খবর্নয়, খবর্দার (আগস্ট ২৬)


লিখছেন --- মিঠুন ভৌমিক ও দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


এ সপ্তাহের খবর্নয় -- লিখছেন দ্বৈপায়ন বসু
------------------------------------------

মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র
-----------------------------------
'হীরক রাজার দেশে' সিনেমার সেই বিখ্যাত গবেষক কে মনে আছে কি? সেই যে মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র বানিয়েছিলেন যিনি। যেখানে একবার কাউকে ঢুকিয়ে দিলেই মাথা হয়ে যেতো ধুয়ে মুছে সাফ। তার পর সেই সাদা মাথায় যা লিখে দেবে তাই থেকে সারা জীবন। তখন তো দারুন এক খানা দৃশ্যকল্প বলে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু আর বেশি দিন নেই, সেই দৃশ্যকল্প আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো 'দৃশ্য বাস্তবের' রূপ পেতে চলেছে। রাশিয়ার বেশ কিছু বিজ্ঞানীর দাবী, ' psychotronic weapon ' তৈরির ক্ষেত্রে তাঁরা ইতিমধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। হয়তো আর বছর দশেকের মধ্যে রাশিয়ার সেনা বাহিনীর হাতে উঠে আসবে এই ভয়ঙ্কর অস্ত্র। Russian Federal Custodial Service এর মেজর জেনারেল বরিস রত্নিকভ জানালেন যে কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ কে জোম্বি বানাবার এই পদ্ধতি তাঁদের আয়ত্ত্বে এসে যাবে। এর আগেও রাশিয়া চেষ্টা করেছিলো এই ধরনের অস্ত্র বানাতে। বছর কুড়ি আগে গুজব রটেছিল যে রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স এমন এক যন্ত্র তৈরি করেছে যা দিয়ে এক সাথে অনেক মানুষের প্রতিদিনের কাজ কর্ম আর চিন্তা ভাবনা কে ক®¾ট্রাল করা যাবে। এই ঘটনা জানার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে সাধারন মানুষের মধ্যে। তখন সরকারি ভাবে এই ধরনের কোনো অস্ত্রের কথা অস্বীকার করা হয়। কিন্তু এতদিন বাদে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে সেই ঘটনা।

বরিস রত্নিকভ জানান যে ভাঙনের আগে কেজিবির তত্বাবধানে রাশিয়ার অনেক জায়গা তেই ব্রেন রিসার্চ শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভাঙনের কারনে প্রচুর মেধাবী ছাত্র রা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াতে মধ্যে বাধা পড়ে সেই প্রকল্পে। কিন্তু আপাতত সে সব থেকে সামলে উঠেছে রাশিয়া। এখন গবেষক দের মুল লক্ষ্য হলো যে সম্পূর্ণ বাইরে থেকে, একদল মানুষের চিন্তা ভাবনা কে নিয়ন্ত্রন করে তাদের মানসিক স্পর্শকাতরতা কে পাল্টে ফেলা। যদি একবার এটা করে ফেলা যায় তবে এই জিনিস একদিন রাজনৈতিক আর যুদ্ধ ব্যবসায়ী দের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
তবে সবাই যদি ভাবেন যে একা রাশিয়াই এই ধরনের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে যুক্ত তবে খুব ভুল ভাবছেন তাঁরা। neurolinguistic programming এর ব্যবহার করে কি ভাবে কোনো মানুষের আচার আচরণ পাল্টে দেয়া যায়, সেই গবেষনায় অনেক দুর এগিয়ে গেছে আমেরিকা। ইজরায়েল ধরেছে Kabbala symbolism এর পথ, যা দিয়ে মানুষের চিন্তা শক্তি পাল্টে দেয়া যেতে পারে। পিছিয়ে নেই উত্তর কোরিয়া এবং জাপান। তারা চেষ্টা করছে বিশেষ অসিলেটর দিয়ে মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে নিয়ন্ত্রন এবং অকেজো করে দিতে। একই পথের পথিক স্পেন এবং পাকিস্তান। শুধু ব্রেন ওয়াশ নয়, মানুষের সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে রয়েছে দেশ গুলো।
বার বার শুধু একটা কথা মনে হচ্ছে যে, শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর।

আমি চলে গেলে কি পড়ে রবে?
-----------------------------------------
"বড় চিন্তায় আছি বন্ধু রে, আমি চলে গেলে কি পড়ে রবে?"... চিন্তার কিছু নেই। যদি ভাল করে এক খানা পায়ের ছাপ ফেলে যেতে পারেন, তবে একদিন হয়তো বিখ্যাত হয়ে যাবেন খুব। তবে ঐ 'একদিন' টা আসতে হয়তো একটু দেরী হবে। যেমন হয়েছে এক মিশরবাসীর ক্ষেত্রে। মাত্র ৩ মিলিয়ান বছর পরে খুঁজে পাওয়া গেছে তাঁর পায়ের ছাপ।

সম্প্রতি মিশরের পশ্চিমে সিয়া মরুদ্যানের কাছে পাওয়া গেছে এই প্রস্তরী ভুত পায়ের ছাপ। তাই নিয়ে গবেষকরা প্রচন্ড উৎসাহিত। এর আগে সবচেয়ে পুরনো মানুষের ('হোমো' গণভুক্ত প্রানী দের) পায়ের ছাপ দেখা গেছিলো ইটালী তে, যা ছিল ৩.৫ মিলিয়ান বছরের পুরনো।
তার পরে এই প্রাক্তন সেলিব্রিটিদের দলে নাম লিখিয়েছিল লুসি নামে একটি মেয়ে। ইথিওপিয়ায় পাওয়া গেছিল লুসির ফসিল যা প্রায় ৩.২ মিলিয়ান বছরের পুরনো। কিন্তু মিশরীয় প্রত্নতাত্বিক দের এই আবিষ্কার হয়তো এদের সবাইকে টপকে যাবে। আপাতত এই নিয়ে চলছে গবেষণা এবং তুমুল চিন্তা ভাবনা। পুর্ব পুরুষের পায়ের ধুলো নেবার তাগিদে দেশ জোড়া বিখ্যাত গবেষকরা এক জোট হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। শীঘ্রই আমরা বিশদ ভাবে জানতে পারবো যে এটা আসলে কত বছরের পুরনো অথবা কোন 'গণ' এর তালিকায় পড়বে এটা।
ততদিন মনের ভেতরে গুনগুন করুক "যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে"...

দ্য রেড হেডেড লীগ
----------------------
প্রায় ১১৬ বছর আগে স্ট্র্যান্ডে পাবলিশ হয়েছিল, দুনিয়া কাঁপানো ধুরন্ধর গোয়েন্দা শার্লক হোমসের এক বিখ্যাত গল্প "দ্য রেড হেডেড লীগ", যে গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্রে ছিলেন লাল চুলের এক ভদ্রলোক। তারপর পেরিয়ে গেছে অনেক গুলো বছর, টেমস দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল, বদলে গেছে চার পাশের জগৎ। কিন্তু গল্প টা আজো পুরনো হয় নি। আজো সমান ভাবে পাঠক পাঠিকাদের টানছে এই গল্প। কিন্তু আর কতদিন?
বিশেষজ্ঞ রা জানাচ্ছেন আর খুব বেশী হলে একশো বছর, তারপর গল্প টার গা থেকে কালজয়ের ছাপ মুছে যাবে। নাহ, হোমসের জনপ্রিয়তাও হয়তো কমবে না, অথবা ইংরাজি ভাষাও হয়তো লুপ্ত হবে না, কিন্তু আগামী একশো বছরের মধ্যে জগৎ থেকে মুছে যাবে লাল চুলের মানুষরা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটা সমীক্ষা জানাচ্ছে এই মুহুর্তে জগতের ২% এর চেয়েও কম মানুষ সত্যিকারের রেড হেডেড বা জিঞ্জার। আর ক্রমশ কমছে এই সংখ্যা। প্রায় হাজার খানেক বছর আগে ইউরোপের উত্তরাংশে, কিছু মিউটেশানের ফলে তৈরি হয়েছিল এই লাল চুল। কিন্তু বিশ্বায়নের যুগে, দেশ কালের গন্ডী পেরিয়ে মানুষ এত ছরিয়ে গেছে, যে দুজন লাল চুল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনা গেছে খুবই কমে। ফলে জিনের ক্যারিয়ার যতই থাকুক, বিশুদ্ধ লাল চুল মানুষ আর থাকছে না।

তবে এই ন্যশনাল জিওগ্রাফিকের বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই ঘটনা থেকে ছাড়া পাওয়ার দাওয়াই ও বাতলেছেন। উপায় টা হলো যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এই জিঞ্জার দের এক সাথে এসে স্কট ল্যান্ডে বাস করতে হবে। এক মাত্র স্কট ল্যান্ডেই সব চেয়ে বেশি আছে এই জিন। প্রায় ৪০% মানুষ সেখানে লাল চুলের জিন বহন করে, এবং ১৩% মানুষের সত্যিকারের লাল চুল আছে। তাই এক মাত্র এখানে এসে থাকলেই লাল চুলের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব।
আসলে একজোট না হলে লাল রঙকে বাঁচানো যে খুব মুশকিল!

শতরানের অপেক্ষায়
---------------------
ধরে নিন রেডিও খুলে কমেϾট্র শুনছেন যে ক্রীজে দাড়িয়ে আছে প্রবল পরাক্রমশালী এক ব্যাটসম্যান। আপাতত ৭৮ রানে নট আউট, হয়তো খুব শিগ্গিরি সেঞ্চুরি টাও পেয়ে যাবেন। এই শুনেই নিশ্চয় শুরু করবেন সময় গোনা। ৭৮ মানে তো আর একটু বাদেই সেঞ্চুরি। কিন্তু কেউ যদি আপনাকে বলে যে, সেঞ্চুরি টা পুর্ন করতে লাগবে আর মাত্র ৮ বছর, তাহলে কি হবে? চমকে যাবেন তো?

আসলে এটা তো ক্রিকেটের কথা বলছি না, এমন কি কোনো খেলাও না। দুবাই এর এক মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোকের কথা বলছি, যিনি আপাতত ৭৮ জন সন্তানের বাবা, এবং যিনি দাবী করেছেন যে ২০১৫ র মধ্যে ১০০ জন সন্তানের জন্ম দিয়ে দেবেন। দাদ মহম্মদ মুরাদ আব্দুল রহমান নামের ঐ ভদ্রলোকের পত্নী সংখ্যা আপাতত ১৫ ছুঁয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাক্তন। বর্তমান তিন স্ত্রী এর মধ্যে আবার দুজন এখন গর্ভবতী। দুবাই তে প্রায় ১৫ টা বাড়ি জুড়ে রয়েছে এই ভদ্রলোকের সংসার। মিলিটারি পেনশান এবং নিজের ছোট খাটো ব্যবসা, তাই দিয়েই চলছে সংসার। খবরের কাগজে ছবি বেরোনোর পর থেকে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছেন আব্দুল। নিজের ৭০ বছর বয়সের আগেই ১০০ জন সন্তানের বাবা হতে যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তা জানিয়েছেন সাংবাদিক দের। শুধু জানা হয় নি যে কোনোদিন ইনি মহাভারতের পাতা উল্টেছিলেন কিনা।



এ সপ্তাহের খবর্দার -- লিখছেন মিঠুন ভৌমিক
------------------------------------------

কৃত্রিম কোষ
-----------------------------------
এই মুহুর্তে বিশ্বের বেশ কিছু বিজ্ঞানী এক অভূতপূর্ব গবেষণায় মেতেছেন, যা সফল হলে অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপায়ে প্রাণ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অদ্ভুৎ শোনাচ্ছে? তাহলে আরো শুনুন, বিজ্ঞানীরা এর মধ্যেই সময়সীমাও দিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩-১০ বছরের মধ্যেই তাঁরা ছুঁয়ে ফেলবেন এই মাইলফলক। কৃত্রিমভাবে তৈরী ঐ কোষের ভিত্তি হতে চলেছে ডি এন এ থেকে পাওয়া কিছু রাসায়নিক পদার্থ। কোষের মূল তিনটে অংশ বানানোর ছকও তৈরী। কোষপর্দা, যা একাধারে কোষকে ধরে রাখে, আকৃতি দেয় আর ক্ষতিকর পদার্থদের ঘাড় ধরে বের করে দেয়, সেটা বানানো-ই প্রথম ধাপ। আর হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিজ্ঞানীরা এই কাজটা করে ফেলতে সময় নিচ্ছেন মাত্র ৬ মাস। তারপরেই শুরু হবে পরের ধাপ, অর্থাৎ কোষীয় বিপাকসমূহের সংযোজন। এই কাজ শেষ হলে শুরু হবে শেষ ধাপ, যা সফল হলে কোষটি পরিবেশ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে তাকে শক্তিতে পরিণত করতে পারবে, অর্থাৎ পুরোদস্তুর একটা প্রাণ যা কিছু করে, সবই করবে ঐ কৃত্রিম কোষ। গবেষণার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল দ্বিতীয়টি। কোষকে ""শিক্ষিত করার "" এই কাজে লাগানো হবে ডারউইনের অভিযোজনের পদ্ধতি। বিজ্ঞানীদের আশা, জিনগত ত্রুটি না থাকলে কোষটি নিজে থেকেই বিবর্তনের পথে চলতে শুরু করবে এবং কালক্রমে সেইসবই ""শিখে'' যাবে বেঁচে থাকার জন্যে যা তার করার কথা।

বেশ কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীরা নিজেদের দল গড়ে আলাদা আলাদা করে এই কাজ করছেন। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া আর ফ্লোরিডা ছাড়াও ইতালিতে গবেষণা চলছে জোরকদমে। ""খোদার ওপর খোদকারি''র এই ইঁদুর দৌড়ে কে জেতে এখন সেটাই দেখার।

সাজা
-----------------------------------
অস্ট্রেলিয়ার সরকার ঘোষণা করেছে তারা জিম্বাবোয়ের সেইসব ""বিশেষ'' ছাত্রছাত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাবে যারা উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের সন্তান। মুগাবে সরকারের সাথে অস্ট্রেলিয়ার সাপে-নেউলে সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। এর ফলে আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও জিম্বাবোয়েকে বয়কট করে হইচই ফেলে দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিম। এবার আরো একধাপ এগিয়ে মুগাবে অনুগামীদের পরিবার থেকে আসা ছাত্রদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ""মুগাবে সরকারের দেশব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘন''। বলা বাহুল্য জিম্বাবোয়ে থেকে এই নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। তাদের ঝুলিতেও বিস্তর অভিযোগ। অর্থাৎ আবারো ""যুদ্ধ যুদ্ধ'' খেলা শুরু হবে। আর সেই যুদ্ধে সাধরণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে।

ক্লিকে মহাবিশ্ব
-----------------------------------
মহাকাশ দেখতে চান কিন্তু টেলিস্কোপের অভাবে পারছেন না? আর চিন্তা নেই, গুগল এবার আপনার হাতের মুঠোয় ভরে দিচ্ছে তারাটারা সমেত গোটা মহাকাশ। এখন থেকে বাড়িতে বসে ক্লিক করলেই দেখতে পারবেন অ্যান্ড্র মিডা , হাইড্রা বা ভাল্পিকিউলা গ্যালাক্সি। অভিনব এই প্রোজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে গুগল স্কাই, যাতে ধরে রাখা আছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন গ্যালাক্সির ছবি। গুগল স্কাই ব্যবহার করতে হলে গুগল আর্থ ইন্সটলড থাকতে হবে আগে থেকে। প্রসঙ্গত, গুগল আর্থ দিয়ে দেখে নেওয়া যায় দেশ বিদেশের রাস্তাঘাটের ছবি। ঠিক ঐভাবেই এবার দেখতে পাওয়া যাবে কালপুরুষ বা সপ্তর্ষিমন্ডলের পরিষ্কার চিত্র। অবশ্য মহাকাশ দেখানোর এই চেষ্টা প্রথম নয়। এর আগেও ২০০৬ এর মার্চে ""গুগল মার্স"" এসেছিলো বাজারে,বহুচর্চিত লাল গ্রহটির হাল হকিকত নিয়ে। আবার, কম্পিউটারে মহাকাশ দেখার এটাই প্রথম প্রয়াস নয়। স্টেলারিয়াম নামের একটা সফটওয়্যার আগে থেকেই আছে বাজারে। কিন্তু অপেশাদারদের জন্যে স্কাই অনেক বেশি কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

টুকরো খবর
-----------------------------------
কেন্দ্রে সরকার থাকে কিনা ঠিক নেই, শিল্প, রেফারি, আই সি এল আর সঞ্জয় দত্ত নিয়ে মানুষ যখন দিশেহারা, দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খবরের কাগজ যখন অশালীনতা আর সৌন্দর্যের সংজ্ঞা খুঁজে ফিরছে "" ক্ষ্যাপার মত'', আর কাউক্কে ভয় না করাদের যখন প্রতিবেশীর চিন্তায় ইনসমনিয়া হওয়ার উপক্রম, ঠিক তক্ষুনি ""এনে দিল একরাশ সুবাতাস'' ভিকি মিলসের ঘটনা। পয়সাকড়ির এই আকচা-আকচির যুগে মেয়েটি পোষা মুরগিকে সারিয়ে তুলতে ১৮০০ পাউন্ড খরচ করে ফেলেছে। মানবিকতার অন্তত একটা ভালো উদাহরণ পশুসমাজে থাকলো, যাতে ওদের গবেষকরাও দলিল ঘেঁটে দেখাতে পারে, ২০০৭ এ মানুষ নামেও এক স্পিসিস এই ধুলোকাদায় চলে ফিরে বেড়াত। এই ঘটনার পাশাপাশি আরেকটা খবরও উল্লেখযোগ্য। এখন থেকে লক-নেস সরীসৃপের কামড়ে কেউ হতাহত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। ইন্সিওরেন্স কোম্পানি সব ব্যবস্থা করেই রেখেছে, এখন শুধু দত্যিটা কামড়ালেই হয়।

স্বল্প বা বেশি মাত্রায় মাদক ব্যবহারের নানান উপকারিতা প্রায়ই শোনা যায়। সেইসব প্রমাণসাপেক্ষ ""উপকারিতা""র তালিকায় নবতম সংযোজন ঘটলো সম্প্রতি। নর্থ ক্যারোলিনার বেটি ওয়াকার মাদক চাষে অভিযুক্ত হয়ে ধরা পড়ার পর বললেন, জন্তুরা যাতে বাগানের ক্ষতি না করতে পারে, তাই তিনি ঐ গাছ লাগিয়েছিলেন, ওটা যে মারিজুয়ানা তিনি জানতেনই না। পুলিশ অবশ্য বিশ্বাস করছেনা এই গপ্প। তারা বরং তৈরী হচ্ছে বেটিকে ১২ই সেপ্টেম্বর কোর্টে তোলার জন্য। বেটির বাগান থেকে মোট পাঁচটি মারিজুয়ানা গাছ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটার উচ্চতা চার ফুটেরও বেশি। আপাতত বে-আইনি মাদক চাষ এবং মারিজুয়ানা সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লন্ডনে বারো বছরের এক ছেলেকে আদালতে হাজির করা হল গত বুধবার। তার অপরাধ, সে এক বৃদ্ধকে ""সসেজ"" ছুঁড়ে মেরেছিলো। ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। সেদিন ৭৪ বছর বয়স্ক এক প্রবীণ নাগরিক পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ঐ বালকের নামে। লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ছেলেটিকে পরের দিন ধরে এনে সোজা কোর্টে চালান করে দেয়। এইরকম তুচ্ছ ঘটনায় আদালতের সময় বরবাদ করানোয় উপস্থিত সবাই যারপরনাই বিরক্ত হলেও আইনের জাঁতাকলে আটকে কিছুই বলতে পারেন নি। প্রশ্ন উঠছে নাগরিক সুরক্ষা আইন এবং তার প্রয়োগের বিধি নিয়ে।

আবার মমির অভিশাপের গল্প আতংক সৃষ্টি করলো সভ্য মানুষের মনে। এবার অকুস্থল জার্মানি। এক জার্মান পর্যটক ২০০৪ সালে মিশর যান। সেখানে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান দেখার ফাঁকে তিনি ছোট্ট এক টুকরো পাথর হাতসাফাই করেন, যাতে ফ্যারাওদের কিছু বাণী খোদাই করা ছিলো। ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার পরেই তাঁর পক্ষাঘাত হয়। এরপর প্রায় দুবছর অজানা এক জ্বরে ভুগে সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন। মারা যাবার আগে একটা কাগজের চিরকুটে নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে যান ঐ ব্যক্তি। তাঁর ছেলে ঐ পাথরের টুকরোটা মিশরের এম্ব্যাসিতে জমা দিয়েছেন। তাঁরও ধারণা ঐ পাথরের অভিশাপই এতসব অশান্তির আসল কারণ।

হিংস্রতার নতুন নতুন ছবি ফুটে উঠছে প্রায়ই আমাদের ক্রমশ অচেনা হয়ে ওঠা এই পৃথিবীতে। যা কিছু আমাদের অপছন্দের, ঘেন্নার বা ভয়ের, সেসব আমরা নি:শেষে মুছে দিতে চাই বরাবর। আর এই চাওয়া কিভাবে আমাদের জিনে বাসা বেঁধেছে তা আরো একবার বুঝিয়ে দিলো হালের সিনসিনাটির একটি ঘটনা। স্কট ব্রুনস্টাইন স্কুলে স্কুলে ঘুরে বাচ্চাদের বিভিন্ন পশুপাখী চিনিয়ে দেন। সাথে থাকে তাঁর নিজস্ব সংগ্রহ থেকে আনা নিরীহ কিছু জন্তু, যা দেখে বাচ্চারা মজা পাবে। গত রবিবার এরকমই এক স্কুলে সরীসৃপদের চেনানোর পালা চলছিলো। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে একজনের সাপখোপ বিলকুল না-পসন্দ। সে অনেকক্ষণ তক্কে তক্কে থেকে হঠাৎ এক সময় একটা পাইথনের মাথা পা দিয়ে মাড়িয়ে থেঁতো করে দেয়। ১০ ফুট লম্বা সাপটা ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। মজার ব্যাপার হল, বাচ্চাটা এরকম করার পরেই তার অভিভাবক তাকে নিয়ে তড়িঘড়ি চম্পট দেন। দোষ করলে যে পালাতে হয় সেটাও নির্ঘাত এতক্ষণে শিখে ফেলেছে আগামীদিনের ঐ নাগরিক।


আগস্ট ২৬, ২০০৭