খবর্দার (সেপ্টেম্বর ১৬)


লিখছেন মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


আজকাল প্রায়ই সিরিয়াল কিলারেরা খবর হয়। ""মানুষ মারার ১০১ সহজ উপায়"" নামে বই লেখা না হলেও, সহস্র সহজ এবং কঠিন পদ্ধতি আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। এইসব হত্যাকাহিনীতে শুধু যে পদ্ধতিগত নতুনত্ব থাকে তাই নয়, খুন করার নিত্যনতুন কারণও আমরা শুনে থাকি। জানতে পারি, কিভাবে সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে, মানসিক জটিলতা আর বিকৃতিও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। এইরকমই আরো একটি তদন্তের কাজ শেষ হল সম্প্রতি। অকুস্থল রাশিয়ার মস্কো। সেখানে জনৈক আলেক্সান্দার পিশকিন মাত্র ৩৩ বছর বয়েসেই ৬২টি খুন করে ফেলেছেন। এবং এর প্রত্যেকটি হত্যাই ঘাতকের আজব ও অসুস্থ খেয়ালের ফসল। দাবা খেলতে খেলতে একদিন আলেক্সান্দারের খেয়াল হয়, কেমন হত যদি দাবার ছকের ৬৪টি ঘরের প্রত্যেকটি কোন না কোন ব্যক্তির নামে উৎসর্গ করে দেওয়া যেত? যেমন ভাবা তেমনি কাজ। অনতিবিলম্বেই সে মদ্যপ ব্যক্তিদের পানীয়ের লোভ দেখিয়ে একটি নির্জন পার্কে নিয়ে এসে একে একে খতম করতে শুরু করে। কখনো ভারি অস্ত্র দিয়ে থেঁতলে, কখনো জলনিকাশের ভুগর্ভস্থ নর্দমায় ঠেলে ফেলে দিয়ে সে তার লক্ষ্যপূরণের দিকে এগোতে থাকে। ২০০৬ সালে যখন সে পুলিশের জালে ধরা পড়ে, তখন তার লক্ষ্যে পৌঁছতে মাত্র দুটো ঘর বাকি ছিলো।
২০০১ সাল থেকে ঘটতে থাকা একের পর এক নিখুঁত খুনের ঘটনায় পুলিশ যখন একরকম হাল ছেড়ে দিয়েছে, তখনই আশির্বাদের মত তাদের হাতে এসে যায় একটি ছোট চিরকুট, যেখানে আলেক্সান্দারের নাম আর ঠিকানা পাওয়া যায়। পরে, একটি সাবওয়ের লুকোন ক্যামেরার ফুটেজে আলেক্সান্দারকে জনৈক নিখোঁজ ব্যক্তির সাথে দেখে পুলিশ আরো সন্দিহান হয়ে পড়ে। অবশ্য গ্রেপ্তার হওয়ার পরে আলেক্সান্দার নিজে থেকেই সমস্ত বলে দিয়েছে। তার এতটুকুও মনস্তাপ নেই, বরং ""দু:খী"" মানুষকে ""নতুন পৃথিবীর"" সন্ধান দিয়ে সে ভয়ানক আনন্দ পেত বলে জানিয়েছে। ক্রমশ জানা গেছে, অনেক আগে, সেই ১৯৯২ সালেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে সে নিজের এক সহপাঠীকে খুন করেও প্রমাণের অভাবে রেহাই পেয়ে যায়।
আপাতত সবাই বিচারের দিনটির দিকে তাকিয়ে, যদিও এটা জানাই যে আলেক্সান্দারকে শাস্তি দেওয়া খুব কঠিন। প্রতিশোধস্পৃহা থাকুক আর না থাকুক, ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা তার বিরুদ্ধে, যেভাবেই দেখুন না কেন, আলেক্সান্দারকে শাস্তি দিতে বসে আবার বিচারব্যবস্থা নিজেকে অসহায় প্রমাণিত করবে।

এক কিলোগ্রাম =/= এক কিলোগ্রাম

শিরোনাম দেখে ঘাবড়াবেন না। সত্যি-ই এক কিলোগ্রাম আর আগের মত নেই। বরং আচমকাই কিছুটা ""মেদ"" ঝরিয়ে সে পৃথিবীর তাবড় বিজ্ঞানীদের ঘোল খাইয়ে দিচ্ছে। এখনো বোঝা যাচ্ছে না? বেশ, তাহলে গোড়া থেকেই শুনুন। আমরা সবাই জানি পরিমাপের এককগুলোর একটা করে নির্দিষ্ট মান ঠিক করে সেগুলো প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারস এ রেখে দেওয়া থাকে। দৈর্ঘ্য এবং ভরের একক হিসেবে মিটার এবং কিলোগ্রামের প্রামাণিক বস্তুগুলিও সেখানেই রাখা (যদিও বর্তমানে দৈর্ঘ্যের একক আলোর গতিবেগ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা হয় বলে দৈর্ঘ্যের এককের জন্য নির্দিষ্ট বস্তুটি গুরুত্ব হারিয়েছে)। এখন, কিলোগ্রামের জন্য নির্দিষ্ট বস্তুটি হল একটি লম্ব বৃত্তাকার চোঙ (রাইট সারকুলার সিলিন্ডার)। ১৮৮৯ সালে তৈরী হওয়া প্লাটিনাম-ইরিডিয়ামের সংকর ধাতুনির্মিত এই চোঙটি দৈর্ঘ্যেএবং ব্যাসে দেড় ইঞ্চির কিছু বেশি, এবং এর ভরকে ১ কিলোগ্রাম ধরে আমরা মাপজোক করি। রোজকার দোকান-বাজার থেকে অত্যাধুনিক গবেষণার হিসেবে যেখানেই ভরের একক ব্যবহার হয়, সেখানেই এক কিলোগ্রামের কোন না কোন ভগ্নাংশ ধরে কাজ করা হয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এহেন বস্তুটির ভরের সামান্য হেরফেরে প্রলয় বেঁধে যেতে পারে। আর ঠিক সেটাই হয়েছে, যখন পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে চোঙটির ভর এখন আগের থেকে ৫০ মাইক্রোগ্রাম কম। বোঝাই যাচ্ছে, এই রকমফের বড় স্কেলে কোন পার্থক্য আনবে না, তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের এখনই চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু ১১৮ বছরের পুরোনো এই চোঙটিকে যথেষ্ট সাবধানে রেখে দেওয়া সত্ত্বেও কেন তার ভর ক্রমাগত কমতেই থাকছে? একই ঘটনা ঘটছে ঐ চোঙটির রেপ্লিকাগুলির ক্ষেত্রেও, যাদের প্রতিবছর পাঠানো হয়েছিলো বিভিন্ন দেশে। ঠিক কেন এই ভর হ্র ।স ? এখনো কোন সদুত্তর মেলেনি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। আগামী নভেম্বরে এই বিষয়ে জমায়েত হবেন বিজ্ঞানীরা, সেখানে আলোচনা হবে দৈর্ঘ্য এবং সময়ের মত ভরের-ও কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিমাপ পদ্ধতি ঠিক করে দেওয়া যায় কিনা। প্রস্তাব করা হবে হয়ত সিলিকন এর কোন আইসোটোপের কথা, যা আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আমাদের চারপাশের হাই-টেক পরিবেশ কত দ্রুত পরিবর্তনশীল, এই ঘটনা সেকথাও মনে করিয়ে দেয়। আজ এই শতাব্দীপ্রাচীন বস্তুটিকে প্রচন্ড সেকেলে এবং ভুলে ভরা লাগছে সবার, কিন্তু একটা সময় এটাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উদাহরণ ছিলো।

টুকরো খবর

সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেল নিয়ান্ডারথাল মানবজাতি নিয়ম করে দাঁতের যত্ন নিত। স্পেনে পাওয়া কিছু দেহাবশেষ থেকে বিজ্ঞানীরা এমন তথ্য পেয়েছেন। হায়না, ভালুক এবং হরিণের ফসিলের সাথে মানুষের দুটি দাঁত পাওয়া গেছে মাদ্রিদের কাছে আর্কিওলজিকাল সাইট থেকে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের ঐ দাঁতে পরিচর্যার সমস্ত চিহ্নই বর্তমান। বোঝাই যাচ্ছে, তারা দাঁত থাকতে থাকতেই দাঁতের মর্যাদা বুঝে গিয়েছিলো।

শুধু নিজে সুস্থ থাকার জন্যই না, গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকাতেও রেড মিট খাওয়া কমানো দরকার-- বলছেন অস্ট্রেলিয়া এবং কেমব্রিজের বিজ্ঞানীরা। বেশি বেশি পশুপালনের জন্য বাতাসে মিথেনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর অন্যতম কারণ। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহুর্তে পৃথিবীর মানুষ গড়ে দিনে ১০০ গ্রাম করে মাংস খান। তবে, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন পরিমাণের মধ্যে বিশাল ব্যবধান, একটি আরেকটির ১০ গুণ। এই পরিমাণ যদি অন্তত ১০% কমানো যায় তবে পরিবেশ নিয়ে চিন্তা নাকি অনেকটাই কমবে।

মনে পড়ে ""জয় বাবা ফেলুনাথ""এর সেই টু-লাইনার: ""আজব জিনিস বটে, চিবোলেই চটচটে""? চিউয়িং গামকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা জনতার জন্য দু:সংবাদ, শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে নতুন ধরণের গাম, যা মোটেও আঠালো হয়ে লেপ্টে থাকবে না। ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের পলিমার সায়েন্সের গবেষকরা এখবর জানিয়ে বলেছেন, সিন্থেটিক ল্যাটেক্স থেকে তৈরী আজকালকার চিউয়িং গামের সাথে বিশেষ একটি পলিমার মিশিয়ে তৈরী হয়ে গেছে আগামীদিনের আঠাহীন গাম। বাজারে এসে যাবে ২০০৮ নাগাদ। খুবই সাধু উদ্যোগ, তবে খুশির সাথে একটুখানি ""গাম"" ও জড়িয়ে আছে। ফেলু মিত্তিরের অমন জব্বর হেঁয়ালিটা ব্যাকডেটেড হয়ে যাবে,বড়ই আপশোষের কথা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০০৭