এই সপ্তাহের খবর্নয় (জানুয়ারি ৪)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


হ-আগুন !!
-------------
১৬৮৫ সালে যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস লন্ডন ভয়ানক এক বিস্ফোরণের পর টেমসের জলে প্রায় তিনশ' জন লোককে নিয়ে ডুবে যায়। নেভি ঐতিহাসিকরা এই বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে প্রচুর তর্কাতর্কির পর এখনও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। রিচার্ড এন্ডার নামে একজন ইÏনিয়ার ও নেভি ঐতিহাসিক এই ধাঁধার একটা সম্ভাব্য সমাধান সূত্র খুঁজে পেয়েছেন। ১৭ শতকের অন্য একটি যুদ্ধজাহাজ লেনক্স এর একটি ঘটনা এঁর নজরে পড়ে। রেকর্ডবুকে লেখা আছে, ঐ জাহাজের ল্যুটেনান্ট অসাবধানে জাহাজের খোলের একেবারে নিচে পড়ে যান আর যখন ক্রু¤ মেম্বাররা ওনাকে উদ্ধার করতে নিচে পৌঁছান তখন সবাই একসাথে অজ্ঞান হয়ে যান, এমনকি মরার সম্ভাবনাও ছিল। কারণ? জাহাজী ও প্রকৃতির নিবিড় ডাকাডাকি। প্রায় সবাই উপর থেকে জাহাজের খোলের ভিতর পায়খানা করত। এতদিনের এত লোকের ডাঁই করা পায়খানার পাহাড় প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে যাতে ঐ ল্যুটেনান্ট ও তার সঙ্গীসাথীরা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই ঘটনা থেকে ক্লু নিয়ে রিচার্ড এন্ডার সিদ্ধান্তে আসেন - এইচএমএস লন্ডন জাহাজেও একই ঘটনা ঘটে। যখন ডেকে কেউ একটা মোমবাতি জ্বালায়, অমনি নিচ থেকে উঠে আসা মিথেন গ্যাস জ্বলতে থাকে আর জাহাজে জমা করা বারুদে আগুন লেগে যায়।

ঐ জন্য বিড়ি হাতে বাথরুমে যেতে বয়স্করা বারণ করেন।



নানারঙের ভয়গুলি
-------------------
মানুষের দুশ্চিন্তা যে বেশ বাড়ছে তা তাদের মনোরোগের প্রকার দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়। এই তো ইংল্যান্ডে একটা টিভি ডকুমেন্টারিতে দেখালো মাকড়সা, অন্ধকার, উচ্চতা ইত্যাদি ক্লিশেড ভীতি উদ্রেককারীর সাথে আর নতুন কী কী যুক্ত হয়েছে। এক ভদ্রমহিলাকে গাড়ি থেকে নেমেই তিনলাফে বাড়ির দরজাতে পৌঁছতেই হবে, নাহলে যদি বাগানে পথ আগলে দাঁড়ায় কোনো ব্যাঙ? এনার ব্যাঙে ভয়, আর এ সাধারণ কোনো ভয় না, আমাদের অনেকের যেমন আরশোলা বা বেড়াল-কুকুরে থাকে। এই ভয় মানুষকে সারাদিন গ্রাস করে থাকে, স্বাভাবিক জীবন বা সিদ্ধান্তগুলোকে পর্যন্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। যেমন, আগের বলা ঐ ভদ্রমহিলা - বৃষ্টি পড়লেই চরম সতর্ক হয়ে পড়েন, তার ফলে নিশ্বাস-প্রশ্বাসের বেগ প্রচুর বেড়ে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়েন। ব্যাঙে ভয় তবু বোঝা যায়, লাফ-টাফ মারে, কিন্তু এমন লোকেরও খোঁজ পাওয়া গেছে যিনি সুপারমার্কেটে রাখা মটরশুঁটির প্যাকেট দেখে ভয়ে ঘামতে থাকেন। তারফলে, যখনই তিনি মার্কেটে যান আগে জিজ্ঞেস করে নেন ফ্রোজেন ফুড সেকশন কোন দিকে। আরও আছে, খামার বাড়ি দেখে আতঙ্ক। অতএব, গাড়ির ছাত নামিয়ে যে একটু ড্রাইভিং এনজয় করবেন তা আর সম্ভব হয়না। খামার বাড়ি থেকে কি ওনাকে বাঁচাবে? তবে আজব এইসব ভয়ের মধ্যে উচ্চতম স্থান অবশ্যই তিনি অধিকার করবেন যিনি নিজের হাঁটুকে এত ভয় পান যে গত ১৬ বছর ছুঁয়েই দেখেননি। স্বামীর হাঁটু ভয়ে দেখেন না। "নীক্যাপ" কথাটা কানের সামনে কেউ বললে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

জলের ট্যাঙ্ক চুরি
-----------------
চোরেরা সাধারণত: কি চুরি করে? গয়নাগাঁটি, টাকাপয়সা, রাষ্ট্রীয় গুপ্ত তথ্য, কখনো কখনো কোন অ্যান্টিক জিনিষ। কিন্তু কখনো শুনেছেন যে চোরেরা জলের ট্যাঙ্ক চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাও আবার দশ মিটার উঁচু আর কুড়ি টন ওজনের জলের ট্যাঙ্ক। এমনটাই সম্প্রতি ঘটেছে থাইল্যান্ডের তুং ইয়াই শি গ্রামে। এর ফলে থা তাকিয়াব জেলায় প্রায় ৩০০ পরিবার জলকষ্টে পড়েন। জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি প্রথমে ভেবেছিলেন চোরেরা স্থানীয় নাগরিক পরিষেবা কর্মী, পরে সন্দেহবশত: পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ চোরেদের সানাম চাই খেত জেলা থেকে গ্রেফতার করে। যে ছ-চাকার ট্রাকে এই ট্যাঙ্ক-টি পাচার করা হচ্ছিলো, তার ড্রাইভার বলেছেন, ট্যাঙ্ক-টির প্রস্তুতকারক সংস্থার আদেশেই তিনি সেটি ফেরৎ নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে সেই প্রস্তুতকারক সংস্থার মানবসম্পদ প্রধান হিসেবে পরিচয় দিয়ে জনৈক ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনে ফোন করে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং দাবী করেছেন যে তাঁদের হিসেব অনুযায়ী পাওনা বাকী ছিলো বলেই তাঁরা ঐ ট্যাঙ্ক-টি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাওনা বাকী থাকার দাবী অবশ্য প্রশাসনের কর্তারা উড়িয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের অপর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ঐ এলাকায় আরো ট্যাঙ্ক এর আগে একই ভাবে চুরি হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্কক পোস্ট সংবাদসংস্থা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ৪,২০০৯