খবর্নয় (ফেব্রুয়ারী ২৪)


লিখছেন --- শমীক মুখোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


রাম নাম সত্য হ্যায়
----------------------

শ্রী মহেশ প্রসাদ ভার্মাকে চেনেন? ... এই নামে না-ও চিনতে পারেন, কিন্তু মহাঋষি মহেশ যোগী বললে এক্ষুনি চিনতে পারবেন। জীবদ্দশায় তাঁর বিপুল ভ্রমণ, জীবনদর্শন ও কীর্তিকলাপের ডিটেইল খবরাখবর হয় তো আমরা উন্নাসিক তর্কপ্রিয় বাঙালিরা রাখি না, মোটামুটি তাঁকে এই জন্যেই চিনি যে, তিনি পপ গ্রুপ বীট্‌লসদের ধর্মগুরু ছিলেন, মানে বীটল্‌সদের শিষ্যত্বই তাঁকে বেশি খ্যাতি এনে দিয়েছিল, আর এ মাসের পাঁচ তারিখে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি বিপুলসংখ্যক এক শিষ্যসমাজ ছেড়ে গেছেন, যে সমাজ "রাম' নামে এক নতুন কারেন্সি সম্প্রতি বাজারে ছেড়েছেন, উদ্দেশ্য, বিশ্বময় শান্তি, সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ছড়িয়ে দেওয়া, এই মুদ্রার মাধ্যমে। সংগঠনটির নাম গ্লোবাল কাϾট্র অফ ওয়ার্ল্ড পীস, এযাবৎ তারা এক, পাঁচ এবং দশ রামের নোট বাজারে ছেড়েছে, এবং ডাচ সে¾ট্রাল ব্যাঙ্ক জানিয়েছে এই নোট নেদারল্যান্ডের বাজারে চলতে কোনও অসুবিধে নেই। এই কারেন্সি ডাচ ল'য়ের পরিপন্থী নয়। তবে ডাচ সে¾ট্রাল ব্যাঙ্ক সতর্ক নজর রাখছে এই কারেন্সি সার্কুলেশনের ওপর, ব্যাঙ্কের মুখপাত্রের মতে, The Raam can be used as long as the notes are not used as legal tender and it stays within a closed-off circuit of users ।

কেবল নেদারল্যান্ডই নয়, ইউএসএর আইওয়া স্টেটে অবস্থিত মহাঋষি বেদিক সিটিতেও এই রামমুদ্রা ( Maharishi Vedic Sity ) গুছিয়ে সার্কুলেট করা হচ্ছে ইউএস ডলারের সঙ্গেই, এবং ৩৫টা আমেরিকান স্টেটে রাম-বেস্‌ড বন্ড বিক্রি করা হচ্ছে। মহাঋষি মুভমেন্টের "অর্থমন্ত্রী' বেঞ্জামিনবাবু জানিয়েছেন তাঁরা এই মুদ্রা দিয়ে দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করছেন। সুন্দর স্ট্যাটিস্টিক্স দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে আমেরিকায় এত লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন, তাঁদের হাতে ইউ এস ডলার পৌঁছয় না, অতএব এই রামমুদ্রা দিয়ে তাঁদের জন্য বাড়ি ঘর রাস্তা স্কুল হেলথ ক্লিনিক ইত্যাদি বানানো হবে।
আর দেরি নেই। আম্রিকাতেও রামরাজ্য এসে পড়ল বলে।

রঙীন ট্রেনযাত্রা
-------------------
হুঁ হুঁ বাওয়া, এরা বনগাঁ লোকাল দ্যাখে নি। দেখলে কী বলত জানি না।
দেশের নাম ইন্দোনেশিয়া। সেখানে লোকাল ট্রেনে সকাল সন্ধ্যে প্রচুর ভিড় হয়। এমন ভিড়, যে দেড় হাজার ভোল্টের প্যান্টোগ্রাফে পরোয়া না করে সেখানকার অনেক ডেলি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ছাদে বসেও যাতায়ত করেন। তীব্রগতির ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে যাবার ভয়ও এদের নেই। তাই ইন্দোনেশিয়ান রেলওয়ে উদ্ভাবন করেছে এক নতুন পন্থা। সে-ও খাঁটি ভারতীয় পন্থা। কী বলুন তো?
কী আবার! আমাদের দেশে হোলির দিন যা করা হয়, তাইই। ছাদে বসে থাকা কম্যুটারদের দিকে উদ্দেশ্য করে স্প্রে করা হবে রং। বেশ পাকা রং। রেলের আশা, এই রংয়ের ভয়ে লোকজন ছাদে ওঠা বন্ধ করে দেবে।
এমনিতে ইন্দোনেশিয়াতে ট্রেনই সবথেকে শস্তার বাহন। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রতিদিন হাজারে হাজারে লোক পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শহরে কাজ করতে যান, ও অন্যান্য শহর থেকে জাকার্তায় আসেন। পীক অফিস আওয়ারে ট্রেনের বডি আর দেখা যায় না, চতুর্দিকে কেবলই মানুষ দেখা যায়। একেবারে আমাদের বনগাঁ লোকালের ছবি। তো, রেলের অফিশিয়ালরা ট্রেন ছাড়ার সময়েই ছাদে কালার ডাই স্প্রে করবেন, যাতে সবার জামায় রং লাগে, কিন্তু প্যাসেঞ্জারকে হোলি হ্যায় বলে জড়িয়ে ধরবেন না। বরং অন্যান্য স্টেশনগুলিতে বেরোবার মুখে রং দেখে তাদের আইডেন্টিফাই করে ক্যাঁক করে ধরবেন, আইডি কার্ড বাজেয়াপ্ত করবেন, টিকিট ধরাবেন, এবং সেই টিকিটের কপি রেল অফিশিয়ালরা অভিযুক্তের পাড়ায় বিলি করবেন, অভিযুক্তের বাবা-মা, প্রতিবেশি, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে-বউ, শিক্ষক-ছাত্র সবার কাছে বিলি করে জানানো হবে, দ্যাখো, ওমুক চন্দ্র তমুক ট্রেনের ছাদে উঠে জার্নি করতে গিয়ে টিকিট খেয়েছেন।
এতে করে নিত্যযাত্রীদের ভিড়ের চাপ সামলানো যাক আর নাইই যাক, ট্রেনের ছাদে ভিড় কমুক বা না-ই কমুক, ধোপা আর ড্রাই ক্লিনিংয়ের দোকানের ব্যবসা অচিরেই বাড়বে, সেটা নিশ্চিত। হয় তো শিগগিরই রং নিরোধক জ্যাকেট বিক্রি হবে। লোকে সেই জ্যাকেট পরে ট্রেনের ছাদে চাপবে, গন্তব্যে পৌঁছে জ্যাকেট খুলে ভাঁজ করে ঢুকিয়ে নেবে প্লাস্টিকের প্যাকেটে, ফেরার পথে কাজে লাগবে। অন্তত বনগাঁ লোকালে এই নিয়ম চালু করলে পরে শিশির মার্কেট তো এই রকম জ্যাকেটের দোকানে ভরে যেত!
কিন্তু ছাদে না চড়েও ট্রেনের ভেতরে জানলার ধারে বসা রিস্কি হয়ে যাবে না তো?

মোটের ওপর মোটামুটি ...
---------------------------

অস্ট্রেলিয়াতে পোস্টম্যানের চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করতে গেলে ওজনের একটা আপার লিমিট মেইনটেন করতে হত। সর্বাধিক ৯০ কেজি ওজনের একজন পোস্টম্যান (বা উওম্যান) হতে পারতেন, যিনি ৪০ কেজি ওজনের চিঠির বান্ডিল নিয়ে চিঠি বিলি করে বেড়াতে পারেন কম্পানিপ্রদত্ত ১১০ সিসির হন্ডা মোটরসাইকেলে, মানে, মোটরসাইকেল সর্বাধিক ১৩০ কেজি ওজন বহনের যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু মোটরসাইকেল নির্মাতা কোম্পানি হন্ডা সম্প্রতি জানিয়েছে পোস্টম্যানের ওজন যদি আরও ১৫ কেজি বেশিও হয়, মানে ৯০-এর বদলে যদি ১০৫ কেজি হয়, তা হলেও মোটরসাইকেলের বিশেষ ক্ষতি হবে না, যদি সেই ১০৫ কেজি ওজনের পোস্টম্যান মাত্র ২৫ কেজি চিঠিচাপাটি বহন করেন, মানে কুল্লে ওজনটা সেই ১৩০-ই রাখা হয়।
নিন্দুকে বলছে, ও সব মোটরসাইকেল কম্পানির আশ্বাস-টাশ্বাস পাতি ঢপ, আসলে গড় অস্ট্রেলিয়ানরা এতই বেশি মোটা / বেশি ওজনসম্পন্ন, যে ঐ ৯০ কেজি আপারলিমিটওলা পোস্টম্যান খুঁজে পাওয়া খুব ব্যথা হয়ে যাচ্ছিল, ইট ওয়জ ক্রিয়েটিং আ রিক্রুটমেন্ট প্রবলেম। স্টাফিং শর্টেজ হয়ে যাচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়া পোস্ট অবশ্য নিষ্পাপ মুখে এই নিন্দে অস্বীকার করে বলেছেন স্টাফিং প্রবলেম টবলেম তাঁদের নেই, তাঁরা কেবল ওজনের লিমিট বাড়িয়ে আরও বেশি সংখ্যক লোককে এই পোস্টম্যানের চাকরির জন্য সুযোগ করে দিতে চাইছেন।
খবরটা পড়ে গোটা তিনেক প্রতিপাদ্যে পৌঁছনো গেল। এক, ভারতে মরোমরো হলেও পোস্টাল চিঠিচাপাটির বেশ বাড়বাড়ন্ত অস্ট্রেলিয়াতে। দুই, অস্ট্রেলিয়ার গড় লোকজন বেশ মোটা। ওজনে কনস্ট্রেইন্ট রেখে দিলে অনেকেরই চাকরি জোটানো টাফ হয়ে যায়। আর তিন, অস্ট্রেলিয়াতে পোস্টম্যানের চাকরিটা বোধ হয় বেশ লোভনীয় চাকরি।

ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০০৮