এই সপ্তাহের খবর্নয় ( সেপ্টেম্বর ২৮)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


শেষপর্যন্ত বাড়ি বিক্রী হয়ে গেল!
-----------------------------

মিশিগানের সেই দম্পতিকে মনে আছে তো? এই গেল সপ্তাহেই যাদের খবর বেরিয়েছিল? আমেরিকায় রিয়েল এস্টেটের বাজার এখন বেশ মন্দা যাচ্ছে, বাড়ি বেচা-টেচা বেশ কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিন-কে-দিন। তো গেরি আর সিন্ডি মান তাঁদের বাড়ি বেচার এক অভিনব প্ল্যান বের করেছিলেন। পুতুলের বাড়ী বিক্রী করতে চেয়েছিলেন এক লাখ উনসত্তর হাজার ডলারে, সাথে নিজেদের বাড়ি ফ্রি। আসলে নিজেদের বাড়িটাই বেচা উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু খদ্দের জুটছিল না। তা, এই পুতুলের বাড়ীর সাথে আসল বাড়ীটি বেচার ফান্ডা তো মার্কেটে হু-হু করে ছড়িয়ে গেছে, তাঁদের বাড়িটা ইন্টারনেট আর মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি বেশ বিখ্যাত হয়ে গেছে। এইমাত্র খবর পাওয়া গেল, তাঁদের বাড়ি কেনার লোক পাওয়া গেছে। আরও ভালো খবর, সেই ক্রেতা কেবল মূল বাড়িটাই কিনছেন, পুতুলের বাড়ীতে তিনি হাতও লাগাচ্ছেন না।


সব মরণ নয় সমান
----------------

ইলেকশনে জেতার হুড়ো সবচেয়ে বড় হুড়ো। লোকে কী কী না করে! এ দেশে তার কম উদাহরণ নেই। সে সব লিস্টিতে যাবো না। এদিকে ব্যাংককে কী হয়েছে শুনুন। ব্যাংককের গভর্নর হবার জন্য ভোট হবে, তাই এক ক্যান্ডিডেটের ক্যাম্পেন ম্যানেজার "জনগণের কাছে' পৌঁছবার জন্যে বেছে নিয়েছিলেন এক খালকে। সেই খালের আশেপাশের বসতির মানুষজন পরিশ্রুত জল পান না, আর খালের জল এতই দুষিত যে সেখানে চান করলে গা-ময় র‌্যাশ বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা। সেইটা হাতেনাতে দেখাতে সেই ক্যাম্পেন ম্যানেজার, থিরাসাক সিতানন্ত, স্বয়ং, মিডিয়াকে খালপাড়ে ডেকে এনে চান করতে নেমে পড়েছিলেন সেই নোংরা খালে। কিন্তু খালের জলের গভীরতা সম্বন্ধে তাঁর কোনও আইডিয়া ছিল না। ফলে তিনি ডুবে যেতে থাকেন এবং সাহায্যের জন্য হাত পা ছুঁড়তে থাকেন। কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা টিভি ক্র্যুরা বুঝতেই পারে নি এই ব্যাপারটা। তারা ভেবেছিল থিরাসাক ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন।

খানিক বাদে যখন আর তাঁকে দেখা গেল না জলের ওপরে, তখন অবশেষে পুলিশ ডাকা হয় এবং থিরাসাকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় নোংরা জল থেকে। লীনা জংজন্যা, গভর্নর পদের ক্যান্ডিডেট, যাঁর হয়ে ক্যাম্পেন ম্যানেজারের কাজ করছিলেন থিরাসাক, তিনি নিজেকে এই প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং থিরাসাকের অন্তিম সৎকারের জন্য সমস্ত রকম সাহায্য করছেন। মিডিয়াকে লীনা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরেও যদি তিনি নিজের জেতার জন্য ক্যাম্পেন চালিয়ে যেতে থাকেন, তা হলে তিনি মানুষ নন, পশু।


ডায়মন্ডস আর ফরএভার
----------------------

হীরে, চিরতরের। হীরের ফেরিওলার এই সুমধুর হাঁকডাকে আমরা অল্পবিস্তর আকৃষ্ট হয়েছি অনেকেই। লোকে অনেক খরচা টরচা করে হীরের গয়না কেনে কারণ শুধুই হীরের ঔজ্জ্বল্য নয়, শুধুই হীরের দুÖপ্রাপ্যতা নয়, হীরের দীর্ঘদিন টিকে থাকাও বটে। একবার হীরে কিনলে তার ক্ষয় হয় না, লয় হয় না, চুরি হয় অবশ্য, তবে সে কথা আলাদা।

কিন্তু মানুষ মরণশীল। যত প্রিয়জনই হোক, একদিন কালের করাল গ্রাসে চলে যেতে হয় সবাইকেই। কেমন হত, যদি সেই প্রিয়জনকে হীরের মতই "চিরদিনের' করে রাখা যেত?

এখন তাও যাচ্ছে। মৃত্যুর পর দেহদাহের পর নশ্বর দেহাবশেষ হিসেবে কী পড়ে থাকে? কয়েক মুঠো ছাই। সেই ছাই আসলে কী? কার্বন। আরে, কার্বনই তো হীরের এক ও একমাত্র উপাদান! সেই কার্বনকে প্রসেস করে যদি একতিল হীরে বানিয়ে ফেলা যায়? যে ভাবা সেই কাজ। দক্ষিণ-পূর্ব সুইটজারল্যান্ডের পাহাড়ের কোলে এক সুইস কোম্পানি অর্ডার পাওয়ামাত্রই বানিয়ে ফেলছে প্রিয়জনের দেহাবশেষ থেকে হীরে। দাম বেশি নয়, এই, সাড়ে সাত হাজার ডলার মাত্র। কোম্পানির চেয়ারম্যান ব্রাইমার কথায় কথায় জানিয়েছেন, এই নতুন আইডিয়ায় সাড়া দিচ্ছেন বেশির ভাগ ক্রিশ্চিয়ানই। প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা বড়ই মর্মান্তিক। কেউ বচ্ছরকার দিনে সমাধিস্থলে গিয়ে সমাধিতে মাথা রেখে নীরবে কাঁদেন, কেউ দিয়ে আসেন এক গুচ্ছ ফুল, কেউ ঘরে তাঁর ছবির সামনে মোমবাতি জ্বালান। কিন্তু কেউ কেউ এমনও আছেন, যাঁরা এইভাবে প্রিয়জনকে "বিদায়' বলতে একেবারেই আগ্রহী নন। তাঁরা বলেন, "বিদায়' কিসের? কিছু না হোক, আর বছর পনেরোর মধ্যেই তো জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে পরপারের সেই লোকে আমি আবার মিলিত হব আমার সেই প্রিয়জনের সঙ্গে। তা হলে মাঝের এই কয়েকটা বছরের জন্য চিরবিদায় বলার কী দরকার? এই মানসিকতার লোকেরাই আসছেন ব্রাইমারের দোকানে। প্রিয়জনের দেহভস্ম নিয়ে।

শুধুই দেহভস্ম নয়, মানুষের মাথার চুলেও কার্বন থাকে। অনেক বেশি পরিমাণে। সেই চুল থেকেও কার্বন বের করে তা থেকে হীরে তৈরি করতে পারে আমেরিকার লাইফজেম কম্পানি আর ইউকে-র ফিনিক্স ডায়মন্ডস কম্পানি। মানে, মানুষ মরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। জীবন্ত মানুষের মাথার চুল থেকেই তৈরি করে ফেলা যাবে চিরন্তন হীরে। অথবা, মৃত প্রিয়জনের কথা নিয়েই যদি আলোচনা করতে হয়, সকলেই তো আর মৃতদেহ চুল্লিতে পোড়ান না, অনেকেই গ্রেভইয়ার্ডে গিয়ে গোর দেন। তা সমাধিস্থ করার আগে মৃত প্রিয়জনের দেহ থেকে চুলগুলো কেটে নিয়ে এই সব দোকানে চলে এলে এঁরা তা থেকেও হীরে বানিয়ে দিতে পারেন। রিমেম্‌ব্রেন্স ডায়মন্ড নামে এই ধরণের হীরের আইডিয়ার জনক কিন্তু সুইস চেয়ারম্যান ব্রাইমারেরই।

ভারতের বিত্তশালীরাও এইভাবে প্রিয়জনের নশ্বর দেহকে অবিনশ্বর করবার কথা ভেবে দেখতে পারেন।


সবুজ ভালুক!
---------------
একটা প্রচলিত ধাঁধা আছে। একটা ভাল্লুক দক্ষিণ দিকে একশো মিটার গেল, তারপর পূর্ব দিকে একশো মিটার গেল, তারপর উত্তর দিকে একশো মিটার গেল, এবং সে তার স্টার্টিং পয়েন্টে এসে পৌঁছলো। তা হলে ভাল্লুকটার গায়ের রং কী? সকলেই অবহিত, এটা উত্তর মেরুবিন্দুতে সম্ভব অতএব ভাল্লুকটি পোলার বিয়ার, অর্থাৎ তার গায়ের রং অবশ্যই সাদা। কিন্তু যদি লোকে দ্যাখে সবুজ রংয়ের পোলার বিয়ার? আরে মশাই, জাপানের এক চিড়িয়াখানায় তাই দেখা যাচ্ছে। লোকে তো দেখে চমকে চুয়াল্লিশ, চোখের তারায় বিস্ময় তাদের আর ধরে না। হিগাশিয়ামা জু-তে পোলার ভাল্লুকটা করেছিল কি, একটা ছোট পুকুরে সাঁতার কেটে ফেলেছিল যেটা অলরেডি অতিরিক্তমাত্রায় শ্যাওলায় পরিপূর্ণ ছিল। আর সেই সাঁতারের পরেই তার শরীর সম্পূর্ণ সবুজ রংয়ের হয়ে যায়। কী করে? ঐ পুকুরে যে ধরণের শ্যাওলা জন্মেছিল, সেগুলো হলো স্পেস পেলেই সেখানে সেঁধিয়ে গিয়ে চেপে বসে থাকে, এক্ষেত্রে ভাল্লুকের গায়ের ঘন লোমের ফাঁকে ফাঁকে সেই শ্যাওলা ঢুকে গেছে, যা নিষ্কাশন করে আনা খুবই টাফ!

ভাল্লুকটা নিজে নিজের গায়ের রং পরিবর্তনে কতটা অবাক হয়েছে জানা যায় নি, তবে চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ এখন অপেক্ষা করবেন কবে নভেম্বর আসবে, কারণ ঐ সময়েই অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে শ্যাওলার বৃদ্ধি বন্ধ হবে, আর পোলার বিয়ারটিও তার গায়ের আসল দুধসাদা রং আস্তে আস্তে ফিরে পাবে।

সত্যি, কোথাও কোথাও সাঁতার কাটা যে কতরকমভাবে বিপজ্জনক হতে পারে! নিকোলে কিডম্যানের কথাই ধরুন! বিশদে আর গেলাম না।


সেপ্টেম্বর ২৮, ২০০৮