এই সপ্তাহের খবর্নয় ( জুলাই ২৭)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


'এখানে প্রস্রাব করিবেন' - নাসা
------------------------------------

দেয়ালে দেয়ালে 'প্রস্রাব করিবেন না' লিখেও যখন কোনোভাবেই বাঙালীদের আটকাতে পারে না পৌরসভা, তখন তাদের জন্য নতুন সুখবর বয়ে নিয়ে এলো NASA । এই মুহূর্তে NASA র মেসেজ বোর্ডে রয়েছে বড় করে প্রস্রাব করার বিজ্ঞপ্তি। সাহায্য চাওয়া হচ্ছে সবার কাছ থেকে, ডোনেশান হিসেবে শুধু আপনাকে দিতে হবে একটু 'ছোট বাথরুম'।

মূল সমস্যাটার শুরু Orion নামের এক স্পেস ক্যাপসুল থেকে। মহাকাশচাদের চাঁদে নিয়ে যাবে এই ক্যাপসুল। সেখানেই প্রায় মাস ছয়েক কাটাবেন মহাকাশচারীরা। তো এই ছয় মাস থাকার জন্য বানাতে হবে এক নতুন ধরনের বাথরুম। সেই বাথরুমের ক্যাপাসিটি বোঝার জন্য আর অন্যান্য পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য দরকার প্রতিদিন ৮ গ্যালনের মতন urine । তাই সাহায্য চাওয়া হয়েছে সবার কাছে, আপাতত নাসার কর্মীরাই এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। তবে যেমন তেমন করে দিলেই হবে না, কিছু শর্ত আরোপ করেছেন নাসা কর্তৃপক্ষ। যেমন, বেশী পানীয় খেয়ে urine এর ঘনত্ব কমানো চলবে না। কারণ urine এর ঘনত্বটাই সবচেয়ে বেশী চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। ওয়েস্ট ডিসপোসাল সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশী ওটার জন্যই। এছাড়াও বেশী পুরনো urine বোতলে ভরে এনে দেওয়া যাবে না। দুই ঘন্টার বেশী যেন পুরনো না হয় কিছু।

এই পরীক্ষানিরীক্ষা আরো কতদিন চলবে তা এখনো জানা যায় নি, তবে নাসা নাকি এর আগেও এমন পরীক্ষা চালিয়েছে অনেক।

আচ্ছা নাসা কি কলকাতা পৌরসভাকে এই কাজটা আউটসোর্স করতে পারে না? আউটসোর্সিং এরও এক নতুন দিক খুলে যাবে, ভারতের শিল্প মানচিত্রে কলকাতাও ফের জ্বলজ্বল করে উঠবে। আপনারা কি ভাবছেন এই ব্যাপারে?

বানানে বেঁধো না
------------------

বানান নিয়ে গুরুচন্ডালীর পাঠকদের খুঁতখুঁতুনির সীমা পরিসীমা নেই। ভাষাকে অকারণ বানানের জালে আটকে রেখে, স্বাধীন ও মুক্ত মত প্রকাশে বাধাদান করার দিকেই যেন সবার নজর। তবে এতদিনে হয়তো বানান বিপ্লবীগণ তাঁদের পথের সুযোগ্য সাথী খুঁজে পেয়েছেন। New Hampshire এর Valley News তাদের ২১ জুনের কাগজের সামনের পাতায় নিজেদের নামের বানানটাই ভুল ছাপায়। Valley Newss এর ঐ দিনকার কাগজ রীতিমতন সাড়া জাগায় পাঠকদের মধ্যে। পরের দিন যথারীতি সম্পাদকীয়তে দেখা যায় দু:খপ্রকাশ। তবে মিডিয়ার স্পেলিং স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই একটা বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে Valley News ।

আর এত কিছুর পরেও সুখবর এই যে, Online blog regret the error এর তরফ থেকে বছরের সেরা বানানভুলের পুরস্কার পেতে চলেছে এই কাগজ। আমাদের বানান বিপ্লবীগণ একবার চেষ্টা করে দেখবেন নাকি? পরের বছর যদি সেরার পুরস্কারটা জুটে যায় !


আবার নামাবলী
-----------------

বাচ্চাদের নাম রাখার ব্যাপারে নিউজিল্যান্ডের বাবা মায়েদের চিন্তা ভাবনার যে পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে, তা সত্যি উদ্বেগজনক। এর আগে নিজের সন্তানের নাম নিউমেরিকাল ডিজিটে রেখে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন এক দম্পতি। পরে কোর্টের আদেশে সেই নাম পাল্টে ফেলতে বাধ্য হন তারা। আবার সেই রকম ঘটনা ঘটতে দেখা গেলো নিউজিল্যান্ডেই।

এক দম্পতি তাদের মেয়ের নাম রেখেছিলেন Talula Does the Hula From Hawai । সম্প্রতি কোর্টে ওঠে তাদের মামলা, বিচারক Rob Murfitt নির্দেশ দেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাচ্চাটির নাম বদলানোর জন্য। এত বড় নাম নিয়ে নিজেও ভয়ংকর অস্বস্তি তে ছিল ছোট্ট মেয়েটা। লজ্জায় নিজের নাম কাউকে বলতে চাইতো না সে। সব্বাইকে জানাতো তার নাম K । এই ঘটনা জানার পর ঐ দম্পতিকে রীতিমত তিরস্কার করেন বিচারক।

কিন্তু এই সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়। বাচ্চাদের অদ্ভুত সব নাম রাখাটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডে। ফলে প্রতি বাবা মা'ই চান নতুন কিছু নাম রাখতে। নাম রেজিস্ট্রেশান অফিস ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছে কিছু নাম, যেমন Yeah Detroit , Fish and Chips , Twisty Poi , Keenan got lucky বা Sex fruit । কিন্তু ঝামেলার শেষ হয় নি তাতেও। খুঁজে পাওয়া গেছে Tragically violence বা Number 16 Bus shelter নামের বাচ্চাদেরও। জন্ম মৃত্যু নথিভুক্তকরণের অফিস থেকে Brian Clarke জানান যে ওঁরা বাবা মায়েদের এই সমস্যাটা বোঝাতে ব্যর্থ। বড় বড় এবং অদ্ভুত সব নাম নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে ছোটরাই। কিন্তু তাতেও বড়দের মধ্যে 'ফ্যাশন ট্রেন্ড' শেষ হয় না।


'ফাইন' প্যান্ট
---------------

আমেরিকান টীন-এজার ছেলেদেরকে দেখেছেন তো? তাদের বেশীর ভাগই প্যান্টটা পরে প্রায় হাঁটুর কাছাকাছি। অন্তর্বাস তো প্রায়ই বেরিয়ে থাকে। আর এটাই এখানকার লেটেস্ট ফ্যাশন ট্রেন্ড। তবে এই ফ্যাশন মনে হয় সবার ঠিক পছন্দ হয়নি। দক্ষিণ শিকাগোর Linwood -এ এক নতুন আইন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ, যাতে বলা হয়েছে যে ঐ অঞ্চলে যদি কেউ এমন ভাবে প্যান্ট পরে যাতে ৩ ইঞ্চি বা তার বেশী অন্তর্বাস দেখা যাবে, তবে ২৫ ডলারের ফাইন দিতে হবে। মেয়র Eugene Williams -এর বক্তব্য যে এই ফ্যাশনের নামে অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ানোটা খুব ক্ষতিকর। আর এই জন্যই বড় রিটেল কোম্পানিগুলো ঐ অঞ্চলে আসে না, কোনো অর্থনৈতিক উন্নতিও হয় না এলাকার।

যদিও ঐ এলাকার ছেলেরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এই আইনের বিরুদ্ধে। তাদের নিজস্ব স্টাইলে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবী জানাচ্ছে তারা। আর যেহেতু এই ধরনের ফ্যাশান সবচেয়ে বেশী দেখা যায় কালো মানুষদের মধ্যে, তাই অনেকেই এই আইনের পেছনে বর্ণবিদ্বেষের গন্ধও পাচ্ছেন। The American Civil Liberties Union থেকেও তাই উঠে এসেছে প্রতিবাদ। যদিও গ্রামের মাথাদের এই নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। আপাতত ফ্যাশনের ওপর কড়া নজরদারিতে ব্যস্ত তারা।


জুলাই ২৭, ২০০৮