এ সপ্তাহের খবর্নয় ও খবর্দার


লিখছেন -- দ্বৈপায়ন বসু ও মিঠুন ভৌমিক


আপনার মতামত         


খবর্নয় -- দ্বৈপায়ন বসু
-------------------------------
তারি বুনিয়া ব্যাঙ্ক
----------------
Vanuatu নামে ছোট্ট একটা দেশ বা দ্বীপ পুঞ্জের এক অখ্যাত ব্যাঙ্ক। দেশ জোড়া এদের অনেক শাখা প্রশাখা, প্রচুর কাস্টমার, অনেক অ্যাকাউন্ট, চেক বুক এসব তো আছেই; তা ছারা এদের সুদের হার ১৫%। মর্টগেজ লোন, easy credit system সব কিছুর ই ব্যবস্থা আছে। তাহলে হঠাৎ করে আজ এই ব্যাঙ্ক টা খবরে উঠে এলো কেন? সেটা বুঝতে হলে ব্যাঙ্কের আমানত কারী দের সাথে একটু লাইনে দাড়াতে হবে।
স্থানীয় এক অধিবাসী, Vira Sanialo এসে দাড়িয়েছেন সামনের সারিতে। হাতে ধরা আছে একটা ছোট্ট মাদুর আর বুনো শুয়ের দাঁত। ম্যানেজার, Viraleo Boborenvanua কিছুক্ষন খাতা পত্র ওল্টালেন, তারপর নিয়ে নিলেন সেই মাদুর আর বুনো শুওরের দাঁত গুলো। খাতায় তার হিসেব ও লিখে নিলেন। জিনিস দুটো জমা পরে গেলো Sanialo র সেভিংস অ্যাকাউন্টে। ঘটনা টা কোনো রুপকথা নয়, এমন কি ফ্লিন্টস্টোনের কোনো কার্টুন সিরিজ ও নয়। তারি বুনিয়া ব্যাঙ্ক তাদের কাস্টমারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এবং স্থানীয় উপজাতিদের সুবিধের জন্য এই নতুন ধরনের currency system চালু করেছে।
Pentecost island এর এই উপজাতি রা খুব ই গরীব এবং এদের মধ্যে এখনো আমাদের 'সুসভ্য' সমাজের মতন টাকা পয়সার লেন দেন শুরু হয় নি। আজ ও এদের মধ্যে চলে বিনিময় প্রথা। তারি বুনিয়া ব্যাঙ্ক এদের সেই বহু বছরের পুরনো প্রথা ধরে রাখতে এবং এই উপজাতিদের আধুনিক দুনিয়ার 'Capitalism' থেকে দুরে রাখতে চেষ্টা করছে। তাই এদের এই নতুন প্রয়াস। এই ব্যাঙ্কে এখন টাকা পয়সার সাথে জমা পরে হাতে বোনা মাদুর, বুনো শুওরের দাঁত, রঙীন পাথর, বাহারি শামুকের খোলস এমনকি বন্য প্রানীর মাথাও। ব্যাঙ্কের ভল্টে গেলে দেখা যায় দেওয়ালে সারি বদ্ধ ভাবে ঝোলানো আছে অসংখ্য বন্য প্রানীর অংশ।
যদিও এগুলোর মুল্য নির্ধারনের কোনো মাপকাঠি এখনো হয় নি, তাও বাইরের বাজারে এগুলো ২০০ ডলার অব্দি দামে বিক্রি হয়েছে। ব্যাঙ্কের দেখা দেখি স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল গুলো এগিয়ে এসেছে টাকার বদলে স্থানীয় উপজাতিদের থেকে তাদের তৈরি জিনিস টিউশন ফী হিসেবে নিতে। ফলে স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুজোগ বেড়েছে এখানকার মানুষ দের। Vanuatu সরকার ও বসে নেই চুপ করে। স্থানীয় ব্যাঙ্ক এবং স্কুল গুলোর সমর্থনে এই ২০০৭ কে Year of the traditional economy বলে ঘোষনা করেছে সরকার।

বাজারে আগুন
-------------
ঠিক এই মুহুর্তে জিম্বাবোয়ের বাজার গুলোর দিকে যদি তাকাই আমরা, তাহলে ঠিক এই জিনিস টাই দেখতে পাবো। জিম্বাবোয়ের inflation rate এখন ৩,৭০০% , যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদের মতে এটা নাকি ৯০০০%। ফলে সব দিকে, সমস্ত জিনিস হয়ে পরেছে অগ্নি মুল্য। প্রতিদিন বেড়ে চলেছে জিনিসের দাম।
হারারের এক নাগরিক জানালেন যে, ওষুধের দোকানে Phenobarbital কিনতে গিয়ে তিনি দেখেন এক দিনে দাম বেড়ে গেছে ৩০,০০০ জিম্বাবোয়ে ডলার। বছর সাতেক আগে একটা বড় বাড়ির মাসিক ভাড়া যত ছিল,এখন তার থেকে একটা কলার দাম অনেক বেশী, এবং শুধু বেশী নয় প্রায় ১৫ গুন বেশী। একটা মোমবাতির দাম ১২০,০০০ জিম্বাবোয়ে ডলার, যা সরকারের বেঁধে দেয়া নুন্যতম মজুরীর দ্বিগুনের ও বেশী। খাবার জিনিস ক্রমশ ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। ৬০০০ জিম্বাবোয়ে ডলারে বিক্রি হচ্ছে bread , ৬০,০০০ এ রান্নার তেল।
ইতিমধ্যে সরকার কয়েক বার চেষ্টা চালিয়েছে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেঁধে দেয়ার। গত সপ্তাহে Price Control Unit আচমকা হানা দেয় হারারের কিছু সুপার স্টোরে, আর তাদের বাধ্য করে বেশ কিছু জিনিস ৫০% ছারে বিক্রি করতে। কিছু ক্ষনের মধ্যে লাইন পরে যায় দোকানের বাইরে। এক সময় পুলিশ ডেকে অবস্থা সামাল দিতে হয়। সরকার যত দাম বেঁধে দিতে চাইছে জিনিস পত্রের, তত বদলাচ্ছে বাজারের ছবি। যে মুহুর্তে সরকার প্রতি পাউন্ড পাউরুটির দাম বেঁধে দেয়, সেই মুহুর্তেই বাজার থেকে পাঁউরুটি উধাও হয়ে যায়। এখন বেকারি গুলো নতুন রকমের Fancy bread বানাচ্ছে আর তাতে ইচ্ছে মতন দাম বসাচ্ছে।
ছোট ছোট দোকান গুলো বেশীর ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে ইতি মধ্যে। ইলেকট্রিক আর রান্নার গ্যস পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে রান্নার জন্য শুকনো কাঠ, পাতা ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক সময়। Public Tranporation এখন সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। বেশীর ভাগ সময় দেখা যাচ্চে পায়ে হেঁটে কাজের জায়গায় যাচ্ছে মানুষ। দাম দিলেও যে সব সময় জিনিস পাওয়া যাচ্ছে তা নয়। হারারের এক নাগরিক গত এক সপ্তাহ ধরে দুধ আর ডিম খুঁজে পান নি।
ইতিমধ্যে unemployment ৮০% এর ওপোরে চলে গেছে। জমিতে কাজ করার জন্য মজুর পাওয়া অসম্ভব, অথবা জমির মালিকের পক্ষে তাদের পারিশ্রমিক দেয়া অসম্ভব। কালো বাজারী, চুরি, ছিনতাই, আর অপুষ্টি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।
" This isn't living, it's barely surviving '

খবর্দার -- মিঠুন ভৌমিক
--------------------------------
দুর্ভাবনায় চায়না
-------------
২০০৮ এর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের দায়িত্ব পেয়েছে চীন। কিন্তু বেশ কিছু জায়গার অধিবাসীদের দুর্ব্যবহার বিদেশীদের মনে চীন সম্পর্কে বিরূপ ধারনার সৃষ্টি করবে বলে আশংকা সংগঠকদের। চায়না ইউথ ডেইলি সংগঠকদের সহ-প্রধান ঝ্যাং কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, অলিম্পিক আয়োজন করার জন্য জীবনধারণের মানের যে উন্নতির প্রয়োজন তা এখনো চীন করে উঠতে পারেনি। কিন্তু এই অলিম্পিককে উপলক্ষ্য করেই তাঁরা লক্ষ্যে পৌঁছতে চাইছেন। ইতিমধ্যেই বেজিংসহ বিভিন্ন শহরে প্রচার চলছে নাগরিকদের বদভ্যাস দূর করার জন্য। রাস্তায় থুতু ফেলা, লাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া এবং সুযোগ পেলেই আগের লোককে টপকানো ইত্যাদি অভ্যাস যাতে পাল্টানো যায় সেই চেষ্টা চলছে। এছাড়াও কিছু মজার নিয়ম চালু করা হচ্ছে। আইন হচ্ছে যে পুরুষ ট্যাক্সিচালকেরা মাথা ন্যাড়া করতে পারবেন না এবং দাড়ি রাখতে পারবেন না। অন্যদিকে, একই পেশার মেয়েরা চুলের স্টাইল অফ-বিট করলেই আইনের প্যাঁচে পড়বেন। কিন্তু টেকো ট্যাক্সিচালকেরা কি করবেন সেটা জানানো হয়নি, যেমন জানানো হয়নি জন্ম থেকেই অন্যরকম চুলের মালকিনেরা কি করবেন। অবশ্য ২০০৮ আসতে এখনো কিছুটা দেরি আছে। চীন সরকার ততদিনে নিশ্‌চই ব্যতিক্রমের-ও নিয়ম বের করে ফেলবেন।

দুর্লভ শৌচালয়
-------------
এতদিন আমরা জানতাম সুলভ শৌচালয় শহরের স্বাস্থ্যের প্রতীক। কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল, তা একদিন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও পাল্টে দিতে পারবে? হ্যাঁ, ঠিক এটাই হচ্ছে জাপানে এখন। টোকিও থেকে সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, বেশ কিছু সরকারি শৌচালয়ে ১০০০০ ইয়েন (=৮২ ডলার) আর শুভেচ্ছাপত্র সম্বলিত খাম পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ২লাখ ইয়েন পাওয়া গেছে যা প্রায় সাড়ে ষোল হাজার ডলারের সমতুল। শুভেচ্ছাপত্রে লেখা থাকছে , "" অনুগ্রহ করে এই অর্থ আপনার নিজস্ব কাজে ব্যয় করুন'' এবং সেইসাথে "" ব্যক্তিপিছু একটি খামের বেশি নেবেন না''। খবর পাওয়ামাত্রই জনগণ শৌচালয়ের দিকে শ্যেনদৃষ্টি নিয়ে দৌড়েছে। গোয়েন্দারাও নাওয়া খাওয়া ভুলে ইয়েন উদ্ধার করছেন আর তদন্তের জাল বুনছেন। সব মিলিয়ে নাটক জমে ক্ষীর। শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু ব্যাংকের সদর দপ্তর শৌচালয়ে স্থানান্তরিত করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু তদন্তের ফল না জেনে কেউ ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

টুকরো খবর
----------
নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রশ্নে অন্য এক মাত্রা যোগ করে দিল চেন্নাই এর কুমারন সিল্ক। এখন থেকে তাঁরা সমস্ত উৎসবে পরার জন্যে যুগোপযোগী শাড়ি বানাবেন। এইসব শাড়িতে পকেট থাকবে। সুতরাং এখন থেকে শাড়িপরা মেয়েরাও পকেটে হাত দিয়ে নায়িকাসুলভ ভঙ্গিমায় বিচরণ করবেন। এর আগে বাংলায় এক ডিজাইনার শাড়িতে কবিতা লেখার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু কবিতা অনুরাগী জনতা যদি মেয়েদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কবিতা পড়তে চায় তখন কি করা হবে সেই প্রশ্ন উঠেছিল, কারন কবিতা ভালবাসে যে ইভটিজার তাকে আইনের ঠিক কোন ধারায় শাস্তি দিলে তা যথাযথ হবে তা নিয়ে অনেকের-ই সন্দেহ ছিল। পকেটওয়ালা শাড়ি অতবড় বিতর্ক হয়ে উঠতে পারে কিনা এখন সেটাই দেখার। দেশে যখন বস্ত্র-বিপ্লব অন্য মাত্রায় পৌঁছতে চলেছে, বিদেশে তখন বস্ত্র-উন্মোচনের নতুন নতুন উপলক্ষ্য খোঁজা অব্যাহত। মাদ্রিদের রায়ান-এয়ার ঘোষনা করেছিল, টিকিটের লাইনের প্রথম ২০০ জনকে ফ্রি টিকিট দেওয়া হবে, যদি তাঁরা স্নানবস্ত্রে লাইনে দাঁড়ান। যথারীতি সক্কলে ঝেঁটিয়ে বিকিনি/শর্টস পরিহিত-হিতা হয়ে, তোয়ালে হাতে, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে লাইনে দন্ডায়মান(/না)। তবে যাঁরা ২০০ জনের পরে লাইন দিয়েছিলেন, তাঁরা শ্যাম-কুল দুই-ই হারিয়ে কি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন সেটা জানা যায়নি। এইসব গোলমালের মধ্যেই জামাকাপড়ের অন্যরকম এক ঘটনায় বোকার মত কাজ করে দারুন অপ্রস্তুত জার্মান পুলিশ। একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অসম্ভব দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশ সেটিকে ঘিরে ফেলে। ভেতরে কয়েকদিনের লাস পচছে ভেবে সন্তর্পনে তারা ঘরে ঢুকে দেখে দুর্গন্ধের উৎস এক জলজ্যান্ত ব্যক্তির প্রাণবন্ত পদযুগল। ঐ পা আর পাশের ঘরের বহুদিনের নোংরা জামাকাপড় মিলে ঐ প্রচন্ড গন্ধমাদন সৃষ্টি করেছিল। বাজারে জোর গুজব, জার্মানির গোয়েন্দারা নাকি প্রতিরক্ষামন্ত্রককে অনুরোধ করেছেন ঐরকম পায়ের মালিকদের সেনাবাহিনীতে ভর্তি করে নিতে।

জুলাই ১৫, ২০০৭