L§VLQ¡9 2


শয়রর


আপনার মতামত         



            ভেঙ্গেছ দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময়


সংবাদে প্রকাশ, যে মেয়েদের হোস্টেলে জনৈকা ছাত্রী তার পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে প্রবেশ করার অপরাধে হোস্টেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির সুপ্রাচীন জীর্ণ ভবনে যেহেতু ঐতিহ্যপূর্ণ বাস্তুঘুঘুদের বাসস্থান, অতএব, আমরা এই মূহুর্তে ভুলে যাব, যে ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা খোঁয়াড়ে ভরে রাখাটা প্রাগৈতিহাসিক একটি প্রথায় রূপান্তরিত হতে চলেছে সারা বিশ্ব জুড়ে, ভুলে যাব, যে এই অ্যান্টি ব্যারাকিং মুভমেন্ট থেকেই শুরু হয়েছিল সত্তরের দুনিয়া কাঁপানো সেই ফরাসী বিপ্লব। বরং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা হাত ধরে হাঁটলে হৈ হৈ করে তেড়ে আসেন ছাত্র সংসদের দাদারা, সেখানে এই বহিষ্কার স্বাভাবিক বলেই মেনে নেব এবং খুঁটিয়ে দেখব তদন্ত কমিটির রিপোর্ট। শুধু মজা নয়, তদন্ত কমিটি তার সুভাষিতাবলীতে জানিয়েছেন, উক্ত ছাত্রছাত্রীদ্বয় আরও গর্হিত কোনো কাজে লিপ্ত ছিলেন, যে কারণে এই বহিষ্কার। আমরা ছ্যাবলাকাটিং ছেলেছোকরারা এই কথা শুনে বালকোচিত চাপল্যে মোটেই প্রশ্ন করবনা, কি হয়েছে কেসটা মামা একটু খুলে বলতো? বরং চোখে চশমা এঁটে একে অপরের কানে গুজগুজ করে বলব, ছি ছি কি অসভ্যতা।
এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার ছাত্রীরা, কান খুল কর শুনে নিন, যদিও শাস্ত্র আমরা মানিনা, তবুও, ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপ:এই কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবেন। আপনার বয়স আঠারোই হোক বা আঠাশ, ভোটাধিকার থাক বা না থাক, যতদিন ছাত্রাবস্থা, ততদিন ব্রক্ষ্মচর্য। যৌনতা চলিতে পারে, তবে কেবল প্রপার চ্যানেলে এবং প্রয়োজনে। যথা, বিয়ে করে বরের সঙ্গে, যাতে সে আপনাকে আরও পড়তে দেয়। যথা, বিভাগীয় অধ্যাপকের সঙ্গে, যাতে বাংলায় ফার্স্ট ক্লাসটা বাঁধা থাকে। মনে রাখবেন রবিঠাকুর বলেছেন, তমসো মা জ্যোতির্গময়, অর্থাৎ ঝোপে ঝাড়ে অন্ধকারে নয়, শুধুমাত্র জ্যোতির্ময় পথে গমন করে বিমলানন্দ লাভ করুন।


             আরও একটি নীতিশিক্ষা

মেয়েদের জন্য আরও একটি নীতিশিক্ষা। মণিপুরের মেয়েরা যা কান্ডটি কল্লেন, তাতে আপনারা, বাংলার মেয়েরা, সাপের পাঁচ পা দেখবেননা যেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দিল্লীতে কান্নাকাটি আর নিজভূমে লম্ফঝম্প করছেন দেখেও বিভ্রান্ত হবেননা, সমারসল্টের সহজাত দক্ষতা ওনার সিভির স্কিলসেটে এক নম্বরে আছে। যে যাই বলুকনা কেন, উপদ্রুত আইন ওখানে চলছে চলবে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাই, যে, ঐ মেয়েগুলোর সবকটাকে একটা একটা করে ধরে জেলে ঢোকাতে পারলেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উচ্চিংড়েগুলোর তিড়িং বিড়িং কমে আসবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটাকে পাকড়েছি, যে কটা বাকি রয়ে গেছে তারাও ধরা পড়বে,পালিয়ে যাবে কোথায়? দেশটাতো আমেরিকা হয়ে যায়নি এখনও,সভ্যতা ভদ্রতা সৌজন্য, নারীর শালীনতা এখনও আছে। মহান ঐতিহ্যমন্ডিত দেশ আমাদের,যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, নারীকে পুরুষরা মাথায় তুলে রাখেন। ছোটবেলায় পরীক্ষার খাতায় রচনায় লেখেননি &হয়ষঢ়;উৎসবের দিনে ছোটোরা বড়োদের প্রণাম করে, বড়োরা ছোটোদের আশীর্বাদ করেন, সমবয়সীরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে'? তাহলে? তবে মনে রাখবেন,এই কোলাকুলি যদি রাস্তাঘাটে জামাকাপড় খোলাখুলি হয়ে যায়, তবে অসভ্যতা করার শাস্তি একমাত্র আসাম রাইফেল্‌স ই দিতে পারে। সব কটা মেয়েকে ওদের ব্যারাকে পাঠিয়ে দিতে পারলে যথার্থ সুশিক্ষা হত। তা আর হবে কিনা জানিনা, তবে অবস্থা একটু ঠান্ডা হলেই শালীনতার শুভঙ্করী শিক্ষাবিতরণের জন্য কলকাতা থেকে অধ্যক্ষমশাইকে নিয়ে যাবার কথাও আমাদের মাথায় আছে।
আর হ্যাঁ, আপনারা হুজুগে জাত, তাই আরেকটা কথাও বলে রাখি, খুন ও ধর্ষণের জন্য আসাম রাইফেল্‌সের আবার ফাঁসি চেয়ে বসবেননা যেন। মনে রাখবেন, যৌনাঙ্গে বন্দুকের ব্যারেল ঢোকালে পেনাল কোডানুসারে, তা ধর্ষণ নয়। আর হত্যাও কোনো অপরাধ নয়, যদি তা দেশের স্বতন্ত্রতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।