এই সপ্তাহের খবর্নয় ( নভেম্বর ২৩)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


সাইজ ডাজন্ট ম্যাটার, এভরিথিং ইজ ইন আ নেম
-------------------------------------------

আপনার হাতে যদি এমন ক্ষমতা থাকে যে নবজাতকের যা খুশি নাম দিতে পারেন অথচ কেউ আপত্তি করার থাকবেনা, তাহলে বুঝতেই পারছেন অপছন্দের লোকজনের ছানাপোনা হলে অদূর ভবিষ্যতেই খেঁদি-পেঁচা-মামদো ইত্যাদি নামাঙ্কিত মানুষজনের খুব একটা অভাব হবে না চারপাশে। তাহলে যে সব বিজ্ঞানীরা নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেন, সে ছাই হোক না কেন ছোট্টো একটা মাছি কিংবা পচা গোবর বা আনাজপাতিতে গজিয়ে ওঠা মোল্ড খাওয়া গুবরে পোকা? সম্ভাবনাটা ভাবুন, শুধু আপনাকে ঐ নতুন প্রজাতিখানা আবিষ্কার করতে হবে। ব্যাস, আর পায় কে! এই ধরুন প্রোফেসর কয়েন্টিন হুইলার, ঠিক অমনি একখান পচা ছত্রাক খাওয়া গুবরে পোকার নাম দিয়েছেন Agathidium bushi , বা A. rumsfeldi আর A. cheneyi ! তো, এমন উদাহরণ আরও বেশ কয়েকটা আছে, লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রী মিউজিয়ামের একজন কীটপতঙ্গ বিশারদ একখান কেঁচোর নাম দিয়েছিলেন Khruschevia Ridicula । ওনার কমিউনিস্ট পার্টির উপর খুব রাগ কিনা। আরেকজন রসেবশে মানুষ G.W. Kirkaldy পোকামাকড় ও নারীসঙ্গ একইসাথে ভালোবাসেন, নামকরণের সময় কি আর তিনি প্রিয় নারীদের ভুলে থাকতে পারেন? তিনি সব নামের পিছনেই জুড়ে দিয়েছেন chisme , শুনতে যেটা kissme র মতো। এখন বিভিন্ন পোকারা Polychisme , Marichisme , Dollichisme এইসব অনুনয় করে উড়ে বেড়াচ্ছে ঝোপেঝাড়ে। ভাবছেন নোমেনক্লেচারের জনক লিনিয়াস এইসব ছেলেমানুষি দেখে হেব্বি রেগে যেতেন? আরে তিনিই দেখিয়েছেন এই পথটা কোনো এক সমালোচকের নাম একখানা বিশ্রী দেখতে জলজ শ্যাওলার সাথে জুড়ে দিয়ে। ও, বুশ নাকি ফোন করে হুইলারকে জানিয়েছেন তিনি ভীষন সম্মানিত বোধ করেছেন।



মুদ্রাদোষ
----------
এখন এমনিতেই চারদিকে মুদ্রার অনেক দোষ দেখা যাচ্ছে, সেসব নিয়ে ঘাঁটছিনা। আমরা ভাষার লব্জ নিয়ে বলছি। এমন লব্জ যেগুলো হয় ব্যবহৃত হতে হতে জলহস্তীর মাংস হয়ে গেছে নয়তো বেসিকালি(!) যেগুলো ন্যাচারাল(!!) কোনো অর্থ বহন করে না। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এমন কতকগুলো লব্জের একখান লিস্টি বানিয়েছে, তবে ইংরাজীর জন্য। তার থেকে প্রথম ১০ এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে যেসব বাক্যবিন্যাস সত্যিই সেগুলো শুনে শুনে, বিশেষ করে আপিসে, আমাদের কানের পোকা নড়ে গেছে (এটাও অতিব্যবহৃত একখানা প্রকাশভঙ্গী)। উদাহরণ পড়ুন:
1 – At the end of the day
2 – Fairly unique
3 - I personally
4 - At this moment in time
5 - With all due respect
6 - Absolutely
7 - It's a nightmare
8 - Shouldn't of
9 - 24/7
10 - It's not rocket science

কেউ কেউ এই লিস্ট দেখে ক্ষেপে গিয়ে বলছেন অক্সফোর্ডের কাজ নাই, তাই এসব ভেরান্ডা ভাজছে (আবার একটা!)। আমরা ধারণা করে নিতে পারি তাঁরা হয় এমবিএ করেছেন নয়তো ম্যানেজার হয়ে গেছেন। ২৪/৭ আমরা তো তাঁদেরকেই দেখি phrase-o-meter নিয়ে আপিস মাথায় করে রাখতে। অনেকে আবার এই লিস্টে নিজেদের মতন যোগও করেছেন। সত্যি দুটো বিখ্যাত লব্জ কিন্তু বাদ পড়ে গেছে যেগুলোর অবশ্যই ১০ এর মধ্যে জায়গা হওয়া উচিত। ইউ নো আর আই মিন। আপনারাও ভাবতে থাকুন বাংলায় আমরা এমন কী কী শব্দ ব্যবহার করি।


সীটের সমস্যা
-------------------
অটো হোক বা বাস, ট্রেন হোক বা প্লেন - সমস্ত জায়গায় এক বিষম সমস্যার মুখোমুখি হন মোটা মানুষজনেরা। ছোট্ট একজনের সীটে বসে থাকাটাও সম্ভব হয় না তাঁদের পক্ষে, আবার পাশের সহযাত্রীটিও নিজের সীটের দাবী ছাড়তে রাজী হন না কোনমতে। তবু ট্রেন, বাসের মতন জায়গায় দুটো সীটের টিকিট কাটা হয়তো সম্ভব কোনো কোনো মানুষের পক্ষে, কিন্তু প্লেনের ক্ষেত্রে একখানা টিকিটই বেশ মহার্ঘ। নিজের জন্য দুটো টিকিট কেটে কি ভাবে প্লেনে চাপবেন ওবিসরা?

এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে কানাডিয়ান সুপ্রীম কোর্ট। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক রায়ে তারা জানিয়েছে যে ওবিস মানুষদের জন্য দুটো করে সীট বরাদ্দ রাখতে হবে প্লেনে। এই নিয়ে চাপান উতোর চলছিল বেশ কদিন ধরেই। কানাডিয়ান এয়ারলাইন্স আর কানাডিয়ান ট্রান্সপোর্টেসান এজেন্সীর এই চাপান উতোরে শেষ অব্দি লাভবান হলেন ওবিসরা। এখন থেকে একজনের টিকিট কেটেই তারা বসতে পারবেন দুজনের সীটে। এমনকি অতিরিক্ত কর ও দিতে হবে না তার জন্য। গত মে মাস থেকে চলে আসা এই মামলার রায়ে খুশী কানাডিয়ান যাত্রীরা। এখন থেকে এই নিয়ম চালু থাকবে কানাডার তিনটি এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে , air canada , air canada jazz আর westjet । তবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ধারণা যে মন্দার বাজারে এই রায় আরো সমস্যা বাড়িয়ে দেবে এয়ারলাইন্সগুলোতে।


আর্ট রুম
--------------------
সারা সন্ধে ধরে প্রায় ৮০০ জন মানুষ ঢুকেছেন টয়লেটে। আরো মানুষ তখনো দাঁড়িয়ে আছেন লাইনে। ভীড় বেড়েই চলেছে উৎসাহী মানুষের। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, ঠিক এমনটাই দৃশ্য কিছুদিন আগে দেখা গেছে মিউনিখের এক পাবলিক টয়লেটের সামনে। অথচ শহরজোড়া মানুষের খাদ্যে বিষক্রিয়া হয় নি, অথবা ভয়ানক কোনো পেটের রোগের মহামারীও আসে নি শহরে। আসলে বদলে গেছে পাবলিক টয়লেটটাই। সবার চোখের আড়ালে পাবলিক টয়লেটটা বদলে গিয়ে হয়ে গেছে আর্ট মিউজিয়াম।

১৮৯৪ সালে তৈরী হয়েছিল এই টয়লেটটি। আশে পাশের যে সমস্ত বাড়িগুলোতে স্যানিটেশানের সমস্যা আছে সেই সমস্ত বাড়ির মানুষেরা ব্যবহার করতেন এই টয়লেট। কিন্তু ক্রমশ: প্রয়োজন কমে আসতে থাকে এর। শেষ অব্দি ১৯৯২ সালে বন্ধই হয়ে যায় টয়লেটটি। তারপরেই এই ১০০ বছরেরও বেশী পুরনো টয়লেটটির দিকে চোখ পড়ে শহরের এক ট্যুরিজম এজেন্সীর। Mathias Kohler এগিয়ে আসেন তাঁর মিউজিয়াম প্রোজেক্ট নিয়ে। চারজন শিল্পীর চেষ্টায় মিউজিয়ামের দেওয়াল ভরে ওঠে গ্রাফিতিতে। মূলত: রাজনৈতিক ছবিতেই ভর্তি এই মিউজিয়াম। বারাক ওবামা থেকে শুরু করে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যালো মার্কেল, সবাই আছে এখানে।

খোলার পর থেকে, ভীড় বেড়েই চলেছে উৎসাহীদের। Kohler জানান যে আগেও যেমন লোককে রিলিফ দিত এই টয়লেট এখনো তেমন সেই রিলিফ দেওয়ারই কাজ করছে এই মিউজিয়াম। যদিও এখনো অস্থায়ী এই মিউজিয়ামটি, তবে এই এমন ভাবে দর্শকের সংখ্যা বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই এটাকে স্থায়ী ভাবে আর্ট মিউজিয়াম বানিয়ে ফেলা হবে জানায় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।


নভেম্বর ২৩, ২০০৮