বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5


           বিষয় : পাঠ প্রতিক্রিয়া ঃ তাহাদের কথা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :অনিকেত পথিক
          IP Address : 232312.15.3467.241 (*)          Date:03 May 2019 -- 03:15 PM




Name:  অনিকেত পথিক          

IP Address : 232312.15.3467.241 (*)          Date:03 May 2019 -- 03:17 PM

এ এক আশ্চর্য পুস্তিকা যার পাতায় পাতায় শুরু করার কিম্বা উঠে দাঁড়াবার গল্প। নানারকম জানা-অজানা পথে এগিয়ে যাবার গল্প। অবশ্যই গল্প নয় সত্যকথন, একক সংলাপ। তেরো চোদ্দ বছরে বিয়ে হয়ে যাওয়া, তেমন লেখা পড়া না-জানা লাজুক বৌটি থেকে স্বনির্ভর সংস্থার পথনির্দেশক দলনেত্রী (জান্নাতুন নাহার) হয়ে ওঠার গল্প আছে। আবার এক্কেবারে বিপরীত মেরুর বাসিন্দা বাড়ির ছোট মেয়ে বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রীর (মৌসুমী বিশ্বাস) অভিজ্ঞ কৃষক হয়ে ওঠার গল্পও আছে। রোজ যাঁদের দেখেন, সেই ‘কাজের মাসী’ বা গৃহসহায়িকার কথা আছে, আবার প্রায় অপরিচিতা মুসলিম বিয়ের গানের দলের (পড়ুন ব্যান্ড !) গায়িকার কথাও আছে। আর প্রায় সবই আছে তাঁদের নিজেদের ভাষায়, নিজেদের কলমে। হ্যাঁ বইটা থেকে একটা সুগন্ধ পাবেন, সেটা সাফল্যের, স্বনির্ভরতার সুগন্ধ। একটা আলো বিচ্ছুরিত হতে দেখবেন, লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার আলো। শিক্ষা-পরিবার-অর্থ কোনোরকম পুঁজি ছাড়াই কত বিচিত্র পথে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায়, এই বই তার জলজ্যান্ত দলিল। সবথেকে বড় কথা প্রতিটি মহিলাই বলেছেন কাজকে ভালোবাসার কথা। হীন্মমন্যতা জয় করে ফেলার কথা। হ্যাঁ যিনি বাড়িতে রান্না করেন, যিনি বিড়ি বাঁধেন, তিনিও। মন দিয়ে কাজ করে অভাবের সংসারে সুরাহা করা, এর কোনো বিকল্প হয় না। ছোটবেলা থেকে পড়ে আসা ‘ডিগনিটি অফ লেবার’ নামক ‘ধারণা’টিরও এর চেয়ে বড় উদাহরণ কিছু হয় না।

এ তো গেল সাধারণ মতামত। একটু খুঁটিয়ে দেখলে এ বইতে যাঁদের কথা আছে তাঁদের তিনভাগে ভাগ করা যায়। একেবারে অল্পশিক্ষিত (চতুর্থ, ষষ্ঠ বা অষ্টম শ্রেণী অবধি পড়াশোনা, একেবারে নিরক্ষর কেউ নেই) যাঁরা তাঁদের বক্তব্য আশ্চর্যরকমের সাবলীল। জানেরা বিবি (পরিচারিকা), সায়রী বিবি-চামেলী বিবি (বিড়ি কর্মী), রসিদা বিবি (বিয়ের গান), ফুলকলি হাজরা (হস্তশিল্প কর্মী)। এঁদের লেখায় হয়তো কারুর সামান্য সাহায্য থাকতে পারে কিন্তু তবুও বলতেই হয় এঁদের বক্তব্য, কাজের জগতের কথা একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতা কৃষক মৌসুমী বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা আর সাফল্যও যেমন আশ্চর্য, কলমও তেমনই ঝকঝকে; তবে বিভিন্ন কৃষিপদ্ধতিতে ওঁর ব্যাবহার করা বিশেষ পদ্ধতির কথা একটু একটু জানালে আরো ভালো লাগত। সেলাই ও হস্তশিল্পী অদিতি বিশ্বাস, সাইকেল রেস ও কবাডিতে জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় ক্রীড়াশিক্ষক মিলনতারা খাতুনও নিজেরদের কথা অত্যন্ত সৎ ও প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু অত্যন্ত হতাশ করেছেন খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিচিত পেশার কর্মী স্বর্ণালী বিশ্বাস (নার্স)। ইনি স্বাধীনচেতা শিক্ষিতা মহিলা, নিজের ইচ্ছেয় অন্য ধর্মে বিয়ে করেছেন, এখন ‘সিঙ্গল মাদার’। কিন্তু এঁর লেখায় কাজের জগতের চেয়ে নিজের জীবন ও দর্শনের কথাই বেশি। খুবই সুযোগ ছিল নার্সের পেশার বিচিত্র অভিজ্ঞতা, বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্লেষণের কথা, কিন্তু প্রায় পাঁচ পাতা জোড় দীর্ঘতম লেখায় স্বর্ণালী যাবতীয় অপ্রাসঙ্গিক কথাই বলে চলেছেন যা খুবই হতাশাজনক। শাড়ি ব্যবসায়ী ঝরণা দাস শিক্ষিতা স্বনির্ভর মহিলা, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও কাজের সাফল্য-ব্যর্থতার চেয়ে পারিবারিক অশান্তির ঝাঁঝই লেখায় বেশি পাওয়া গেল। বরং বিউটিপার্লার কর্মী রেহানা ও ফিজিওথেরাপিস্ট মিঠু সহ-র কাজের জগতে আসার গল্প বেশ প্রাঞ্জল। কিন্তু তারাৎবেগম ও রুক্সানা কুলীর কথা (আলপনা রায়চৌধুরী) ও দুলালি চিত্রকরের কথা বড্ডই অগোছালো ভাবে লেখা হয়েছে।

এবার বইয়ের সামগ্রিক গুণমান নিয়ে দু-এক কথা। বইটির সম্পাদনা খুবই দুর্বল। লেখাগুলো মহিলাদের নিজেদের হলেও টাইপিং-ফরম্যাটিং তো তাঁদের নয়, তাহলে এত বানান ভুল (‘উপসম’ ! ‘বেঁছে’ ! ‘কাঁটা’কে কাটা, এইসব), যতিচিহ্নের ভুল, অনুচ্ছেদ সাজানোর ভুল কেন ? কোনো ছবিতে ক্যাপশন না থাকা মাঝে মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। শ্রমজীবি মহিলাদের লড়াইয়ের কথা তাঁদের নিজের ভাষায় তুলে ধরার মধ্যে একটা সততা আছে নিশ্চই কিন্তু এটা তো ঠিক যে সকলের লেখার বা গুছিয়ে কথা বলার অভ্যেস থাকে না। তাই তাঁদের সম্মতিক্রমে তাঁদের লেখা বা কথা একটু গুছিয়ে নিলে (যেমন ওপরে যাঁদের কথা বললাম, স্বর্ণালী বা ঝরনা) বইটির গুণমান উন্নত হত। লেখা একেবারে ‘আনকাট’ কিনা সেটা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই নন-ফিক্‌শন লেখা যা মূলতঃ তথ্যসমৃদ্ধ, তার পড়তে গিয়ে আটকে গেলে, মানে বুঝতে অসুবিধে হলে, তা সামগ্রিক ভাবে বইয়ের গুণমানের পক্ষে ভালো হয় না, হয়নি এখানেও। আর একটা কথা এত কঠিন জীবনের মধ্যে গিয়েও প্রায় সবাই আত্মনির্ভরতার অমৃতটুকুই তুলে ধরেছেন, অন্য দিকটা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গীটা ভালো কিন্তু এতে দেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে না তো !

যাই হোক সামান্য দামে এই বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরেছে। এই বইয়ের আরো পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ হোক, আরো বিচিত্র পেশার কর্মীদের কথা তাতে জায়গা পাক, এই আশা রইল।



Name:  tathya          

IP Address : 450112.129.4590012.60 (*)          Date:03 May 2019 -- 09:59 PM

ইসে, বইএর নাম, লেখকের নাম ।।।


Name:   স্বাতী রায়           

IP Address : 781212.194.4578.171 (*)          Date:04 May 2019 -- 03:08 AM

সুস্বাদু সমালোচনা - বই এর দোষ- গুণ সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাল লাগল।


Name:  Ekak          

IP Address : 340112.124.566712.245 (*)          Date:04 May 2019 -- 03:48 AM

অনিকেত বেশ ধরে লিখচেন , ভাল্লাগছে । শুধু প্রতিটা সমালোচনার ওপরে টেমপ্লেট বানিয়ে : লেখার নাম , লেখকের নাম , শিল্পীর নাম , পাব্লিশারের নাম , দাম --------- এই কটি জিনিস চিপকে দিলে ; গুরুতে পড়তে আসা নতুন পাঠকদের উপকার হয় :)


Name:  Aniket Pathik          

IP Address : 4512.139.232323.45 (*)          Date:06 May 2019 -- 04:10 PM

সিজনস অফ বিট্রেয়াল আর কুরবানি-র ওপর পাতা ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে দেখে সেখানেই লিখলাম। আর 'তাহাদের কথা' তো বইয়ের নামই, যে বইয়ের কোনো আলাদা লেখক নেই, ঐ 'তাহারা'ই লেখক। তাই লেখকের নাম নেই। পাবলিশার ঃ গুরুচন্ডলী, দাম ঃ ২০ টাকার কাছাকাছি। এর পরে আলাদা পাতা খুলে লিখলে এই তথ্যগুলো নিশ্চই দিয়ে দেব।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5