খবর্নয় (মার্চ ৯)


লিখছেন --- শমীক মুখোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


মরলে কঠিন শাস্তি
----------------

--বাবা, বাবা, আমি বিট্টুর সাথে পুকুরে যাচ্ছি, সাঁতার শিখতে।
-- আচ্ছা যাচ্ছো যাও, কিন্তু মনে রেখো, যদি ডুবে যাও, তা হলে আমি আর এ বাড়িতে ঢুকতে দেব না।
ছোটবেলায় আনন্দমেলায় জোক্‌টা পড়ে বেশ নির্মল আনন্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি কেউ কাউকে এমনতরো হুমকি দেয়, "যদি মরে যাও, তবে কঠিন শাস্তি দেব'?
ঠিক এমনটাই ঘটেছে দক্ষিণ ফ্রান্সের এক গাঁয়ে। সে গাঁয়ের নামটা বাঙালি জিভে কেমন উচ্চারণ হবে জানি না, Sarpourenx নাম তার। গ্রামের মেয়র কাউন্সিল অফিসে সম্প্রতি এক অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন যে গ্রামের কবরখানায় ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, তিলমাত্র ঠাঁই নাই। শবদেহে শবদেহে ওভারক্রাউডেড। অতএব যাঁদের গ্রামের কবরখানায় প্লট অ্যালট করা নেই, তাঁদের মরা বারণ। নিচে লেখা: Offenders will be severely punished .

৭০ বছর বয়স্ক মেয়রবাবু ফ্রেঞ্চ যমরাজকে যথেষ্ট চিন্তায় ফেলেছেন কিনা জানা যায় নি, তবে গ্রামবাসীদের অবশ্যই ফেলেছেন, যদিও তিনি জানিয়েছেন, এ ছাড়া তাঁর আর কিছু করার ছিল না। কবরখানাকে এক্সটেন্ড করার জন্য জমি চেয়েছিলেন, পান নি, অতএব এই ড্রাস্টিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও রাস্তা ছিল না।

ভোট দিন বাঁচতে
---------------

ইটালিতে হবে ভোট। এই এপ্রিলে। আর তাতে লড়ার জন্য নাম দিয়েছে কম-সে-কম ১৮০ খানা পলিটিকাল পার্টি, গ্রুপ, লিস্ট, মুভমেন্ট ইত্যাদি। গত রবিবার পর্যন্ত জমা পড়া সেই তালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব নেই। যেমন অশ্রুতপূর্ব সেই সব পার্টির নাম, তেমনি অভূতপূর্ব তাদের সিম্বলসমূহ। ভারতে আমরা হাতি-সাইকেল-লন্ঠন-কোদাল-কাস্তে-হাত-হাতি দেখে অভ্যস্ত, ইটালিয়ান কেউ এদেশে ভোটের সময়ে বেড়াতে এলে নিশ্চয়ই সেই সব প্রতীকচিহ্নের ভ্যারাইটি থেকে অবাক হবেন টবেন, আপাতত আমরা একটু ভুরু কপালে তুলি ইটালির ভ্যারাইটি দেখে।
কী নেই সেখানে! নো গারবেজ পার্টি, ডোন্ট রো আগেইনস্ট দ্য টাইড পার্টি, ডক্টর সিরিলো'স পার্টি অফ এক্সিসট্‌নশিয়ালিস্ট ইমপোটেন্টস, ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের পার্টির নাম জমা পড়েছে সেখানে। নো গারবেজ পার্টি যে এলাকার, নেপ্‌লসের কাছাকাছি সেই অঞ্চলের গভর্নর আপাতত ট্রায়াল ফেস করার জন্য রেডি হচ্ছেন, অপরাধ: গারবেজ ক্রাইসিস! প্রায় দশ হাজার টন আবর্জনা ছড়িয়ে আছে তাঁর এলাকার রাস্তাঘাটে।
ডক্টর ক্রিসিলোর পার্টি যে কীসের ইমপোটেন্সকে হাইলাইট করছে, সেক্সুয়াল না পলিটিকাল; বোঝা যায় নি এখনও। তিনি ইতিপূর্বে অন্যান্য ইলেকশনে নো ম্যানার্স পার্টি এবং ফ্রি কন্ডোম্‌স পার্টি নামক দুটি পার্টির নেতারূপে লড়েছিলেন।
হাইসেন না কত্তা। আমাগো কাস্তে হাতুড়িও আছে। কম করে আটটা পার্টি এই সিম্বল নিয়েছে সেখানে। তাদের মধ্যে সবথেকে লম্বা নাম যার, তার নাম হল দ্য ইটালিয়ান কম্যুনিস্ট মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট পার্টি।
ইটালির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একটি পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাঁরা মনে করেন ইটালির পলিটিকাল সিচুয়েশন খুব খুব খারাপ এবং সমাজব্যবস্থারও আর "কিসু হওনের নাই', তাঁরা সচ্ছন্দে এই পার্টিকে ভোট দিতে পারেন। পার্টির নাম S.O.S. Italy পার্টি।
এই সকল প্রকার বৃহৎ পার্টি, আণুবীক্ষণিক পার্টি, বামপন্থী পার্টি, দক্ষিণপন্থী পার্টি, মঝ্‌ঝিমপন্থী পার্টির দঙ্গলের মধ্যে একটি পার্টি অতি অবশ্যই ভোটারের দৃষ্টি এবং মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
পার্টির নাম, আই ডোন্ট ভোট।

রাজকীয় বিদ্যুৎ
--------------
রাজা আছেন। তবে রাজা পরিচয় আর নেই। রাজপ্রাসাদ আছে, মুকুট নেই, নেই রাজ্যজুড়ে প্রজাদের আভূমিনত কুর্নিশ।
কিন্তু রাজপ্রাসাদ যখন আছে, রাজাও আছেন সপরিবারে, অতএব রাজপ্রাসাদের একটা ইলেকট্রিসিটির খরচাও আছে। যে সে জায়গার খরচ নয়, খোদ রাজপ্রাসাদের ইলেকট্রিসিটি বিল, আট লক্ষ সাড়ে ছ হাজার ডলারের নিচে তা হয় কী করে?
আজ্ঞে হ্যাঁ, এই রকম পরিমাণের ইলেকট্রিসিটি বিল বাকি পড়েছে নেপালের রাজা জ্ঞানেন্দ্রর বাসভবনের জন্য। আগে যখন রাজতন্ত্র ছিল, এই বিল মেটাতেন নেপাল সরকার, কিন্তু এখন উল্টে গেছে পাশা, নেপালে এখন প্রজাতন্ত্র, রাজাও একজন সম্মানিত নাগরিকমাত্র, নবনির্বাচিত নেপাল সরকার এখন আর রাজবাড়ির ইলেকট্রিক বিলের টাকা দিতে নারাজ। এমনিতেই নেপাল নিতান্ত গরীব দেশ, জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেখানে অনেক কষ্ট ক'রে, সেই বিদ্যুৎ নিয়ে নয়ছয় আর বরদাস্ত করবেন না নতুন সরকার। জলসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী ইতিমধ্যেই প্রাসাদ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে চিঠি পাঠিয়ে বিল মিটিয়ে দিতে বলেছেন, কিন্তু রাজত্ব গেলেই কি আর রাতারাতি রাজকীয়তা চলে যায়? রয়্যাল প্যালেসের জনৈক স্টাফ মেম্বার তাই পিটিআইকে জানিয়েছেন রয়্যাল ফ্যামিলির ইউটিলিটি বিল মেটানো এখনও সরকারের দায়, রয়্যাল ফ্যামিলির নয়। "এতদিন মিটিয়ে এসেছে সরকার, এখনও তো খাতায় কলমে নিয়ম পাল্টেছে বলে শুনি নি!'

মার্চ ৯, ২০০৮