এই সপ্তাহের খবর্নয় ( সেপ্টেম্বর ২১)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


বেলচা বাজান
--------------
বাদ্যযন্ত্রের অভাব? সঙ্গীতে বৈচিত্র্য চান? একঘেয়েমি কাটাতে, বা সম্পূর্ণ মৌলিক ঘরানা শুরু করতে চাইলে জাপানের জো মাসাওকে দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারেন। কুড়ি বছর বয়স থেকে মি: মাসাও বেলচা বাজান। গত ডিসেম্বরে ""বিশ্ব বেলচাবাদ্য প্রতিযোগিতা""য় (এই প্রথম এমন প্রতিযোগিতা হলো) বিজয়ী হওয়ার পর থেকে ৬৬ বর্ষীয় জো'র জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিযোগিতায় ৪০ জন অংশ নিয়েছিলেন।
কুড়ির কোঠায় যখন বয়স, তখন জো ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার। কয়লা তোলার বেলচাটা তখন মাঝেমধ্যেই বাজাবার চেষ্টা করতেন তিনি। সেই শুরু, তারপর ক্রমশ: বেলচায় তার জুড়ে সেটাকে পুরোদস্তুর বাজনাই বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। এখন দিনে তিন থেকে চার ঘন্টা রেওয়াজ করতে হয় তাঁকে। প্রায়শই অনুষ্ঠান করতে ডাক পড়ে বিভিন্ন শহর থেকে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাওয়ায় ছকভাঙ্গা এই সঙ্গীতানুরাগী বলেছেন, তাঁর মত আরো অন্তত ৩০-৪০ জন বাজিয়ের সাথে একটা জমকালো কনসার্টের আয়োজন করতে চান।

ললি-পাপ
-----------
ভাবুন তো, কি মজাটাই না হতো যদি একটা ক্যান্ডিতে কামড় দিয়েই আপনি পেয়ে যেতেন তূরীয় আনন্দ। বা চকোলেটের একটা টুকরো মুখে ফেলতেই আজব গালিচায় চড়ে দুনিয়া ঘোরার অনুভূতি হতো। এরকম আরো ভালো ভালো কাজের প্রেরণাতেই সম্ভবত বার্লিনের এক ক্যান্ডি স্টোরে মারিজুয়ানা মেশানো চকোলেট বার ও ললিপপ বিক্রী হচ্ছিলো। সাথে ছিলো এক বিশেষ ধরণের হ্যালুসিনোজেনিক মাশরুম, যার বাজার চলতি নাম ""ম্যাজিক মাশরুম""। দোকান সার্চ করে পুলিশ প্রচুর পরিমাণে মাদক পেয়েছে। দোকানের মালিক, তেইশ বছরের টগবগে জার্মান যুবককে জেলে পাঠানো হয়েছে।

শন বার্থ
----------
সবাই হাতজোড় করে, শুদ্ধবস্ত্রে বসুন। অত:পর আমরা এক বীরপুঙ্গবের কথা শুনে পূণ্য অর্জন করবো। টেক্সাসের শন বার্থের বয়স ছেচল্লিশ। গত মে মাস থেকে শন তার ""চলমান বাড়ি""তে একটি ১৩ বছরের বালিকাকে আটকে রেখেছিলো। মেয়েটিকে সেই থেকে প্রত্যেকদিন ধর্ষণ করা হয়েছে, যার ফলে সে আপাতত মানসিকভাবে অসুস্থ। যৌনদাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিন পরেও তার ভয় কাটেনি, এমন ভয়ংকরভাবে তাকে শাসানো হয়েছে।

এর আগেও শনের নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, তবু সভ্য দেশের নিয়ম মেনে তাকে জেলের বাইরেই রাখতে হয়েছে। এইবারেও সে দিব্যি হেঁটেচলে বেড়াবে, এমনটাই আমাদের আশা। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া যাক, এই ঘটনা নিতান্তই পাকেচক্রে পুলিশের নজরে এসেছে। মেয়েটিকে শন স্কুলে যেতে দিলেও সে ভয়ে কাউকেই কিছু জানায়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ রুটিন চেকাপের সময় গোলমালটা ধরতে পারে, সেইসাথে মেয়েটির মা-ও অভিযোগ করেন। এই পুণ্যাত্মার রকমসকম বেশ ভালোভাবেই হয়ত জানা ছিলো ঐ ভদ্রমহিলার, একদা তিনিই শন বার্থের বান্ধবী ছিলেন। ২'রা অক্টোবর শনের বিচার হওয়ার কথা।

না-মানুষের খবর্নয়
-----------------
অমানুষের কথার পরে, খানিক না-মানুষের গপ্প শুনে নেওয়া যাক। প্রথমেই একটি না-বিড়ালের কথা বলতে হয়। পেনসিল্‌ভেনিয়ার এক মার্জারপ্রেমী প্রতিবেশীর বিড়ালকে একটু আদর করতে গিয়ে যাচ্ছেতাইরকম নাজেহাল হন। ""বিড়াল''টি ভয় পেয়ে যাওয়ার পরে আবিষ্কার করা যায়, সেটি স্কাঙ্ক। উত্তর আমেরিকায় এই বিড়ালসদৃশ ভোঁদড়জাতীয় জন্তুটি হামেশাই পাওয়া যায়। চকচকে কালো ভেলভেটসম পিঠে একটা ""ভি"" আঁকা থাকে এদের। তবে ভয় পেলেই আত্মরক্ষার জন্য এক ধরণের দূর্গন্ধযুক্ত রাসায়নিকের আশ্রয় নেয় এরা। বলা বাহুল্য, পেনসিলভেনিয়ার ভদ্রমহিলাও ঠিক এইভাবেই চিনেছেন এই না-বিড়ালটিকে।

না-বিড়ালের পর না-হাঙর। মানে কিনা, যে হাঙর হয়েও হাঙর নয়। চল্লিশ বছরের টড সার্ফ করতে গিয়ে হাঙরের মুখে পড়ে যান। হাঙরটা পায়ে কামড় বসায়। এবং অকুতোভয় টড হাতটা হাঙরের মুখে ঢুকিয়ে দেন (ভদ্রলোক গান্ধীবাদী কিনা জানা যায়নি), যাতে সে পা ছেড়ে হাতটা কামড়াতে পারে! কিন্তু, কিমাশ্‌চর্যম! হাঙরটা হাতটা অগ্রাহ্য করে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। এর থেকে আমরা তিনটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি। এক, হাঙরটা অবশ্যই না-হাঙর। দুই, হাঙরেরা ( বা না-হাঙরেরা) স্বাদ ভালো না হলে সে খাবার ছোঁয় না ( আমার কথা না, টডের থিওরি, বিবৃতিতে এরকমই বলেছেন উনি)। তিন, গান্ধীবাদ এখনও সমানভাবে কার্যকরী।

সবশেষে আমরা এক শান্তিপ্রিয় না-ভালুকের কথা শুনবো। জিম লিট্‌জ একজন শিক্ষক। অবসর সময়ে পাহাড়ে সাইক্লিং করে বেড়ানো ওঁর নেশা। কয়েকদিন আগে জিম একটা চড়াই বেয়ে উঠতেই এক বিশাল ভালুকের সামনে, থুড়ি, পেছনে পড়ে যান। তখন সাইকেলের গতিবেগ ঘন্টায় পঁচিশ মাইল। মাত্র দশফুট দূরত্বে ভালুকটিকে দেখে জিম থামার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। ভালুকটির কিছু করার ছিলোনা (ওদের কি ইন্সিওরেন্স কিনতে হয়?)। জিম সাইকেলসমেত সপাটে ধাক্কা খান ভালুকের পিঠে, এবং তিনশো পাউন্ড (কিভাবে ওজন মাপা হলো কে জানে) ওজনের ভালুক এবং জিম জড়াজড়ি করে পাহাড় বেয়ে খানিকটা নেমে আসেন ( শোলের কথা মনে করুন)। জিমের হেলমেট ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যায়,কিন্তু ছোটোখাটো চোট পাওয়া ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক ক্ষতি তাঁর হয়নি (ভালুকটার কি হয়েছে কে জানে!)। দূর্ঘটনার অল্পসময়ের মধ্যেই জিমকে ওঁর স্ত্রী উদ্ধার করেন। সপ্তাহখানেকের বিশ্রামেই তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। এবার আপনারাই বলুন, তিনশো পাউন্ডের প্রবল শক্তিশালী এক ভালুকের সাথে গড়িয়ে পড়লেন, অথচ আপনার কিস্যু হলোনা, এরপরেও তাকে আর ভালুক বলা যায়?


সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৮