খবর্নয় (জানুয়ারী ১৩)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


সস্তায় অজুহাত
---------------

একে তো আমাদের বারো মাসের তেরো পাব্বন। তার মধ্যে আজ বন্ধুর বিয়ে, কাল পাড়ায় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, পরশু পিকনিক এসব তো লেগেই আছে। কিন্তু আজকালকার অফিসগুলো এই সব কথা শুনতেই চায় না। ছুটি চাইতে গেলেই বসের মুখ হাঁড়ি। অজুহাত খুঁজতে খুঁজতে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার জোগাড়, তবুও দারুণ ভাল কোনো অজুহাত আর মাথায় আসে না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি? এমন কিছু কি নেই জগতে যা এনে দিতে পারবে অনেক অনেক ছুটি, যখন দরকার তখনই?

আছে, আছে, সব ই আছে। মাত্র কয়েকটা টাকা ফেললেই এমন সমস্ত সমস্যার সমাধান আপনার হাতের মুঠোয়। বেশী নয়, খরচ মাত্র ২৫$। এই সামান্য কটা টাকা ফেললেই আপনি হাতে পেয়ে যাবেন জলজ্যান্ত সব অজুহাত। আপনার হাতে এসে যাবে কোনো ডাক্তার বা কোনো হসপিটাল থেকে দেয়া নির্দেশাবলী, যাতে আপনাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে বলা হয়েছে, অথবা কোর্ট থেকে আসা উকিলের চিঠি যা প্রমাণ করে দেবে যে আপনার কোর্টে উপস্থিতিটা প্রচন্ড জরুরী আর তাই ঐ দিন আপনার পক্ষে অফিস যাওয়া সম্ভব নয়। আমেরিকার The Excused Absence Network এনে দিয়েছে এই নতুন ব্যবস্থা। বছর চারেক আগে লিডেল এবং ওয়াটারহাউস নামের দুই টেক্সাসবাসী শুরু করেন Vision Matter নামে একটি ছোট্ট কোম্পানি। আপাতত সেই কোম্পানীরই একটি বিজনেস লাইন হলো The Excused Absence Network । কাস্টমাররা এদের ওয়েব সাইটে গিয়ে খুঁজে নেবেন অজুহাতের টেমপ্লেট। তারপর দিতে হবে কিছু দরকারী তথ্য। সেগুলো ঠিক মতন দিলেই, হাতে এসে যাবে 'অজুহাত'। যদিও কোম্পানীর ওয়েব সাইটের সর্বত্র লেখা আছে for entertainment purposes only , কিন্তু ঐ সাইটে লেখা বিভিন্ন টেস্টিমোনিয়াল গুলো অন্য কথাই বলে। একজন ব্যক্তি তো এই টেমপ্লেট ব্যবহার করে অফিস থেকে টানা দু' মাসের ছুটি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে জানান।

তবে সবার ভাগ্য এতটাও ভাল হয় না। নিউ জার্সির এক ভদ্রমহিলা এমনই এক নকল ডাক্তারী প্রেসক্রীপশান পাঠিয়েছিলেন স্থানীয় আদালতে। সেদিন ছিল তাঁর আদালতে হাজিরার দিন। বিচারকের সন্দেহ হয় পুরো ব্যপারটাতে। যে ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রীপশান দেখান ঐ ভদ্রমহিলা, যোগাযোগ করা হয় সেই ডাক্তারের সাথে। অত:পর পুলিশ গ্রেপ্তার করেন মহিলাকে। তবে এই Vision Matter সংস্থার অন্যতম অংশীদার Darl Waterhouse এর মতে এই ধরনের ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ফেডারেল আইন অনুসারে যে কোনো ডাক্তারের কাছেই তার রুগী দের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়াটা সম্পুর্ণ বেআইনি। তাই সন্দেহ হলেও, কোনো অফিস তার কর্মচারীদের ব্যপারে ডাক্তারখানা বা হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিতে পারবে না। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানীগুলো দাবী করে যে তাদের কোম্পানীর কর্মচারীরা প্রচন্ড খুশী সেখানে কাজ করে। তাই তারা কোনোরকম তদন্তেও যেতে রাজী হবে না, বাজারে নাম খারাপ হওয়ার ভয়ে। তবে সম্প্রতি Harris Interactive consulting firm এর করা এক সার্ভে জানাচ্ছে যে, প্রায় ৬৬% মানুষ মিথ্যে শরীর খারাপের অজুহাত দেখিয়ে অফিস কামাই করেন। আর সেই সময়টা তারা কাটান পারিবারিক সমস্যা মেটাতে। এই তথ্য আরো বেশী উৎসাহিত করেছে Vision Matter সংস্থার দুই অংশীদারকে। Liddell এর মতে যতদিন কোম্পানীগুলো তাদের কর্মচারীকে কম টাকা দিয়ে বেশী খাটাবে ততদিন এই ধরনের সমস্যা থাকবেই, আর যতদিন এই ধরনের সমস্যা থাকবে ততদিন তারা তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাহায্য করে যাবেন সাধারণ কর্মচারীদের। ওয়াটারহাউস জানায় যে তাদের ওয়েবসাইটের হিট কাউন্ট ক্রম বর্ধমান। মাসে ১৫০০০ এর ওপর চলছে হিট কাউন্ট। ক্রমশ বাড়ছে এদের জনপ্রিয়তা।

গুরুচন্ডালীর পাঠক/পাঠিকারা চাইলে একবার খুঁজে দেখতে পারেন অজুহাতগুলো। একবার না হয় ক্লিক করেই দেখুন
http://www.myexcusedabsence.com ।

পুলিশ ও ফোন
----------------

২০০৭ কেমন কাটলো দিল্লী পুলিশের? ভুলেও এই প্রশ্ন করতে যাবেন না রাজধানীর কোনো পুলিশ কর্মীকে। এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে প্রকাশ যে ২০০৭ দিল্লী পুলিশের জন্য মোটেই ভাল ছিল না। বছর জুড়ে প্রায় ৬৩৭০ টি মিথ্যে ফোন এসেছিল পুলিশের কাছে। ফলে ৬৩৭০ বার পুলিশের সমস্ত ছোটাছুটি মিথ্যে হয়ে গেছে। ক®¾ট্রালরুমের এক পুলিশ কর্মচারীর বক্তব্য হলো যে, পাবলিক বুথ বা অন্য যে কোনো জায়গা থেকে কোনো ফোন এলেই সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যাওয়া পুলিশের কর্তব্য। এছাড়া কোনো এমারজেন্সী ঘটনাও থাকতে পারে এর পেছনে। কিন্তু এই বছরে ৬০০০ এরও বেশীবার ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুলিশ বুঝেছে পুরোটাই ধোঁকা। কেউ কেউ শুধু মজা করার জন্য এই কাজ করেছে অথবা কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে বিরক্ত করার জন্য। এর মধ্যে ৭২৬ টা ফোন ছিল কোনো অনুষ্ঠানে মাত্রাতিরিক্ত লাউড স্পীকার বাজানোর অভিযোগ জানিয়ে, যদিও ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই দেখতে পায়নি পুলিশ। তবে দিল্লী পুলিশের আশা যে এই বছরে হয়তো এই ধরনের সমস্যা মিথ্যে ফোন আসা অনেক কমে যাবে কারণ মিথ্যে ফোনের ঘটনা ক্রমহ্রাসমান। ২০০৬এ এই ধরনের ফোনের সংখ্যা ছিল ৮,৭০০। এই বছর সেটা কমেছে ২৭%। দেখা যাক ২০০৮ কেমন কাটে পুলিশের।

তবে ফোন নিয়ে অস্বস্তি তে যে শুধু দিল্লী পুলিশ আছে তা নয়, ঝামেলায় প্‌ড়ে আছে পৃথিবীবিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা FBI ও। তবে FBI এর সমস্যাটা একটু অন্যরকম। দিল্লী পুলিশ যখন ফোন সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে, তখন FBI এর দপ্তরগুলোতে ফোন লাইন উঠে যাওয়ার যোগাড়। ঠিক সময় ফোনের বিল না মেটানোর জন্য টেলিকমিউনিকেশান সংস্থাগুলো কেটে দিয়েছে ফোনের লাইন। আর এই রকম ঘটনা FBI এর ক্ষেত্রে নতুন নয়। আগেও অনেকবার ঘটেছে এটা। FBI এর পুরো পেমেন্ট সিস্টেম এতটাই বেশী বিশৃঙ্খল যে কোন বিল, কখন জমা পড়ছে, কে দিচ্ছে তার কোনো হিসেব থাকে না। ফলে অনেক সময়েই মাসের পর মাস জমা পড়েনা ফোনের বিল। তারই জেরে এবারে ফোনলাইন কাটা পড়ে টেররিসম ইনভেস্টিগেশান ডিপার্টমেন্টের। গত বৃহস্পতি বের হওয়া এক অডিট রিপোর্টে পাওয়া গেছে আরো মারাত্মক এক খবর। বেশ কিছু সুযোগসন্ধানী কর্মচারী এই ব্যবস্থার সুবিধে নিয়ে চুরি করেছে বেশ কিছু টাকা। একজন কর্মচারী গত বছরে প্রায় ২৫০০০ ডলার সরিয়েছে এইভাবে। অডিট সংস্থাটি আরো জানায় যে গতবছর FBI এর ৫টি ডিপার্টমেন্ট প্রায় ৯৯০টি ফোনের বিল মিটিয়েছে যার অর্ধেকেরও বেশী গেছে লেট-ফি'র আওতায়। এছাড়াও ফোনলাইন কেটে যাওয়ার জন্য Foreign Intelligence Surveillance Act ডিপার্টমেন্ট হারিয়ে ফেলেছে অনেক গুরুত্ত্বপুর্ণ তথ্যপ্রমাণ। তবে FBI Hl assistant director জন মিলার জানান যে তাঁরা FBI কে ঢেলে সাজাবেন এই বছরে, যাতে এই ধরণের সমস্যা ভবিষ্যতে আর কখনো না হয়। তবে ফোনলাইন কেটে যাওয়ার জন্য যে তথ্যপ্রমাণ অনেক হারিয়ে যাচ্ছে, এই খবর অস্বীকার করেন তিনি।

মুক্তো রহস্য
-------------
সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গিয়ে ঝিনুক কুড়িয়ে মুক্তো খোঁজেননি এমন মানুষ মনে হয় খুব কমই আছেন। তবে কেউ কখনো মুক্তো খুঁজে পেয়েছেন বলে অন্তত আমি শুনিনি। কিন্তু গত শুক্রবার খোঁজ পাওয়া গেলো এমনই এক মানুষের যিনি ঝিনুক ভেঙ্গে একটি মুক্তো খুঁজে পেয়েছেন। নাহ, তিনি সমুদ্রের ধারেও যাননি, আর ঝিনুকও কুড়োন নি। তিনি গেছিলেন নিউ জার্সির এক রেস্টুরেন্টে। চেয়ে নিয়েছিলেন এক প্লেট ফ্রায়েড অয়েস্টার। খেতে গিয়ে দাঁতে আঁটকে যায় শক্ত কোনো টুকরো। পাথরকুচি ভেবে মুখ থেকে বার করে তিনি দেখেন সেটি আসলে একটি ছোট সাদা মুক্তো।

Gef Flimlin নামের এক মেরিন এক্সটেন্সান এজেন্ট জানান যে এমন ঘটনা সত্যি খুব বিরল। আজকাল ৯৫% মুত্তো²ই আসলে কালচারড পার্ল। প্রাকৃতিক ভাবে মুত্তো² পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে গেছে। তাই ঝিনুকের মধ্যে থেকে মুক্তো খুঁজে পাওয়া খুবই বিরল। রেস্টুরেন্টের মালিক Rick Giacobbe জানান যে গত ৩৩ বছর ধরে এই রেস্টুরেন্ট তিনি চালাচ্ছেন, কিন্তু এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। তবে এই হঠাৎ পাওয়া মুক্তোটি জুয়েলারী হিসেবে হয়তো খুব একটা দামী হবে না। কারণ মুক্তোটি নিটোল গোল নয়, তাছাড়া তার রঙটিও খুব একটা ভাল নয়। তবে মুক্তোর বর্তমান মালিক তাই নিয়ে এতটুকুও চিন্তিত নন। স্যুভেনির হিসেবে তিনি মুক্তোটি রেখে দিতে চান নিজের কাছে। সত্যি তো, তিনি শেষ অব্দি এমন এক ঝিনুক খুঁজে পেয়েছেন যাতে মুক্তো আছে।

জানুয়ারী ১৩, ২০০৮