খবর্নয় (ফেব্রুয়ারী ১০)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


নাসা-য় বীটলস
------------------
কিছুদিন আগে মঙ্গল গ্রহের ধূসর প্রান্তরে একলা এক নারীকে দেখে যারা উৎফুল্ল হয়েছিলেন, তাদের জন্য একটা সুখবর আছে। কিছুদিন অপেক্ষা করলেই তাঁরা হয়তো দেখতে পাবেন কোনো এক বিশাল UFO বা স্পেসশিপ এসে থামলো তাঁদের বাড়ির সামনে, আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ভিনগ্রহবাসী নারীরা, গান গাইতে গাইতে। হয়তো তখন ভিনগ্রহবাসীদের কন্ঠে থাকবে Now let me hold your hand, I want to hold your hand । খুব অদ্ভুত লাগছে তো শুনতে? যদিও আজ শুক্রবারের রাত্রি, তবুও এই খবরটা আমি এখন লিখছি খুব ঠান্ডা মাথায়। আসলে সদ্য পাওয়া খবরে জানা গেছে যে NASA এইবারে মহাকাশে বীটল্‌সদের দের গান বাজাবে।

ফেব্রুয়ারী মাসের শুরু থেকে এই মহাজগৎ জুড়ে সর্বত্র শোনা যাবে বীটলসদের, নর্থ স্টার বা পোলারিস কে লক্ষ্য করে প্রাথমিক ভাবে পাঠানো হচ্ছে এই গান। মহাকাশে গান পাঠানোর এই ধরনের প্রচেষ্টা এই প্রথম। স্পেনের Madrid Deep Space Communication Complex থেকে ট্রান্সমিট করা হবে এই গানগুলো, ব্যবহার করা হবে DSS-63 রেডিও অ্যান্টেনা। NASA র পঞ্চাশবছর পুর্তি উপলক্ষ্যে সারা ইউনিভার্স জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে গান। নাসার নিজস্ব প্রেস রিলিজ থেকে জানা গেছে এই ঘটনায় খুব খুশী হয়েছেন জন লেননের স্ত্রী। ওনার মতে এটা একটা নতুন যুগের সুচনা। ভিনগ্রহীদের মধ্যে ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন Paul McCartney ।
তবে যারা এখন থেকে ভিনগ্রহী বিটলস ফ্যানদের জন্য অপেক্ষা শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের কে জানাই যে পোলারিস বা নর্থ স্টার পৃথিবী থেকে ৪৩১ আলোকবর্ষ দূরে। তাই এক্ষুণি অপেক্ষা শুরু না করলেও হবে। ততদিন বরং তারা হলিউডের এলিয়েন মুভিগুলো শেষবারের মতন দেখে নিন। বন্দুক হাতে পৃথিবী আক্রমণে আসা এলিয়েনদের দিন কিন্তু এবার ফুরালো।

থাইল্যান্ডে মানুষখানা
-----------------------
মায়নমারের পাশেই ছোট্ট একটি এশিয়ান দেশ থাইল্যান্ড। এই ছোট্ট দেশটির অর্থনীতির ওপর বিরাট একটা প্রভাব আছে ট্যুরিসম ইন্ডাসট্রির। আর সেই ট্যুরিসম ইন্ডাসট্রিকে ধরে রাখার জন্য বর্তমান থাই সরকার মানবাধিকারের সমস্ত কটি সীমানা পেরোবার জন্য তৈরী। ঘটনাটা বরং প্রথম থেকেই বলা যাক। থাইল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে এক ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গল পেরোলেই আসে মায়নমারের সীমানা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এক সময়ে মায়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে চলে আসেন বহু মানুষ। এই পালিয়ে আসা জন গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে kayan গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর বিশেষত্ব হলো, এদের মেয়েরা তাদের গলায় একরকম ধাতব রিং পরে রাখে ছোট থেকে। ফলে গলা অদ্ভুত সরু আর লম্বা হয়ে যায়। এই 'জিরাফ গলা' মহিলাদের জন্য এই জনগোষ্ঠী ট্যুরিস্টদের কাছে এক আকর্ষণের বস্তু। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ট্যুরিস্টরা জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছে যায় Kayan গ্রামে। ছবি তোলা, স্যুভেনির সংগ্রহ করা, এই সমস্ত কিছুর মধ্যে দিয়ে রাজস্ব ভর্তি হতে থাকে থাই সরকারের থলিতে। কিন্তু এতদিন এসব নিয়ে আপত্তির কিছু ছিল না। একদল রিফিউজি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল থাই সরকার। কিছু ট্যুরিস্ট যদি সেই রিফিউজিদের দেখতে চায়, তবে কারোরই কিছু বলার থাকতে পারে না।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয়েছে অন্য জায়গায়। The United Nations refugee agency অনেকদিন ধরেই চাইছিল এখান থেকে রিফিউজিদের সরিয়ে নিয়ে, তাদেরকে স্থায়ী ভাবে কোনো জায়গায় রাখতে। কয়েক বছরের চেষ্টার পর ফিনল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের সরকার রাজীও হয়েছিল এই রিফিউজিদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব দিতে। ২০ জন কায়ান মহিলার উড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডে। কিন্তু এই খানেই বাদ সাধছে থাইল্যান্ড সরকার। মায়নমার থেকে আসা অন্যান্য বহু রিফিউজিদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে থাই সরকার, কিন্তু কায়ান মহিলাদের জন্য তাদের চিন্তা ভাবনা অন্য। UNHCR এর দাবী যে, যেহেতু এই কায়ান মহিলাদের থেকে সরকার অনেক রাজস্ব পায়, তাই এদেরকে ছেড়ে দিতে রাজি নয় সরকার। জঙ্গলের মধ্যে মানুষ রেখে, এক চিড়িয়াখানা বানিয়ে ফেলেছে সরকার, ট্যুরিস্টদের টেনে আনার জন্য। সরকারের তরফ থেকেও দেওয়া হয়েছে হাস্যকর যুক্তি। সরকার শুধুমাত্র রিফিউজি দের দেশ ছাড়ার অনুমতি দেয়। কায়ান মহিলারা যেহেতু নিজেরা উপার্জন করে এবং রিফিউজি ক্যাম্পে থাকে না, তাই তারা সাধারণ রিফিউজিদের মধ্যে পড়ে না। তাই তাদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দেবে না থাই সরকার। আপাতত এই নিয়ে চলছে চাপান উতোর। বিভিন্ন মানবাধিকার কমিশন থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এই ঘটনার বিরুদ্ধে। নতুন শতাব্দীতে এসেও আমরা দেখতে পাচ্ছি সেই পুরনো ক্রীতদাস প্রথার এক অন্য রকম রূপ।

'গুজব ছড়াবেন না'
------------------
বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলেই একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটতে দেখি সবসময়। সমস্ত পাড়া প্রতিবেশীরা একে একে আসেন আর অসুস্থ ব্যক্তিকে শোনাতে শুরু করেন যে ঠিক এমন উপসর্গ ওনার কোন পিসতুতো দাদার হয়েছিল অথবা যে ডাক্তার চিকিৎসা করছেন সেই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার ফলে এর আগে কার কত ক্ষতি হয়েছে তার বিশাল হিসেব। যথারীতি সেই সব শুনে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন চিকিৎসাধীন ব্যক্তি। আর আমরাও ভদ্রতার কারণে কোনোদিন আটকানোর চেষ্টা করি না এসব।

তবে এবারে শক্ত হাতে এসব বন্ধ করার দায়িত্ব নিয়েছে সার্বিয়া সরকার। সার্বিয়া হেলথ মিনিস্ট্রি থেকে জারী হওয়া এক নতুন আইনে রয়েছে যে, এখন থেকে হাসপাতালের মধ্যে বসে কোনো ডাক্তারের সমালোচনা করা চলবে না। চলবে না কোনো সিনিয়রের নামে অভিযোগও। সার্বিয়ার হসপিটালগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা ছিল ঘুষ। প্রচুর টাকার ঘুষ দেওয়া নেওয়া চলতো ভেতরে। যত ঘুষ দিতে পারতেন রোগী, তত বেশী সেবাযত্ন পেতেন হাসপাতাল থেকে। তার বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে সার্বিয়া সরকার। এছাড়া রোগীর সাথে খারাপ ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে এখন। আশা করা যায়, এই ভাবে হয়তো কিছু উন্নতি হবে সার্বিয়ার হাসপাতাল গুলোর। তবে এরই সাথে সরকার নিষিদ্ধ করেছেন মিনি-স্কার্ট পরে হাসপাতালে আসার অভ্যাস।

ফেব্রুয়ারী ১০, ২০০৮