L§VLQ¡9 3


শয়রর


আপনার মতামত         


      অপহরণ, অপহরণ

চাদ্দিকে এখন অপহরণ অপহরণ হাওয়া। লোকে গপগপ করে চা আর লেড়ো বিস্কুট সহযোগে সাতসকালে গিলছে তাজা নিউজপ্রিন্ট,খবরের কাগজের পোয়াবারো, হাইটেক তদন্ত করে শিগগিরিই ভারত্ন পুরষ্কার পেতে চলেছে বঙ্গের পুলিশ। পাব্লিকেরও মস্তির শেষ নেই, এইফাঁকে শিখে নেওয়া যাচ্ছে অপহরণের নতুন নতুন কায়দা, শার্লক হোম্‌স টোম্‌স ছাড়ুন, স্বপনকুমার, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, স্বয়ং স্বপনকুমার অব্দি গোয়েন্দা গপ্পে এইরকম অপহরণের কাহিনী লিখতে নির্ঘাত ভির্মি খেতেন। ভাবুন একবার, বোসেদের বাড়ির রমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে পাড়ার বীর মস্তান গজা, যাকে বোসেদের বাড়িশুদ্ধু সক্কলে চেনে তো বটেই, এমনকি বোসেদের জানলায় ঝুলতে থাকা ময়নাটা অব্দি গজাকে দেখলেই গান ধরে গজা মেরে রাজা, আজা আজা আজা। অপহরণের পর প্রেস, ফটোগ্রাফার, জনমত, বিরোধীপক্ষের হুঙ্কার, সে এক রোমহর্ষক গপ্পো, ভীতিপ্রদ মেলোড্রামা। তাপ্পর যথাক্রমে মুক্তিপণ দাবী ও আদায়, এবং ইন্টারভ্যালের ঠিক আগে আগে রাজকন্যে আবার ফিরে আসছে যথাস্থানে।

ইন্টারভ্যালের আগে অব্দি এই জটপাকানো তবু ঠিক আছে, কিন্তু জট ছাড়াতে গিয়ে চিত্রনাট্য এক্কেবারে কাঁথাকাচা। একটু লেট এন্টি নিয়ে, ইন্টারভ্যালের ঠিক পরে আসরে নামছেন দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা, দুই হাত যাঁর অরণ্যদেবের গতিতে চলে, হুঙ্কারে যিনি টারজানতুল্য, আর বুদ্ধিবৃত্তিতে গোয়েন্দা দীপকও যাঁর কাছে দুধের শিশু। অপহরণ কে করেছে? খুঁজে পেতে গোয়েন্দা প্রয়োজনে গামলা চড়েই সাগর পার হন, এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ম্যারাথন দৌড়ে নামেন, জলহস্তীর সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে ব্যথা করেন, এবং সবশেষে স্যাটেলাইটে চড়ে মোবাইল ফোনের সিগনালে কান পেতে গোপন সংকেত ডিকোড করে বুঝতে পারেন, যে গজা, গজাই হল আসল কোহিনূর। এদিকে গুরুর অ্যাকশান দেখতে দেখতে আর হাততালি দিতে দিতে জনতা এতই কেলিয়ে পড়া ক্লান্ত, যে কারো আর খেয়ালই পড়েনা, যে এই কোদাল কোপানো পরিশ্রম না করে বোসেদের রমাকে জিজ্ঞেস করলেই তো কঅখঅন বলে দিত গজার নাম, রমা তো গজাকে দিব্যি চেনে। কিন্তু ঐ একলাইনে শেষ করে দিলে ফিলিম চলবে কিকরে, হাজার হলেও হিন্দি ফিলিম তো।

আর হিন্দি ফিলিম বলেই চিত্রনাট্য এখানেও ক্ষান্ত দিচ্ছেনা। জানা যাচ্ছে ভিলেন গজা শুধু রমার শত্রু নয়, দেশের শত্রু, দশের শত্রু। দুনিয়াজোড়া যাবতীয় অপরাধ, গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে, ঐ এক গজারই কির্তী। ফিলিম এখনও শেষ হয়নি। সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা এলে, গোয়েন্দা-ভিলেনে সব ঝাড়পিট, সব লেনদেন শেষ হলে হিন্দি ফিলিমের শেষ দৃশ্যে যথারীতি ঢুকে পড়েছে "কানুন', এবার দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন দিয়ে শেষ দৃশ্য অভিনীত হবে, আর আমরা দর্শকেরা প্রবল করতালিতে হল ফাটিয়ে দেব।




      সন্ত্রাস, সন্ত্রাস


শুধু অপহরণ নয়, দিগ্বিদিক ছেয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসেও। চারিদিকে এখন সন্ত্রাসের বিষবাষ্প, সূর্যের সোনারোদ ঢেকে যাচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিতিকিচ্ছিরি পলিউশনের মেঘে। উত্তরবঙ্গে গন্ডার খুন? সন্ত্রাসবাদীদের অপকীর্তি। চিড়িয়াখানায় বিরল প্রজাতির উটপাখির ডিম উধাও হয়েছিল দশ বছর আগে? আগে জানা যায়নি, সন্ত্রাসবাদীরা করেছিল। দীঘায় সমুদ্রের ধারে তিন বাক্স অব্যবহৃত কন্ডোম পাওয়া গেছে? সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আবার কি? দিনে দুপুরে ইস্টিশানে মেয়ে অ্যাথলিট ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে গলা তুলতে গিয়ে রামধোলাই খেয়েছে? সন্ত্রাসবাদী তো বটেই, নইলে মেয়ে হয়ে হাফপ্যান্ট পরে মাঠে নেমে দিনেদুপুরে দৌড়োদৌড়ি করে, আবার সিটি মারলে রুখে দাঁড়ায়? হলদিয়ায় পথনাটক করতে গেছে থিয়েটার গ্রুপ? সন্ত্রাসবাদী ছাড়া আবার কি, নইলে কাজকর্ম নেই রাস্তায় রাস্তায় নাটক করে বেড়ায়? সন্ত্রাসবাদী না হলে তো কলকাতা শহরে হল ভাড়া করেই নাটক করতে পারত,চাড্ডি হাততালি জুটত, চাইকি কাগজে দুলাইন। সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মাইক ধরে প্রচার করে চাড্ডি অকালকুষ্মান্ড যুবক? এরা তো শিওর সন্ত্রাসবাদী, নইলে কি আর বাড়িতে মাও এর বইপত্তর পাওয়া যায়?

এই ভুবন বিস্তৃত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ চলছে চলবে। কয়েকদশক আগে লাঠিচার্জ করে তারকেশ্বরে ট্রেনের কামরা খালি করে দিয়ে সন্ত্রাসবাদী ডেলি প্যাসেঞ্জারদের হাত থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীজায়াকে উদ্ধার করেছিল বীর পুলিশবাহিনী। আর বর্তমান রাজকন্যে উত্তরবঙ্গ সফরে গেলে ভার্চুয়াল তরোয়াল চালিয়ে গোটা জঙ্গল সাফ করে সমূলে উচ্ছেদ করা হয় সন্ত্রাসবাদী টুরিস্টবাহিনীকে। লড়াইয়ের কায়দা বদলেছে, কিন্তু রুচন্ডালি মার্কা কয়েকজন পিছনপাকা আঁতেল ভুরু কুঁচকে তাকাচ্ছে বলেই কেউ যদি ভাবেন যুদ্ধ শেষ, তবে তিনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।