খবর্নয় (মার্চ ২)


লখছেন --- শমীক মুখোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


শাদী ও বরবাদী
--------------
ভারতে কিছু কিছু কমিউনিটির বিয়েতে অত্যধিক খরচাপাতি করার ট্র্যাডিশন আছে আমরা জানি। লাখ লাখ রুপিয়া উড়ে যায় এক রাতের বিয়েতে, তবে এ সব ঘোড়ারোগ কেবল ভারতীয়দেরই নয়। তৃতীয় ও অনুন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এমন বিয়েতে খরচা করার রীতি আছে। যেমন মেক্সিকো। ওয়েডিং গাউন থেকে শুরু করে, খবরের কাগজের পাতায় প্রত্যেক অতিথি অভ্যাগতদের দ্বারা প্রকাশিত উইশের বন্যা, নিমন্ত্রিতদের আপ্যায়ন, চার্চের খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে একটা বিশাল অঙ্কের টাকা সাধারণত কনের বাড়িকেই খরচ করতে হয়। এর পরেও, বর্তমানে প্রতি দশজোড়া বিবাহিত দম্পতির মধ্যে তিনজোড়া দম্পতির মধ্যে ঘটে যাচ্ছে বিবাহবিচ্ছেদ, ১৯৭০ সালেও যেখানে অনুপাতটা ছিল দশজোড়ায় একজোড়া। যেহেতু জীবন থেমে থাকে না, তাই বিচ্ছিন্ন দম্পতিরা আবার প্রত্যেকেই নিজেদের নিজেদের পছন্দসই সঙ্গী / সঙ্গিনী বেছে নেন, এবং চক্রবৎ এই চক্করে আর্থিকভাবে বিশালভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন মেয়েদের বাড়ির লোকই, কারণ বিয়ের সিংহভাগ খরচই তাঁদের পকেট থেকে মেটাতে হয়।

এই অবস্থার নিরসনে সম্প্রতি মেক্সিকোতে এক আইন পাস হতে চলেছে, যার বলে যে-ই ডিভোর্সের জন্য অ্যাপীল করবেন, তাঁকে সেই ঘটে-যাওয়া-বিফল-বিয়ে বাবদ হওয়া খরচ অপরপক্ষকে দিয়ে দিতে হবে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে। মেক্সিকোর ন্যাশনাল অ্যাকশন পার্টির হোজে অ্যান্টোনিওর বক্তব্য অনুযায়ী, "He or she who refuses to live up to a marriage commitment will pay for the expenses that the other party made in connection with the planned matrimony' । বিবাহবিচ্ছেদ বাবদ অর্থ ছাড়াও অনেক সময় ব্যয় হয়, শহরের কোর্টগুলোকে এই মামলা চালাতে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়, সেটলমেন্টের ব্যবস্থা করতেও অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। বাদীপক্ষের ঘাড়ে এই ক্ষতিপূরণের শর্ত চাপিয়ে দিলে দু-পক্ষই নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার আগে দশবার ভাববেন। হোজের আশা, এই নতুন আইন, যা কেবলমাত্র হেটেরোসেক্সুয়াল বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, পাশ হলে পরে দেশে বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সংখ্যা অনেক হ্রাস পাবে।

কুকুর ব'লে কি ...
-------------------
জর্ম্মন পুলিশ-সারমেয়দিগকে আর নগ্নপদে ডিউটি সারিয়া আপন আপন পদচতুষ্টয়কে সম্ভাব্য অসম্ভাব্য বিভিন্ন পদার্থের দ্বারা আহত করিবার সম্ভাবনা পোষণ করিতে হইবে না। পশ্চিম ডাসেলডর্ফের পুলিশ সম্প্রতি তাঁহাদিগের সমস্ত জর্ম্মন ও বেলজিয়ান প্রজাতির বিংশতিসংখ্যক সারমেয়র প্রত্যেকের জন্য দুই জোড়া করিয়া জুতা প্রস্তুত করিয়াছেন। সারমেয়পুলিশেরা জুতা পরিতে পছন্দ করিবে কিনা তাহা এখনও জ্ঞাত হয় নাই, কিন্তু পুলিশকর্তা আন্দ্রে হার্টউইচ কহিয়াছেন, "তাহাদিগকে এইরূপ পাদুকাসমভিব্যহারে আপন আপন কর্তব্য পালন করিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হইবেক, যাহাতে তাহারা সভ্যতর উন্নততর পুলিশ সারমেয়তে পরিণত হয়।'

জর্ম্মন শহরগুলিতে পব্‌-এর সংখাধিক্য, ফলে মাতালও সংখ্যায় অপরিমেয়। জর্ম্মন মাতালদিগের একটি প্রিয় ফুর্তি হইতেছে খোলা রাস্তায় বীয়ার বোতল চূর্ণ করিয়া উল্লাস প্রদর্শন। নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার করিয়াও সমস্ত কাচের টুকরা রাস্তা হইতে রিমুভায়িত করা সম্ভব হইয়া উঠে না। ইহার করুণ ফলভোগ করে পুলিশ সারমেয়গণ, যাহাদিগকে হামেশাই সেই হর্ম্ম্যের উপর দিয়া দৌড়াদৌড়ি করিয়া আপন আপন ডিউটি করিতে হয়। আন্দ্রেবাবু তাই জুতার প্রবর্তন করিয়াছেন, পরিশেষে কৌতুক করিয়া ইহাও বলিয়াছেন, "এক্ষণে তাহারা জুতার ফিতা বাঁধিতে শিখিলেই হয়।' স্মল, মিডিয়াম ও লার্জ, এই তিন প্রকার সাইজে মিলিবে নীল রংয়ের এই সারমেয়পাদুকা। রং, পুলিশ ইউনিফর্মের সহিত মিলাইয়া রাখা।
কুট্টুস থাকিলে এই খবর শুনিয়া এমনিই কহিত, "কুকুর বলে কি আমরা মানুষ নই ...?'; লক্‌ লোমন্ডের প্রয়োজন পড়িত না।

প্রেমগণনা
---------

মোবাইল ফোন দিয়ে কথা শুনেছেন, এসেমেস করেছেন, ক্যালকুলেটরের কাজ চালিয়েছেন, ঘড়ির অ্যালার্ম দিয়েছেন, গান শুনেছেন, রিংটোন সেট করেছেন, ফোটো তুলেছেন, ভিডিও দেখেছেন, মানে ইলেকট্রনিক্সের হদ্দমুদ্দ যা যা হয় সব চেখে দেখেছেন আপনার ট্যাঁকের ঐ চৌকোপানা বস্তুটা দিয়ে, এখন কে আপনাকে কতো ভালোবাসে তা-ও জানবার জন্যে ব্যবহার করুন মোবাইল ফোন।
না না, রসিকতা নয়, এই লাভ ডিটেক্টর সফটওয়্যার সত্যি সত্যি তৈরি করেছেন কোরিয়ার মোবাইল অপারেটর সংস্থা KTF । এই সার্ভিসটি সাবস্ক্রাইব করলে এটি কথা বলার সময়ে আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে অন্যপ্রান্তের ভয়েস অ্যানালাইজ করে একটি লাভ মিটারসম্ভূত বার তৈরি করবে এবং কলশেষে তা অ্যানালিসিস করে টরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আপনাকে পাঠিয়ে দেবে, যা দ্বারা আপনি জানতে পারবেন এতক্ষণ যার সাথে কথা বলছিলেন সে আপনার ওপর রেগে ছিল, না বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, কিংবা গদগদ ভক্তিরসে নিমজ্জিত ছিল, তার কন্ঠে প্যাশন কত পার্সেন্ট ছিল, সিমপ্যাথি কত পার্সেন্ট ছিল, সারপ্রাইজ কত পার্সেন্ট ছিল, সমস্ত ব্রেকআপ এসেমেস মারফৎ পৌঁছে যাবে আপনার কাছে। খরচা, মাসে মাত্র 1.59 ডলার।

ভাবেন একবার, বরকে ফোন করার পর আপনার কাছে এসেমেস এল, আপনার কলারের ভয়েসে সারপ্রাইজ ছিল ফিফ্‌টি পার্সেন্ট, দ্বিচারিতা ছিল থাট্টি পার্সেন্ট, অনেস্টি ছিল এক পার্সেন্ট আর বিরক্তি ছিল উনিশ পার্সেন্ট। পরের কলে আপনার ভয়েস অ্যানালিসিস করে আপনার বরের কাছে কী এসেমেস পৌঁছবে তাইলে?

মার্চ ২, ২০০৮