সর্বত্র।


হেলমেটে সমস্যা
-------------------
ট্রাফিক আইন ভাঙাটা মনে হয় কোলকাতার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সে হেলমেট পরে বাইক চালানোই হোক বা নিয়ম মেনে অটো। তবে এতদিনে কোলকাতা তার এক সমব্যথী খুঁজে পেল মনে হয়। নতুন ট্রাফিক আইন নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছে নাইজেরিয়াও। এই বছরের গোড়া থেকে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো নিষিদ্ধ হয়ে গেছে নাইজেরিয়ার সর্বত্র। আর সেখান থেকেই সব সমস্যার শুরু। বাইকাররা মোটেই রাজি নন হেলমেট পরে বাইক চালাতে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মোটর ট্যাক্সির চালকরাও। Okadas নামে প্রচলিত এই ট্যাক্সিগুলো নাইজেরিয়ার রাস্তার বিভীষিকা। যথারীতি হেলমেট আইন মানতে রাজি নয় এরাও (পাঠক কি কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন অটোরিক্সার সাথে?)। এই বছরের শুরু থেকে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের হাতে। তাতেও হুঁশ ফিরছেনা বাইকারদের। অনেকেই আবার পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য হেলমেটের বদলে ব্যবহার করছে রঙ করা কুমড়োর খোসা, রবারের টায়ার এমনকি বাড়ির বাসন কোসনও। স্থানীয় মানুষদের মতে হেলমেটের দাম এখন এত বেশী যে তা কেনা সম্ভব নয় সবার পক্ষে। তা ছাড়াও অনেক মানুষের ধারণা যে কালো রঙের হেলমেট আসলে কোনো শয়তানী ম্যাজিকের উপকরণ। ওটা মাথায় পরলে ক্রমশ তারাও ঐ খারাপ শক্তির হাতে চলে যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের ভয়ে অনেকেই মাথা ঢাকতে রাজি নন হেলমেট দিয়ে। তবে হেলমেটের দাম নিয়ে কোনো অজুহাত মানতে রাজি নয় Federal Road Safety Commission । তাদের মতে, প্রায় ছয় মাস আগে, যখন তারা হেলমেট ব্যবহারের নোটিশ দিয়েছিল তখন হেলমেটের দাম ছিল যথেষ্ট কম। এখন চাহিদা বাড়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গেছে দাম। তবে এই বাজারেও পোয়াবারো কনস্ট্রাকশানের সাথে যুক্ত শ্রমিকদের। দৈনিক চার ডলারের বিনিময়ে তারা তাদের মাথায় পরার হেলমেটগুলো ভাড়া দেওয়া শুরু করেছে বাইকারদের। একেই হয়তো বলে 'কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ'।


টার্কি বাওলিং
-------------------
টার্কি বললে চট করে কোন্‌ উৎসবের কথা মনে পড়ে? বাওলিং কি দিয়ে করে? আমেরিকার মন্টানার সিডনি শহরে হাই স্কুলের ছেলে-মেয়েরা এই নিয়ে চতুর্থবার ক্রিসমাস উদযাপন করল টার্কি বাওলিঙের মাধ্যমে। এই অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা চাঁদা দিয়ে টার্কি গড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। এই অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত চাঁদা / খাদ্য তুলে দেওয়া এলাকার একটি খাদ্য ভান্ডারে। প্রত্যেক ১০ ক্যান খাবার সংগ্রহের জন্য শ্রেণীর একজন সদস্য একবার টার্কি গড়াতে সুযোগ পেয়েছিলো। যে শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা সব চেয়ে বেশী পিন ফেলতে পেরেছে, তাদের পুরস্কার ছিলো বিনি পয়সার জলখাবার। এই পুরস্কারের মত ছোঁড়ার (নাকি গড়ানোর) টার্কি-টিকেও স্পন্সর করেছিলো একটি বাণিজ্যিক সংস্থা। অনুষ্ঠানের আয়োজকরাও এই অভিনব উদ্যোগে পাওয়া সাড়াতে খুশী। এখন তাঁরা আগের তুলনায় অনেক বেশী ক্যানড খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন।


জানুয়ারি ১১,২০০৯