এই সপ্তাহের খবর্নয় ( সেপ্টেম্বর ৭)


লিখছেন খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


সিয়েরা লিয়ন
-----------
সিয়েরা লিয়ন পশ্‌চিম আফ্রিকার দেশ। বলাবাহুল্য, অত্যন্ত গরীব দেশ। ১৯৯১ থেকে ২০০২ অবধি গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত এই দেশের অন্যতম প্রধান শহর ফ্রিটাউন থেকে সুইডেনের এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিল এক ফুটবল ক্লাব, এফ সি জোহানসন। এই প্রথম কোনো আফ্রিকার দল খেলল এই টুর্নামেন্টে, তাই উদ্যোক্তারা যারপরনাই উত্তেজিত ছিলেন। যদিও এটা কোনো খবর নয়। প্রথমবার খেলেই প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়ে দেশে ফিরেছে এফ সি জোহানসন, এটাও খবর না। খবর হলো, দেশে ফিরতেই দলটি বাঁধনছাড়া অভ্যর্থনা পায়, কারণ, তারা ফিরে এসেছে। এর আগে অনেকবারই এই দেশের অ্যাথলিটরা বিদেশে গিয়ে বেপাত্তা হয়ে গেছেন, স্রেফ খেয়ে-পরে একটু ভালোভাবে থাকার আশায়। ভালো-খারাপের ঊর্ধ্বে, হয়ত বা শুধু বেঁচে থাকতেই ওঁরা এভাবে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। যে দেশে ১ লক্ষ সত্তর হাজার মানুষ এইচ আই ভি পজিটিভ, যেখানে গড় নাগরিক মোট ৭ বছরের বেশি স্কুলে যেতে পারেন না, গড় আয়ু চল্লিশের একটু ওপরে এবং অর্থনীতির অন্যতম মূলস্তম্ভ "" ব্লাড ডায়মন্ড"" বিক্রি, তাদের ফুটবল দল সব জেনেশুনেও ঘরে ফিরে এলে সেটা আশ্‌চর্যের কথাই বটে। সাধারণ মানুষ তাই উল্লসিত। প্রতিযোগিতায় ছয় গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছে যে ছেলেটি, সেই ১৩ বছরের ইসা কোরোমা বলেছে, সে তার দেশকে ভালোবাসে, এবং স্বপ্ন দেখে জাতীয় দলের হয়ে একদিন মাঠে নামার। কে জানে, আরো একটু "" বড়ো"" হলে সে হয়ত মত পাল্টাতেও পারে। কিচ্ছু বলা যায় না!

এলাটিং বেলাটিং
--------------
সোয়াজিল্যান্ডের রাজা বিয়ে করবেন। তাই উৎসবপ্রাঙ্গণে দশ হাজার কুমারী জড়ো হয়েছে। খটোমটো নামের (সোয়াটি-তিন) রাজা বললেন, মেয়েদের ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত থাকুক, নইলে ঠিকমত ""বেছে"" নিতে তাঁর অসুবিধে হবে। অতএব তাই হল। চিতাবাঘের ছাল পরে রাজা হাঁটতে থাকলেন সেই অভিনব সভায়। মেয়েগুলো কি বেহায়া ভাবুন, একটুও ""আত্মসম্মান"" নেই। তারা হেসেখেলে, নেচেকুঁদে রাজার কথামত চলল। চোদ্দ নম্বর বউ, যে সে কথা নয়। বিয়ে হল কিনা, হলে কে সেই ""ভাগ্যবতী"", কিংবা ফুলশয্যায় কি হল, সেসব আমরা জানতে পারিনি। বরং দুধের অভাবে ক্ষুদের মত,আসুন ফুলের অভাবে খানিক ক্যাকটাসচর্চা হয়ে যাক। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে, চল্লিশ শতাংশ মানুষ এইডস আক্রান্ত, অথচ সোয়াটি-তিন পৃথিবীর প্রথম কুড়িজন রাজাদের তালিকায় নাম তুলে রেখেছেন (ফোর্বস পত্রিকা, ২০০৮)। সেখানে তিনি লাস্ট নন, ফিফ্‌টিন্থ, এবং আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য রাজা এমনিতেই যথেষ্ট সমালোচিত। বিরোধীপক্ষ ( তারা কারা জানা যায়নি, আরেন্টিস্যারের মত করে বলা হয়েছে, ""নিন্দুক"") বলেছে, গরীব একটা দেশের রাজা এভাবে পলিগ্যামি আর টিনেজ সেক্সকে উৎসাহ দিয়ে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত রাখছেন।
রানীদের কেউ কেউ বিএমডব্লু চালান, দেশের অন্যান্য মানুষের মত তাঁদের জীবন নয়। অন্যরা কায়ক্লেশে ৩১ বছর বেঁচে থাকতে পারে কি পারে না, সেখানে রানীদের জীবন বিলাসবহুল। তাই মহামহিম রাজা যা বলেন, তাই মেনে নিয়েই সবাই এগিয়ে আসেন। ১৬ বছরের টেনেন দামিনির উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করি, "" আমিও অন্য অনেকের মতই এসেছি, যাতে রাজা আমাকে পছন্দ করেন। রানীদের কোনো অভাব নেই, ওদের কাজ করতে হয় না, টাকার চিন্তাও নেই। ওরা ভালো থাকে। ""

গ্রীসের গুপ্তধন
-------------
উত্তর গ্রীসের এক প্রাচীন ও পরিত্যক্ত শহর থেকে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেল এক বিশাল তাম্রপাত্র। প্রথমে ল্যান্ডমাইন বলে ভুল করলেও পরে সবাই সবিস্ময়ে লক্ষ করেন, ওটাকে একটা প্রাগৈতিহাসিক কফিন বলা যায়, ঐ পাত্রে আসলে কাউকে সমাহিত করা হয়েছিল। সাথে দেওয়া হয়েছিল এক বহুমূল্য সোনার হার। এই ধরণের অলঙ্কার অত্যন্ত বিরল। একমাত্র বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমাধিতেই স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যেত, এবং এতেই এই আবিষ্কার অন্য মাত্রা পেয়ে গেছে।
প্রাচীন এই শহরের নাম Aigai , ম্যাসিডোনিয়ার প্রথম রাজধানী, যেখানে দ্বিতীয় ফিলিপকে হত্যা করা হয়। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় The University of Thessaloniki সূত্রে জানানো হয়েছে, তামার পাত্রটিকে প্রথমে অন্য কোথাও (খুব সম্ভবত কোনো রাজকীয় সমাধিক্ষেত্রে) সমাহিত করা হয়েছিলো, পরে তুলে এনে শহরের মধ্যে আবার পোঁতা হয়। ঘটনাচক্রে সেই জায়গাটার খুব কাছেই থিয়েটার হল, যেখানে ফিলিপ ছুরিবিদ্ধ হন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে গ্রীসের এই অঞ্চলের এক প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকেই আরো একবার প্রচুর অলঙ্কার উদ্ধার করেছিলেন আর্কিওলজিস্টরা। এমনিতেই আলেকজান্ডারের সমাধি নিয়ে রহস্যের শেষ নেই, তার ওপর নতুন করে এই আবিষ্কারের ফলে আরো একগুচ্ছ প্রশ্ন দানা বাঁধল। কেন একজন অপরিচিত (কিন্তু বিশিষ্ট) ব্যক্তির সমাধি শহরের সবথেকে জনবহুল অংশে পুন:সমাহিত করা হল, আদৌ সমাহিত করা হয়েছিল, না একরকম লুকিয়ে রাখা হয়েছিল,ঐ বিশেষ ব্যক্তিটিই বা কে, এরকম হাজারো প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আজকের ঐতিহাসিকরা।


সেপ্টেম্বর ৭,২০০৮