বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : মেধাচর্চা তথা উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে মোদী সরকার নামিয়ে এনেছে এক দূর্বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Anjan Majumder
          IP Address : 7845.11.3445.42 (*)          Date:14 May 2019 -- 09:29 AM




Name:   Anjan Majumder           

IP Address : 7845.11.7867.242 (*)          Date:14 May 2019 -- 10:11 AM

বিজ্ঞান এবং মেধা চর্চার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক
মূল রচনাঃ রামচন্দ্র গুহ
অনুবাদঃ অঞ্জন মজুমদার

নরেন্দ্র মোদী সরকারের অত্যন্ত প্রিয় একটি শব্দবন্ধ হলো ‘’সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’’। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানী ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার একটি আক্রমণের ঘটনার পর থেকে এর উদ্ভব। লক্ষ্য করার বিষয় হলো যে সেনাবাহিনীর দিক থেকে কথাটা কিন্তু মোটেও আসেনি। বরঞ্চ, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রচারমাধ্যম শব্দবন্ধটির জন্ম দেয়। ঐ একই বছর, নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর আচমকা ১০০০/- এবং ৫০০/- টাকার নোট বাতিল করার প্রাণান্তকর সিদ্ধান্তকেও, শাসক দলের কোনও মুখপাত্র, ‘’সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’’ (কালো টাকার বিরুদ্ধে) বলে উল্লেখ করেছেন।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘’সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’’ মোটেই কার্যকরী হয়নি। পাকিস্তানী সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশজনিত হামলার বিরুদ্ধে আমাদের সুরক্ষাবাহিনীকে প্রতিদিন যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়। কালো টাকার প্রশ্নে ‘’সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’’ বিপরীত ফল দিয়েছে। নোট বাতিল একদিকে যেমন কালো টাকা নির্মূল করণে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য দিকে নগদ লেনদেনের উপর অনেকটা নির্ভরশীল অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোগকে দেউলিয়া বানিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছে। বীজ অথবা সার কেনবার টাকায় আচমকা টান পড়ে যাওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ কৃষককে নিজেদের অর্থনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে হিমসিম খেতে হয়েছে।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠী, অবশ্য, অন্য এমন একটি ‘’সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’’ চালিয়েছেন, যার কার্যকারিতা সম্পর্কে কিন্তু কোনো প্রশ্ন হবেনা। ২০১৪ সালের মে মাস থেকে মোদী সরকার মেধাচর্চার বিরুদ্ধে এক ধরণের যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। এই প্রয়াসগুলি খুবই সফল হয়েছে – যার ফলস্বরূপ এইসব শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মনোবল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ভেতরে ভেতরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমগ্র ভারতবর্ষে, এমনকি বিশ্বজুড়ে যে স্বীকৃতি তারা দীর্ঘকাল যাবত অর্জন করেছে এবং তা ধরেও রেখেছিল, সেগুলি দ্রুতহারে নষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে যাদের পছন্দ করে নেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা থেকে এটা পরিষ্কার যে, স্কলারশিপ এবং স্কলারদের প্রতি কতোটা অবজ্ঞা এবং তাচ্ছিল্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বহন করেন। মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের (HRD) দুজন মন্ত্রী হিসেবে যাদের তিনি নিযুক্ত করেছেন, শিক্ষা অথবা গবেষণা নিয়ে তাদের কোনোরকম প্রেক্ষাপট বলে কিছু নেই, এমনকি এসব বিষয়ের অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে নেওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহও নেই। এমনটা দেখা গেছে যে, কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দেওয়া কিছু ইশারা তারা নিয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টরিক্যাল রিসার্চ এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ সংস্থাগুলির প্রধান হিসাবে সঙ্ঘ আদর্শে আবদ্ধ ন্যূনতম পণ্ডিতীয় কুলুজিবিহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়েছে। আবার কখনও আরএসএস-এর ছাত্র শাখা, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর কাছ থেকে ইশারা গ্রহণ করেছে। হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশের সেরা দুই সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। উভয় ক্ষেত্রেই এবিভিপির প্ররোচনায় HRD মন্ত্রক অবিরাম নির্দয় শত্রুতা নামিয়ে এনেছে। এবিভিপির প্রচারে এই প্রতিষ্ঠান দুটির ছাত্র সম্প্রদায় প্রভাবিত না হওয়ার ফলে তারা মরীয়া হয়ে উঠেছিলো এবং যেন তেন প্রকারেন সংস্থাটিতে প্রবেশ করতে চেষ্টা করেছিলো।

দক্ষিণপন্থী আদর্শে উদবুদ্ধ কিছু ব্যক্তি এমনটা দাবী করেন যে, এটি নাকি এক ধরণের গতিপথ সংশোধন — অতীতে বিদেশী ভাবধারার মার্ক্সবাদী আদর্শে উদবুদ্ধ মানুষেরা এখানে প্রাধান্য পেয়েছেন, আর এখন তাদের সরিয়ে দিয়ে স্বদেশী দেশপ্রেমিক মানুষেরা সেখানে স্থান করে নিচ্ছে। যদি এমনটা হতো যে, মেধা এবং জ্ঞানচর্চার উপর মোদী সরকারের আক্রমণ শুধুমাত্র সমাজবিজ্ঞান আর হিউম্যানিটিসের মতো বিষয়গুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তাহলে হয়তো এই দাবীর পিছনে কিছু সারবত্তা খুঁজে পাওয়া যেতো। কিন্তু বিষয় মোটেই সেরকমটা নয় — এটা এমনই এক আক্রমণ যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানকেও পুরোপুরি আক্রমণের নিশানা করেছে। একদম শীর্ষ অবস্থান থেকে শরনিক্ষেপ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দাবী করছেন যে, প্রাচীন ভারতীয়রা প্লাস্টিক সার্জারি আবিষ্কার করেছেন। এমনকি টেস্টটিউব বেবি তৈরি-ও (In-Vitro Fertilization) নাকি প্রাচীন ভারতেরই আবিষ্কার। এছাড়াও, বিজ্ঞান ও কারিগরি বিভাগে মন্ত্রী হিসাবে তিনি যাকে নিয়োগ করেছেন, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, ‘’আধুনিক ভারতের প্রতিটি সাফল্য, প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানের সাফল্যের ধারা বেয়ে সংঘটিত হয়েছে’’। এছাড়া, আরও বিশ্বাস করেন যে, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন যেসব তত্ত্বের জন্য পরিচিত, বেদ শাস্ত্রে তার নিশ্চিত আভাস ছিলো।

কোনো ব্যক্তিগত পরিসরের আলোচনা কিম্বা আরএসএস-এর কোনো আখড়াতে এইসব দাবি উঠে এসেছে — তা কিন্তু মোটেই নয়। জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের মতো আসরে এই দাবিগুলি রাখা হয়েছে। বাৎসরিক পর্যালোচনার এই আসরে ভারতবর্ষের আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার বিভিন্ন বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়। তার বদলে ইদানীংকালে সেখানে মন্ত্রীদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী দাবী জানাচ্ছেন যে, প্রাচীন হিন্দুরা বিমানপোত আবিষ্কার করেছিলেন। এছাড়া তাঁরা নাকি স্টেমসেল গবেষণাও করতেন ( কৌরবগণ নাকি বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব শিশুর উদাহরণ)।

এসব কথাবার্তার পশ্চাৎপট নিতান্তই করুণ না হলে এগুলিকে কৌতুকের দ্যোতনা বলেই মনে হতো। জামসেদজি টাটা স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ ছিলেন। তাঁর সহায়তায় একশ’ বছরেরও আগে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ভারতবর্ষের অন্ধ সংস্কার এবং পুরাণনির্ভর ধ্যানধারণার পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর – পরীক্ষা নিরীক্ষা নির্ভর বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথে পা ফেলার সেটাই শুরু। টাটা ইনস্টিটিউট অব ফাণ্ডামেণ্টাল রিসার্চ, ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর মতো সংস্থাগুলি বিশ্বমানের খ্যাতি অর্জন করে সুপ্রতিষ্ঠিত। এই সময়কালে আই আই টি সংস্থাগুলি এক গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছে।তারা ভালো মানের কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করে কারিগরি স্নাতক তৈরি করে চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা নানাভাবে ভূমিকা পালন করছে। দেশের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীবর্গ (প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতে) অর্থহীন কিছু আজগুবি, মামবো – জামবো কাহিনী তুলে এনে প্রচার করার কাজে নেমে পড়বার ফলে ভারতীয় বিজ্ঞানচেতনার ক্ষেত্রটি মারাত্মক এবং সম্ভবতঃ অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মেধা এবং মননের বিরুদ্ধে এই সরকারের যুদ্ধঘোষণা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তুলনা করে থাকেন। ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ‘ডেকান হেরাল্ড’ পত্রিকায় প্রসেনজিত চৌধুরী মন্তব্য করেছেনঃ ‘’ নেহেরু ভারতবর্ষকে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদের সম্ভার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নেহেরুর অভিভাবকত্বে হোমি ভাবা এবং বিক্রম সারাভাই-এর মতো ব্যক্তিবর্গ ভারতবর্ষের ( বিজ্ঞানকেন্দ্রিক ) উন্নতির বনিয়াদ গড়ে তুলেছিলেন — নেহেরু ( বিজ্ঞানমনস্কতার চেতনাতে দেশকে উদ্বুদ্ধ করবার চেষ্টায় যিনি স্মরণীয় ) তাঁকে বাতিল করতে গিয়ে মোদী অপবিজ্ঞানের গোঁড়ামিকে আশ্রয় করেছেন।

আরেকটি বিষয় এখানে যোগ করতে চাই যে, ভারতবর্ষে সমাজবিজ্ঞান গবেষণার এক উচ্চ মানের ঐতিহ্য ছিল এবং মোদী সরকার তাকে বিনষ্ট করবার উপক্রম করেছে। সঙ্ঘবাদী আদর্শের বিপ্রতীপে অবস্থিত নেহেরুবাদী সংস্কৃতিগোষ্ঠীর মননচর্চার বিভিন্ন ধারার মধ্যে মার্ক্সবাদের কিছুটা হলেও একটা অবস্থান ছিল।

ভাবা এবং সারাভাই যেমন তাঁদের নিজের নিজের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করছিলেন — তেমনিই অর্থনীতি এবং সমাজবিদ্যার ক্ষেত্রে ছিলেন যথাক্রমে ডি আর গ্যাডগিল এবং আন্দ্রে বেতে (Béteille)। গ্যাডগিল এবং বেতে ছিলেন একনিষ্ঠভাবে মুক্তমনা, এবং একই সাথে মার্ক্সবাদ বিরোধী। অসাম্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা চর্চার দিকে উভয়েই প্রেরণা যোগাতেন — যাতে করে আদর্শের পরিবর্তে প্রকৃত অবস্থান বিচার করে দেশ পরিচালনার নীতি ঠিক করা যায়। সেসব চিন্তা ভাবনাও মুছে যেতে বসেছে শিক্ষায়তনগুলিতে সঙ্ঘী অনুপ্রবেশের ফলে।

জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহ দেবার প্রসঙ্গে মোদী সরকার এমনকি প্রথম এন ডি এ সরকারের তুলনাতেও দৃষ্টিকটুভাবে খেলো। অটলবিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রীসভায় এমন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিযুক্ত করেছিলেন যারা শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা সম্পর্কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। প্রথম এনডিএ সরকারের HRD মন্ত্রী এম এম যোশী নিজে ফিজিক্সে পি এইচ ডি ছিলেন। তাঁর ক্যাবিনেট সঙ্গী ছিলেন জর্জ ফার্নাণ্ডেজ, যশোবন্ত সিনহা এবং এল কে আদবানি। এঁরা বইয়ের পোকা না হলেও ইতিহাস এবং দেশ পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে ভালোই পড়াশুনা করতেন। যশোবন্ত সিনহা এবং অরুণ শৌরি ভারী ভারী বই পড়বার পাশাপাশি নিজেরাও লিখতেন। অপরপক্ষে, এটা আমার বিশ্বাসই হয়না যে, এখনকার সরকারের একজন মন্ত্রীও ( প্রধানমন্ত্রীকেও বাদ না দিয়ে ) ইতিহাস, সাহিত্য অথবা বিজ্ঞান সম্পর্কে আদৌ গভীরভাবে আগ্রহী। তাঁরা কেউ কেউ দৈনিক সংবাদপত্রের বাইরে আদৌ কিছু পড়েন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। কেউ কেউ হয়তো ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, টুইটারের গণ্ডির বাইরে পা রাখেন না। এমন একটা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অথবা গবেষণা সংস্থার ডিরেক্টর খুঁজতে গিয়ে তাঁরা যদি প্রথম সারির পাণ্ডিত্যের পরিবর্তে তৃতীয় সারির সঙ্ঘ আদর্শের ব্যক্তিকে পছন্দ করেন তাতে বিস্মিত হবার কীই বা বাকি থাকে।

একটা কথা বলা দরকার যে, জ্ঞানচর্চার প্রতি মোদী সরকারের এই যে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব তা মোটেই বর্তমান লেখকের পেশাগত কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি করেনি, কারণ আমি অ্যাকাডেমি ছেড়েছি ২৫ বছর আগেই। তবুও এক দুঃখদায়ক অনুভুতি মনকে বিষাদাচ্ছন্ন করে রাখে। কারণটা এই যে, আমার যা কিছু শিক্ষা তা এই ভারতবর্ষেই। এদেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির (Public University) হাতে যথাযোগ্য সম্মান এবং উৎসাহের সাথেই স্বায়ত্তশাসনের দায়িত্ব দেওয়া হতো (যখন আমি এসবের মধ্যে ছিলাম ) । কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয় এরকম একজন ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে আমার জ্ঞানীগুণী বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের যন্ত্রণা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। এইসব সংস্থাগুলির উপর নেমে আসছে পরিকল্পিত আক্রমণ। একদিকে ব্যক্তিগতভাবে, অন্যদিকে পেশাগত দিক থেকেও আমি কষ্ট পাচ্ছি, এই জ্ঞানীগুণী মানুষদের জন্য, যাঁরা এইসব সংস্থাগুলির স্বার্থে জীবনপাত পরিশ্রম করেছেন।

নিউ দিল্লীতে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসবার এক বছর পরে আমি লিখেছিলাম যে, এই সরকার ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচাইতে জ্ঞানবিরোধী (most anti-intellectual ) সরকার। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত মোদী বাহিনী এমন কোনও কাজ করেনি, যাতে করে আমার মতামত পুনর্বিবেচনা করে দেখার প্রশ্ন আসে। বরং এমন অনেক কাজ করেছে যা আমার পুরোনো ধারণাটিকেই নিশ্চিত এবং দৃঢ় করেছে। ক্ষমতায় আসবার দিন থেকেই, বিজ্ঞান এবং স্কলারশিপ, এই দুটি বিষয়ে মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে একগুচ্ছ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সংঘটিত করেছেন — যেগুলি (দুঃখজনকভাবে) সন্ত্রাসবাদ এবং কালো টাকার বিরুদ্ধে সংগঠিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক অপেক্ষা অনেক বেশি কার্যকরী হয়েছে।

আমাদের দেশের সবচেয়ে উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানগুলি, যারা জ্ঞান সৃষ্টি করে — নব নব উন্মেষশালিনী কৃতকৌশল সৃষ্টি করে — তাদের ধারাবাহিকভাবে অসম্মান করার মধ্য দিয়ে মোদী সরকার দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আজ যেসব ভারতবাসী চলে ফিরে বেড়াচ্ছেন এবং এখনও যাদের জন্ম হয়নি, তাদের সকলকেই এই ক্লান্তিহীন বর্বরোচিত আক্রমণের ক্ষতির বোঝা বহন করতে হবে।

[ মূল লেখাটি ‘ দি টেলিগ্রাফ ’ পত্রিকায় ২৭শে এপ্রিল, ২০১৯ প্রকাশিত হয়েছিলো। ]
https://www.telegraphindia.com/opinion/surgical-strike-against-science
-and-scholarship/cid/1689471



এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1