খবর্দার (অক্টোবর ৭)


লিখছেন --- মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


স্পুটনিকের হাফ সেঞ্চুরি

ছোটবেলায় কুইজের বইতে পড়া মানুষের তৈরী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির কথা মনে পড়ে? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। স্পুটনিকের কথা বলছি। গত চৌঠা অক্টোবর ছিলো সেই স্পুটনিকের জন্মদিন। আমরা জানি, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে, ১৯৫৭ সালের অক্টোবর মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে উৎক্ষিপ্ত হয় এই কৃত্রিম উপগ্রহটি। ১৮৪ পাউন্ড ওজনের এই ধাতব গোলকটির সফল উৎক্ষেপণের সাথে সাথেই সূচনা হয়েছিলো এক নতুন যুগের। এর পরেই মহাকাশে একের পর এক নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো হতে থাকে, এবং প্রতিটি সফল উৎক্ষেপণ খুলে দিতে থাকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সেই সাথে পাল্টাতে থাকে মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ। উপগ্রহনির্ভর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি একদিকে যেমন দুহাত ভরে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, পৃথিবীকে এনে দিয়েছে ঘরের মধ্যে, তেমনি আবার দিয়েছে অন্তহীন নি:সঙ্গতা। অসংখ্য টিভি চ্যানেল আর ইন্টারনেটের সৌজন্যে আমরা আজ একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত। আমাদের বিনোদন থেকে কেনাবেচা, পড়াশুনো থেকে আড্ডা সবকিছুই আজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপগ্রহনির্ভর। নবলব্ধ এই প্রযুক্তির উপর আমরা যে কতখানি নির্ভরশীল তা টের পাওয়া গিয়েছিলো সেই ১৯৯৮ সালের মে মাসেই। যেদিন যান্ত্রিক ত্রুটিতে মাত্র একটা স্যাটেলাইট গোলমাল করায় আমেরিকার তিরিশ লাখ পেজার স্তব্ধ হয়ে যান, ক্রেডিট কার্ডের সমস্ত কাজকর্ম পন্ড হয়, ন্যাশনাল পাব্লিক রেডিও এবং সি এন এনের এয়ারপোর্ট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপর থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম বিপর্যয় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, চরম মূহুর্তে এক বা একাধিক উপগ্রহ কাজ না করলে কি হয়।
এটা তো গেল সাধারণ ব্যবহারিক দিক। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি আর তথ্য যত নিখুঁত হয়েছে, ততই উন্নত হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে আবার হারিয়ে গেছে আমাদের নিজস্ব আড়ালটুকু।
আজ উপগ্রহের দৌলতে সহজেই আমার আপনার ঘরে উঁকি দিয়ে যেতে পারে যে কেউ, যদি উপযুক্ত প্রযুক্তি তার হাতে থাকে। এই প্রক্রিয়ারই আন্তর্জাতিক রূপ সদ্য দেখা গেল মায়ানমারের ঘটনায়। কখনো এই আড়ালহীনতা বিশ্বশান্তির পক্ষে কাজ করছে, মানবাধিকার রক্ষার্থে কাজে লাগছে , কখনো বা সন্ত্রাসবাদীর হাত শক্ত করছে, সাম্রাজ্যবাদীর ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একের পর এক উপগ্রহ দিয়ে মহাকাশ ছেয়ে ফেলার পরেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস কমে নি। মাত্রাহীন নজরদারী যেমন একদিকে জিপিএসের আশীর্বাদ হয়ে পথভ্রষ্টকে ঘরে ফিরিয়ে আনছে, তেমনি আবার সময়বিশেষে কেড়ে নিচ্ছে হারিয়ে যাওয়ার অধিকারটুকুও। সুতরাং, একসময় শুধুই নানারকম সুবিধের কথা ভেবে বানানো হলেও, স্পুটনিকের শুরু করা পথ আজ বহুবিভক্ত। সাদায় কালোতে কাটাকুটি খেলতে খেলতে এই পথে সভ্যতা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, তার ওপরেই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যত। একদিন যে দেশ থেকে স্পুটনিক ডানা মেলেছিলো, পৃথিবীর মানচিত্র থেকে তারা মুছে গেছে। ইতিহাসের এই ইঙ্গিত যেন আমরা বুঝতে পারি, এটুকুই আশা।

আলিঙ্গন নট অ্যালাউড

শিকাগোর পার্সি জুলিয়ান মিডল স্কুলের প্রিন্সিপাল ভিক্টোরিয়া শার্টস বিদ্যালয় চত্বরে আলিঙ্গন নিষিদ্ধ করে খবরের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন। এই স্কুলের ৮৬০ জন ছাত্রছাত্রীর কাউকে স্কুল বিল্ডিং এর মধ্যে কোথাও আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেলেই শাস্তি হবে, এরকম এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরষ্পরকে দেখামাত্রই জড়িয়ে ধরে প্রীতিজ্ঞাপনের এই অভ্যাসের ফলে স্কুলের সর্বত্র প্রচন্ড বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে, এবং এতে নাকি ছেলেমেয়েদের ক্লাসে পৌঁছোতেও দেরী হয়ে যাচ্ছে। ""কোন কোন আলিঙ্গন একটু বেশিই দীর্ঘস্থায়ী ও নিবিড় হয়, যা আমার কাছে অত্যন্ত আপত্তিকর লেগেছে "" জানিয়েছেন সাবধানী দিদিমণি। এইসব অকাট্য যুক্তিতেও মাছটা পুরো ঢাকা যাবেনা বুঝতে পেরে শ্রীমতি শার্টস এর সাথে নিরাপত্তার শাকভাজা চাপিয়েছেন। এই খবরে আবার একবার প্রমাণিত হল, বাঙালী গতকাল যা ভেবেছিলো, ভারত সেটা আজ ভাবছে, আর আম্রিকা সেটাই এক সপ্তাহ পরে উপলব্ধি করবে।

রূপকথার জন্ম

মেলোডি ক্লোস্কা আর ম্যাট বার্স এর বিয়ে হল। বিয়ের পর একটা মুখবন্ধ প্লাস্টিকের বোতলে বিয়ের খবর দিয়ে চিঠি লিখে লেক মিশিগানে ভাসিয়ে দিলেন নবদম্পতি। ভাসতে ভাসতে সেই বোতল গিয়ে পড়লো ফ্রেড আর লিনেট ডুবেনডর্ফের হাতে, আঠাশ বছর আগে যাঁরা ঠিক ঐ তারিখেই, একই জায়গায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের পরে তাঁরাও নাকি বোতলে করে চিঠি লিখে ভাসিয়েছিলেন লেকের জলে। আমাদের জানার খুব ইচ্ছে ছিলো যে বিয়ের সময়, অতিথির সংখ্যা বা বিয়ের দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতা আঠাশ বছর আগে পরে মিলে গেছিলো কিনা, কিন্তু মেলোডি আর ম্যাট এসব গোপনীয় কথা বলতে অস্বীকার করেছেন।

টুকরো খবর

চেক প্রজাতন্ত্রের একটি বিশেষ পানশালায় এক দম্পতির নিত্য যাওয়া আসা। একদিন তাঁরা সদ্যোজাত মেয়েকে নিয়ে গেলেন সেখানে, ইচ্ছে, ইয়ারবন্ধুদের চমকে দেবেন। বন্ধুরা কিন্তু খুকিকে দেখেই সন্দেহ প্রকাশ করলো, যে কেস জন্ডিস। বাবা-মা দুজনেরই চুল কালো, মেয়েটি ব্লন্ড। দশচক্রে ভগবানও ভূত হয়। তাই প্রচন্ড ঘেঁটে গিয়ে দম্পতি বাচ্চাটির ডি এন এ টেÙট করালেন। আর জানা গেল,
দুজনের কারুর সাথেই মিল নেই মেয়েটির ডি এন এর। হাসপাতালের সৌজন্যেই এই বিভ্রাট, সন্দেহ নেই। তদন্ত চলছে।

জাপানে বিবাহবিচ্ছেদের সুবিধার্থে বিশেষ সুলভ ঋণ চালু হল, নাম দেওয়া হয়েছে ""রি"" অর্থাৎ কিনা ""নিজের জীবন রিস্টার্ট করুন""। আপাতত ৫ লক্ষ ইয়েন অবধি ঋণ পাওয়া যাবে। বিচ্ছেদের যাবতীয় খরচ খরচা মেটাতে গিয়ে যাতে জনগণ দেউলিয়া না হয়ে যান, তাই এই ব্যবস্থা। কম সুদে টাকা ধার দিচ্ছে মধ্য জাপানের ওগাকি কিওরিসু ব্যাঙ্ক, যার মুখপাত্র ইওশিমি আওকি সংবাদসংস্থার কাছে দাবী করেছেন, এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদের হার একটুও বাড়বে না। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ইতিমধ্যেই জোরালো দাবী জানিয়েছেন এই ঋণ পরিসেবা চালু করার জন্য। আমাদের আশা, ভারতেও একদিন আসবে সেই সুখের সময়। তখন নিশ্‌চই বাংলা থেকে ধার করে সেই স্কিমের নাম দেওয়া হবে ""ঋ-প্রকল্প""।

অক্টোবর ৭, ২০০৭