আঁতেল কাহারে কয় !


লিখছেন -- তির্যক


আপনার মতামত         


"অঁ¡তেল' এই শব্দটি বিগত কয়েক দশক ধরে বাঙলা ভাষা জগতে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এই অত¥লনীয় শব্দটিকে ঘিরে জনমানসে অদ্ভ¥ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ফরাসী ঘ্রাণমিশ্রিত এই শব্দটির উৎপত্তি সম্ভবত: "ইন্টেলেকচ¥য়্যাল' থেকে, যদিও শব্দটিকে বাঙলা ভাষার অভিধানে সরকারীভাবে স্বীক«তি দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার অজ্ঞাত। কিন্ত¥ এই শব্দটির বিচিত্র অর্থ এবং জনমানসে এর প্রভাবের কথা বিচার করে এই শব্দটির বিষয়ে বিস্ত«ত আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
আঁতেল শব্দটি মূলত: বিশেষণ। যদিও এর সঠিক ও সর্বজনস্বীক«ত সংজ্ঞা এখনও নির্ণয় করা যায় নি, কিন্ত¥ এর লক্ষণ…লি বিশ্লেষণ করলে এই বিশেষণটি নিন্দাবাচক না প্রসংশাবাচক সেই বিষয়েই প্রাথমিকভাবে একটি সংশয়ের সম্ম¥খীন হতে হয়। কারণ অত্যন্ত স্বাভাবিক ও (আপাত:দৃষ্টিতে) একেবারেই নির্দোষ কিছ¥ …ণাবলীও ক্ষেত্রবিশেষে আঁতেলের লক্ষণ বলে গণ্য হয়। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্বচ্ছ হবে। তার আগে একথা উল্লেখ করে দেওয়া দরকার যে বিভিন্ন বয়সের ও অবÙÛ¡নের একটি বিস্ত«ত জনগোষ্ঠির ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই নিবন্ধে উল্লিখিত মতামত এবং উদাহরণ…লি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে জনমানসে আঁতেল কথাটির সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে একটি ধারনা গঠন করা হয়েছে।
দেখা গেছে কোনো ব্যক্তি অলপবয়সে চশমাধারণ করলে এবং সেই চশমার দরুণ তার চেহারায় একটি বিশেষ মাত্রা যুক্ত হলে পারিপার্শ্বিক জনগণের চোখে সেই ব্যক্তি অনেক সময়ই আঁতেল নামে চিহ্নিত হয়ে থাকেন। যেহেত¥ দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার কারণেই কোনো ব্যক্তি চশমাধারণ করে থাকেন এবং চশমা ব্যবহার করা একেবারেই একটি নিরপরাধ বিষয়, তাই চশমাধারীকে আঁতেল নামে অভিহিত করার কোনো যথার্থ কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার কোনো চশমাধারী ব্যক্তি সচরাচর শুধু চশমার কারণে অন্য ব্যক্তিকে আঁতেল শ্রেণীভ¥ক্ত করেন না (অবশ্য কিছ¥ ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে চশমার আদলের ওপরও ব্যক্তির আঁতেল পদবাচ্য হওয়া নির্ভর করে)। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে "আঁতেল' এই ধারণাটি স্পষ্টভাবেই ব্যক্তিনির্ভর। অনুরূপভাবে কিছ¥ বিশেষ পোষাক যেমন জিন্‌স্‌ ও খদ্দরের পাঞ্জাবী, শান্তিনিকেতনী ঝোলা (পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য), পুরুষের লম্বা চ¥ল ও দাড়ি প্রায়শ:ই আঁতেলের লক্ষণরূপে গণ্য হয়। তবে এক্ষেত্রে চশমাসম্পর্কিত সমীকরণ প্রযোজ্য নয়, অর্থাৎ একজন জিন্‌স্‌-পাঞ্জাবী পরিহিত ব্যক্তি অনায়াসেই অনুরূপ পোষাকে সজ্জিত অপর ব্যক্তিকে আঁতেল বলে নির্দেশ করতে পারেন। অন্য °বশিষ্ট্য বর্তমান না থাকলে ধুতি-পাঞ্জাবী এবং শাড়ীকে যেমন সাধারণভাবে আঁতেলগোষ্ঠীর লক্ষণ বলে গণ্য করা হয় না তেমনি বারমুডা, মিনিস্কার্ট বিকিনি ইত্যাদি পোষাককেও আঁতেলের পরিচয় বলে ধরা যায় না। অতএব দেখা যাচ্ছে সাজসজ্জা ও পোষাকের ক্ষেত্রে প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য কোনো ধারাকেই নির্দিষ্টভাবে আঁতেলের চিহ্ন বলা হয় না। তবে জিন্‌স্‌-পাঞ্জাবী-দাড়ি-চশমা-ঝোলা এই সমন্বয়কে প্রায় সকলেই একবাক্যে আঁতেলের লক্ষণ বলে স্বীকার করে থাকেন।

তবে পোষাক এবং সাজসজ্জা সম্পর্কিত এইসব বহির‰£য় লক্ষণ…লি আঁতেলশ্রেণীকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্র একেবারেই গৌণ। একজন ব্যক্তির আচরণ ও ব্যক্তিতেÆর কিছ¥ °বশিষ্ট্যই তাঁকে আঁতেল বলে চিহ্নিত করে। অতিমাত্রায় সরল ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তি কখোনোই আঁতেল শ্রেণীভ¥ক্ত হতে পারেন না। বরং আঁতেলরা অতিবিজ্ঞতার অভিযোগেই অভিযুক্ত হয়ে থাকেন।। অর্থাৎ সর্বসাধারণের পক্ষে বোধগম্য নয় এমন বিষয় আঁতেলদের কাছে অত্যন্ত উপাদেয় বলে গৃহীত হয়। পক্ষান্তরে সাধারণভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় কোনো বস্ত¥ ও বিষয় আঁতেলগোষ্ঠীর কাছে নিতান্ত আকর্ষণহীন ও অপাঙক্তেয়রূপে একপ্রকার বর্জিতই হয়ে থাকে। সংক্ষেপে বলা যায় আপাত:কঠিন ও দুর্বোধ্য বিষয়ে সবিশেষ আগ্রহ ও জ্ঞান এবং সেই জ্ঞানের উদ্দেশ্যমূলক প্রদর্শন আঁতেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য °বশিষ্ট্য বলে গণ্য হয়ে থাকে। যেহেত¥ বোধগম্যতার পরিধি অনুসারে "দুর্বোধ্যতা'র সংজ্ঞা মানুষে মানুষে পরিবর্তিত হয়, তাই কোনো ব্যক্তির আঁতেল পদবাচ্য হওয়াও একটি নেহাৎই আপেক্ষিক ঘটনা। আবার যে কোনো কঠিন বিষয়ে ব্য¥ৎপত্তিই আঁতেল অভিধার পক্ষে অনুক¥ল নয়। যেমন বিজ্ঞানের যে কোনো শাখা, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ে পারদর্শীতা আঁতেলের লক্ষণরূপে গণ্য হয় না। কিন্ত¥ কলাবিভাগের কিছ¥ কিছ¥ বিষয়ে উৎসাহ এ ব্যাপারে …রুতÆপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আধুনিক সাহিত্য, বিশেষত: কবিতা, বিমূর্ত চিত্রকলা, উচ্চা‰ স‰£ত এবং সমান্তরাল ধারার চলচ্চিত্রের কথা এই প্রস®‰ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আপেক্ষিকতার সু¤ত্রটি এই ক্ষেত্রেও সমানভাবেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ কোন্‌ বিষয়ে কতদুর আগ্রহ ও ব্য¥ৎপত্তি আঁতেলের লক্ষণরূপে স্বীক«ত হবে তা একান্তভাবেই যিনি আঁতেল সম্মোধন করছেন, সেই ব্যক্তির নিজস্ব বিচরণক্ষেত্রের পরিধির ওপর নির্ভর করে। সঠিকভাবে বললে কোনো ব্যাক্তির আঁতেল শিরোনামে ভ¨ষিত হওয়া একটি উভমুখী প্রক্রিয়া যা দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যেমন সাহিত্যে আগ্রহী নন এমন ব্যক্তির কাছে রবীন্দÊনাথ সবচেয়ে বড়ো আঁতেল কারণ তিনি …টিকতক অপ্রয়োজনীয় গান-গল্প-কবিতা রচনা করে সময় নষ্ট করে গেছেন। সেই সময়ে মাঠে চাষ বা অন্য কোনো "কাজের কাজ' করলে দেশের প্রক«ত উপকার হত। সেই সূত্র অনুসারে রবীন্দÊভক্তরাও সকলেই কমবেশি আঁতেল, তাঁরা সময় নষ্ট করার এই ধারাটি বজায় রেখেছেন ও এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। আবার সাহিত্যে কিছ¥টা আগ্রহী ব্যক্তি, যাঁর কাছে রবীন্দÊনাথই শেষ কথা, রবীন্দÊনাথের …টিকয়েক অন্ত্যমিলযুক্ত কবিতা (বড়জোর জীবনানন্দের রূপসী বাঙলা) ও ছোটগল্প যিনি সাগ্রহে পড়েছেন, বছরে দু-চারটি সমকালীন উপন্যাস যিনি পড়ে থাকেন, তাঁর কাছে সমকালীন কবিদের রচনায় আগ্রহ ও তার প্রসংশা করা অতি কঠিন "আঁতলামি'। তেমনি কেবলমাত্র পোটেÊÑট ও ল্যান্ডস্কেপ জাতীয় ছবির আগ্রহী দর্শকের কাছে বিমূর্ত চিত্রকলার রসাস্বাদন করতে পারা একান্তভাবেই আঁতলামির পরিচয়। হাস্যকৌত¥ক ইত্যাদি লঘু বিষয়ে যাঁদের একান্ত আগ্রহ তেমন ব্যক্তির কাছে …রুগম্ভীর বক্ত«তাধর্মী কথাবার্তা বলা এবং শোনা বা পড়া আঁতেলের একটি অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত …ণা…ণ বলে পরিচিত হয়। এইভাবে সরল°রখিক পদ্ধতিতে অগ্রসর হলে দেখা যায় ক্ষেত্রবিশেষে রবীন্দÊস‰£ত বা বিদেশী স‰£ত পছন্দ করা, তথাকথিত "আর্ট ফিলÈ'-এর প্রসংশা করা বা কোনো জনপ্রিয় ছবি ভালো না লাগা ইত্যাদি বহুবিচিত্র …ণ ও অভ্যাস আঁতেলের লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সৌরভ গ®‰¡পাধ্যায়ের খেলা পছন্দ না করা বা ভারতীয় দল থেকে তাঁর বহিস্ক«ত হওয়ায় যথেষ্ট দু:খ প্রদর্শন না করাও বাঙালী সমাজে আঁতেলের লক্ষণরূপে চিহ্নিত হতে পারে। সরু গলায়, হাতের বিশেষ ভ‰£ সহকারে, ধীরে ধীরে কথা বলা কখোনো কখোনো আঁতেলের একটি গৌণ °বশিষ্ট্য হিসাবে চিহ্নিত হয়। তবে অন্যন্য চারিত্রিক °বশিষ্ট্য…লি না থাকলে শুধু মাত্র সরুগলায় কথা বললে বা বিশেষভাবে হাঁটাচলা করলে তাঁকে আঁতেল না বলে ন্যাকা বলা হয়।

প্রস‰ত: উল্লেখ করা যেতে পারে যে এই নিবন্ধে আঁতেল সম্পর্কে কোনো শেষ কথা বলা বা ÏÙÛর সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাচ্ছে না, শুধুমাত্র প্রচলিত ধ্যানধারণা…লিই আলোচনা ও বিশ্লষণ করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে যদিও আঁতেল একটি আপেক্ষিক ধারণা, তবে সাধারণভাবে প্রচলিত জনমতের বিপরীত ধারণা পোষণ করা আঁতেল তালিকাভ¥ক্ত হবার একটি প্রাথমিক শর্ত হিসাবে গণ্য হয়। তবে এযাবৎ যেসব লক্ষণ ও …ণা…ণের কথা উল্লিখিত হয়েছে তা প্রাথমিক শ্রেণীর আঁতেল সম্পর্কে প্রযোজ্য। এই পরিধির বাইরে কিছ¥ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যাঁরা এই তথাকথিত আঁতেলের ত¥লনায়ও কিছ¥টা বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিরা প্রথম পর্যায়ের আঁতেলদের পছন্দের বিষয়…লির সমালোচনা করেন এবং কঠিনতর বাক্যবন্ধ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেণীগত °বশিষ্ট্য প্রকাশ করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ দেখানো যায় এঁরা সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র, জয় গোস্বামীর কবিতা, হুসেনের ছবি, ভীমসেন যোশীর স‰£ত ইত্যাদির ত্র¥টিবিচ্য¥তি দর্শাতে ও তাই নিয়ে গভীর আলোচনায় মগ্ন হতে পারেন। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আমজনতার পছন্দের কিছ¥ বিষয়কে এঁরাও "ভালো' বলে থাকেন (সম্প¨র্ণ নূতন কোনো দৃষ্টিভ‰£ থেকে) যা আঁতেলের পক্ষে নিতান্তই অপ্রত্যাশিত ও প্রায় অ°নতিক বলে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এঁদের জ্ঞান ও সমালোচনার যথার্থতা থাক¥ক বা না থাক¥ক, এই বাক্তিরা সাধারণ জনগণ এবং তথাকথিত আঁতেল উভয় শ্রেণীর কাছেই বিরাগভাজন হয়ে থাকেন এবং উচ্চতর শ্রেণীর আঁতেলরূপে গণ্য হন।

অতএব দেখা যাচ্ছে যে জনসাধারনের চোখে আঁতেলরূপে প্রতিপন্ন হওয়া নিতান্ত সহজ কর্ম নয়। এই ভাবমূর্তি নির্মাণের জন্য এক বা একাধিক আপাত:কঠিন বিষয়ে পড়াশোনা ও জ্ঞান থাকা দরকার। সম্যক ব্য¥ৎপত্তি প্রয়োজন না হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দু-চারটি লাগসই কথা বলতে পারার মতো কিছ¥টা বিদ্যা আবশ্যক। মনে রাখা দরকার একজন আঁতেল জনমানসে নিন্দিত হলেও বুদ্ধিজীবী হিসাবেই নিন্দিত হন এবং তাঁর বক্তব্য সু¤খকর ও গ্রহণযোগ্য না হলেও একেবারে "পাগলের প্রলাপ' বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সু¤তরাং আঁতেলের কথাবার্তা ও আচরণে একটি ন্য¨নতম ব্যক্তিতেÆর ছাপ থাকা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানবিরোধী মত প্রকাশ করা এবং প্রচলিত মতামতকে (যা আঁতেলের ঘোষিত মতামতের বিরোধী) উপেক্ষা এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে করুণা করার মতো মনের জোর ও স্পর্ধা থাকাও দরকার। একজন আঁতেলকে জনপ্রিয় আনন্দের স্রোতে গা ভাসালে চলে না বরং সযতÀলালিত একটি উন্নাসিক ভাবকে আচরণে প্রকাশ করে চলতে হয়।

সু¤তরাং একথা বললে ভ¥ল হবে না যে আঁতেল কথাটি সাধারণভাবে নিন্দার্থে ব্যবহৃত হলেও এটি ঠিক সর্বা‰£নভাবে নিন্দাবাচক বিশেষণ নয়। কারণটি ইতিমধ্যেই আলোচনা করা হয়েছে। যে সকল …ণাবলী থাকলে একজন ব্যক্তি আঁতেল হয়ে ওঠেন, প্রায়শ:ই দেখা যায় সে…লি স্পষ্টভাবে ক্ষতিকর বা অন্যায় কিছ¥ নয়, নির্দোষ রুচি, অভ্যাস বা আচরণমাত্র। তাই একজনকে মিথ্যাবাদী বা বিশ্বাসঘাতক বললে যেরকম নিন্দা বোঝায়, আঁতেল বললে ঠিক সেই পর্যায়ের নিন্দা বোঝায় না। মনোবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে বোঝা গেছে যে কাউকে আঁতেল বলে উল্লেখ করার মধ্যে বক্তার একটি সূক্ষ্ম অসূয়াবোধ বা অপারগতা প্রকাশ পায়। কোনো অপরূপ সু¤ন্দরী মহিলার সৌন্দর্যের গৌরবকে খর্ব করার জন্য যেমন তার আচরণের মধ্যে দম্ভ বা অহমিকার পরিচয় খোঁজা হয় (সৌজন্য : "ইন্দÊ¡ণী', রবীন্দÊনাথ ঠাক¥র) তেমনি যখন কোনো ব্যক্তির কথা যুক্তিদ্বারা খন্ডন করা যায় না, আবার গ্রহণ করাও যায় না, এবং মনে হয় ঐ ব্যক্তি যোগ্যতার অধিক …রুতÆ পেয়ে যাচ্ছেন, তখনই তাঁকে আঁতেল অভিধাযুক্ত করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বক্তার একপ্রকার অহমিকা ত«প্তি হয়ে থাকে। ইংরেজী বাক্যালাপে অপট¥ ব্যক্তির কাছে অনর্গল ইংরেজীতে কথাবার্তা চালানো যেমন আঁতেলের লক্ষণ, আবার কেউ অনর্গল শুদ্ধ বাঙলায় কথা বলে চললেও তা আঁতলামির পরিচয় বলে প্রতিভাত হতে পারে। অথচ শুদ্ধ বাঙলা বা ইংরেজীতে বাক্যালাপ কখোনোই দোষনীয় বা নিন্দনীয় কোনো অভ্যাস নয়। অত্যন্ত কৌত¥কের স®‰ লক্ষ্য করা গেছে যে কোনো ব্যক্তি পরিÏÙÛতিবিশেষে কোনো অভ্যাসকে আঁতলামি বলে চিহ্নিত করলেও সু¤যোগ পাওয়ামাত্রই সেই …ণটি আয়ত্ত করতে সচেষ্ট হয়ে ওঠেন। এই সব দিক বিচার করে বলা যায় আঁতেল কথাটি এমন একটি নিন্দাবাচক শব্দ যা যিনি আরোপ করেন তিনি নিন্দার্থে ব্যবহার করলেও যাঁর উদ্দেশ্য ব্যবহার করেন, তিনি ততটা নিন্দিত বোধ করেন না বা বিশেষ লজ্জিত হয়ে ওঠেন না।

এযাবৎ উল্লিখিত মতামত…লি বিস্ত«তভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে আঁতেল সম্পর্কে নিমÀলিখিত সমীকরণটি গঠন করা গেছে যার দ্বারা এই আলোচনার উপসংহারে উপÏÙÛত হওয়া যায়।
যদি আমিও জানি / পারি, ত¥মিও জানো / পারো : তা ভালো
যদি আমিও জানি না / পারি না, ত¥মিও জানো না / পারো না : তাও ভালো
যদি আমি জানি / পারি, ত¥মি জানো না / পারো না : তা সবচেয়ে ভালো
যদি আমি জানি না / পারি না , কিন্ত¥ ত¥মি জানো / পারো : তাহলেই ত¥মি আঁতেল
এই সমীকরণটি আমার এক বন্ধ¥র কাছ থেকে সংগৃহীত, তথ্যসূত্র আমার কাছে অজ্ঞাত। তবে আমার জ্ঞানত: আঁতেলের এই সমীকরণের ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় নি। কোনো ব্যতিক্রম দেখা গেলে আমি তা তলিকাভ¥ক্ত করতে সাগ্রহে প্রস্ত¥ত।


মে ১১, ২০০৮