এই সপ্তাহের খবর্নয় (সেপ্টেম্বর ১৪)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


নিলাম হতে চলেছে কৌমার্য
------------------------

সান দিয়েগোর ২২ বছরের তরুণী নাতালিয়া ডিলান নাম নিয়ে নিলাম কর্‌েত চলেছেন তাঁর কৌমার্য। অভূতপূর্ব এই নিলাম হবে নেভাদা প্রদেশের ব্রথেলে। নাতালিয়া বলছেন 'ক্যাপিটালিস্ট' দেশে বাস করে কৌমার্য কে "ক্যাপিটাল" করে তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষার বিল মেটাবেন। এবং এই নিয়ে তাঁর নিজের মনে কোনোরকম দ্বিধা নেই। তিনি মনে করেন এটা এক ধরণের এমপাওয়ারমেন্ট। নাতালিয়ার মায়ের একেবারেই সায় নেই পুরো ঘটনায়।

স্বভাবতই এই ঘটনা উস্কে দিয়েছে অনেক বিতর্ক। সমাজের প্রচলিত ধারণাগুলোকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে এই নিলাম। এর আগে কানাঘুষো শোনা গেলেও এই প্রথম এক ছাত্রী খুল্লম খুল্লা নিলাম করতে চলেছেন তাঁর শরীর। একদিকে যেমন এই বিতর্ক প্রশ্ন করছে আমাদের "মরালিটি" কে তেমনি অন্যদিকে আরও বৃহৎ প্রশ্ন বোধহয় আমেরিকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা। এম আই টির ইকনমিক্সের প্রফেসর পিটার টেমিন ও তাঁর সহ লেখক দাবী করেছেন ১৯৮০ সালের পর থেকে মার্কিন দেশের মধ্যবিত্তের আয় বাড়লেও তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যয়। আয় এবং ব্যয়ের হিসেব নিকেশ করে ওনারা বলছেন "রিয়েল ইনকাম" অর্থাৎ ক্রয়ক্ষমতা প্রায় একই রয়েছে বা ক্রমশ কমছে। ভোটের ঠিক আগে এই আর্টিকলটি নিয়েও প্রচূর জলঘোলা হচ্ছে। কিন্তু ইকনমিক্সের দুরূহ ইকুয়েশন সলভ না করেও বলা যায় যে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা হয়ে উঠছে ক্রমশ ব্যয়সাপেক্ষ।

হতেই পারে নাতালিয়ার কৌমার্য নিলাম ঘটনা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, চটজলদি মিলিয়নিয়র হবার বা সেলেব্রিটি হবার রেসিপি। কিন্তু আপাত এই লঘু ঘটনাটি আমাদের দাঁড় করিয়ে দিল এক বৃহত্তর প্রশ্নের সামনে।

পুতুলের ঘর কিনলে আস্ত বাড়ি ফ্রি
-------------------------------

ঠিক এমনটাই দাবী করেছেন মিচিগানের গ্যারি আর সিন্ডি ম্যান। আমেরিকায় সাবপ্রাইমের কেলেঙ্কারি তো সবাই জানে। এই বাজারে বাড়ি বিক্রি করতে জেরবার হতে হচ্ছে বাড়ির মালিকদের। ম্যান দম্পতি রিটায়ার করার ঠিক আগে অবস্থার বিপাকে পড়ে এই অভূতপূর্ব বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ইঞ্জিনিয়ার গ্যারি ওনার তিন নাতি নাতনীর জন্য তৈরি করেছিলেন এই বাড়িটি। দেখতে হুবহু ওনাদের বাড়ির মতন, স্কেল হচ্ছে ১ ইঞ্ছি = ১ ফুট। গ্যারি এই খেলনার বাড়িটি তৈরি করতে প্রায় ১ বছর ধরে খাটাখাটনি করেছেন। উনি ধরেছেন খেলনা বাড়ি প্রায় ২০০০ ডলার আর বাকি ১৬৭,০০০ আসল বাড়ির জন্য। তাই পুতুলের বাড়ির দাম ধার্য করেছেন সব মিলিয়ে ১৬৯,০০০ ডলার। বাড়ি বিক্রি হবে কি হবে না, বলা শক্ত। কিন্তু বিজ্ঞাপন হিসেবে লা-জবাব।

সোজা না চলে এঁকেবেঁকে চলুন
------------------------------

সবাই জানে দুটো বিন্দুর মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব হচ্ছে সরলরৈখিক। তাই বলা যায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবার সময় সরলরৈখিক পথে চললেই সবথেকে কম এনার্জী খরচ হবে। কিন্তু পাহাড়ে চড়ার সময় গল্পটাই অন্যরকম। পাহাড়ে চড়তে আমাদের শরীরের ক্রিয়াকলাপ, বা এনার্জী খরচ করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। চড়াই ওঠার সময় এমন এক একটা মোড় আসে যেখানে সরল রৈখিক দূরত্ব অতিক্রম করা "মেটাবলিকালি" অনেক বেশি খরচ সাপেক্ষ। তাই আমরা এঁকেবেঁকে চলে কমিয়ে নিই কষ্ট। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের অধ্যাপক ল্লোবেরা এবং ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের অধ্যাপক টি জে স্লাকিন অংক কষে বের করেছেন চড়াই ওঠার সময় এঁকেবেঁকে চলাই সব থেকে কার্যকরী উপায়। অঙ্ক কষে প্রমাণ করলেও ওনারা বলেছেন সাধারণ লোকের কিন্তু এটা করতে কোনো প্রমাণ করতে হয় না। মানব মস্তিষ্ক সহজেই বুঝে নেয় "অপ্টিমাল স্ট্র্যটেজি"।

অদম্য জীবনীশক্তি - লড়াই করে বাঁচা
---------------------------------

কিছু কিছু লোক আছেন যাঁরা পৃথিবীর সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করেও বেঁচে থাকেন। যেমন ডেবরা কাইলি, আটলান্টিকের বুকে ছোট্ট রবারের ডিঙি নৌকোয় কাটিয়েছেন ৫ দিন। ছিল না খাবার, জল, একে একে মারা গিয়েছে সাথের সঙ্গীরা, কিন্তু হার মানেননি কাইলি। কিম্বা চীনের মা ইউয়ানজিয়াং, ৩১ বছর বয়সী পাওয়ার প্ল্যান্ট এক্সকিউটিভ,যিনি সাতদিন মাটির নীচে কাটিয়েছেন। পান করেছেন নিজের মূত্র আর খেয়েছেন কাগজ। চীনের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের শিকার। অথবা অরি অফ্রিজাল, ২০০৫ সালের সুনামির সময় ভারত মহাসাগরে দুই সপ্তাহ কাটিয়েছেন একটি ছোট্ট রাফটের ওপর।

এই অদম্য সাহসী লোকজনদেরই খুঁজে বেড়ান লরেন্স গঞ্জালেস। "ডিপ সারভাইভাল" নামক এই বইতে তিনি বলেছেন এই লোকগুলির অদম্য জীবনীশক্তি আসলে তাঁদের মানসিক জোর। র‌্যাম্বোর মতন শক্তিশালী লোকেরাই বরং এইরকম প্রতিকূল পরিবেশে আগে মারা যায়, কারণ তারা সাধারণত একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়। উল্টোদিকে যারা খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে তাদেরই বেঁচে থাকার সম্ভবনা বেশি। এরা কখনোঔই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যায় না বরং খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। ইউয়ানজিয়াং, কাইলি বা অরিরা মানসিক ভাবে একইরকম লড়াকু। তাই তাঁরা সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই বেঁচে থাকেন যখন তাঁদের সঙ্গীরা পারেন নি। এমনটাই বলেছেন গঞ্জালেস।


সেপ্টেম্বর ১৪,২০০৮