খবর্দার (ডিসেম্বর ৩০)


লিখছেন --- মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


উল্কা ও অজানা রোগ
------------------

না, এটা কোনো কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়। বরং তিনমাস আগের একটা পুরোনো খবর। এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টিটিকাকা হ্রদের কাছে এক বিশাল উল্কা আছড়ে পড়ে। তার কিছুদিনের মধ্যেই কাছাকাছি অঞ্চলের বাসিন্দারা, বিশেষত যাঁরা উল্কাপাতের জায়গাটা দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাথার অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে অনেকেই চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার পরে রোগের কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা শুরু হয়। পেরুর একদল বিজ্ঞানী উল্কাপাতের এলাকা ও হ্রদের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে অনুমান করেছিলেন ভূগর্ভস্থ কোনো জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উদ্ভূত বিষাক্ত গ্যাস থেকেই এই বিপত্তি। পরে অবশ্য এই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়। সম্প্রতি মাইনিং, মেটালার্জি অ্যান্ড জিওলজি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্সেনিকের ধোঁয়া প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেই এই অসুখ দেখা দিয়েছিলো। দক্ষিণ পেরুর বিভিন্ন অঞ্চলের মাটিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশ ভালই। মাটির নিচের জলের সাথে মিশে থাকা এই আর্সেনিক প্রচন্ড গরম উল্কাপিন্ডের সংস্পর্শে এসে বাষ্পে পরিণত হয়েছিলো, এমনটাই দাবী বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণাগারে কাজ করা বিজ্ঞানীদের। কোনো কোনো গবেষক আবার গোটা ব্যপারটাই মনস্তাত্ত্বিক অসুখ হিসেবে প্রমাণ করতে চান। তাঁদের কথা অনুযায়ী, উল্কাটির বিপুল ভরের জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, এবং সেই থেকেই তাঁরা কল্পিত নানা অসুখে ভুগছেন। প্রসঙ্গত, উল্কাটি পড়ার সময় পতনকেন্দ্রের কাছে যা কিছু ছিলো তা ছিটকে ২৫০ মিটার অবধি উড়ে যায়। সেই তীব্র অভিঘাতে সবাই সাময়িকভাবে শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। সঠিক সময়ে কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠায় অবশ্য তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। রহস্যময় অসুখ নিয়ে যে তিরিশজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাইকেই পরে সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো।

বাঘেদের ব্যপার স্যপার
--------------------

ইদানিং খবরের কাগজ খুললেই চিড়িয়াখানার বাঘেদের নানান কীর্তিকাহিনি পাওয়া যাচ্ছে। বিয়ের বাজারে বাঘেদের দাপট অনেকদিনের, মালা নিয়ে অনেকেই চেষ্টাচরিত্র করেছেন অতীতে। তবে ছুটির আনন্দ করতে গিয়ে চিড়িয়াখানায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু তৃতীয় বিশ্বের ওঁচা দেশগুলোতেই শুধু হয় বলে জানা ছিলো। এবং একেবারেই ভুল জানা ছিলো। সম্প্রতি সবাইকে অবাক করে আ-মরিকাতেও অদ্ভুৎভাবে খাঁচার বাইরে বেরিয়ে পড়লো একটি বাঘ। পঁচিশে ডিসেম্বর, সম্ভবত বড়োদিন পালনের জন্যই বাঘটি সান ফ্রান্সিসকোর চিড়িয়াখানার নির্দিষ্ট বেড়া পেরিয়ে খোলা অঞ্চলে চলে আসে। প্রথমেই স্যান হোসের সতেরো বছরের কিশোর কার্লোস বাঘটির সামনে পড়ে যায়। একটুও দ্বিধা না করে মূহুর্তমধ্যে তাতিয়ানা নামের সাইবেরিয়ান বাঘটি কার্লোসকে মারে। পরে আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন তাতিয়ানার থাবায়।
তাতিয়ানার টুপিতে আগে থেকেই বীরত্বের পালক ছিলো। ২০০৬ এর ডিসেম্বর মাসেও সে চিড়িয়াখানার কর্মী লোরি কোমিয়ানকে মারাত্মক জখম করে। সেই ঘটনার ফলে লোরি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছিলেন। ইতিমধ্যেই আদালতে সেই দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণবাবদ প্রায় আট লক্ষ ডলারের মামলা চলছে। তার সাথে আবার নতুন করে এই বাঘা বিতর্কে জেরবার চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, কর্মীরা কেউ যথাযথ প্রশিক্ষণ পান নি। তার ওপর বাঘ-সিংহের মত বিপজ্জনক জন্তুগুলোকে যেসব খাঁচা বা এনক্লোজারে রাখা হয়েছে সেগুলো মোটেই দুর্ভেদ্য নয়।

তুমি কি কেবলই .....
-------------------

যাঁরা মানুষের পরিচয় দিতে গিয়ে আকৃতির থেকে প্রকৃতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য দু:সংবাদ। দুর্ধর্ষ মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থা এফ বি আই সম্প্রতি বিলিয়ন ডলারের প্রোজেক্ট শুরু করেছে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় হইহই করে গবেষণা এগোচ্ছে, যা সফল হলে সমস্ত মার্কিন ভিসার আবেদনকারীর শারীরিক গঠন,হাঁটার ধরণ, কথা বলার স্টাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জমা করে রাখা হবে এক বিশাল তথ্যভান্ডারে। ছবি তুলে রাখা হবে আইরিসের। কানের গঠন, হাতের ছাপ ইত্যাদিও সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন হাই-টেক ব্যবস্থায় প্রায় ১৫ ফুট দূর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তেই আইরিসের ছবি তুলে নেওয়া সম্ভব হবে, শ্রীমুখের ছবি তোলার জন্য অত কাছেও আসতে হবে না, ২০০ গজ দূরত্বই যথেষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই আপত্তি এবং বিতর্ক উঠেছে কোনো ব্যক্তির অজান্তে তাঁর ছবি তোলা এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করার নৈতিকতা নিয়ে। এতে রুষ্ট হয়ে মহামান্য বুশ সাহেব জানিয়েছেন নিরপরাধ মানুষের ভয় পাওয়ার কারণ নেই, এফ বি আই শুধু "" দুষ্টু লোক''দের তথ্য নিয়েই নাড়াচাড়া করবে। তবে কিনা, দুষ্টু লোকের সংজ্ঞা দেশ থেকে দেশান্তরে পাল্টে যায়। সন্ত্রাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা,নিরাপত্তা- এসব শব্দের মানেও মোটেই ধ্রুবক নয়। আমেরিকার অনেক শহরের সুনাম, সেগুলো রাতেও জেগে থাকে। জেনে সবাই আনন্দিত হবেন, এবার থেকে শাসকের রক্তচক্ষুও সদাজাগ্রত থাকবে ""নিরপরাধ'' মানুষের স্বার্থে।

টুকরো খবর
------------

নিউজিল্যান্ডের বেটি লরেন্স বড়োদিনের উপহারের বাক্স খুলে পেলেন আধমরা ইঁদুর। ওয়েলিংটনে প্রায় জনা কুড়ি আত্মীয়ের সাথে ডিনার টেবিলে বসে সাগ্রহে বাক্সটি খুলেই আঁতকে ওঠেন বেটি। প্রেরকের রুচি যেমনই হোক, উপহারের অভিনবত্ব সম্পর্কে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই।

ব্রিটেনের জেলগুলো ক্রমশই বাসস্থান হিসেবে নন্দন কানন হয়ে উঠছে। সম্প্রতি পোর্টল্যান্ডের সংশোধনাগারে চালু হল আসামীদের জন্য বিশেষ পোল ভল্টের ক্লাস। কুড়ি ফুট উঁচু দেওয়াল বিশিষ্ট এই জেলের সবথেকে প্রতিভাবান ছাত্রটিও মাত্র ১৩ ফুট লাফাতে পারায় অবশ্য কর্তৃপক্ষকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি। এছাড়াও খুনের আসামী ( প্রমাণিত) ব্যারি জর্জ যাতে ঠিকভাবে মনসংযোগ করতে পারেন, এবং উকিলের সাথে আলোচনায় ঠান্ডা মাথায় অংশ নিতে পারেন সেইজন্য দৈনিক ১০০০ ডলারের সমতুল পারিশ্রমিক দিয়ে কাউন্সেলর সুসান ইয়ংকে আনা হয়েছে।

গবেষণায় প্রকাশ, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে সোমবার সকালে। দেখা গেছে সপ্তাহান্তের পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার আগে রক্তচাপ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। অবশ্য আমাদের জীবনের সকল ওঠাপড়ায় ""বস'' সম্প্রদায়ের গুরুত্ব যেরকম ক্রমবর্ধমান, তাতে এই খবরে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নাম ছাপা যাবে না এই শর্তে একজন বিজ্ঞানী বলেছেন, খুব খারাপ বসের পাল্লায় পড়লে প্রতিষেধক হিসেবে প্রত্যেক সোমবার ছুটি নিয়ে নেওয়ার কথা ভেবে দেখতে পারেন।

ডিসেম্বর ৩০, ২০০৭