এই সপ্তাহের খবর্নয় ( ডিসেম্বর ২৮)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


সান্টা নাকি ইললিগাল?
-----------------------
হ্যাঁ, রাশিয়ানরা মনে করেন সান্টা নাকি ইললিগাল ইমিগ্র্যান্ট। তাহলে রাশিয়ান বাচ্চাদের বড়দিনের সময় উপহার দেন কে? কেন ডেড মরোজ। রাশিয়ার একদম উত্তরে নাকি তাঁর বাস। ডেড মরোজ এবং সান্টার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ডেড মরোজ উপহার দিতে বেরোন ইংরিজী নববর্ষের আগের দিন, বড়দিনের আগের দিন নয়। ডেড মরোজও স্লে চড়েন কিন্তু স্লে'টি টানে ঘোড়ায়। ওঁর সাথে থাকে আকর্ষণীয়া নাতনি স্নেগুরোচ্‌কা। এহেন ডেড মরোজ আসলে পশ্চিমী দুনিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়ানদের জেহাদ - ঠান্ডা যুদ্ধ। স্টালীনের সময় কিন্তু রাশিয়ানরা ডেড মরোজকে ত্যাগ করেন। কিন্তু ১৯৩৭ সালে ডেড মরোজ মস্কো প্যালেস অফ ইউনিয়নে জিতে আবার ফিরে আসেন। তাইতো রাশিয়ান পার্লামেন্টে বরিস গ্রাইজলভ সদর্র্পে ঘোষণা করেন যে রাশিয়ায় সান্টা ইললিগাল ইমিগ্র্যান্ট।


ক্লাউড পিপল অফ পেরু
--------------------------
আমাজনের জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া একটি গ্রাম অনেক খবর দিতে পারে একটি কিংবদন্তী জাতির। সাদা চামড়ার, সোনালী চুলের "ক্লাউড পিপল অফ পেরু' সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা যায় নি। এই জাতির সাদা চামড়া এবং সোনালী চুল ছিল, যা দেখে ঐতিহাসিকরা মনে করেন এদের উৎপত্তি বোধহয় ইউরোপে। কিন্তু পেরুর ঐ অঞ্চলে এদের ছাড়া আর কোনো সাদা চামড়ার অধিবাসী খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাই অনেকদিন ধরেই ঐতিহাসিকরা এদের সম্বন্ধে উৎসাহী। আমাজনের জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া এই গ্রামটি হয়ত খুলে দেবে নতুন কোনো দরজা।

ক্লাউড পিপলরা একসময় অ্যান্দ্রিয়াজ পর্বতমালার এক বিরাট অংশে রাজত্ব করত। পরে ইনকারা এসে তাদের সরিয়ে দেয়। এরা আমাজনের কুয়াশা ঘেরা অঞ্চলে থাকত বলে এদের নাম হয়েছে "ক্লাউড পিপল"। মনে করা হয় স্মলপক্সের মহামারীতে ধ্বংস হয় এই জাতিটি। খুব বেশি কিছু তথ্য এদের সম্বন্ধে কখনই পাওয়া যায় নি। তাই এই নতুন আবিষ্কার ঐতিহাসিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বাহ !! তাজ
---------------
তাজ হোটেলে গোলাগুলি, সন্ত্রাসবাদী হানা, ভারত পাকিস্তানের চাপান-উতোর এসব নিয়ে যখন সরগরম হয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল তখন ফের একটা নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাজ। তবে এবারের বিতর্ক কিন্তু শ্রীযুক্ত রতন টাটার তাজ নিয়ে নয়, এবারের সমস্যা সেই ভারতসম্রাট শাহজাহানের তাজকে ঘিরে। এবং এবারের ঘটনাতেও জড়িয়ে গেছে এক প্রতিবেশী দেশের নাম, তবে পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ।

কিন্তু কোন সন্ত্রাসবাদী হানা নয়, এমনকি তাজমহলের ওপর কোনো রকম দাবীদাওয়াও নয়। ঢাকা থেকে মাইল কুড়ি দুরে তৈরী হয়েছে এক নতুন তাজমহল, যেটা সমস্ত দিক থেকে আগ্রার তাজমহলের এক হুবহু কপি বা রেপ্লিকা। এক বাংলাদেশি পরিচালক, আশানুল্লা মনি, প্রায় ৩৮ মিলিয়ান পাউন্ড খরচ করে বানাচ্ছেন এই তাজমহল। ইটালি থেকে আনিয়েছেন গ্রানাইট এবং মার্বেল, বেলজিয়াম থেকে এসেছে হিরে। ১৬০ কেজি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরী হয়েছে তাজমহলের ডোম। প্রায় বছর পাঁচেক ধরে চলছিল কাজ, এখন তা প্রায় শেষের মুখে। আশানুল্লা জানান যে, সেই ১৯৮০ সালে আগ্রার তাজমহল দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছিলেন তিনি। কিন্তু তখনই তাঁর মনে হয় যে আগ্রাতে এসে তাজমহল দেখা যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ সাধারণ বাংলাদেশীর পক্ষে। তাই তখন থেকেই তাজমহলের রেপ্লিকা বানাবার পরিকল্পনা ওঁর। আর এতদিনে তা প্রায় সত্যি হতে চলেছে।

কিন্তু তাজমহলের এই রেপ্লিকা দেখে একদমই খুশী নয় ভারত। ঢাকায় থাকা, ভারতীয় হাইকমিশনার রীতিমতন উষ্মা প্রকাশ করেছেন এই তাজমহল দেখে। ঐতিহাসিক কোনো স্থাপত্যের এমন রেপ্লিকা বানানো উচিৎ কিনা, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তবে যতই আপত্তি থাকুক ভারতের, এব্যাপারে আইন এখনো বাংলাদেশের পক্ষেই। Herbert smith LLP ফার্ম, যাঁরা এই ধরনের ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি নিয়ে কাজ করেন, তাঁদেরই এক পার্টনার জোয়েল স্মিথ জানান যে ব্রিটিশ আইন অনুসারে কোনো বাড়ির ওপর তার আর্কিটেক্টের কপিরাইট থাকে ৭০ বছর। ভারতে হয়তো এই নিয়ম কিছুটা আলাদা হতে পারে। কিন্তু কোনো আইনই, প্রায় ৪০০ বছর আগে মৃত সম্রাট শাহজাহানের কপিরাইট নিয়ে লড়ে যেতে পারবেনা আদালতে।

খুচরো খাবার
-----------------

যত খুশি খান, পেট ভরে এবং প্লেট ভরেও খান। কিন্তু ভুলেও খাবার নষ্ট করবেন না। খাবার নষ্ট করলেই কিন্তু আপনার বিল চড় চড় করে বাড়তে থাকবে। শুনে অবাক হচ্ছেন তো? কিন্তু নিউ-ইয়র্কের All-you-can-eat রেস্তোরাঁ তে চালু হয়েছে ঠিক এমনই নিয়ম। ম্যানহাটানের এই জাপানী রেস্তোরাঁতে বাফে খেতে গেলে আপনার খরচ পড়বে মাত্র ২৬.৯৫ ডলার। কিন্তু আপনি যদি প্লেটে নিয়ে নষ্ট করেন কোন খাবার, তবে অতিরিক্ত ৩০% দিতে হবে বিলের সাথে। রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানালেন যে গত ২ বছর ধরে চালু হয়েছে এমন আইন। খাদ্যের অপচয়ও বন্ধ হয়েছে তার পর থেকে।


অস্ট্রেলিয়ানদের খাদ্যাভ্যাস হয়তো পাল্টাতে শুরু করেছে কিছুটা। এখন এক নতুন খাদ্যের আমদানি হয়েছে প্রতিদিনের মেনুতে, উটের মাংস। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মরুপ্রায় অঞ্চলগুলিতে ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে উটের সংখ্যা। ফলে ক্ষতি হচ্ছে ইকোসিস্টেমের, টান পড়ছে জলের ভান্ডারেও। তাই সরকার থেকে উটের মাংস খেতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে প্রবলভাবে। The Desert Knowledge Cooperative Research Centre প্রায় বছর তিনেক ধরে গবেষণা চালাচ্ছে উটের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে। তাদের মতে এই অতিরিক্ত উটের সংখ্যা কমানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হলো উটের মাংস খাওয়া। আপাতত এটাই দেখার যে এই নতুন খাবার কতটা সামলে রাখতে পারে অস্ট্রেলিয়ান ইকোসিস্টেমকে।


ডিসেম্বর ২৮,২০০৮