চুমু কান্ড


লিখছেন -- সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


চুমু কান্ডের পর এখন কিষ্কিন্ধাকান্ড -- শিল্পা শেঠি আর রিচার্ড গেরের বংশদন্ড। যদ্দুর যা জানা যাচ্ছে, প্রকাশ্য মঞ্চে এই যুগলের চুম্বনের দৃশ্যে ব্যথিত হয়ে জনৈক আইনজীবী জয়পুরে একটি জনস্বার্থ মামলা ঠুকেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে কোর্টে চুমু খাবার দৃশ্যখানি মাগনায় দেখানো হয়। সত্যযুগ হলে এর পর অগ্নিপরীক্ষা এবং সীতার পাতালপ্রবেশ হত। কলিযুগ বলে অন্য ব্যবস্থা, মেরেকেটে তিন মাসের জেল -- ভিডিও ক্লিপিং খুঁটিয়ে দেখে জনৈক বিচারক জানিয়েছেন, যে, এটি অত্যন্ত যৌন উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ। অতএব অবিলম্বে রিচার্ড গেরেকে হাজতে পোরা প্রয়োজন। আর শিল্পার ভূমিকাও অত্যন্ত নিন্দনীয়, কারণ শিল্পা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে গেরেকে প্ররোচিত করেছেন, অতএব তাঁকেও সমন ধরানো প্রয়োজন।

কেসটা অতি সিরিয়াস, আদালতে বিচারাধীন, অতএব এ নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি একদম নয়। তবে এ থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রীদের কপাল পুড়ল বলে। এতদিন ধরে ভারতীয় সংস্কৃতির যে পরিমান ক্ষতি তাঁরা করেছেন সেসব সুদে আসলে আদায় করা হবে। এবার সেলুলয়েডে বা ডিজিটাল মিডিয়ায় এতদিন ধরে বন্দী হয়ে রাখা চুমুর দৃশ্য ঝপাঝপ আদালতে পেশ করা হবে। বিচারক খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন তাতে যৌন উত্তেজনা জাগছে কিনা। মহিলাটি লাজবতী হয়ে যথেষ্ট পরিমানে আপত্তি জানিয়েছেন কিনা সেটাও কাউন্ট করা হবে। তারপর নায়ক-নায়িকাদের টপাটপ হাজতবাস। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এই দীর্ঘ লিস্টির প্রথমেই আছেন শাহিদ এবং করিনা কাপুর। তাঁদের উত্তেজক চুম্বনদৃশ্য এখন নেটেই সুলভে পাওয়া যায়, কোনো আইনজীবী নিশ্‌চয়ই সযতনে জমিয়ে রেখেছেন, শুধু আদালতে পেশ করার অপেক্ষা। এর পরেই আসছেন ঋত্বিক রোশন এবং নববধূ ঐশ্বর্য রাই। ধুম টুতে এঁদের নাকি একটি দীর্ঘ চুম্বনদৃশ্য ছিল, যা হৈ হট্টগোল হবার পরে ছেঁটে ছোটো করা হয়েছে। কি বলছেন? ওটা ফিল্মের দৃশ্য, বাস্তব জীবনের নয়? আ মোলো যা, সিনেমা কি ম্যাজিক শো নাকি, যে চুমু না খেলেও ছবি উঠে যায়? রীতিমতো বিস্তর লোকজন যোগাড় করে ঢাকঢোল পিটিয়ে শুটিং করা হয়েছে, মিনিমাম পঞ্চাশটা লোকের সামনে চুমু খেয়েছেন বাবু-বিবিরা, এখন ওটা পাবলিক প্লেসে চুমু খাওয়া নয় বললে চলবে? সোজা হিসেব, ফিল্মের যৌন দৃশ্য মানেই তা পাবলিক প্লেসে অশ্লীলতা, কারণ তা পাবলিক প্লেসে শুট করা হয়েছে।

এই সূত্র ধরে, বুঝতেই পারছেন, আরও গুচ্ছ খানেক অভিনেত্রীর কপাল পুড়ল। অভিনেতাদের জেল এবং হাজতবাস প্র্যাকটিসই আছে, তাঁদের কথা ধরা হচ্ছেনা। তাছাড়া, সনাতন নারীধর্ম পালন না করে যে অভিনেত্রীরা চুম্বনে বাধা দেননা, যৌনতায় প্ররোচনা দেয়, তাদের আলাদা করে কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেবারও প্রয়োজন আছে। এরা ভুলে গেছে, সনাতন ভারতীয় নারী বাচ্চা-কাচ্চা বানানোর পবিত্র কর্ম ছাড়া কখনও যৌনতায় স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেনা। এরা ভুলে গেছে, আদর্শ ভারতীয় নারী হিন্দি সোপ অপেরার নায়িকার মতো "ছোড়িয়ে না' বলে আক্রমণাত্মক স্বামীকে নিখুঁত ডজ করে সলাজে রাত্রিকালীন কাঞ্জিভরমে শাশুড়ির সঙ্গে শুতে যায়। এরা নারীত্বের অপমান, ভারতীয়ত্বের অপমান। শিক্ষাদানকালে কোনো বেটি যেন বাদ না যায়। সে এখনকার নচ্ছার আইটেমগার্ল গুলিই হোক বা ব্যান্ডিট কুইনের সীমা বিশ্বাস। কুড়ি বছর আগের স্নানরতা মন্দাকিনীই হোক বা আরও আগের ডিম্পল কাপাডিয়া, প্রতিমা বেদি।

এবং সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সমস্ত জায়গার মতো ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিতেও কিছু ছুপা রুস্তম আছে, তারা যেন কিছুতেই রেহাই না পান। মনে আছে, কবছর আগে শাবানা আজমী নামক এক অভিনেত্রী প্রকাশ্যে এক বিদেশীকে চুমু খেয়েছিলেন? তখনও টিভি চ্যানেলের এতো রমরমা হয়নি বলে হইচইটা কিছু কম হয়েছিল। কিন্তু আমরা সে দৃশ্য ভুলিনি, আর টিভি ক্যামেরায়ও সেসব বিলকুল ধরা আছে। বিশিষ্ট আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে একটু খোঁজ খবর করে একটা সিডি জোগাড় করে দৃশ্যটি আদালতে পেশ করুন প্লিজ, তারপর খেলা জমে যাবে। সঙ্ঘ পরিবার ক্ষমতায় নেই তো কি হয়েছে, সেই একই কুর্সিতে বসেছেন যোগ্য উত্তরসূরী ঘরের ছেলে প্রিয়দাসমুন্সি, যিনি স্রেফ বাঁ হাতের কড়ি আঙ্গুল নাড়িয়ে বন্ধ করে দেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, কাজেই সমর্থনের অভাব হবেনা। বিচারক ভিডিও দেখে চুমুতে যৌনতার পরিমাপ করবেন, প্ররোচনা দেবার জন্য তিরস্কার করবেন শাবানাকে। আর কপাল ভালো থাকলে ভারতীয় সংস্কৃতিকে বেইজ্জত করা সেই বজ্জাত বিদেশীকেও হাজতে পুরতে পারবেন, যাঁর নাম নেলসন ম্যান্ডেলা।