খবর্নয় (ডিসেম্বর ১৬)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


ভৌতিক রেস্টুরেন্ট
-------------------
অন্ধকার শীতের রাত্রি, একা একা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, মনে মনে ভাবছেন এককাপ গরম চা পেলে হয়তো বেশ ভালো হতো। হঠাৎই সামনে দেখতে পেলেন একটা রেস্টুরেন্ট, একটু ইতস্তত: করে ঢুকেও পরলেন সেখানে। অল্প কিছু আলো, কিছু মোমবাতি জ্বলছে আশে পাশে, এদিক সেদিক ছড়িয়েছিটিয়ে কিছু ছায়া ছায়া মানুষ, আর মেঝের ওপর এদিকসেদিক, ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে কিছু কবর, মানুষের কবর.
নাহ, কোনো নতুন হরর মুভীর গল্প বলছি না, এমনকি কোনো ভুতের গল্প ও লিখতে বসিনি এখানে। সত্যি যদি কোনোদিন এমন অবস্থায় পড়ে যান, তবে মোটেও ভয় পাবেন না। বুঝবেন আপনি এসে গেছেন আহমেদাবাদের 'নিউ লাকি রেস্টুরেন্ট'এ। শুনতে যতই আশ্চর্য লাগুক, এই রেস্টুরেন্টখানি তৈরী হয়েছে একটি কবর খানার ওপরেই। ষোড়শ শতাব্দীর এক সুফী সন্তের পারিবারিক কবরখানা ছিল এখানে। ১৯৫০ সালে এই কবরখানার পাশেই একটি চায়ের দোকান খোলেন দুই বন্ধু, K. H. Mohammed Hhw Krishan Kutti Nairz ক্রমশ সেই চায়ের দোকান বড় হতে থাকে, অবশেষে কবরখানার ওপরেই খোলা হয় রেস্টুরেন্ট।

রেস্টুরেন্টের মধ্যে কবর আছে মোট ৮টা। ক্যাশ রেজিস্টারের সামনে আছে একটা, রান্না ঘরের দেয়ালের পাশে আছে ৩টে, আর রেস্টুরেন্টের মাঝে, বেশ কিছু বসার টেবিলের মাঝে ছড়িয়েছিটিয়ে আছে আরো ৪টে কবর। সবুজ রঙ করা আছে প্রতিটি কবরের ওপর। মহম্মদের মত্যুর পর থেকে কৃষান নায়ার একাই চালান এই রেস্টুরেন্ট। প্রতিদিন প্রতিটা কবরকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখেন কৃষান। এই কবরখানা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক। আর এই কবরখানার টানেই এই রেস্টুরেন্টে বেড়ে চলেছে মানুষের যাতায়াত। আধিভৌতিক পরিবেশে বসে খাওয়া আর আড্ডা চলে এক সাথে।

আহমেদাবাদে গেলে, এক সন্ধে কাটিয়ে আসুন এখানে। এক ঐতিহাসিক কবরখানায়, মৃত মানুষদের পাশে বসে খাওয়ার সময়, খাওয়ার স্বাদটা হয়তো অন্য রকম লাগবে আপনার।

রোবোটিক দাঁত
------------------
দাঁতের ডাক্তার মানেই সবার আগে মনে আসে দাঁত তোলার সেই যন্ত্রণা, আর তার সাথে একগাদা পেনকিলার। দাঁতের ডাক্তার মানেই যেন আতঙ্ক। তবে সেই ভয়ের দিন হয়তো এবারে শেষ হতে চললো। সম্প্রতি টোকিওর নিপ্পন ডেন্টাল ইউনিভারসিটির কোর্সে ঢুকেছে এমন একটি ডেন্টাল ট্রেনিং রোবট, যেটার সাহায্যে ছাত্ররা শিখতে পারবে কি ভাবে যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতে রোগীর দাঁত তোলা যায়। Dr. Naotake Shibui এর চেষ্টায় তৈরি হয়েছে এই নতুন হিউম্যানয়েডটি, নাম রাখা হয়েছে সিমরয়েড বা 'সিমুলেটর হিউম্যানয়েড'।

নিপ্পন ডেন্টাল ইউনিভারসিটির ল্যাবরটরিতে যদি কখনো যান, তাহলে দেখতে পাবেন পিঙ্ক সোয়েটার আর পায়ে হিলতোলা জুতো পরা, এক জাপানী মহিলাকে। কাছ থেকে ভাল করে দেখলে টের পাবেন যে, ঐ মহিলাই আসলে সিমরয়েড। সেজেগুজে, সাদা চাদর গলা থেকে ঝুলিয়ে, দাঁত তোলার জন্য চেয়ারে বসে অপেক্ষা করেন এই মহিলা। এনার মুখের সামনের দিকে বসানো আছে পুরো দাঁতের একটি সেট, সাথে অতি সুক্ষ সব সেন্সর। এই সেন্সর গুলো আটকানো আছে ভিতরের ভারচুয়াল সব নার্ভের সাথে। দাঁত তোলায় সামান্য ভুল বা অনভিজ্ঞ হাতের সামান্য ভুল নড়াচড়া, ব্যাস, যন্ত্রণায় কাতরে উঠবেন এই মহিলা। আর যদি কেউ এতটুকু ব্যথা না দিয়ে দাঁত তুলে দিতে পারে, তাবে তাকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেন না ইনি।

গত সপ্তাহে হয়ে যাওয়া টোকিওর রোবোটিকস কনভেনসানে আমন্ত্রিত ছিলেন Dr. Naotake , সাথে এনেছিলেন সিমরয়েডকে। এক ছোট্ট ডেমনস্ট্রেসানের সময় দেখা গেল যে যন্ত্রণা পেলে একদম সাধারন মানুষের মতনই চেঁচিয়ে ওঠেন এই সিমরয়েড। Dr. Naotake Shibui এবং Kokoro Co এর টেকনিশিয়ান দের আশা যে, এই রোবটের ব্যবহার ক্রমশ বাড়বে অন্যান্য ডেন্টাল কলেজগুলিতেও। আর ছাত্রাবস্থাতেই ডাক্তার রা শিখতে পারবেন যে রোগীকে কত টা বেশী স্বাচ্ছন্দে রেখে, দাঁতের চিকিৎসা করা সম্ভব। আপাতত চেষ্টা চলছে সিমরয়েডের মাড়িতে নতুন কিছু সেন্সর বসানোর, যাতে অ্যানাস্থিসিয়ার প্রভাবটাও যাচাই করা যাবে সরাসরি।


নিষিদ্ধ সাইন্টোলজি
-------------------
গত সপ্তাহের মাঝা মাঝি নাগাদ বার্লিনে, ফেডারেল পার্লামেন্টের এক সন্মেলনে জানা গেলো যে গৃহ মন্ত্রী Wolfgang Schaeuble খুব শীঘ্রই নিষিদ্ধ করতে চলেছেন Scientology কে। সাইন্টোলজি কে সম্পুর্ন ভাবে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে Wolfgang জানান যে, খুব শীঘ্রই domestic intelligence agency এদের ওপর রিপোর্ট তৈরী করবে, আর তার পরেই জার্মানীতে বন্ধ করে দেয়া হবে সাইন্টোলজি সংক্রান্ত সমস্ত কাজকর্ম।

বিখ্যাত কল্প বিজ্ঞান গল্পের লেখক L. Ron Hubbard এর কিছু আদর্শ মাথায় রেখে ১৯৫২ সালে প্রথম সাইন্টোলজির উদ্ভব হয়। তার পরের বছর প্রথম তৈরী হয় Church of Scientology মুলত: Hubbard Hl Be¡ Dianetics এর চিন্তা ভাবনার ওপর ভিত্তি করে জন্ম নেয় এই নতুন ধর্ম। ডাইনেটিকস হলো, শরীর এর সাথে মন বা আত্মার একটি সম্পর্ক। ডাইনেটিকস এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মন বা আত্মার কিছু চিন্তা ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা, যা দিয়ে মানুষ কষ্ট পায়। মনের এই অংশটি হলো re-active mind । কোনো ভাবে এর থেকে মুক্তি যদি মিলে যায়, তাহলে মানুষের জীবন হয়ে উঠবে অনেক সুন্দর। সাইন্টোলজি ধর্মভুক্ত মানুষেরা এই আদর্শটাই নিয়ে চলেন জীবনে। তাঁদের মতে এই ধর্ম হলো সত্যকে খোঁজার ধর্ম। এটা একটা ফলিত দর্শন, যা তাঁদের জীবন কে অনেক বেশী সুন্দর করবে।
তবে এই ধরনের চিন্তা ভাবনায় একদমই প্রভাবিত নয় জার্মানীর রাজনৈতিক মহল। Schaeuble এর মতে, এই ধর্মের বেশ কিছু আদর্শ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। তবে এখনো অব্দি তার যুক্তির স্বপক্ষে কোনো উদাহরণ দিতে পারেননি Wolfgang । আসলে U.S. State Department এর তৈরী মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট গুলোতে জার্মানী থাকে অনেকটাই নীচে। তাই মানবাধিকার সংক্রান্ত কোনো কিছুতেই আর ঝুঁকি নিতে রাজী নন রাজনীতিবিদেরা। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাইন্টোলজির বর্তমান প্রেসিডেন্ট Sabine Weber । প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় তিনি বলেন যে সারা বাইবেল জুড়ে এমন অজস্র কথাবার্তা আছে, যা মানবাধিকারের সম্পুর্ন বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে সবার আগে খৃষ্টধর্মকে নিষিদ্ধ করে দেয়া উচিৎ। সত্যি যদি এই ধর্মকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন জার্মানীর সাইন্টোলজি গ্রুপ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য যে, পৃথিবীর বহু বিখ্যাত ব্যক্তি এবং হলিউডের বহু তারকরা এই ধর্ম মেনে চলেন। এই দলে যেমন আছেন টম ক্রুস, জন ট্রাভোল্টা, জ্যাসন লীর মতন ব্যক্তিরা, তেমনই আছেন জেমস প্যাকারের মতন বিলিওনেয়াররা। এই সমস্ত মহলই কিন্তু সরব হয়েছেন জার্মান সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা হয়তো জেনে যাবো যে এই যুদ্ধে কোন দল শেষ অব্দি জেতে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০০৭