এ সপ্তাহের খবর্নয়


লিখছেন -- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


মেক্সিকান পাঁচিল
------------------------
চীনের বিশাল পাঁচিল যতই বিখ্যাত হোক না কেন, এই মুহুর্তে যে ছোট্ট পাঁচিল দুই প্রতিবেশী দেশের মাথার ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো মেক্সিকান পাঁচিল। ২০০০ সালের মাঝা মাঝি নাগাদ USA সরকার মেক্সিকান আমেরিকান সীমানা বরাবর নতুন পাঁচিল বানায় বেআইনি অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য। প্রায় ১৫ মাইল লম্বা এই পাঁচিল বানানো হয় মেটাল টিউব মাটি তে বসিয়ে, যার মধ্যে ঢালা হয় কনক্রীট। মাইল প্রতি খরচ পড়ে প্রায় পাঁচ মিলিয়ান ডলার।
সব কিছুই ঠিক ছিল, যদি না কিছুদিন আগের এক রুটিন সার্ভে তে ধরা পড়তো যে এই পাঁচিলের মাইল দেড়েক অংশ তৈরি হয়েছে মেক্সিকোর মাটি র ওপর। কোথাও কোথাও তা ৬ ফুটের বেশী ঢুকে গেছে মেক্সিকোর ভেতর। আপাতত মাথায় হাত আমেরিকার সীমান্ত মন্ত্রকের। চলছে এদিক সেদিক দোষারোপের পালা। Customs and Border Protection এর তরফ থেকে Michael Friel জানিয়েছেন যে যখন ওটা বানানো হয়, তখন নাকি ওটাই সর্বজন গ্রাহ্য সীমানা ছিল দুই দেশের মধ্যে!
এই অঞ্চলের খুব পুরনো এক বাসিন্দা James Johnson এর মতে এই সমস্যার শুরু উনবিংশ শতক থেকে। সেই সময়েই প্রথম দুই দেশের মধ্যে একটা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছিল, আর তখন বিস্তর গলদ ছিল জরিপের কাজে। অথচ এই নতুন পাঁচিল বানাবার সময় সেই পুরনো লাইন ধরেই এগোয় মর্কিন সরকার।
আপাতত মেক্সিকান সরকার একজন ভদ্র প্রতিবেশী হিসেবে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে মার্কিন সরকার যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই পাঁচিল টা সরিয়ে নেয়। মেক্সিকান বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে তারা তাদের জমি খুব তাড়া তাড়ি ফিরে পেতে চায়। আমেরিকান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন পাঁচিল তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ৩ মিলিয়ন। আর নতুন করে পাঁচিল বানাবার পর তবেই পুরনোটা কে ভাঙা সম্ভব।
আপাতত অপেক্ষার আর দেখার যে কে কাকে শেষ অব্দি হাইকোর্ট দেখাতে পারে।




বটিকা ইন্ডিকা
----------------------
প্রফেসর শঙ্কুর সেই বটিকা ইন্ডিকা ট্যাবলেটের সাথে তো সবাই পরিচিত। সেই যে ছোট একটা ট্যাবলেট, বটের পাতার রস থেকে তৈরি হতো, আর একটা ট্যাবলেটেই ক্ষিদে মিটে যেত একদিনের জন্য। ছোট বেলা থেকেই এই রকম একটা ট্যাবলেট খেয়ে দেখার ইচ্ছে হয় নি, এমন বাঙালী কজন আছেন?
তবে এবারে সত্যি হয়তো বাজারে আসতে চলেছে এমন একটা ট্যাবলেট। ইটালীর ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের একদল বিজ্ঞানীর দাবী, যে তাদের তৈরি এই ট্যাবলেট খেলে ঘন্টা পাঁচ ছয় ভর্তি থাকবে পেট। Professor Luigi Ambrosio জানান যে, তাঁদের এক সহকর্মী এই ট্যাবলেট নিয়েছিল সকাল ১১ টায়, আর সন্ধে ৬ টা অব্দি তার পেট ছিল ভর্তি।
হাইড্রোজেল দিয়ে তৈরি এই ট্যাবলেট এমনিতে শুকনো, ছোট্ট দানার মতন, কিন্তু জলের সাথে মিশে জেলির মতন হয়ে যায় এবং ফুলে উঠে ছোট খাট বলের চেহারা নেয়। ফলে এই ট্যাবলেট নিলে পাকস্থলী থাকে প্রায় ভর্তি। সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ থাকার জন্য, পেটের ভেতর জমেও থাকে না এই জেলি।
ওবেসিটি জাতীয় রোগের ক্ষেত্রে এই ধরনের ট্যাবলেট একটা বেশ বড় পদক্ষেপ। আগে যেখানে gastric banding নামে একধরনের সার্জারীর মাধ্যমে পাকস্থলীর সাইজ কমানো হতো, সেখানে এই ধরনের ট্যাবলেট ব্যবহার করলে সার্জারীর প্রয়োজন হবে না কোনো। Professor Ambrosio র মতে কোনো কিছু খাবার ঘন্টা খানেক আগে এই ট্যাবলেট খেয়ে নিলে, পেট ভর্তি হয়ে যাবে অনেক টা। ফলে অতিরিক্ত খাবার অভ্যেস যাবে কমে। আপাতত ২০ জনের ওপর চালানো হয়েছে পরীক্ষা এবং ৯০ জন Overweight মানুষের ওপর নজর রাখা হচ্ছে প্রতিদিন। সমস্ত ঠিক ঠাক চললে ২০০৮ এর মাঝা মাঝি বাজারে পাওয়া যাবে এই নতুন ট্যবলেট।
National Obesity Forum এর ডিরেক্টার Dr David Haslam এর মতে এই পদক্ষেপ সত্যি আশার আলো দেখাবে। তবে উনি চান এই ট্যাবলেটে কিছু খাদ্য গুণ জুড়ে দিতে, যাতে শুধু ট্যাবলেট নির্ভর হয়েই থাকা যায় অনেক দিন। শেষ অব্দি কি হবে তা জানতে গেলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। এই ভাবেই হয়তো একদিন, কল্প বিজ্ঞান আর বাস্তব এসে যাবে পাশা পাশি।


নামাবলী
----------------------
২০০৮ এর Republican presidential election এ ভোট দিতে গিয়ে, ব্যালট পেপারে চেনা অচেনা অনেক নাম হয়তো পাবেন, কিন্তু যদি দেখেন কারোর নামের জায়গায় লেখা আছে Sticky Rice , তাহলে ঠিক কত টা আশ্চর্য হবেন? খুব অদ্ভুত শুনতে লাগলেও ঠিক এমন ঘটনাই ঘটতে চলেছে বোস্টনে। স্টেট সেক্রেটারী William Galvin জানান যে Federal Justice Department চাইছে চাইনিজ ভোটার দের জন্য সমস্ত প্রার্থী দের নাম চাইনিজ অক্ষরে লিখতে।
কিন্তু যেহেতু এই মার্কিনি নাম গুলো লেখার মতন তেমন কোনো চাইনিজ অক্ষর নেই, তাই নাম গুলো কে নানা ভাগে ভেঙে তাদের উচ্চারন অনুসারে বিভিন্ন চাইনিজ অক্ষর কে সাজানো হচ্ছে। ফলে নাম গুলো বদলে যাচ্ছে ভীষণ ভাবে। আরো সমস্যা হলো যে এই ভাবে উচ্চারণ অনুসারে অনুবাদ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে যে এক ই নাম কে অনেক ভাবে লেখা যায়, আর তাদের সবার অর্থও সেক্ষেত্রে যায় বদলে।
ওপরে বলা Sticky Rice নাম টা আসলে Mitt Romney । এই ভাবে Fred Thompson হচ্ছে Virtue Soup । Barack Obama র নাম বদলে যাচ্ছে Oh Bus Horse এ।
স্টেট সেক্রেটারি গ্যালভিনের নাম পড়া যেতে পারে দু ভাবে, High Prominent Noble Educated অথবা Stick Mosquito । আর সবচেয়ে দু:খ জনক অবস্থায় আছেন বর্তমান মেয়র Thomas Menino , যাঁর নাম অনুবাদ করা হয়েছে তিন রকম ভাবে, Sun Moon Rainbow Farmer বা Imbecile অথবা Barbarian Mud No Mind of His Own ।
সমস্যা আরো প্যাঁচালো হচ্ছে ম্যন্ডারিন এবং ক্যান্টনিজ এই দুই আঞ্চলিক ভাগে ভেঙে নাম লিখতে গিয়ে।
তবে গ্যালভিনের এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে Asian American Defense Fund এর সদস্য রা। তাঁরা বলেন যে চাইনিজ খবরের কাগজ গুলো অনেক দিন ধরেই এই ভাবে নামের অনুবাদ করছে। সরকার চাইলে সেই অনুবাদ গুলোকেই ব্যবহার করতে পারে। আর নাম গুলোকে রোমানে না লিখে সংখ্যালঘুদের ভাষায় লেখার এই চেষ্টাতে খুব খুশি civil rights division ।
দশ চক্রে ভগবান ও ভুত হয়, আর এতো শুধু চাইনিজ ভাষার ফাঁদ ...

শিকারী শিকার
-----------------------------
চোরা শিকারি আর বেআইনি মাছ ধরার নৌকা আটকাতে বার বার ব্যর্থ ভারতীয় পরিবেশ ও বন্য প্রানী মন্ত্রক এতদিনে একটা নতুন উপায় খুঁজে বার করেছে। এখন থেকে পুর্ব ভারতের ম্যানগ্রোভ অরণ্য গুলো কে পাহারা দেবে একদল কুমীর। এক কালে চোরা শিকারীদের হাতে পড়ে দুÖপ্রাপ্য হয়ে উঠেছিল কুমীর রা, বিশেষত পুর্ব ভারতে। সত্তরের দশকে এদের সংখ্যা দাড়িয়েছিল ১০০ র কাছাকাছি।
সেই সময় উড়িষ্যা আর পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয় কুমীর প্রকল্প। আর অদ্ভুত ভাবে এই বন্দী দশায় বেড়ে যায় এদের প্রজনন হার। ফলে এখন এই প্রকল্প গুলো পড়েছে মুশকিলে। ভিতরকনিকা কুমীর সংরক্ষণ প্রকল্পে কুমীরের সংখ্যা প্রায় ১৫০০, সুন্দরবনের অবস্থাও প্রায় তাই। তাই আপাতত এদের মধ্যে বেশ কিছু কুমীর ছেড়ে দেওয়া হবে গভীর জঙ্গলে, যে সব জায়গায় চোরা শিকারী আর অবৈধ মাছ ধরার নৌকার উৎপাত খুব বেশি। জলা জমি তে ভর্তি উড়িষ্যা আর সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাঁচাবার এই পরিকল্পনা নি:সন্দেহে খুব অভিনব।
কুমীর প্রজননে বিশেষজ্ঞ রথীন ব্যনার্জির মতে ম্যানগ্রোভের নদী নালাতে এই ভাবে কুমীর ছাড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী দের কেও দুরে রাখা যাবে, ফলে জঙ্গলের পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। যেহেতু পোষা কুকুরের মতন করে কুমীর দের বশ করা যায় না, ফলে এই নতুন প্রহরীরা কাজে আসবে বেশি। estuarine শ্রেণীর এই কুমীররা বেশ বিখ্যত ছোট ছোট নৌকা বা ডিঙি আক্রমণ করাতে। দেখা যাক এই 'খাল কেটে কুমীর আনা' প্রকল্প কতটা কাজে লাগে অমাদের দেশের জঙ্গল গুলোতে।

এক টুকরো
---------------
ব্লেয়ার আর ব্রাউন নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। অজস্র চুল চেরা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ চলছে দুজন কে নিয়ে। এই অবস্থায় বলা অসম্ভব যে ব্রাউনের রাজত্ব শেষ অব্দি কি দাঁড়াবে। তবে ঐ ইংরাজিতে একটা কথা আছে "Stepping into the same shoe" , সেটা কিন্তু অসম্ভব ব্রাউনের পক্ষে।
কারন গত ১৮ বছর ধরে টনি ব্লেয়ার নতুন কোনো জুতো কেনেন নি। ১৯৯৭ থেকে সমস্ত Prime Minister's Questions সেশানে উপস্থিত থেকেছেন এই একই জুতো পায়ে। Church কোম্পানির তৈরি ঐ জুতোর সেই সময় দাম ছিল ১৫০ পাউন্ড, এখন বেড়ে হয়েছে ২৯০ পাউন্ড। আশা করা যায় এত পুরনো জুতোর দিকে ব্রাউনের চোখ যাবে না।


জুলাই ৮, ২০০৭