সমকাম


লিখছেন -- সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


সমকাম এক
-----------
বিপ্লব শেষ করে নেপালের মাওবাদীরা ক্রমশ: ক্ষমতার জুতোয় পা গলাচ্ছেন। নেপালের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পেয়েছেন মাওবাদী মন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা। এতদিন টিভিতে নেপাল সুন্দরী প্রতিযোগিতার সরাসরি সম্প্রচারের তুমুল বিরোধিতা করে আসার পর, দপ্তরের দায়িত্ব হাতে পেয়েই মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতির পর্যালোচনার পর, সম্প্রচার বাতিল করা সম্ভব নয়। দুর্জনে দাবী করেছেন, যে, বাস্তব পরিস্থিতি বলতে এখানে সরকারি চ্যানেল আর সুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকেও বোঝানো হচ্ছে।

আর এক হেভিওয়েট মাওবাদী মন্ত্রী দেব গুরুং গায়ে চড়িয়েছেন "সামন্ততান্ত্রিক' রাজার পোশাক, হাতে যদিও তাঁর "বৈজ্ঞানিক' সমাজতন্ত্রের পতাকা। সংবাদমাধ্যমে তিনি তুমুল তোপ দেগেছেন সমকামিতার বিরুদ্ধে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, যে, গুরুং এ ব্যাপারে একা নন। গত বছর ডিসেম্বরেই কাঠমান্ডুর মাওবাদীরা শহরের বাড়িওয়ালাদের জানিয়ে দিয়েছিল, যে, সমকামীদের বাড়িভাড়া দেওয়া চলবেনা। আরও জানা গেছে, যে, মাওবাদী মহিলা সংগঠনের নেত্রী অমৃতা থাপা গতবছরই একটি সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, যে, সমকামিতা "অস্বাভাবিক', এবং সমাজকে "দুষিত' করছে। চিন্তাভাবনার এই ঘরানার "যৌক্তিক' এবং "বৈজ্ঞানিক' পরিণতি হিসাবেই এসেছে গুরুং এর বিবৃতি। সেই বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে, সোভিয়েত শাসনের সময়ে রাশিয়ায় আর সত্যিকারের সমাজতান্ত্রিক চিনে কোনো সমকামী ছিলনা। এবং এখন, যখন এই দেশগুলি পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন সেখানে সমকামিতা আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। অতএব, তিনি জানিয়েছেন, সমকামিতা পুঁজিবাদী সমাজের ফসল, সমাজাতান্ত্রিক সমাজে এই "সমস্যা' নেই।

অতএব,অতএব সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে ছেড়ে নতুন "শত্রু' খুঁজে পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সমকামিতা একটি সমস্যা। পুঁজিবাদই তার কারণ। এবং সমাজতন্ত্রই তার ওষুধ।


সমকাম দুই।
-----------
কেরালার ক্যাথলিক চার্চের ফাদাররাও এই ব্যাপারে গুরুং এর সঙ্গে একমত হবেন। সম্প্রতি সমকামিতার কোট্টায়ামের সেন্ট জোসেফ কলেজ অফ কমিউনিকেশনসের পাঁচজন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হল। না, সমকামী আচরণের জন্য নয়, সমকামিতার উপরে একটি ফিল্ম বানানোর জন্য। এঁদের মধ্যে একজন পরিচালক, এবং বাকিরা অভিনয় করেছিলেন। কলেজটি ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত।

সংবাদসূত্রে জানা যাচ্ছে, যে, স্থানীয় স্তরের একটি ইন্টার কলেজ উৎসবের জন্য বানানো হয়েছিল ফিল্মটি। শুটিং হয়েছিল ক্যাম্পাসে এবং হস্টেলে। জনতার জন্য প্রদর্শনের কোনো পরিকল্পনা ছিলনা। ফিল্মটিতে অভিনয়কারী জনৈক ছাত্র জানাচ্ছেন, যে, তাঁদের ফিল্মে আংশিক নগ্নতা ছিল, যদিও সেটা চিত্রনাট্যের প্রয়োজন মেনেই। "যাই থাকুকনা কেন' ছাত্রটি জানিয়েছেন, "ফিল্মটা জনতার দেখার জন্য ছিলনা, ছিল একটা নির্দিষ্ট উৎসবের দর্শকদের দেখার জন্য। ওরা অনর্থক ঝামেলা পাকাচ্ছে'।

ছাত্রদের কাছে ফালতু ঝামেলা বা যাই হোক না কেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কিন্তু সিরিয়াস। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, যে, কলেজ যে ভব্যতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের কথা বলে, তার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে ছবিটি। সিনেমাটি যুবসমাজকে ভুলপথে চালিত করতে পারে। ছবিটিতে নগ্নতা আছে, এবং এটি বানানোর সময়ে হস্টেল এবং কলেজ ক্যাম্পাসের চূড়ান্ত অপব্যবহার করা হয়েছে। এই সমস্ত অপরাধের কারণে ঐ পাঁচ ছাত্রকে শো কজ করা হয়েছিল মার্চের শেষে, এবং তাদের উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় এপ্রিলের শুরুতেই বহিষ্কার করা হয়েছে।

মন্তব্য নিÖপ্রয়োজন। শুধু এইটুকু নথীভুক্ত থাক, যে, সমকাম অপরাধ। ভব্যতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সমকামিতার উপর ফিল্ম বানানোও অপরাধ। এবং বহিষ্কারই তার সমাধান। অথবা, সমকাম একটি সমস্যা, পুঁজিবাদই তার কারণ, এবং সমাজতন্ত্রই তার ওষুধ।

দুগ্গা দুগ্গা।