এই সপ্তাহের খবর্নয় (১৪ জুলাই,২০০৮)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


Born বিদ্বেষ নিয়ে দুয়েকটা কথা
--------------------------------

প্রথমেই রেসিজম নিয়ে সাম্প্রতিক খবরটা দিয়ে দেওয়া যাক। আমেরিকার এনসিবি ( National Children's Bureau ) শিশুদেরকে বর্ণবিদ্বেষজনিত অপরাধের আওতায় আনার সুপারিশ করে আপাতত খবরের শিরোনামে। সরকারী সহায়তায় চলা এই সংগঠনটির মতে, শিশুদের আচরণবিধি ভালো করে পরীক্ষা করা উচিত, এবং তাদের সাধারণ কথাবার্তা থেকে রেসিজমের নামগন্ধ পেলেই যথাস্থানে জানানো উচিত। এই সুপারিশে তিন বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত শিশুদেরই নতুন নিয়মের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। এনসিবির রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার সময় ছোটোরা অন্য সম্প্রদায় সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলে ফেললে বা কোনো খাবার সম্পর্কে ঘৃণাসূচক প্রতিক্রিয়া জানালে সেগুলো বর্ণবিদ্বেষের মধ্যেই পড়বে।

এনসিবির মত যে আরো অনেকেই ভাবছেন সেটাও বেশ স্পষ্ট। সম্প্রতি একটি দশ বছরের ছেলেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। তার অপরাধ, খেলার মাঠে ঝগড়া করার সময় সে তার এক বন্ধুকে "" পাকি"" এবং ""বিন লাদেন"" বলেছিলো।

ইতিমধ্যেই এই হাস্যকর সুপারিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এর ফলে বর্ণবিদ্বেষ কমবে তো না-ই, বরং বেড়ে যেতেই পারে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতেই সদ্যোজাত শিশুরা ""মা"" ডাকের আগেই কালো চামড়া কারা এবং তাদের সাথে কিরকম ব্যবহার করা উচিত, তা শিখে ফেলবে।

রি(বেট)-টু-পর্নো
----------------
এক সপ্তাহ কেটে যাবে, আর যৌনতা সংক্রান্ত একটা খবরও তৈরী হবে না, এ অসম্ভব। যৌনতা সংক্রান্ত প্রথম খবরটা সরকারী। বুশসাহেবের ইকনমিক স্টিমুলেট প্ল্যান, যার জন্য করদাতারা বেশ কিছু টাকা হাতে পেয়েছেন। এতে জনগণের দু:খ কতটা কমলো তা অবশ্য জানা যায় নি। তবে বেশিরভাগ মানুষই যে এই বাড়তি টাকাটা অনলাইন পর্নো ক্লাবের মেম্বার হয়ে বা পুরোনো মেম্বারশিপ রিনিউ করে খরচ করেছেন তা একটি মার্কেট রিসার্চ কম্পানির ( AIMRCo ) সার্ভে থেকে পরিষ্কার।

এর থেকেও দরকারী খবর হলো, একটি সীলের আচরণে স্পষ্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ধরা পড়েছে। একটি পেঙ্গুইন এক্ষেত্রে ""ভিক্টিম""। ২৪০ পাউন্ড ওজনের এলিফ্যান্ট সীলটি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ৩০ পাউন্ড ওজনের পেঙ্গুইনটিকে বলাৎকার করার চেষ্টা করে। মেরুদন্ডী প্রাণীদের এক দল অন্যদের সাথে এরকম আচরণের কোনো নজির এর আগে পর্যন্ত নেই। আশা করা যায়, খুব শিগ্গির ওরা ""মানুষ" হবে।

পৃথিবী আবার ....... ধ্বংস হবে?
----------------------------

প্রায়ই আমরা খবর পাই, কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কীর্তিমান জ্যোতিষীরা এমনকি দিনক্ষণও বলে দেন। বলে দেন কটায়, কোথায় ভূমিকম্প-জলোচ্ছ্বাস-উল্কাপাত বা আরো ভয়াবহ কিছুর প্রকোপে পৃথিবীর ""জীবনাবসান"" হবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার এরকম ঘোষণা হয়েছে, এবং বলাই বাহুল্য, প্রত্যেকটিই শেষপর্যন্ত মিথ্যে হয়। তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন, ওয়েন বেন্ট নামে একজন স্বঘোষিত "ঈশ্বরপুত্র", যিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১২ সাল নাগাদ পৃথিবী ধ্বংস হবে। এই বিপর্যয় ঠেকানোর জন্যই হয়ত মিস্টার বেন্ট চার্চের মধ্যে তিন শিশুকে আটকে রেখেছিলেন। সন্দেহ, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে থাকতে পারেন বেন্ট। তদন্ত চলছে।

সাপ্তাহিক বিজ্ঞানচর্চা
--------------------

শেষপাতে আসুন, একপ্রস্থ বিজ্ঞান আলোচনা হয়ে যাক। দেশ বিদেশের বিজ্ঞানের খবর মানেই সেখানে চাঁদ বা মঙ্গলে জল আছে কিনা সেই গবেষণার খবরাখবর থাকবে। এই সপ্তাহে চাঁদের পালা ছিলো মহাকাশবিজ্ঞানীদের প্রলোভিত করার। অতএব আবারো আমরা জানলাম, চাঁদে জল ছিলো এবং জল ছিলো মানেই প্রাণীর অস্তিত্ব ছিলো। এই রিকার্সিভ লুপটা চলতে থাকুক, আসুন দেখা যাক ফ্ল্যাটফিশের অভিব্যক্তি নিয়ে জীববিজ্ঞানীরা কেন ধাঁধায়। এই বিশেষ জাতীয় ফ্লাউন্ডার আজ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ বছর আগে পাওয়া যেত। এদের দুটো চোখই শরীরের একদিকে থাকত। আরো মজার ব্যাপার হলো, খুব অল্পবয়সে, যখন ধীরে ধীরে মাছগুলো নিজ আকৃতি পেত, তখন এই চোখগুলো এক অংশ থেকে অন্য অংশে চলাচল করতে পারতো। দুটো চোখই একদিকে থাকার কি সুবিধে তা বিজ্ঞানীরা ভেবে পাচ্ছেন না। শোনা যায় খোদ ডারউইন সাহেবও নাকি হার মেনেছিলেন এই অদ্ভুত মাছের অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। মাছের একচোখোমি আর কাকে বলে!


জুলাই ১৪,২০০৮