খবর্নয় (অক্টোবর ২৮)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


বিলিতি মৃত্যু
--------------
মৃত্যুর পর যাতে খুব ভাল ভাবে নিজের দেহের সৎকার হয়, তার জন্য এক কালে মিশরের রাজা রা পিরামিড বানাতেন, আমাদের দেশের রাজারা তৈরি করে যেতেন বিশাল সব স্মৃতি স্তম্ভ। আজকাল সে রাজাও নেই, রাজত্ত্বও নেই। তা বলে কি লোকের ইচ্ছে গুলো নষ্ট হয়ে গেছে? নিজের দেহের সৎকার ঠিক কেমন ভাবে হবে সেই ব্যপারে আজকাল কি লোকজনের মনে আর কোনো আগ্রহ নেই? কেউ যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে খুব ভুল ভাবছেন। ব্রিটেনের Age Concern Funeral সম্প্রতি ১০০,০০০ মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে বার করেছেন তাদের ডেথ উইশের একটা লিস্ট।

এমনিতেই ব্রিটিশরা পেট লাভার জাতি হিসেবে বিখ্যাত। পোষ্য প্রাণী প্রেমের সেই নমুনা তাঁরা রেখে যেতে চান মৃত্যুর পরেও। বেশীর ভাগ মানুষ চান, তাঁদের কফিন বন্দী করা হোক পোষ্যপ্রাণীর দাহ করা ছাই এর সাথে। পরলোকেও একই পোষ্যের সাথে থাকার ইচ্ছেটা প্রবল।
এর পরেই লিস্টে আসে মোবাইল ফোন। যে সব মানুষরা বলেন যে আজকাল কার টিন-এজাররা মোবাইল ফোন ছাড়া থাকতে পারে না, তাঁদের কে জানাই যে এক বিশাল সংখ্যাক বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা চেয়েছেন যে, তাঁদের মোবাইলটি যেন তাঁদের কফিনে রাখা থাকে। সত্যি মারা গেছেন কিনা, এই নিয়ে চিন্তাও কম নেই মানুষের। অনেকের ইচ্ছে যে সৎকারের আগে যেন তাঁর শরীর নানা ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়, যে তাতে জীবনের এতটুকু ছোঁয়াও লেগে আছে কিনা আর। এই ধরনের অনেকেই চেয়েছেন যে তাঁদের মৃত্যুর পর যেন তাঁদের মুখের সামনে একটুকরো কাঁচ রেখে দেয়া হয়। কারণ কাঁচে নিশ্বাস নেয়ার ছাপ পড়লে তবে বোঝা যবে জীবনের শেষ আশাটা তখনো বেঁচে।
সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রথম ৮ টা ইচ্ছের লিস্ট মোটামুটি এইরকম:
* পোষ্যপ্রাণীর সাথে এক কফিনে থাকা
* কফিনে মোবাইল ফোনটা রেখে দেয়া
* কফিনে শোয়ানোর আগে খুব ভালভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখা মৃত্যুর ব্যাপারে
* মুখের সামনে আয়না রাখা, যাতে নিশ্বাসের ছাপ সামান্য পড়লেই দেখা যাবে
* কোনো রকম জামা কাপড় ছাড়াই দেহ সৎকার
* নিজের বাড়ির বাগানে সৎকার কাজ চালানো
* কফিনে সমস্ত কটা বাঁধানো দাঁত রেখে দেয়া
* সমস্ত সেভিংস নিয়ে কফিনে শুয়ে থাকা।

ওবেসিটি অ্যালার্ম
---------------
স্কুলে দুপুর বেলা টিফিন না খেলে, টিফিন ফেলে ছড়িয়ে নষ্ট করলে আগে বাড়িতে চিঠি যেত, কিন্তু এখন দিনকাল একদম পাল্টে গেছে। আজকাল টিফিনের সময় বেশী খেলে বাড়িতে চিঠি যায় অভিভাবক দের কাছে। শুনতে খুব অদ্ভুত লাগলেও, ঠিক এমনটাই হতে চলেছে ব্রিটেনের স্কুল গুলোতে। মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যেস দেখতে পেলেই ক্লাসটীচার চিঠি পাঠাবেন বাড়িতে। নজর রাখতে বলবেন বাচ্চাটির প্রতিদিনের খাবারের ওপর। শিশুদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা ওবেসিটি সমস্যার সমাধানের রাস্তা হিসেবে এই নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সেক্রেটারী Alan Johnson ।

বছর দুই আগেই ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের স্কুলগুলো তে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার ফলাফল দেখে আতঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল। ২৫% এরও বেশী শিশুরা এই মুহুর্তে ওভার ওয়েট। আর ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে যে সব বাচ্চারা এখনো ওভারওয়েট, তাদের ৮০% ভবিষ্যতেও একই রকম থেকে যাবে, বলে ধারণা চিকিৎসক দের। আর এই ভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ ব্রিটেনের ৫০% এর ও বেশী মানুষ হবেন ওভারওয়েট। এই ওভারওয়েট মানুষদের জন্য অতিরিক্ত খরচ দাড়াবে প্রায় ৪৫ বিলিয়ান পাউন্ড। অন্য একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে যে ২০৫০ নাগাদ অবস্থার আরো খারাপ হতে পারে। পুরুষদের মধ্যে ৯০% এবং মহিলাদের মধ্যে ৮৫% হয়ে থাকবেন ওভার ওয়েট। অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়ে যাবে প্রচন্ড।

তাই আপাতত এই ধরনের সমস্যা আটকানোর জন্য স্কুল লেভেলে নজরদারীর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। ওপরমহলের ধারনা যে ২০১০ সালের মধ্যে আশানুরূপ ফল হয়তো পাওয়া যাবে। শিশুদের খাদ্যাভাসেও কিছু পরিবর্তন আনা যাবে হয়তো।
কোনো দেশে মিড ডে মিলের লোভ দেখিয়ে ক্লাসে ছাত্র নিয়ে আসা হয়, আর কোথাও মিড ডে লাঞ্চকে বাদ দেয়া হয় ছাত্রদের বাঁচাতে! সত্যিই বড় বিচিত্র এই পৃথিবী।

সমকামী শিক্ষক
---------------
হ্যারী পটার গল্পের সেই হগওয়ার্ট স্কুলের হেডমাস্টার ডাম্বেলডোরের কথা মনে আছে তো সবার? হ্যারী পটার কে নিয়ে যেমন ফ্যানেদের চিন্তা ভাবনা, উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই, তেমন ডাম্বেলডোরকে নিয়েও ফ্যানেদের মধ্যে রয়ে গেছে অনেক জল্পনা কল্পনা। তার মধ্যে একটা বড় ধোঁয়াশা ছিল ওনার কৈশোর আর যৌবনের ঘটনা নিয়ে। এক রহস্যময় অতীত আছে ডাম্বেলডোরের, যার কথা স্পষ্টভাবে কেউ জানে না। তার ওপর কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই, কোনো মহিলার প্রতি পুরনো প্রেম নেই, কোনো মহিলার ওপর নতুন করে আকর্ষণও নেই। তবে কি হগওয়ার্টের হেড মাষ্টার সমকামী ছিলেন?

নিউ ইয়র্কে কার্নেগী হলের এক সন্মেলনে লেখিকা রাউলিংএর দিকে ঠিক এই প্রশ্নটাই ছুঁড়ে দেন একজন ফ্যান। মুচকি হেসে লেখিকা জানান যে, হ্যাঁ, ডাম্বেলডোর একজন সমকামী। বহু যুগ আগে, সাদা এবং কালো যাদুর লড়াই এর সময় ডাম্বেল্ডোরের হাতে পরাজিত হওয়া Gellert Grindelwald ই আসলে ডাম্বেলডোরের প্রথম এবং শেষ প্রেম। ডাম্বেলডোরের প্রেম একটা প্রচন্ড ট্র্যাজিক ঘটনা ওনার জীবনে। এই ঘটনাই ডাম্বেলডোরের জীবনে অনেক পরিবর্তন আনে। এমনকি এক টা সময়ে ডাম্বেলডোরের দিকে আকর্ষিত হয়েছিল একটি মেয়ে, কিন্তু সেটা পুরো বিফলে যায়।

আপাতত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখিকা হলেও রাউলিং এর বিরোধী দের সংখ্যাও কিছু কম নয়। উইচ ক্র্যাফটকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলে, বহুদিন থেকেই গোঁড়া ক্যাথলিক মহল রাউলিং এর ওপর খড়গহস্ত। তার সাথে এখন জুড়ে গেলো হগওয়ার্টের সমকামী হেড মাস্টার। দেখা যাক বিভিন্ন মহল থেকে কি রকম প্রতিক্রিয়া আসে।

অক্টোবর ২৮, ২০০৭