এই সপ্তাহের খবর্নয় ( আগস্ট ১০)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


দীর্ঘজীবনের রহস্য : ওবেসিটি
---------------------------

কখন কি ঘটে যায়, কিচ্ছু বলা যায় না। টগবগে ফিটনেস নিয়ে অনেককে সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হতে দেখা যায়, এতে তেমন অবাক হওয়ার কিছু নেই। অবাক লাগে যখন টগবগে স্বাস্থ্য নিয়ে একজন প্রফেসর নিজের মৃত্যুদিন জেনে নিয়ে শেষ বক্তৃতা দিয়ে যান হাসিমুখে, এবং বক্তব্য রাখার মাঝে রীতিমত ডনবৈঠক দিয়ে প্রমাণ করে দেন শ্রোতাদের অধিকাংশের থেকে তিনি বেশি ফিট। আর এর থেকেও আশ্চর্যের কথা হলো, ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত ওজন কখনো কখনো মৃতসঞ্জীবনীর কাজ করতে পারে। যেমন কিনা ঘটতে পারে রিচার্ড কুই নামের এক মৃত্যুদন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত আসামীর ক্ষেত্রে। ১৯৪৬ সালের দুটি ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রিচার্ডকে প্রাণদন্ড দেওয়া হয়, আগামী ১৪ই অক্টোবর যা কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে, বহু জনহিতকর কাজ অসমাপ্ত রেখে মারা যেতে চাইছে না রিচার্ড। তাই সে সম্প্রতি আবেদন জানিয়েছে, যেন তাকে রেহাই দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে অতিরিক্ত ওজনের দরুণ তার উপরে অ্যানেস্থেশিয়ার ক্রিয়া যথাযথ না হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে মৃত্যু তার কাছে অস্বাভাবিক যন্ত্রণাদায়ক হবে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির এই দেবতুল্য ব্যক্তির ওজন মাত্র ২৬৭ পাউন্ড। এই আপিল নিয়ে চাপান উতোর সবে শুরু হয়েছে, সেসব কচকচির মধ্যে না ঢুকে আমরা বরং দেখে নিই এর আগে এরকম ঘটনা ঘটেছে কিনা। প্রথমেই ক্রিস্টোফার নিউটনের কথা বলা যাক। ২৬৫ পাউন্ড ওজনের এই ব্যক্তির প্রাণদন্ডের সময় ডাক্তারদের বিস্তর অসুবিধে হয় শিরা খুঁজে পেতে। পরে ডাক্তাররা স্বীকার করেন অতিরিক্ত ওজন এই অসুবিধের অন্যতম কারণ। বোঝাই যাচ্ছে, এই ইতিহাসকেই অস্ত্র করে এগোচ্ছে রিচার্ড। দু বছর আগে এরকমই আরেকটি আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দেয় আদালত, তাই রিচার্ডের আইনজীবীরা কোনো ফাঁক রাখতে চাইছেন না। এবার কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, সেটাই দেখার।


ইতিহাসের গপ্পসপ্প
-----------------
২৫শে এপ্রিল ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওয়েবসাইটে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মায়া সভ্যতা অন্যান্য জিনিসের মত বয়নশিল্পেও দুর্দান্ত উন্নতি ঘটিয়েছিলো। হন্ডুরাসের এক আর্কিওলজিকাল সাইট থেকে দেড় হাজার বছরের পুরোনো সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে। সমাধিটি এক রাণীর, এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই সেখানে সর্বোৎকৃষ্ট মানের কাপড়ের টুকরো পেয়ে গবেষকরা একটুও অবাক হননি। যে কয়েকটি বিষয় গবেষকদের বিস্মিত করেছে, তা হলো :
১) এতদিন পরেও কাপড়ের টুকরোগুলো একেবারে নষ্ট হয়ে যায় নি।
২) কাপড়ের মান নির্ধারণ করে দেখা গেছে যে, এখন আমরা যে ধরণের কাপড় ব্যবহার করি, ৫০০ শতাব্দীতেই ঐ ধরণের কাপড় বুনতে মায়ানরা জানতেন।
৩) তুলো, ঘাস, গাছের পাতা এবং বাকল দিয়ে সুতো বানিয়ে সেই সুতোয় বোনা হতো এই কাপড়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
এই আবিষ্কার মায়ান স্টাডিজের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিলো।

পরের খবরটা তুলনায় অনেক সাম্প্রতিক। বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া থেকে ১৮০ মাইল পূবে খননকার্য চালাচ্ছিলেন আর্কিওলজিস্ট ড্যানিয়েলা ও তাঁর সঙ্গীরা। সেখানে তাঁরা প্রায় দুহাজার বছরের পুরোনো একটি রথ পেয়েছেন। চারচাকার এই রথটি Thracian যুগের, এবং এর প্রায় সমস্তটাই অখন্ড অবস্থায় পাওয়া গেছে। ড্যানিয়েলা জানিয়েছেন, এর আগে এই ধরণের রথের অংশবিশেষ কয়েকবার পাওয়া গেলেও, এই প্রথম একটা গোটা রথ মাটির তলায় এতটা সুরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেল। বুলগেরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রক এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ড্যানিয়েলাদের জন্য আরো ৩৯০০ ডলার বরাদ্দ করেছে।

এইসবের মধ্যেই মানুষের দুধ খাওয়ার ইতিহাস আরো ২০০০ বছর পিছিয়ে গেল। দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত খাদ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার হয়েছে এরকম মাটির পাত্রের টুকরো পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এই চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। প্রসঙ্গত:, এই টুকরোগুলি আনাতোলিয়া থেকে পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে টার্কির অন্তর্গত।


একটি মোরগের কাহিনী বা আঁফাঁ তেরিব্‌ল
--------------------------------------

টেনিদা হলে এরকমই বলতো! মুন্ডুহীন একটা মুরগীকে এছাড়া আর কিই বা বলা যায়? এটি আসলে ""হেডলেস ওয়ান্ডার চিকেন"" বলে বিখ্যাত একটি মুরগীর গল্প, যে মাথাকাটা অবস্থায় আঠারো মাস বেঁচে ছিলো বহাল তবিয়তে, হয়ত বা স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি ভালোভাবেই বেঁচেছিলো মাইক। গপ্পের প্রথম অংশ অতি নির্মম, লয়েড ওলসেন তাঁর পোষা মুরগীর মাথাটা কেটে ফেলার পরেও হয়ত স্রেফ ইচ্ছাশক্তির বলে মাইক পালিয়ে যায় ও বেঁচে থাকে। এরপরের অংশ প্রায় রূপকথা। মাইকের বাঁচার ইচ্ছে দেখে তার খাওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা (""মুন্ডু গেলে খাবোটা কি?"" এইটাই প্রধান অসুবিধে ছিলো) করা হয়, কালক্রমে গিনেস বুকে নাম উঠে যায় মাইকের, এবং বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেন গলার কাছে রক্ত জমাট বেঁধে থাকায় সে বেঁচে গিয়েছে। আড়াই পাউন্ড ওজনের মাইক এই আঠেরো মাসে আট পাউন্ডের ঈর্ষণীয় স্বাস্থ্য লাভ করে, ফলে পশুপ্রেমীরা ট্যাঁফোঁ করতে পারেন নি। বিখ্যাত এই মুরগীর নামে ১০,০০০ ডলারের ইনশিওরেন্স করা হয়। মনে রাখতে হবে, এসবই ১৯৪৫ সালের ঘটনা। সেই থেকে এই বিশেষ ঘটনা রীতিমত ঘটা করে পালিত হয়ে আসছে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে।


আগস্ট ১০, ২০০৮