খবর্নয়, খবর্দার (সেপ্টেম্বর ৩)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু ও মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


এ সপ্তাহের খবর্নয় --- লিখছেন দ্বৈপায়ন বসু
------------------------------------

প্রাচীন বদভ্যাস
-------------------------
ছোট্ট বেলা থেকে যে কয়েকটা বদভ্যাস নিয়ে আমরা বড় হয়ে উঠি, তার একটা হলো চুইং গাম বা বাবল গাম গুলো খেয়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেয়া। আর সেই জিনিস টাও এমন যে, একবার যেখানে পরবে সেখান থেকে আর উঠবে না সহজে। সব কটা বড় শহরের রাস্তা ঘাট সাফ সুতরো রাখার পক্ষে খুব বড় বাধা এই জিনিস টা। সিঙ্গাপুর সরকার তো বাধ্য হয়ে চুইং গাম বিক্রি করাটাকেই বেআইনি করে দিয়েছে। তো, আমরা কি আমাদের এই বদ অভ্যেসটাকে বদলাতে পারি না? চেষ্টা করলে হয়তো করা যায়, কিন্তু এই বিশেষ অভ্যেস টা আসলে আমাদের মজ্জাগত, অথবা বিশদ ভাবে বললে আমাদের জিনগত। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় ৩০০০ বছর আগে থেকেই মানুষ এই বদ অভ্যেস টি রপ্ত করেছিল। সম্প্রতি তার ই প্রমাণ পাওয় গেলো ফিনল্যান্ডে। ইউনিভারসিটি অফ ডার্বির এক ছাত্রী খুঁজে বার করেছেন প্রায় ৫০০০ বছর আগে চিবিয়ে ফেলে দেয়া একটি চুইং গাম। সারাহ পিকিন নামের সেই ছাত্রীর খুজে পাওয়া গামটিতে এখনো দাঁতের দাগ লেগে আছে। ইউনিভার্সিটি অফ ডার্বি থেকে আসা একটি আর্কিওলজির দল এই মুহুর্তে তাদের কাজ চালাচ্ছে পশ্চিম ফিনল্যান্ডে। সেই দলের সাথেই ফিনল্যান্ডের পশ্চিম প্রান্তে আগমন সারাহ র। এই দলের এক প্রফেসর, ট্রেভর ব্রাউন জানান যে চুইং গাম টা তৈরি বার্চ গাছের ছালের আঠা থেকে। বার্চের আঠায় থাকে ফেনল, যার নিজস্ব অ্যান্টিসেপটিক গুন আছে। তাই নিওলিথিক মানুষেরা এই আঠা দিয়ে চিউইম গাম বানাতো, দাঁত এবং মাড়ি ভাল রখার জন্য। আর স্বভাবতই যত্রতত্র সেগুলো কে ফেলে দিতো, ব্যবহারের পরে। তবে শুধু চিউইং গাম নয়, পাওয়া গেছে রজনের তৈরি আংটি এবং শেল্ট পাথরের তৈরি অস্ত্র সস্ত্র ও। প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য যে, British Dental Association সম্প্রতি দাবী করেছে যে, খাওয়ার পরে মিষ্টিহীন চিউইং গাম চেবালে, মুখের ভেতর লালাক্ষরন বাড়ে, যা হজমে সাহায্য করে এবং দাঁত ও ভালো রাখে।


অটোমেটেড রেস্তোঁরা
------------------------
যে কোনো রেস্তোরার মুল আকর্ষণ হয়তো তাদের খাবারের কোয়ালিটি, কিন্তু তা ছাড়াও থাকে আরো কিছু জিনিস। রিসেপশানের সুন্দরী মহিলাটির সুমিষ্ট হাসি, অথবা ঝকমকে পোশাকের ওয়েটার বা ওয়েট্রেসের দল এবং তাদের মিষ্টি ব্যবহার। কিন্তু সে দিন হয়তো এবারে ফুরালো। রেস্তোরার ওয়েটারদের চাকরী হয়তো এবারে গেলো। কারন সম্প্রতি জার্মানীর নুরেমবার্গে তৈরি হয়েছে সম্পূর্র্ণ যন্ত্র চালিত, স্বয়ংক্রিয় এক রেস্তোরা। মাইকেল ম্যাক নামের নুরেমবার্গের এক ব্যবসায়ী তাঁর প্রথম রেস্তোরাটি তৈরি করেছেন এমন ভাবে, যেখানে কোনো রকম ওয়েটারের দরকার হবে না। কিছু বন্ধু দের সাথে আলাপ আলোচনা করে এই অদ্ভুত রেস্তোরার পরিকল্পনা আসে তাঁর মাথায়। প্রায় বছর দেড়েকের চেষ্টায় তৈরি করে ফেলেন পুরো সিস্টেম টা। ম্যাকের তৈরি এই রেস্তোরার প্রত্যেক টেবিলের সাথে জোড়া থাকছে একটি করে টাচ স্ক্রীন। টেবিলে বসে, সেই টাচ স্ক্রীনের সাহায্যে আপনি খাবার অর্ডার করতে পারেন। অর্ডার দেওয়া মাত্র অন্তর্জালের মাধ্যমে সেই তথ্য পৌছে যাচ্ছে রেস্তোরার রেজিস্টারে। রেজিস্টার থেকে তক্ষুনি আপনি জানতে পেরে যাবেন যে আর কতক্ষন লাগবে এই খাবার তৈরি হতে। এর পরেই দেখা যায় আসল ব্যপারটা। প্রত্যেক টা টেবিল আসলে একটা ধাতব স্পাইরাল পাত দিয়ে জোড়া আছে রান্না ঘরের সাথে। রান্না হওয়া মাত্রই রান্না ঘর থেকে খাবার বেড়িয়ে সেই পথ দিয়ে এসে যাবে আপনার টেবিলে। আর এই সমস্ত ব্যপার টাই হবে অভিকর্ষের প্রভাবে, কারন রান্না ঘরটি আছে ছাদের ওপরে। খাওয়া শেষ হওয়ার পর কোনো বিশেষ জায়গায় খাবারের থালা গুলো রেখে চলে যান। সেগুলো অব্দি নিজে থেকে পৌছে যাবে নির্দিষ্ট জায়গায়, সাফ সুতরো হওয়ার জন্য। আপাতত ম্যাকের এই নতুন রেস্তোরা খুব জনপ্রিয় হয়েছে নুরেমবার্গ অঞ্চলে। মানুষের ভীড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে এই 'নামানুষ' রেস্তোরা দেখার জন্য। ব্যাবসার এই সাফল্যে খুব খুশী মাইকেল ম্যাক। ইতিমধ্যে তাঁর ডিজাইনের পেটেন্ট নেওয়ার জন্য আবেদন ও করে ফেলেছেন তিনি। তবে জিনিসটা যতই আকর্ষনীয় হোক, ম্যাকের এই আবিষ্কার কিন্তু আবার আমাদের একটা প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়ে দিচ্ছে। আবার শোনা যাচ্ছে সেই আশঙ্কার কথা, যে সার্ভিস ইন্ড্রাস্টি তে মানুষের দরকার ক্রমশ ফুরোচ্ছে, বাড়ছে যন্ত্রের চাহিদা।

ভেসে যায় কাগজের নৌকো
----------------------------
বৃষ্টি বাদলার দিনে, রাস্তার পাশে জমা জলে কাগজের নৌকো বানিয়ে ভাসান নি, এমন মানুষ মনে হয় খুব কম ই আছেন। কবির কল্পনাতে সেই নৌকো আবার ময়ুরপঙ্খী হয়ে সাত সাগর তেরো নদী অব্দি পার করে ফেলেছে। কিন্তু সত্যি সত্যি কাগজের নৌকা বানিয়ে সাগর পাড়ি দিতে দেখেছেন কি কাউকে? জার্মানীর এক শিল্পী, Frank Boelter , আপাতত কাগজের নৌকা বানিয়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছেন। মধ্যবয়স্ক এই শিল্পীর মাথায় প্রথম এই পরিকল্পনা আসে ব্রেক ফাস্ট টেবিলে বসে। টেট্রাপ্যাক নামে এক প্যাকেজিং কোম্পানীর তৈরি কাগজের বাক্সে দুধ রাখা দেখে ফ্রাংকের মাথায় খেলে যায় এই পরিকল্পনা। তখন ই বাক্স কেটে সেই কাগজ দিয়ে বানিয়ে ফেলেন ছোট্ট একটা নৌকা। তারপর শুধু সময়ের অপেক্ষা। জোগাড় হয় প্রায় ১৭০ বর্গ মিটার টেট্রাপ্যাকের কাগজ। ঘন্টা দুয়েক টানা পরিশ্রম করে ফ্রাংক তৈরি করে ফেলেন ৩০ ফুট লম্বা, এবং ৫৫ পাউন্ড ওজনের এই নৌকা। অত:পর Lauenburg এর এক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু হয়। ফ্রাংক জানান যে প্রায় ৪০ দিন অব্দি একদম ঠিক থাকবে তাঁর নৌকো। এর পর ক্রমশ ভিজে উঠে ডুবতে শুরু করবে এটা। তবে তার অনেক আগেই নৌকোর পাল গোটাবেন তিনি। এই পরীক্ষামুলক যাত্রার শেষে এই নৌকা টি কে রেখে দেবেন তাঁর পরবর্তী প্রদর্শনী " Bis ans Ende der Welt ' (পৃথিবীর শেষ অব্দি) তে দেখাবার জন্য।



এ সপ্তাহের খবর্দার --- লিখছেন মিঠুন ভৌমিক
---------------------------------------

হারানো ডুবোজাহাজ
-----------------

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত ডুবোজাহাজ গ্রুনিয়নের ভগ্নাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেল। গত বুধবার বেরিং সাগরে খোঁজ মিলেছে ৬৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐ জলযানের। যুদ্ধ চলাকালীন ৭০ জন ক্র্যু সমেত হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এই সাবমেরিন। গত পাঁচ বছরের নিরলস অনুসন্ধান চলছিল এই রহস্যময় ডুবোজাহাজটির জন্য। কমান্ডার ম্যানার্ট আবেলও ডুবোজাহাজের বাকিদের সাথে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে তাঁর ছেলেরাই এই তদন্তের কাজ শুরু করেন আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে। এতদিনে জাহাজটির খোঁজ পাওয়ায় আশা করা হচ্ছে যে এবার জানা যাবে হতভাগ্য ঐ সত্তরজন সেনানীর শেষ কয়েকটা মূহুর্ত কেমনভাবে কেটেছিলো। সাবমেরিনটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ ফুট গভীরে পাওয়া গেছে। জলের চাপে আর নানারকম প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে সেটাকে অবশ্য ডুবোজাহাজ বলে চেনাই যায়নি প্রথমে। স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত চিহ্ন মুছে গেছে জাহাজটির গা থেকে। বেশ কিছু অংশ এমনভাবে ভেঙ্গে গেছে যে গঠনগত সাদৃশ্য খোঁজাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে প্রপলারে যে ধরণের গার্ড দেখা গেছে, তা ঐ সময় একমাত্র মার্কিন ডুবোজাহাজেই দেখা যেত। অন্যান্য ছোটখাট সাদৃশ্যের সাথে এই প্রায়-অকাট্য প্রমাণ যুক্ত হয়ে অনুসন্ধানীদের ধারণাকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। তাঁদের দাবী, এই ভগ্নাবশেষই ঐ ডুবোজাহাজ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯৫%। গ্রুনিয়ন, বিশ্বযুদ্ধের প্রথমদিকে আলাস্কার অ্যালিউশিয়ান দ্বীপগুলির চারদিকে টহল দিত। শেষবার গ্রুনিয়ন থেকে রিপোর্ট আসে ১৯৪২ সালের ৩০শে জুলাই। এর কয়েকদিন আগেই গ্রুনিয়ন কিস্কা দ্বীপের কাছে দুটো জাপানী সাবমেরিনকে ডুবিয়ে এবং আরেকটিকে দারুণভাবে ঘায়েল করে কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়োয়। ৩০ তারিখের পর হঠাৎ করেই সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তারপর থেকে অনেকদিন বহু চেষ্টা করেও তদন্ত এগোয়নি মূলত তথ্যের অভাবে। শেষে জনৈক জাপানী জাহাজনির্মাতার কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়ে ২০০৬ এর অগাস্টে প্রথমবার অভিযানে যায় নতুন তদন্ত কমিশন। দ্বিতীয় অভিযান হয় অল্পদিন পরেই, এবং পাওয়া যায় গ্রুনিয়নের অবশেষ। আপাতত অনুসন্ধানকারী দল ঐ এলাকায় আরো ডুবোজাহাজের খোঁজে তল্লাশী চালাচ্ছে, কারণ গ্রুনিয়নের কাছে পর্যুদস্ত হওয়া জাপানী জাহাজগুলিরও ওখানেই থাকার কথা।


টুকরো খবর
-----------

চলন্ত বাস, ট্রাম বা ট্রেন থেকে যাত্রীদের ওঠানামা করতে দেখা যায় হামেশাই। কিন্তু চলন্ত বিমান থেকে নামার চেষ্টা করে পাগলামির রেকর্ড করে ফেলেছেন জনৈক কলোরাডোবাসী। ১২৮ জন যাত্রী নিয়ে ঐ প্লেনটি নিউ ইউর্ক যাচ্ছিলো শনিবার সকালে। যাত্রার মাঝেই হঠাৎ ঐ ব্যক্তি আসন থেকে উঠে গিয়ে প্লেনের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। এবং এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে খানিকটা সফলও হন। ততক্ষণে চলন্ত বিমানে মহা শোরগোল শুরু হয়ে গেছে। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে সবাই মিলে সিটবেল্ট দিয়ে একরকম ""বেঁধে"" ফেলেন ঐ উন্মাদকে। আপাতত তিনি হাজতে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রাম-রাবণের যুদ্ধ শেষে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হয়েছিলো। তখন এরকম প্রায়ই হত। এই ঘোর কলিতে ফুলের দামও বেশ চড়া, তায় পরিবেশ দূষণ আইন কড়া, তাই আজকাল আর ফুল পড়ে না। তবে কিনা আমেরিকা চাইলে মাঝে মধ্যে ছোটখাট ব্যতিক্রম হয়। আফগানিস্তানে সম্প্রতি আমেরিকান হেলিকপ্টার থেকে ""ফুটবল বৃষ্টি"" করা হল, শিশুদের জন্য ""বন্ধুত্বের প্রতীক"" হিসেবে। খালি সাদামাঠা বল পাঠালে কেমন লাগে, তাই বলের ওপর নানান দেশের জাতীয় পতাকা আর কোরানের অংশবিশেষ দেয়া ছিলো। কিন্তু আফগানিস্তানের লোকদেরও বলিহারি, মার্কিন ফুটবল পেয়েছিস, মরার আগে দুদন্ড ফুর্তি করে খেলে নে, তা নয়, ""ধর্মের অবমাননা"" বলে মোর্চা বের করেছে। আগেই জানা ছিলো আফগানরা সক্কলে সন্ত্রাসবাদী, এখন আবার প্রমাণিত হল যে ওরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করেই থাকে,সুতরাং এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

জার্মানরা সব পারেন। সদ্য গত সপ্তাহে জার্মানির এক সদ্যযুবক ঘুমের মধ্যে চারতলার জানলা দিয়ে বেরোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওড়াটা এখনও তেমন রপ্ত হয় নি, তাই সটান পপাত চ। আশ্চর্য্যের ব্যাপার হল, পড়ে গিয়েও নাকি তাঁর ঘুম ভাঙ্গেনি, পুলিশ এসে ঘুম ভাঙ্গিয়ে জানায় "" স্যার, আপনার পা ভেঙ্গে গেছে""। তাই বলছিলাম, জার্মানদের অসাধ্য কিছু নেই।

প্রবাদ, কুকুর মানুষকে কামড়ালেও মানুষ কুকুরকে কামড়ায় না। তবে সাপদের ব্যাপারে এইরকম কোন প্রবাদ নেই। ভবিষ্যতেও কখনো তৈরী হবেনা, কারণ মানুষের কামড়ে সম্প্রতি মারা গেছে একটি সাপ। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে বান্ধবীকে ""শিক্ষা"" দেওয়ার জন্য তাঁর পোষা সাপের মাথা কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছেন শেন কুক নামের এক ব্যক্তি। কুক এবং তাঁর বান্ধবীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। প্রিয় সাপটির ওপর নিতান্ত ""মানবিক"" এই আচরণে মেয়েটি যে খুশি হয়নি, বলা বাহুল্য। কুককে গ্রেপ্তার করে জেলে চালান করা হয়েছে, মামলা চলছে জোরকদমে।

সেপ্টেম্বর ২, ২০০৭