খবর্দার (সেপ্টেম্বর ৯)


লিখছেন-মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


নতুন প্রোজেক্ট : " Beyond Einstein '

সৃষ্টিতত্ত্বে ডার্ক এনার্জির গুরুত্ব অপরিসীম। মহাবিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে থাকা রহস্যময় এই ফোর্স প্যারামিটার স্পেস-টাইমের প্রসারণের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আইনস্টাইনের এক গবেষণায় প্রথম এই ধারণার প্রচলন হয়, এবং প্রাথমিকভাবে পরিত্যক্ত হলেও ১৯৯০ সালে এর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে NASA র একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করছে, নাম দেওয়া হয়েছে Joint Dark Energy Mission (JDEM) । এরকম আরো একগুচ্ছ কর্মসূচী নিয়ে শুরু হতে চলেছে বিয়ন্ড আইনস্টাইন প্রোগ্রাম, যেখানে ঐ কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর ভাবনায় ভর করে আমাদের জানাশোনার জগৎকে আরো প্রসারিত করা যাবে। এর মধ্যে আছে কনস্টেলেশান এক্স এবং লেসার ইন্টারফেরোমিটার স্পেস অ্যান্টেনা (সংক্ষেপে লিসা), যা এক্স রে ডিটেকশানের মাধ্যমে প্রকল্পিত ""গ্র্যাভিটি ওয়েভ"" এর অস্তিত্ব অনুসন্ধান করবে এবং ব্ল্যাক হোল ফাইন্ডার প্রোব ( BHFP ) । গ্র্যাভিটি ওয়েভ খায় না মাথায় মাখে সেটা জানার জন্য ছোট্ট করে সংজ্ঞাটা শুনে নেওয়া যাক। আমাদের বহু পরিচিত স্পেস এবং টাইম ( অর্থাৎ যে দুটি প্যারামিটার এই মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান নির্দেশ করে) বিপুল পরিমাণ ভরবিশিষ্ট কোন বস্তুর কাছে এলে আর সহজ সরল না থেকে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। অনেকটা জলে ভারি পাথর পড়লে তীরে যেমন ঢেউ আছড়ে পড়ে, সেরকম। স্পেস-টাইমের এই ""ঢেউ""কেই গ্র্যাভিটি ওয়েভ বলে। ""লিসা"" এই গ্র্যাভিটি ওয়েভ নিয়ে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিজ্ঞানীদের হাতে প্রচুর তথ্য এনে দেবে বলে ভাবা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, অবধারিতভাবেই আরো কিছু মহাকাশ অভিযান হবে। যেহেতু অর্থনৈতিক ভাবনা তেমন নেই, তাই একমাত্র চিন্তা ছিলো মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা। আশা করাই যায়, নিকট অতীতের বিপর্যয় মনে রেখে মহাকাশ অভিযানের ব্যাপারে ""নাসা"" আগের থেকে অনেক সতর্ক হবে।

আবার সে এসেছে ফিরিয়া

বছর বছর যেমন নিয়ম করে ঢাকঢোল পিটিয়ে নামী প্রোডাকশান হাউসের ছবি আসে বাজারে, অনেকটা সেই কায়দায় ওসামা বিন লাদেনের ""নতুন"" ভিডিও প্রকাশিত হবে আর কদিনের মধ্যেই। ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে মনে রেখে এই ভিডিও প্রকাশ করে কাটা ঘায়ে নুন ছেটানোর উল্লাস, আল কায়দা প্রধানের তিন বছরের আপাত অজ্ঞাতবাস, অজস্র গুজব এবং তার থেকেও বেশি আতঙ্ক মিলে অনতিবিলম্বেই এটি একটি ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। যথারীতি সাদা বাড়ি থেকেও সুচিন্তিত মতামত জ্ঞাপন করা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে লাদেনের জুজু দেখিয়ে একটু আধটু রাজনীতি, তাও চলছে রমরমিয়ে। মোটকথা, শীতকালে যেমন মেলার সিজিন আসে, বিশ্বকাপ জ্বরের সিজিন, শাহরুখ-বিগবি সিজিন থাকে নিয়ম মেনে, ঠিক সেরকমই আবার এসে গেল ""লাদেন মেলা""। ইতিমধ্যেই গবেষণা, প্রার্থনা, অভিশম্পাত শুরু হয়ে গেছে। লাদেনের দাড়ির রং , ওজন কমেছে কিনা থেকে শুরু করে ভিডিও টেপের কদিন পরে আক্রমণের ছক কষছেন, সমস্ত খবর কেনাবেচা শুরু হল বলে। সুতরাং জনগণ, জেগে উঠে নিজের টিকিট বুঝে নিন, ঐ এল বলে ""নবরূপে লাদেন""। বুকিং বাধ্যতামূলকভাবেই অগ্রিম।

আত্মহত্যা : তথ্য ও দুর্ভাবনা

শিরোনামের তিনটি শব্দ একে অপরের সাথে এমনিতে হয়ত তেমন কোন সম্পর্ক রাখে না, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন অদ্ভুৎ সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যে এদের আর আলাদা করে ভাবা যাচ্ছেনা। অল্পবয়সী আমেরিকান মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছে গেছে হঠাৎ করেই। এবং এই বেড়ে যাওয়ার পরিমাণ শতকরা প্রায় ৭৬%। ভাবা যায়? গবেষণায় দেখা গেছে ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালে ১০-১৪ বছর বয়সের বাচ্চা মেয়েরা ছোটখাটো সমস্যাতেই নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছে, ফলে শতকরা হারে ঐ বিশাল বৃদ্ধি। অন্যান্য বিভাগ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাও আশাপ্রদ নয়। সামগ্রিক ছবিটা তাই একই আছে, যুব সম্প্রদায় ধীরে ধীরে আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়ছে। হয়ত এর কারণ অবসাদ, হয়ত বা ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার চাপ। শিশু মনস্তাত্ত্বিকেরা উত্তর খুঁজছেন। আত্মহত্যার পদ্ধতিতেও বদল এসেছে। ২০০৩ সালের ঘটনাগুলিতে দেখা যাচ্ছে ছেলেমেয়েদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতাই বেশি ছিলো। অন্যদিকে ২০০৪ এ তারা বিষাক্ত রাসায়নিক অথবা শ্বাসরোধকারী ব্যবস্থার দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। যে ছোট মেয়েদের কথা শুরুতেই বলা হল, তাদের ৭১%ই এই দুটি উপায় অবলম্বন করেছে। অন্য গ্রুপের মধ্যেও একই ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। সব মিলিয়ে শুধু ২০০৪ সালেই আত্মহত্যা করেছে ৪৫৯৯ জন মার্কিন ছেলেমেয়ে, ফলে ""আত্মহত্যা"" মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিন নম্বরে এই মুহুর্তে। সামগ্রিক বিচারে ছেলেরাই বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ বলে প্রমাণিত হয়েছে, মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ছেলে। এইসব তথ্য এবং আরো অনেক তত্ত্বে মশগুল বিদগ্‌ধ পন্ডিত ও গবেষকেরা। আশা করা যায় খুব দেরী হওয়ার আগেই সমাধানসূত্র বেরিয়ে পড়বে। আরো একটু সাহসী হয়ে আশা করা যাক, অন্যান্য দেশগুলিতেও কিছুটা উদ্যোগ নেওয়া হবে এবার। অন্তত এটা যেন আমরা বুঝি, নিজেকে খুন করার ইচ্ছে শুধু পকেট খালি থাকলেই হয় না।

টুকরো খবর

গল্প লিখে খুনের দায়ে ধরা পড়লেন পোলিশ লেখক ক্রিস্টিয়ান বালা। গোলমালের সূত্রপাত ২০০৩ সালে প্রকাশিত ""অ্যামক "" নামের এক শ্বাসরোধকারী উপন্যাস থেকে। ঐ গল্পে খুনের বর্ণনা এমন নিখুঁত ছিলো, যে পুলিশের সন্দেহ এসে পড়ে ক্রিস্টিয়ানের ওপর। তদন্তে দেখা যায় ২০০০ এর একটা অজানা খুনের ঘটনার সাথে অদ্ভুৎ মিল আছে। প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকলেও ক্রিস্টিয়ান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন- লেখকের এই দাবী নস্যাৎ করে দিয়েছে আদালত। আপাতত ২৫ বছরের হাজতবাস হয়েছে লেখকের।

জুতোর দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে কি আপনার দু:খ হয়? হতাশ হবেন না। বরং জুতোকে একটু সম্মান দিতে শুরু করুন। আজকাল শুধু পায়ে পরার জন্যই না, ""মাথায়"" সাজিয়ে রাখার জন্যেও জুতো বানানো এবং কেনা হচ্ছে। মাথায় মুকুটের মত শুধু পায়ের শোভা বাড়ানোর জুতো বানিয়ে কোটিপতি হয়েছেন বহু ফ্যাশন ডিজাইনার। তালিকার শীর্ষে Christian Louboutin , যাঁর বানানো জুতো মাত্র ৮০০ ডলারে বিক্রি হয় এই ধরাধামের বিভিন্ন নামকরা শহরে। নিকোল কিডম্যান, হ্যাল বেরি কিম্বা সালমা হায়েক এইসব নান্দনিক জুতো পরেই আপামর জনতার বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে যান। সুতরাং, জুতোকে অবহেলা করবেন না। কবির কথা মেনে তাকে মাথায় তুলে নিন।

চে গেভারার একগাছি চুল বিক্রি করে বড়লোক হওয়ার চেষ্টায় এক প্রবীণ, নাম গুস্তাভো বিলোল্‌দো। একাত্তর বছরের এই একদা নির্বাসিত ব্যক্তি দাবী করেছেন, বলিভিয়ার জঙ্গলে চে ধরা পড়ার পেছনে নাকি তাঁর হাত ছিলো। সেই সময় একগাছি চুল তিনি স্ক্র্যাপবুকে রেখে দেন। এই চুলের দাম নিলামে ৭ লক্ষ মার্কিন ডলার ছোঁবে, এমনটাই আশা গুস্তাভোর। আসন্ন ""গুপ্তধন""লাভের আশায় নির্বিচারে নিজের গুস্তাখির কথা কবুল করে ফেলেছেন তিনি।

সেপ্টেম্বর ৯, ২০০৭