ফিসফিস


শয়রর


আপনার মতামত         


কঠিন প্রশ্ন ও সহজ উত্তর। খবরের কাগজের "কানে-কানে' আর "চুপি-চুপি' পড়ে যাঁরা বোর হয়ে গেছেন, ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন এবং উত্তর লেখার জন্য যাঁদের ক্রিয়েটিভ হাত হাত নিশপিশ করছে, তাঁদের কাছে নতুন বিভাগ ফিস-ফিস। নিজেই প্রশ্ন করুন। নিজেই উত্তর দিন। এবং ঝপ করে পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়। ভাটে অথবা নতুন টই খুলেও লিখতে পারেন। উত্তর না মাথায় এলে স্রেফ প্রশ্নটাই পোস্ট করুন, দেখা যাক কোনো উত্তর বেরিয়ে আসে কিনা। শর্ত দুখানা। জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হতে হবে। এবং সম্পূর্ণ বানানো।
প্রথম সিরিজের প্রশ্নোত্তর আমরা তুলে দিলাম। বলাবাহুল্য, সব কটাই বানানো। যথেষ্ট প্রশ্নোত্তর জমলে নতুন ফিসফিস আবার বেরোবে।


প্র: ফিসফিসের সঙ্গে মাছের কি কোন সম্পর্ক আছে?
হরিপদ দলুই, চড়কডাঙা, উত্তর চব্বিশ পরগণা

উ: ফিসফিসের সঙ্গে ফিশের কোন সম্পর্ক আমরা এখনও বের করতে পারিনি। তবে যথেষ্ট আঁশটে গন্ধ ও ফিশি ব্যাপারের আয়োজন করা হয়েছে। কাজেই আঁশটে গন্ধ শুঁকলে বা ফিশি ব্যাপারের কথা শুনলে যাদের আঙুলের ডগা চিনচিন করে প্রতিবাদের জন্যে, নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে, চোখ লাল হয়ে যায় তাদের পক্ষে আর না এগোনই ভাল। অ্যাবাউট টার্ন।


প্র: আমার ছেলের বয়েস বত্রিশ। তিন মাস আগে ছেলের বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের আগে আমার ছেলে শিশুর মতন সরল ছিল। কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছে পুত্রবধূ রাত্রিবেলায় দরজা বন্ধ করে ছেলেকে অসভ্য অসভ্য জিনিস, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এইসব শেখাচ্ছে। আমি কি ছেলে-বৌয়ের মাঝে গিয়ে শোব?
মন্দোদরী গুপ্ত, আসানসোল

উ: খবর্দার অমন চেষ্টা করতে যাবেন না। আপনাকে অসভ্য অসভ্য জিনিস শিখিয়ে দেবে। অন্য দিক দিয়ে অ্যাটাক করুন। পণের জন্যে চাপ বাড়িয়ে দিন। প্রথমে দশ হাজার আনতে বলুন। না আনা অব্দি চাপ বজায় রাখুন ও ক্রমশ: বাড়ান। আনলে আরও দশহাজারের বায়না দিন।


প্র: বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে। বাজার করা, ছেলে-মেয়েকে পড়ান, চান করা, খাওয়া ইত্যাদি নানা কাজে খুব চাপ পড়ে। অফিস যেতে তাই দেড়টা বেজে যায়। বাসের ভিড় এড়ানোর জন্যে তিনটের মধ্যে বেরিয়ে পড়তে হয়। অফিসার এই নিয়ে গোলমাল করছেন। কি করা উচিত?
কর্মবীর বসু, কাঁটাপুকুর লেন, কলকাতা ২৩

উ: বাড়ির জন্যেই অফিস। অফিসের জন্যে বাড়ি নয়। বাড়িতে প্রয়োজন না থাকলে কে আর অফিস করত? সুবিধেমতন কাজ করা বা না করা আপনার সাংবিধানিক অধিকার। ভারতীয় সংবিধানের ৪২০ ধারায় এই অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার বলা হয়েছে। অফিসারকে সে কথা বলুন। ওপরওলার চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না। কাজ না হলে মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে কথা বলুন।


প্র: আমার বয়েস তেইশ। সুন্দরী ও ফিগার ভাল। সম্প্রতি আমার বাবা বাড়ি করে এখানে উঠে এসেছেন। কিন্তু ইঁটের দাম এত বেড়ে গেছে যে দোতলা কমপ্লিট করতে পারছেন না। বাবা বলেছেন আমাকে সকাল বিকেল নাইটি পরে বারন্দায় দাঁড়াতে। তাতে নাকি বাড়ির সামনে এত ইঁট পড়বে যে আমাদের আর দোতলার ইঁটের জন্যে ভাবতে হবে না। আমার প্রস্তাবটা ভাল লাগছে না। কি করব?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বৈদ্যবাটি, হুগলি

উ: তোমার এই প্রস্তাবে রাজী না হওয়াই উচিত। বাবাকে বল, দোতলা উঠে যাবার পরে কি হবে? ইঁট তো জমতেই থাকবে। সেই ইঁট থেকে পাঁজা হয়ে তোমাদের বাড়ির প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কি তোমার বাবা ইঁটভাঁটা খুলবেন?


প্র: আমরা দুই বেকার যুবক একজন মেয়েকেই ভালবাসি। মেয়েটি আমাদের কাউকে ভালবাসে না। আমাদের কি করা উচিত?
প্রবীর মিশ্র ও অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায়, ঘোষপাড়া, বর্ধমান

উ: টস করুন। টসে যিনি জিতবেন তিনি রোলের দোকান দিন আর যিনি হারবেন তিনি পাশে কোল্ড ড্রিংকসের দোকান করুন। তারপরে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করে মেয়েটির বিয়ের কেটারিং-এর অর্ডার ধরার চেষ্টা করুন।


প্র: বউকে লুকিয়ে ব্লু-ফিল্ম দেখি। সপ্তাহে অন্তত: দুদিন। বউ কোনদিন ধরতে পারেনি। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় কাজটা ঠিক নয়। কি করা উচিত?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সল্ট লেক, কলকাতা

উ: কি কায়দায় বউকে লুকিয়ে নিয়মিত ব্লু-ফিল্ম দেখা যায় তা সত্বর আমাদের দপ্তরে লিখে পাঠান। খামের ওপর 'জরুরী ও ব্যক্তিগত' লিখতে ভুলবেন না।

মে ৫, ২০০৮