খবর্দার (আগস্ট ১৯)


লিখছেন -- মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


হাজতে ডাইনি
------------
একদিকে যখন বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়ানোর জন্য নানা কর্মসূচী চালু হচ্ছে, ঠিক তখনই উইসকনসিনের একটি ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিল কুসংস্কারের পাঁচিলটা এখনো কতো মজবুত। মধ্যবয়স্ক এক মহিলা ""ধর্মাচরণের"" নামে প্রচন্ড উৎপাত করে গ্রেপ্তার হয়ে ঘোষনা করলেন, তিনি নাকি ডাইনি এবং তাঁর যাদুচর্চায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে পুলিশ আইনভঙ্গ করেছে।
গত মঙ্গলবার পূর্ণিমা ছিল। সেদিন মধ্যরাতে ব্রেনা নামের ঐ মহিলার প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত হয়ে ফোন করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দেখে, নিজের বাড়ির পেছনে প্রায় দশ ফুট উঁচু আগুন জ্বালিয়ে তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে চিৎকার করে মন্ত্র পড়ছেন ব্রেনা। কানের হেডফোনে রেকর্ড করা মন্ত্র বাজছে, আর তার সাথে মিলিয়েই চলছে তারস্বরে আবৃত্তি। পুলিশ নানাভাবে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওদিকে তখন আগুনের তেজ আরো বেড়েছে। লেলিহান ঐ আগুনে ব্রেনা ছুঁড়ে দিচ্ছেন লাইটারের জ্বালানী তরল, পুরোনো টায়ার, কাপড় ও আরো অনেক কিছু। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরপর পুলিশ ব্রেনাকে গ্রেপ্তার করে। তখন দেখা যায় ব্রেনা ভালরকম নেশাগ্রস্ত।
ব্রেনার অভিযোগে অবশ্য পুলিশ একটুও ভাবিত নয়। বরং তারা আটঘাট বেঁধে তৈরী হচ্ছে কেসটা জোরালো করার জন্য। ইতিমধ্যেই দাহ্য পদার্থের অপব্যবহার সংক্রান্ত আইনের উল্লেখ করে একটা মামলা রুজু হয়েছে। আরো নানান ধারায় একে একে অভিযুক্ত করে ব্রেনাকে শিক্ষা দিতে তারা বদ্ধপরিকর। বোঝাই যাচ্ছে, এই ঘোর কলিতে ডাইনিদের ক্ষমতা নিভু নিভু, নয়ত এমন দু:সাহসের জন্য অ্যাদ্দিনে গোটাকয়েক পুলিশকে নির্ঘাত পটলক্ষেতে পাওয়া যেত।

একদা এক চোরের কপাল খারাপ ছিল
--------------------------------
একেই বলে মন্দ কপাল! জীবনে প্রথমবার চুরি করতে এসেই দারুণ হয়রানি হল এক উদীয়মান চোরের। কানাকড়ি তো জুটলো-ই না, উল্টে শ্রীঘরে চালান হয়ে একগাদা অভিযোগের ধাক্কায় বেচারার অবস্থা কাহিল।
সক্কাল সক্কাল এক ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনীর বাড়িতে ঢুকেছিল ঐ ব্যক্তি, কিন্তু সেখানে পয়সাকড়ি প্রায় কিছুই ছিলো না। তখন ষাটোর্ধ সেই মহিলাকে গাড়ি বের করতে বলে সেই চোর। তারপর গাড়ি করে প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চলে তাদের অভিযান। কিন্তু শেষে ভদ্রমহিলার দৃঢ়তার কাছে হার মানতে হয় তাকে। তিনি স্পষ্টই জানিয়ে দেন, এক পয়সাও নেই তাঁর কাছে। নেই কোন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড-ও। অগত্যা হতাশ হয়ে সেই চোর শহরের দূরতম প্রান্তে তাকে নামিয়ে দিতে বলে। এবং মজার ব্যাপার হল, নামার আগে সে বারবার জানতে চায়, তার এই কাজের জন্য চার্চ এবং ঐ সন্ন্যাসিনী তাকে ক্ষমা করবেন কিনা।
অদ্ভুত ঐ চোরকে নামিয়ে দিয়েই সেই নান চার্চে ফিরে যান। সেখান থেকে পুলিশে খবর দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ঐ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়। তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, অপহরণ এবং মাদক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ
---------------
লটারিতে ৩৫ লক্ষ পাউন্ড জিতে কথা বন্ধ হয়ে গেছে অ্যালো কেলির। ব্রিটেনের সবথেকে বড় অঙ্কের লটারিতে প্রথম পুরস্কার পেয়ে এতই অবাক হয়ে গেছিলেন ঐ মহিলা যে চুপচাপ গালে হাত দিয়ে অনেকক্ষণ বসেছিলেন চেয়ারে, পুরস্কার ঘোষনার পরেও। আটচল্লিশ ঘন্টা পরেও সেই ঘোর কাটেনি। ঠিক কতটা বড়লোক হলেন অ্যালো? হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, এখন থেকে ফি হপ্তায় ২১০০০ পাউন্ড শুধু সুদবাবদ জমা হবে তাঁর অ্যাকাউন্টে। এখানে জানিয়ে রাখা দরকার, ২০ বছর ধরে চাকরি করছেন অ্যালো, এবং গত বছরের প্রাপ্ত মোট মাইনেও ছিলো ঐ ২১০০০ পাউন্ড। এই বিশাল জ্যাকপট জেতার সূত্রে তিনি ওয়েন রুনি এবং প্রিন্স উইলিয়ামস ও হ্যারিকে ছাড়িয়ে ব্রিটেনের সেরা ধনীদের তালিকায় ওপরের দিকে চলে গেছেন। বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হওয়ার মতই ঘটনা, তাই না?

টুকরো খবর
------------
কায়রোতে এয়ারপোর্টে এক সৌদি আরবের যাত্রী ধরা পড়লেন ব্যাগে করে বিপুল সংখ্যক কুমীর আর সাপ পাচারের চেষ্টায়। তদন্ত চলছে।

ইন্ডিয়ানায় নিজের ছেলের স্ত্রী সেজে মিথ্যে সাক্ষ্য দিয়ে ধরা পড়লেন এক মহিলা। আদালতে বিচারকের এক প্রশ্নের উত্তরে দর্শকাসন থেকে ঐ মহিলা জানান স্ত্রী হিসেবে অভিযুক্তের বক্তব্য তিনি সমর্থন করছেন। বিচারক ছেলেকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। পরে ডেপুটি প্রসিকিউটার তদন্ত চালিয়ে আসল স্ত্রীর হদিস পান। তখন সত্যি ঘটনা বেরিয়ে পড়ে।

পেন্সিলভেনিয়ায় এক বাড়ির আউটগোয়িং মেইল বক্সে সন্দেহজনক একটা পার্সেলের মধ্যে মানুষের দেহভস্ম পাওয়া গেল। প্রাথমিক বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে খুঁজে দেখা হচ্ছে এই চিতাভস্ম কার।

বার্লিনে এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে পোষা কুকুর লেলিয়ে দিলেন এক মদ্যপ। হিংস্র ঐ কুকুরের আক্রমণে অন্তত ৬জন জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। যেহেতু ঐ ব্যক্তি জার্মান, এবং আক্রান্তরা সকলেই ফ্রেঞ্চ, তাই জাতিগত বিদ্বেষের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


আগস্ট ১৯, ২০০৭