খবর্নয় (অক্টোবর ২১)


লিখছেন দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


পরিবেশ রক্ষায় খরগোশ ও গাছ
--------------------------
সেই কবে সুকুমার রায় বানিয়ে গেছিলেন বকচ্ছপ, হাসজারু থেকে হিজিবিজিবিজ এর মতন অদ্ভুত সব মিউট্যান্ট। তারপর সুদুর আমাজন থেকে ভলগা, গঙ্গা পেরিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে, বাঘ সিংহ থেকে শুরু করে ইঁদুর, বাঁদর সব কিছুর সংকর তৈরি হয়েছে, বিজ্ঞান থেকে কল্প বিজ্ঞান সব দিকে ছরিয়ে গেছে মিউট্যান্টরা। কিন্তু এতদিন আমরা শুধু দেখে এসেছি উদ্ভিদ বা প্রানীর জিনের মিউটেশান, কিন্তু উদ্ভিদ আর প্রানীর জিনের সংকরায়ণ কি সম্ভব?

সেই প্রায় অসম্ভব কাজ কে সম্ভব করেছেন University of Washington এর একদল বিজ্ঞানী। পপলার গাছের জিনের সাথে মিশ্রন ঘটিয়েছেন খরগোশের জিনের, তৈরি করেছেন পপলারের গাছের একটি নতুন প্রজাতি। শুধু তাই নয়, এই নতুন পপলার গাছের প্রজাতিটি হয়ে উঠেছে পরিবেশ বন্ধু, অনেক বেশী রকম পরিবেশ বন্ধু অন্যান্য গাছের থেকে। এই নতুন পপলার গাছ অনেক বেশী মাত্রায় বিষাক্ত রাসায়নিক শোষন করতে পারে পরিবেশ থেকে। একটা ছোট্ট হিসেব দিলেই বোঝা যাবে এই নতুন পরিবেশ বন্ধু গাছটির ক্ষমতা। অন্যান্য গাছের থেকে ৫৩ গুণ বেশী মাত্রায় TCE শোষন করতে পারে এই গাছ। বেঞ্জিন শোষন ক্ষমতায় ১০ গুন ওপরে আছে এই পপলার, আর ক্লোরোফর্মের ক্ষেত্রে সেই মাত্রা টা নয় গুণ। বিশেষজ্ঞদের আশা যে এই গাছ ভবিষ্যতে মিলিয়ন গ্যলন জল পরিষোধনের খরচ বাঁচিয়ে দেবে, বাঁচিয়ে দেবে টন টন মাটি কাটার ও খরচ।

তবে এখনো বাকি আছে অনেক কাজ। সবার আগে প্রশ্ন উঠেছে যে এই মিউট্যান্ট উদ্ভিদ পরিবেশে বসালে তার অন্য কোনো খারাপ প্রভাব পরতে পারে কিনা। এদের বংশ বিস্তার হার যদি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে সাধারণ পপলারদের বংশ বৃদ্ধি তে সমস্যা হবে কিনা। সর্বোপরি সাধারণ পপলার রা ক্রমশ দুÖপ্রাপ্য হয়ে উঠবে কিনা। এছারাও সর্বস্তরে মিউটেশানের যে বিরোধীতা চলছে, সেই সব প্রশ্নের মুখেও পড়তে হচ্ছে বিজ্ঞানী দের। এমন কি এর মধ্যে একবার আক্রমণ ঘটেছিল eco-terrorist দের, যারা জ্বালিয়ে দিয়েছিল ল্যাবরেটরি, ক্ষতি হয়েছিল প্রচুর। আপাতত সেই সব বাধা পেরিয়ে, নিজেদের উদ্দেশ্যের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা। কনট্রোল্ড এনভায়রনমেন্তের বাইরে কি ভাবে এই গাছ কাজ করবে, তাই নিয়ে চলছে শেষ সময়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা। এরপরের কাজ থাকবে গাছের বংশবৃদ্ধি জনিত প্রশ্নগুলোকে নিয়ে। এরপরে থাকবে শুধু U.S. Department of Agriculture এর অনুমতির অপেক্ষা। বিজ্ঞানীদের আশা আগামী বছর পাঁচেকের মধ্যেই তাঁরা পারবেন সব বাধা অতিক্রম করে, পরিবেশের জন্য এই নতুন উপহারকে বাজারে নিয়ে আসতে।

দ্বিতীয় পৃথিবী
---------------
বহুকাল ধরেই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কোনো দোসর খুঁজে বার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এতদিনে হয়তো সাফল্যের মুখ দেখা গেলো। সম্প্রতি European Southern Observatory র বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন একটি গ্রহকে, যার তাপমাত্রা এবং ভুপ্রকৃতি অনেকটা পৃথিবীর মতন। এই 'দ্বিতীয় পৃথিবী' আপাতত আলোড়ন ফেলেছে বিজ্ঞানী মহলে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, জল থাকার মতন পরিবেশ রয়েছে এই গ্রহে। সুর্যেরই এক প্রতিবেশী, এক লাল বামন নক্ষত্র, Gliese ৫৮১ এর চারপাশে ঘুরে চলেছে এই গ্রহ। গ্রহ টি আমাদের পৃথিবীর থেকে ১.৫ গুণ বড়। কিন্তু এর বার্ষিক গতি শেষ হয় অনেক কম দিনে। মাত্র ১৪ দিনে গ্রহ টি, তার সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করে নেয়। কিন্তু যেহেতু Gliese ৫৮১ তাপমাত্রা আমাদের সূর্যের থেকে প্রায় অর্ধেক (মাত্র 3000C ), তাই নক্ষত্রের এত কাছে থাকা সত্ত্বেও গ্রহটির গড় তাপমাত্রা পৃথিবীর মতন। মোটামুটি শুন্য থেকে চল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে নড়া চড়া করে এই তাপমাত্রা। বছর দু আগে এই Gliese ৫৮১ নক্ষত্রের আশে পাশেই নেপচুনের মতন আকারের একটি গ্রহকে খুঁজে পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। সেই গ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এই নতুন আবিষ্কার ওনাদের। নক্ষত্রটির নামে, নতুন এই গ্রহের নাম রাখা হয়েছে Gliese 581c । Geneva Observatory বিশেষজ্ঞদের মতে এই গ্রহে প্রাণের উপস্থিতি অসম্ভব ব্যপার নয়। হয়তো এখানেই কোনোদিন আমরা পেয়ে যাব আমাদের কোনো প্রতিবেশীর সন্ধান।

মহাকাশে ভার্জিন
-----------------
প্রখ্যাত ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসনের Virgin Group এর দাবী যে আগামী বছর থেকেই তাঁরা শুরু করতে চলেছেন তাঁদের কমার্শিয়াল স্পেস ক্রাফট। সম্প্রতি, দুবাই থেকে ভার্জিন এয়ারলাইন্সের উড়ান উদ্বোধন করতে গিয়ে এই কথা নিজের মুখে জানান রিচার্ড ব্র্যানসন। যদিও, এর আগে বেশ কিছু কম্পানি স্পেস ট্রাভেল শুরু করেছিল, কিন্তু ব্র্যানসনের মতে এই প্রথম নিজেদের তৈরি স্পেস ক্র্যাফটে, নিয়মিত উড়ান চালাবে কোনো বিমান কোম্পানী।

ভার্জিন এয়ারলাইন্স তাদের এই উড়ানের জন্য যে স্পেস ক্র্যাফট ব্যবহার করবে সেটি Space Ship One এর মডেল, যা ২০০৪ এ Ansari X প্রাইজ জেতে। এই স্পেস ক্র্যাফটটি প্রথমে লাগানো থাকবে একটি বড় বিমানের সাথে। টেকঅফের পরে, প্রায় ৫০,০০০ ফুট ওপরে গিয়ে বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এই মহাকাশ যানটি। তারপর প্রায় ৪০০০ মাইল প্রতি ঘন্টা গতিবেগে উড়ে, Sub Orbital Space এ প্রবেশ করবে এই মহাকাশ যান। সেখানে থাকার সময় হলো ১৫ মিনিট। এই সময়ে মিনিট পাঁচেকের জন্য সীট বেল্ট খুলে নিজেদের ভারহীনতা অনুভব করতে পারবেন যাত্রী রা। মহাকাশ থেকে দেখতে পাবেন নিজের গ্রহ কে।

ইচ্ছুক ব্যক্তি দের জন্য জানাই যে, এই উড়ানের জন্য খরচ পরবে মাত্র ২০০,০০০ ডলার। ব্র্যানসন জানান যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জন যাত্রী রিসার্ভ করে ফেলেছেন নিজেদের সীট। প্রায় ১৩.১ মিলিয়ন ডলার এসেছে তাঁদের কাছ থেকে। প্রায় ৪৫,০০০ মানুষ উৎসাহ দেখিয়েছেন এই ট্রীপের ব্যপারে। ভার্জিন এয়ারলাইন্সের আশা যে প্রথম ১০ বছরে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ কে মহাকাশে পৌঁছে দিতে পারবেন তাঁরা।

অক্টোবর ২১, ২০০৭