এই সপ্তাহের খবর্নয় ( আগস্ট ২৪)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


যত দোষ ........
--------------------------
সারা বিশ্ব যখন মেতে রয়েছে খেলার মহাযজ্ঞে, চতুর্দিকে কান পাতলেই যখন শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের মেডেল কাউন্ট আর তার সাথে অনেক সাফল্য আর ব্যর্থতার খবর - ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত যে আপাতত খেলাধুলো, বিশেষ করে গলফের মতন খুব দামী খেলাধুলোকে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে রাখা দরকার। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট Lee Myung-Bak এক নতুন নির্দেশ জারি করেছেন যে প্রশাসনের সাথে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা যেন কিছুদিন তাঁদের গলফ খেলার অভ্যেসটাকে সামলে রাখেন।

প্রেসিডেন্ট জানান যে গলফ খেলার ওপর তাঁর কোনো বিদ্বেষ নেই, কিন্তু সমস্যা হল খেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ায় গলফ খেলার খরচ এমনিতেই প্রচন্ড বেশি। গড়পরতা ক্লাবগুলোর চাঁদার পরিমাণ প্রায় আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ ডলার। এছাড়া উইকেন্ডে প্রতি রাউন্ড খেলার পেছনে প্রায় আড়াইশ ডলার দিতে হয় সদস্যদের। এতদিন বড় কোনো সমস্যা হয়নি এসব নিয়ে, কিন্তু আপাতত বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা যাচ্ছে চারদিকে। তার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে ক্রমশ:। ভোটে জেতার আগে সরকার অর্থনৈতিক উন্নতির যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছিলেন, তা এখন বহু দুরে বিলীন হওয়ার মুখে। জনপ্রিয়তা কমে আসছে হু হু করে - তাই প্রেসিডেন্টের ধারণা যে, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যদি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা খেলাধুলোর পেছনে লক্ষ লক্ষ ডলার ওড়ান, তবে তার খারাপ প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের মনে। সামনেই আসছে Chuseok holiday এর ছুটির দিনগুলো। প্রতি বছর এই সময়েই, গলফে মেতে ওঠেন সবাই। অনেকে পাড়ি দেন দূর দেশে, গলফের জন্য। তাই গলফের ওপর এমন আইন জারি করাকে ভাল চোখে দেখছেন না প্রেসিডেন্টের নিকট বন্ধুরাও। তবে প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ নি:সন্দেহে খুব অভিনব। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে মাঝে মাঝে যে ভারতবর্ষ কি এই জন্যই খেলাধুলোতে উৎসাহ দেয় না কখনো !! 'ভারত আজ যা ভাবে ........'

খাই খাই করো কেন !!
-------------------------

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে খাদ্যশস্যের ওপরে। সারা বিশ্ব জুড়ে তৈরি হয়েছে খাদ্যসংকট এবং যথারীতি সেই খাদ্যসংকটের পেছনে মূলত দায়ী যে ভারত সহ এশিয়ান দেশগুলো, সেই বিষয়ে নিজেদের 'সুচিন্তিত মতামত' জানিয়েছেন বুশ গোষ্ঠী। তবে আপাতত আমরা সেটা নিয়ে তর্কবিতর্কে যাবনা। ভারতের জন্য খাদ্যসংকট তৈরি হোক বা না হোক, খাদ্যসংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অভিনব পন্থা খুঁজে নিয়েছে এক ভারতীয় রাজ্য।
বিহারের রাজ্য উন্নয়ন পর্ষদের মতে এই খাদ্যসংকট মেটাবার জন্য মানুষের উচিত প্রাণীজ খাদ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া, আর বিহারে সবচেয়ে সহজলভ্য প্রাণীজ খাদ্য যখন ইঁদুর, তখন সব ছেড়ে ইঁদুর দিয়ে বানানো যেতে পারে দু-বেলার খাবার। শুনতে খুব আশ্চর্য লাগলেও, সোমবার সাংবাদিকদের সামনে এই কথাই বলেন উন্নয়ন পর্ষদের মুখপাত্র বিজয় প্রকাশ। তিনি জানান যে ইঁদুরকে যদি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় তবে একসাথে দুটো কাজ হয়ে যাবে। প্রথমত চাল বা গমের ওপর নির্ভরতা কমবে মানুষের আবার অন্য দিকে ইঁদুর জাতীয় প্রাণীরা ক্ষেতে, খামারে বা শস্যের গুদামের যে প্রবল ক্ষতি করে তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

ভারতবর্ষে উৎপন্ন শস্যের একটা বড় অংশ চলে যায় ইঁদুর জাতীয় প্রাণীদের পেটে। বিহারের তফশিলী জাতি এবং উপজাতি উন্নয়নের মন্ত্রী জিতন রাম মাঝি জানান যে বিহারের বেশ কিছু উপজাতিদের খাদ্য তালিকায় ইঁদুর বহুদিন থেকে অন্তর্ভুক্ত। ইঁদুরের মাংস খুবই সস্তা এবং পুষ্টিকর। তাই সরকার এখন চাইছে বিহারের সর্বত্র ইঁদুরকে খাদ্য হিসেবে চালু করে দিতে। বিশেষত পিছিয়ে পড়া উপজাতি এবং গরীব প্রান্তবাসীদেরকে যদি ইঁদুর খাওয়ায় উৎসাহ দেওয়া যায় তবে এই তুমুল খাদ্য সংকটের দিনেও তারা অপুষ্টির স্বীকার হবেন না। আপাতত আমরা জানি না যে এই ইঁদুর খাওয়ানোর প্রকল্পে কতটা সফলতা পাবে সরকার, তবে একটু সন্দেহ থেকেই যায়; বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতন দলগুলো সিদ্ধিদাতা গণেশের বাহনের ওপর এই অত্যাচার মেনে নেবে তো?

ফের খাই খাই
-------------------

ছোটবেলা থেকেই সারাক্ষণ শুনে আসছি যে, 'সেই' যুগ নাকি ছিল সোনায় মুড়ে রাখার মত যুগ। তখন নাকি এক টাকায় দশটা তাজা ইলিশ পাওয়া যেত, আবার সঙ্গে একটা ইলিশ ফাউ। তখন নাকি সারা মাসের বাজার হয়ে যেত খুচরো পয়সা দিয়ে। তাছাড়া ভেজালের তো নামগন্ধ ছিল না। কিন্তু হায়! যুগ গেছে বদলে। সে রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। খাবারদাবারের আগুন দাম। পকেট হাল্কা আর পেট ভারী রাখার মধ্যে আজকাল ব্যালান্স রাখাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এসব থেকে একদিনের জন্য ছুটি পেয়েছিলেন East Harlem এর মানুষেরা। না:, ওখানে কোনো টাইম মেশিন তৈরি হয়নি বা কোনো বিরিঞ্চিবাবারও উদয় হয়নি। গত বুধবার ছিল Patsy's restaurant নামের ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টটির ৭৫ বছর পূর্তি। এককালে এই রেস্টুরেন্টটি বিখ্যাত ছিল Frank Sinatra , Tony Bennett এর জন্য। কিন্তু গত বুধবার এই রেস্টুরেন্টে ভিড় বেড়ে যাওয়ার কারণ ছিল অন্য। ঐ দিন তারা পরিবেশন করেছিল ৭৫ বছর আগের মেনু, এবং ৭৫ বছর আগের সেই পুরনো দামেই। ১২ আউন্সের স্টেক আর তার সাথে স্যামন মাছ পাওয়া যাচ্ছিল ৯০ সেন্টেই। পিৎজা খেতে গেলে দিতে হচ্ছিল মাত্র ৬০ সেন্ট। সমস্ত রকমের পানীয় মিলছিল ১০ সেন্টেই। একদিনের জন্য বিশ্বযুদ্ধোত্তর জগতে পৌঁছে গেছিলেন খাদ্যরসিকরা। তবে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান যে খাবারগুলো সমস্তই টাটকা ছিল, কোনটাই ৭৫ বছরের পুরনো ছিল না।


ইন্টারনেটে ন্যাগিং
------------------------

এক প্রচন্ড বৃষ্টির দিনে অফিসে এসে বসেছেন।জামা কাপড় ভিজে জবজবে, ভাবছেন কিভাবে এগুলো শুকোবেন, হঠাৎই টের পেলেন আপনার পাশের সীটের ভদ্রলোকটি তার ভিজে জুতো মোজা খুলেই বসে আছেন, আর সেগুলো আপনার ঘ্রাণশক্তিকে রীতিমত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এমন অবস্থায় আপনি ঠিক কি করবেন? আর পাশের ভদ্রলোকটি যদি আপনার ম্যানেজার হয়, তবে তো নাকে সেলোটেপ লাগানো ছাড়া আপনার আর কিছুই করার নেই। অথবা সদ্য ডেটিং-এ গেছেন বয়ফ্রেন্ডের সাথে, সমানে ডান হাত দিয়ে দাঁত খুঁটে চলেছে আপনার নতুন বন্ধুটি। প্রথম দেখায় কিছু বলেও উঠতে পারছেন না; ফলে প্রেম না দাঁতের ক্যাভিটি কোনটাকে আগে রাখবেন সেই নিয়ে ভয়ানক চিন্তায় আপনি।

এইসব সমস্যার সমাধান এখন আপনার হাতের মুঠোয়। চলে যান NiceCritic.com এর সাইটে। খুঁজে নিন আপনার পছন্দের মেসেজটি। আর তা সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিন আপনার ম্যানেজার বা আপনার বয়ফ্রেন্ডের কাছে। অবশ্যই আপনার নাম অপ্রকাশিত থাকবে। কিন্তু ওঁরা পেয়ে যাবেন Please do not remove your shoes. Your feet tend to give off an aroma র মতন মেসেজ। ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন এমন অনেক অনেক মেসেজ। কাউকে বলে দিন A breath mint would be beneficial today , অথবা কোনো 'অ মাইক' মহিলা কে জানিয়ে দিন যে Please limit your conversations over the cubicle walls ।

নিউ জার্সির এক সফটওয়ার ডেভেলপার Eric Riesenberg এর বানানো এই সাইটটি। ওঁর এক বান্ধবী কিছুদিন আগে মন্তব্য করেন ওঁর নাক থেকে বেরিয়ে আসা একগুচ্ছ চুল নিয়ে। কিন্তু বলার পরে সেই বান্ধবী নিজেই লজ্জায় পড়ে যান। তখনই সিদ্ধান্ত নেন Eric যে এমন এক সাইট খুলবেন যাতে মুখচোরা মানুষেরা আড়ালে থেকে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন অন্যদেরকে। ফলে কমিউনিকেশানেরও সুবিধে হবে, অনেক ছোট ছোট ত্রুটিবিচ্যুতিও কাটিয়ে উঠতে পারবেন মানুষেরা। এখন দেখা যাক এই ওয়েবসাইটটির হিট কাউন্ট কেমন দাঁড়ায়, সাধারণ মানুষ কেমন ভাবে নিতে পারেন নিজেদের সমালোচনাকে।


আগস্ট ২৪,২০০৮