খবর্নয়, খবর্দার (জুলাই ২২)


লিখছেন -- দ্বৈপায়ন বসু ও মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


এ সপ্তাহের খবর্নয় -- লিখছেন দ্বৈপায়ন বসু
----------------------------
আজকাল "ওরা' ন্যাপি তেই হ্যাপি
------------------------------------
এতদিন ন্যাপি কেনা, ন্যাপি বদলানো, ন্যাপি পরিষ্কার এই সব নিয়ে চিন্তায় থাকতে হতো নতুন হওয়া বাবা মা দের। কিন্তু এতদিনে হয়তো সমব্যাথি খুঁজে পেলেন তারা। কেনিয়ার লিমুরু শহরে নতুন আইন জারি হয়েছে যে শহরের সমস্ত বাসিন্দা, যাদের পোষা গাধা আছে, তাদের কে গাধা দের জন্য ন্যাপি কিনতে হবে এবং রাস্তায় বার করার আগে তাদের ন্যাপি পরিয়ে বার করতে হবে।
গাধা রা তাদের স্বল্প বুদ্ধি দিয়ে শহরের সমস্ত রাস্তাকেই নিজেদের টয়লেট বলে ভেবে নেয় আর এই ব্যপার টা মোটেই পছন্দ নয় প্রশাসনের। তাই গাধা দের হাত থেকে শহর বাঁচাবার জন্য এই অদ্ভুত পরিকল্পনা নিয়েছেন মেয়র জেমস কুরিয়া। কিন্তু প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি নয় গাধার মালিক রা। তাদের দাবী, সরকারের উচিৎ এরকম হাস্যকর পরিকল্পনা না নিয়ে সরকারের উচিৎ রাস্তা পরিষ্কারের পেছনে বেশী লোক নিয়োগ করা।
একে তো ন্যাপি কেনার খরচ বাড়বে অনেক, তারপর বার বার ন্যপি পাল্টাবার ঝামেলাও খুব। ন্যপি বদলাবার সময় বাচ্চারা যেমন হাত পা ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায় ঠিক তেমন করে যদি গাধারাও প্রতিবাদ জানায় তবে সেটা বড়ই সমস্যার ব্যপার। গাধা দের পায়ের জোর সাংঘাতিক, আর গাধার পায়ের ছোঁয়ায় হাসপাতালে যাওয়া মানুষের সংখ্যা কিছু কম নয় ওদেশে। তবে প্রশাসন চাইছে গাধা দের ন্যাপি পরানোর ওপর তারা প্রশিক্ষন শিবির করবে যাতে সাধারন মানুষকে শেখানো যায় যে কি ভাবে গাধা দের খুশি রেখে তাদের ওপর এই নতুন উৎপাত টা করা যাবে।
বেশ কিছু নাগরিকের আশঙ্কা যে, এই পরিকল্পনা সফল হলে, মেয়র এরপর পোষা গরুদের ও প্যান্ট পরাতে চাইবে। আপাতত দেখা যাক মেয়র সত্যি গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানাতে পারেন কিনা।


চিড়িয়াখানা
----------------------------
শরদিন্দুর গোলাপ কলোনী থেকে সত্যজিতের প্রফেসর ডায়নামাইট, সবার শখ ছিল মানুষ পোষার। বই এর পাতায় সেই সব গল্প পড়তে কিন্তু বেশ ভালো লাগতো। কিন্তু যদি সত্যি কোনোদিন চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখেন পোষা মানুষ রয়েছে তবে কেমন লাগবে?
ঠিক পোষা না হলেও, অনেকটা এমন ঘটনাই ঘটেছে কঙ্গো তে। Brazzaville তে এখন চলছে একটা মিউজিক ফেস্টিভাল, যেখানে সারা দেশ থেকে অনেক ছোট ছোট গ্রুপ এসে যোগ দিয়েছে। ঠিক এমন ই একটা গ্রুপ এসেছে উত্তর পুর্বের লিকৌয়ালা জঙ্গলের পিগমি তরফ থেকে। কিন্তু তাদের থাকার জন্য কোনো হোটেল দেয়া তো দুরস্থান, প্রশাসন তাদের রেখেছে চিড়িয়াখায়। ২২ জন পিগমির একটা দল আপাতত তাঁবু ফেলে থাকছে চিড়িয়াখানার মধ্যে।
তাদের দেখার জন্য ভিড় ও বেড়েছে চিড়িয়াখানায়। সকাল থেকে শুকনো কাঠ পাতা জোগাড় করে তারা রান্না করে তাঁবুর সামনে। সেই সময় ট্যুরিষ্ট রা ঘিরে ধরছে তাঁবু। পিগমি দের সাথে ছবি তোলানোর জন্য রীতিমতন লাইন পরে যাচ্ছে। ফলে আপাতত এই পিগমি দলটার কাছে প্রাইভেসি নামে জিনিস টাই নেই।
তবে মানবাধিকার কমিশন চুপ করে বসে নেই। তারা রীতিমতন তাদের ক্ষোভ জানিয়ে এসেছে হিউম্যান রাইটস মিনিস্টার Aime Emmanuel Yocka র কাছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবী, যেহেতু পিগমী রা জঙ্গলে জীব জন্তু দের সাথেই থাকে তাই তাদের সেই চেনা পরিবেশে রাখার মহৎ প্রচেষ্টা এটা।

ভয় পেও না, ভয় পেও না
-----------------------------
নাহ, সত্যি এবারে ভয় পাওয়ার দিন ফুরিয়ে এলো। সে যতই মার ধোরের কথা বলো বা যতই ভুতের গল্প শোনাও, কিছুতেই আর ভয় পাবো না। কারন MIT র বায়োকেমিষ্ট ডিপার্টমেন্ট খুঁজে বার করে ফেলেছে ভয় কাটাবার নতুন দাওয়াই। Picower Institute for Learning and Memory র একদল গবেষক মানুষ সহ বিভিন্ন ম্যমাল দের ভয় পাওয়ার কারন আর তার প্রতিষেধক বানিয়ে ফেলেছেন।
প্রফেসর লি হুয়েই সাই জানান যে আমাদের ভয় পাওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে Cdk5 নামে এক ধরনের উৎসেচক। যত এই উৎসেচকের পরিমান বাড়ে তত মাথার ভেতর ভয় জিনিস টা ছড়াতে থাকে। কোনো খারাপ ঘটনা থেকে আমাদের যে বাজে অভিজ্ঞতা হয়, সেই অভিজ্ঞতার ডেটা পয়েন্ট গুলো কে নতুন নিউরন সেলে পৌঁছে দেয় এই উৎসেচক আর তার সাথে থাকে p35 নামে এক প্রোটিন। ফলে আমাদের মনে ছাপ থেকে যায় পুরনো ভয়ের।
গবেষকরা তাঁদের পরীক্ষা গুলো চালান দু দল ইঁদুরের ওপর। প্রথমে তাদের কে এমন খাঁচায় রেখে দেয়া হয় যেখানে তারা কারেন্টের হাল্কা শক পেতে পারে। এর পর এক দল ইঁদুরের মাথা তে ঐ বিশেষ উৎসেচকের ঘনত্ত্ব কমিয়ে দেয়া হয়। দেখা যায় যে এই ইঁদুর রা অনেক স্বতস্ফুর্ত ভাবে খাঁচায় ঘুরছে যেখানে অন্যান্য রা ভয় পাচ্ছে খাঁচায় হাঁটা চলা করতে।
MIT র মতে তাদের এই আবিষ্কার post-traumatic stress disorder র থাকা ব্যাক্তি দের খুব কাজে আসবে। আমেরিকাতে এই রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বছরে প্রায় ৫ . ২ মিলিয়ান মানুষ PTSD র শিকার হয় এখানে। ভয় কমাবার এই নতুন ওষুধ এদের কে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
তবে হরর ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি মনে হয় এবারে প্রবল প্রতিবাদ জানানো শুরু করবে।


জন্ম গত মাতলামি
-----------------------------
মাতাল দের নিয়ে গল্পের শেষ নেই চারদিকে। সেই তারাপদ বাবুর বিখ্যাত মাতাল রা নাকি জন্ম থেকেই মালের বোতল নিয়ে পরে থাকতেন। তো এতদিন, অল্প হলেও সন্দেহ ছিল এই ব্যপার টা তে। কিন্তু পোলান্ডে এক সদ্যজাত মাতাল দেখার পর আর কোনো সন্দেহ নেই মনে।
WARSAW শহরের এক হাসপাতালের মেটারনিটি বিভাগে ভর্তি হওয়া মহিলাটির ছিলেন পুরো মাতাল। ফলে শিশু জন্মানোর পরে সেখানকার ডাক্তার রা তার ব্লাড টেস্ট করেন আর জানা যায় যে জন্মানোর ১২ ঘন্টা পরেও শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের পরিমান, ড্রাইভিং অ্যালকোহলের লিমিটের থেকে ছ গুন বেশি। অর্থাৎ শিশুটির জন্ম হয়েছে সম্পুর্ন মাতাল অবস্থায়। ডাক্তার এই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যি চিন্তিত। এই অতিরিক্ত অ্যালকোহল ছেলেটার কতটা ক্ষতি করেছে তা এই মুহুর্তে জানা যাবে না। ভবিষ্যতে হয়তো নানা ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এটা।
এদিকে মাতাল দের নিয়ে এত গল্পের মাঝে, ভারতীয় মাতাল দের জন্য একটা দু:সংবাদ। সমস্ত ইম্পোর্টেড অ্যালকোহল এবং ওয়াইনের ওপর ট্যাক্স বেড়ে দাড়াচ্ছে প্রায় ৫৫০%। EU র এই ব্যপারটা পছন্দ না হওয়ায় তারা মামলা ঠুকে দিয়েছিল WTO তে। কিন্তু আপাতত সেটা সাসপেন্ডেড। ফলে বিদেশী লিকারের জন্য এবারে অনেক বেশি টাকা গুনতে হবে দেশী দের।




এ সপ্তাহের খবর্দার -- লিখছেন মিঠুন ভৌমিক
--------------------------------------
রক্তের রং সবুজ
--------------
কানাডায় একদল শল্যচিকিৎসক জনৈক রোগীর শরীর থেকে কালচে সবুজ রক্ত বেরোতে দেখে অবাক! তক্ষুনি গবেষণা শুরু হল। দেখা গেল একটি বিশেষ ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ভদ্রলোকের ""কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রম"" দেখা দিয়েছে। যার ফলে কিছু নার্ভ এবং টিসু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্তের রং ঘন সবুজ হয়ে গেছে।
ঘটনার সুত্রপাত অপারেশান থিয়েটারে। ভ্যাঙ্কুভারের সেন্ট পলস হাসপাতালে এক রোগীর পায়ের অপারেশান হচ্ছিল। বছর বিয়াল্লিশের ঐ ভদ্রলোক সুমাট্রিপটান-২০০ বলে একটি ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতেন। ফলে তাঁর রক্তের হিমোগ্লোবিনে সালফারের অনুপ্রবেশ ঘটে, দাঁতভাঙ্গা ডাক্তারি ভাষায় যারে বলে "" সাল্ফিমোগ্লোবিনিমিয়া ""। অর্থাৎ ওষুধের সালফার, হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে বসে আছে। তাই রক্তের রং পাল্টে অমন সবুজ।
এই ঘটনায় অনেকের-ই স্ট্রার ট্রেক খ্যাত মি: স্পুকের কথা মনে পড়ে গেছে। ভালকান পিতা ও মানবী মায়ের সন্তান এই চরিত্রের রক্তের রং ছিল সবুজ। কিন্তু কানাডার ঐ ভদ্রলোককে মোটেই স্পুকের সাথে তুলনা করা উচিত নয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরে তিনি আবার স্বাভাবিক র'ঙের রক্ত ফিরে পেয়েছেন। প্রমাণ হয়ে গেছে, তিনি গ্রহান্তরের কুটুম নন, এই পৃথিবীর-ই অধিবাসী। টকটকে লাল রক্ত নিয়ে তিনি চিরসবুজ থাকুন, আপাতত এটাই সবার প্রার্থনা।
( অদূর ভবিষ্যতেই টলিউডে এই নামের সিনেমার বিজ্ঞাপন দেখা যাবে। আপাতত গপ্প ও গান টোকা চলছে। )


সবাই আফ্রিকান
--------------
বিলেতের একদল বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিকতম গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে পড়েছে। প্রায় ছ-হাজারের ওপর করোটি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত করেছেন যে, আধুনিক মানুষের উৎপত্তি আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির একটি বিশেষ অঞ্চল থেকে। সেখান থেকেই তারা ক্রমশ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক মানুষ যে একটি বিশেষ অঞ্চল থেকে আবির্ভূত হয়েছে, জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছুদিন থেকেই তার প্রমাণ পাচ্ছিলেন। আন্দ্রে মানিকা আর তাঁর দলের বিজ্ঞানীরা মিলে জেনেটিক তথ্য আর ৬০০০ করোটির মাপজোক মিলিয়ে এই থিওরির পক্ষে অকাট্য প্রমাণ পেশ করেছেন। এখন, মুশকিল হল,এসব কথায় প্রথম বিশ্বের সাদা চামড়ার নাগরিকদের বেশ অসুবিধেই হওয়ার কথা। এতদিন ধরে এত দুচ্ছাই করে, যখন তখন কিল-চড় মেরে, চোর মিথ্যুক সন্ত্রাসবাদী আর বোকা বলে গাল দিয়ে এসে তারপর কিনা ঐ কেলে ভুসকুন্ডিদেরকেই ভাই-দাদা-কাকা এবং সর্বোপরি বাবা বলে মানতে হবে? কি আপশোষ কি আপশোষ! কেবিসির এক-কোটির থেকেও এর শোক বেশি,ট্রেড সেন্টারের থেকেও এই ক্ষত বিশাল। কিন্তু কি আর করা যাবে, বিজ্ঞান বলে কথা। আর বিজ্ঞান বড়ই নির্মম, তা বাপকেও ছাড়ে না।


টুকরো টাকরা
------------
সবাই চোর, গুন্ডা, ছিনতাইকারির হাত থেকে বাঁচতে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্যে পুলিশেই ফোন করার কথা শোনা যায়নি আগে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই বাস্তব। ফ্লোরিডার এক পানশালায় উৎপাত করার জন্যে পানশালার কর্তৃপক্ষ মারফত সেখান থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ফ্যারেল শেল্টন বলে এক মদ্যপ সেখানে ব্যাপক ঝামেলা করছিলেন তখন। আম্রিকায় যেমন হয়, ডাকামাত্রই বিশাল পুলিশবাহিনী এসে ফ্যারেলকে ঘিরে ফেলে। ঠিক তখনি ফ্যারেল সবাইকে অবাক করে এমার্জেন্সি সার্ভিস ৯১১ ডায়াল করে সাহায্য চায়। যথারীতি আরেকদফা
পুলিশ আসে এবং ফ্যারেল জানায় যে ""পুলিশ এসে ঘিরে ফেলায় সে নিজেকে বাঁচাতে '' ফোন করেছিল। সবাই অবাক আর ততোধিক বিরক্ত । শেষমেশ ফ্যারেলকে গ্রেপ্তার করে নাটকের ইতি। শোনা যাচ্ছে তার একবছরের জেল বা ১০০০ ডলারের জরিমানা হবে।
হট ডগের সাথে খাওয়ার জন্য একরকম বিশেষ সসের ক্যানে বিষক্রিয়ার ঘটনায় খাদ্যরসিক মার্কিনিরা যারপরনাই আতঙ্কিত। দেশের খাদ্য পরীক্ষক সংস্থা অবিলম্বে সমস্ত ঐ জাতীয় সসের ক্যান ফেলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা চার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফি বছর ২৫ জন ক্যানের খাবারের সংক্রমনে আক্রান্ত হন।
এবার প্লেনের মধ্যেই ছেলেমেয়েকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক মহিলা। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কলোরাডো যাবার বিমানে মদ্যপ অবস্থায় ঐ মহিলা তাঁর ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলেমেয়েকে যথেচ্ছ গালাগাল সহযোগে পেটান এবং বিমান ডেন্‌ভারে নামামাত্রই যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হন। বাচ্চাদুটিকে এক আত্মীয়ার বাড়ি এবং মাতৃদেবীকে জেলে চালান করে দেওয়া হয়েছে। তবে তামেরা ফ্রিম্যান নামের ঐ মহিলা কিছুতেই জানাতে রাজি হননি তাঁর ছেলেমেয়ে ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুগছিল কিনা।


জুলাই ২২, ২০০৭