বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--7


           বিষয় : মানুষের রুখে দাঁড়ানো, হেমেন মণ্ডল-গৌরীবাড়ি, ইতিহাসের শিক্ষা ইত্যাদি
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :Bishan Basu
          IP Address : 7845.15.9004512.184 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 06:16 AM




Name:  Bishan Basu          

IP Address : 7845.15.9004512.184 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 06:17 AM

হ্যাঁ, চাইলে মানুষ পারেন। মানুষই পারেন।

আমাদেরকে গিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আমাদের চয়েসের স্বাধীনতা মানে আইপিএল নাকি আইএসএল, ব্রিটানিয়া নাকি বিস্কফার্ম, মোদী নাকি মমতা, অ্যাপোলো নাকি নারায়ণা, ইসলামিক মৌলবাদ নাকি উগ্র হিন্দুত্ব।

কিন্তু, এর বাইরেও চয়েস আছে। সেই চয়েস নৈরাজ্য অপশাসনের বিরুদ্ধে চয়েস, অত্যাবশ্যক পরিষেবাকে লাভের ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে না চাওয়ার চয়েস, সমাজবিরোধী ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চয়েস, ধর্মের নামে মানুষ খুন-অশান্তি-ঘৃণার বিরুদ্ধে গলা তোলার চয়েস।

তবে, সেই চয়েস পেতে হলে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথে নামতে হয়, ভার্চুয়াল জগতের বাইরে বেরিয়ে বন্ধুর হাত ধরতে জানতে হয়।

আর, রেডিমেড লিস্টের বাইরের চয়েস বাছতে চাইলে প্রশাসনকে পাশে পাওয়া যায় না, এইটাও মনে রাখা ভালো। কাজটা সহজ না হলেও অসম্ভব কিন্তু নয়।

কয়েক দশক আগে, এই কলকাতার গৌরীবাড়ি অঞ্চলেই রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন সাধারণ মানুষ। এখন এই সার্বিক অরাজকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারব না আমরা??

নাকি নকুলদানা-গুড়-বাতাসা চড়াম চড়াম শব্দে আমাদের কান ভরে রেখেছে??

পুরনো কলকাতার গল্প গ্রুপে গৌরীবাড়ির কথা মনে করালেন দেবব্রত রায়। তথ্য তাঁর। পরের লেখাটির মধ্যেকার মতামতও তাঁরই। শুধু তাঁর লেখার সাধারণীকরণের দায় আমার।

"আমার জন্ম, বড়ো হয়ে ওঠা উত্তর কলকাতার গৌরীবাড়ি তে | হাতিবাগান থেকে উল্টোডাঙা যাবার রাস্তায় অরবিন্দ সেতুর দুপাশের এলাকা হচ্ছে গৌরীবাড়ি| এটা ঠিক বনেদী উত্তরের অংশ নয় | তাই পরেশনাথের মন্দির ছাড়া এখানে বোধহয় পুরোনো কলকাতার কোনো ইতিহাস লুকিয়ে নেই | যেটা আছে তা হচ্ছে সাধারণ মানুষের এক অসাধারণ আন্দোলনের ইতিহাস , যেটা বলার জন্য এই লেখা |

সময়টা ছিলো ১৯৭১-৭২ | উত্তপ্ত কলকাতায় আমাদের পাড়া ছিলো তুলনামূলক ভাবে শান্ত | যদিও আমি তখন এতো ছোটো যে এই পর্যায়ের অনেক কিছুই বড়োদের থেকে শোনা| সিদ্ধার্থবাবু রাজ্যপালের উপদেষ্টা হয়ে তখন রাজ্য চালাচ্ছেন| তিনি নক্শাল দমনে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পেশাদার মস্তানদের জড়ো করা শুরু করলেন | তখন জেল থেকে ছাড়ানো হয় হেমেন মন্ডল নামে আমাদের পাড়ার এক মাস্তানকে | শোনা যায় উত্তর শহরতলীর বিভিন্ন action য়ে তাকে ব্যাবহার করা হয় | এই পর্যায়ে হেমেনের সাথে যোগাযোগ হয় "বিখ্যাত" গোয়েন্দা অফিসার রুণু গুহ নিয়োগীর|

১৯৭২ য়ে ভোটের পর সিদ্ধার্থ বাবু মুখ্যমন্ত্রী হলেন | নক্শাল আন্দোলন তখন ছত্রভঙ্গ , প্রয়োজন হয়ে পড়লো হেমেনদের পুনর্বাসনের | তাকে তখন উপহার দেওয়া হলো গৌরীবাড়ি নামক এক তালুক | শুরু হলো আমাদের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় |

তোলাবাজি , বাড়িদখল , সমস্ত রকম রাজনৈতিক কন্ঠ বন্ধ , পাড়ার ক্লাবগুলোর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ , কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে পাড়া থেকে বিতাড়ন -- গৌরীবাড়ি দ্রুত অন্যরকম চেহারা নিতে থাকলো |

প্রথমদিকে তার সঙ্গী ছিলো পাড়ার কিছু ছেলে | কিছুদিন পরে তাদের জায়গা নিলো বাইরে থেকে নিয়ে আসা পেশাদাররা | শুরু হলো বিরাট জগদ্ধাত্রী পূজো | সেখানে দেখা যেতে লাগলো নামী দামী নেতাদের এবং বলিউডের এক উঠতি তারকাকে | সমস্ত উত্তর কলতাতা জুড়ে তখন এক অবস্থা| কারো টিকি বাধা কবাবুর সাথে তো কারো খবাবুর সাথে | রাজ্যজুড়ে শুরু হলো কবাবু আর খবাবুদের দ্বন্দ্ব | রোজ বোমাবজি আর লাশের মিছিল |

থানায় খবর দিলে পাড়ায় ফিরে আসার আগেই বাহিনীর কাছে পৌছে যেতো খবর |

৭৭ য়ে এসে রাজত্ব পরিবর্তন হলো | জ্যোতি বাবু হলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী | কিন্তু গৌরীবাড়ির পোড়া কপালে এলোনা কোনো পরিবর্তন | ক খ বাবুরা হয়ে উঠলেন জ্যোতিবাবুর বিশেষ স্নেহের পাত্র আর লালবাজারে একই ভাবে থেকে গেলেন রুণু | আর আমাদের পাড়ায় চলতে থাকলো হেমেনের সন্ত্রাস | এর শিকার সব রাজনৈতিক মতবাদের লোকেরা | তাদের মধ্যে অনেক কংগ্রেসী ও ছিলেন|

অত্যাচার চরমে উঠলে হয়তো মানুষের প্রতিরোধের ইচ্ছে টাও জাাগতে শুরু করে| ১৯৮৩ তে পাড়ার এক খুব জনপ্রিয় যুবক আক্রান্ত হলেন | প্রতিবাদে পাড়ার কিছু যুবক নিজেদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ শুরু করলেন | জড়িয়ে নিলেন ক্লাব গুলোকেও | মিটিং গুলো হতো পাড়ার বাইরে | ৮৪ র ২৩শে জানুয়ারী পাড়ায় নেতাজী জন্মজয়ন্তী পালন করা হলো | অংশগ্রহণ করে কয়েকশ মানুষ | হেমেনের নজর পরে যায় | ২৬ শে নেমে আসে আক্রমণ| প্রতিরোধে মহিলারা শুদ্ধু গোটা পাড়া নেমে আসে পথে | আশ্চর্য হয়ে আমরা দেখি বোমা বন্দুক হাতে পেশাদার গুন্ডাবাহিনীর পশ্চাদপসরণ | তারা পালিয়ে অন্য পাড়ায় আশ্রয় নেয় | হেমেনকে north dc নিজে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে চলে যান|

এরপর শুরু হলো এক নতুন অধ্যায় | রোজ মিছিল আবালবৃদ্ধবণিতার | গৌরীবাড়ি শান্তি কমিটির ব্যানারে মিছিলগুলো ঘুরতো আশেপাশের পাড়াগুলোতে | যোগাযোগ শুরু হলো সেখানকার সাধারণ মানুষের সাথে| তার সাথে শুরু হলো পালা করে রাত পাহারা | রোজ রাাতে ২০০-৩০০ যুবক লাঠি হাতে রাত জাগতো |

প্রথম দিকে মিডিয়া ভেবেছিলো এটা CPIM এর খেলা | খবরটা বেরিয়েছিলো ভিতরের পাতায় | কিন্তু মানুষের ঢল বাধ্য করে কিছুদিনের মধ্যে সে খবর তুলে আনতে ছবি সহ প্রথম পাতায়| আসলে আমাদের পাড়ায় অধিকাংশ মানুষ ছিলেন কংগ্রেসের সমর্থক |

এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন | হাতিবাগান থেকে উল্টোডাঙা , মাণিকতলা থেকে বেলগাছিয়া -- একবছরের মধ্যে হলো সমাজবিরোধী শূণ্য| কলেজষ্ট্রীট থেকে মহাকরণ মহামিছিলে সামিল গোটা এলাকার প্রায় ২৫ -৩০ হাজার মানুষ |
এলো পুলিশের প্রতিশ্রুতি | একবছর পর বন্ধ হলো রাত পাহারা |

পাড়া ছেড়ে চলে এসেছি বহু বছর | এখনো পাড়ায় ফিরে আসেনি কোনো পেশাদার অপরাধী বাহিনী | কলকাতার মানুষ হয়তো ভুলে গেছে রাজনৈতিক পতাকার বাইরে এই অসাধারণ নাগরিক আন্দোলনকে | তাই ফাটাকেষ্ট পুজোর পাশে সেই আন্দোলনকে মনে করানোর এই প্রচেষ্টা |

হেমেন মন্ডল এখনো জীবিত এবং পাড়ার বাইরে |"

হেমেন মণ্ডলকে আরেকটু সাম্প্রতিক খবর জানতে চাইলে, এই লিঙ্কে আছে।

https://www.google.com/amp/s/eisamay.indiatimes.com/west-bengal-news/k
olkata-news/terrorised-residents-make-desperate-effort-to-break-mafia-
rule-in-north-kolkata/amp_articleshow/68898383.cms



Name:  dd          

IP Address : 90045.207.5656.128 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 08:35 AM

বিষাণ বেশ ইনটেরেস্টিং টপিক নিয়ে লেখেন। বিরাট রেঞ্জ।

সত্তর সাল থেকেই উত্তর দক্ষিণ কলকাতায় এইরকম নানান ডনের প্রতিপত্তি ছিলো। হাত কাটা দেবা,শ্যামল, ফাটাকেষ্ট তো বটেই, হেমেন মন্ডল.... নামগুলো ঝট করে আর মনে পড়ে না। সিপিএমের কে এক্জন, সেই লালবাজারের পাশেই বোমার ধাক্কায় বাড়ী ভেঙে ফেলে অগত্যা গেরেপতার হন। রসীদ? এই সময় পত্রিকাএখন পরপর সেই ডনদের নিয়ে লিখছেন। কিন্তু খুবই শ্যালো ইন্টার্ভিউ। পেট ভরে না।

শংকরলাল ভট্টাচার্য্য "কলকাতার শেষ ডন" নামে একটা লেখা লিখেছিলেন (প্রায় ১০০% সিওর ভুলভাল নাম লিখছি), সে কালের ভানু গুন্ডাকে নিয়ে। সেটি অতি চমত্কার লেখা ছিলো।

এখন বোধহয় আর সেলেব্রিটি ডন কেউ নেই। দরকারও নেই।


Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 1278.202.5634.85 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 08:51 AM

আমি চলে আসার পরে আর কেউ নেই ডিডিদা।


Name:  মানিক          

IP Address : 78900.84.6767.126 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 09:07 AM

আজকাল তো সবই কলকাতা থেকে মফস্বলে সরে যাচ্ছে। মাধ্যমিকের ফার্স্ট সেকেন্ড তো বহুদিনই গেছে। এখন ডনও জেলার অনুব্রত এরাই ডমিনেট করছে। কলকাতায় আর ডন কোথায়?

ও টেম্পোরা, ও মোরেস।


Name:  দ          

IP Address : 453412.159.896712.72 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 10:05 AM

হেঃ হেঃ সেই নব্বই দশকের শেষ থেকে হুব্বা শ্যামল আর বাঘার এলাকা দখলের লড়াই চলেছে কোন্নগরে। আমি একবার এরকম একটা লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে গিয়ে একটা নাইটির দোকানের শাটার নামাছেন দোকানদার, তার তলা দিয়ে স্যুট করে ভিতরে ঢুকে গেছিলাম। সে এক অভিজ্ঞতা বটে!


Name:  b          

IP Address : 562312.20.2389.164 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 10:25 AM

আরে আমার এক বন্ধুর বাবা কাজ করতেন রিষড়ার অ্যালকালিতে। একবার ওনার কারখানা থেকে লরি বেরোতে পারছে না। কি ব্যপার?না, শ্যামলকে যথেষ্ট পরিমাণ তোলা দেওয়া হয় নি, তাই সরকারী লরি আটকে গেছে।
শ্যামলকে পেট ফাঁসিয়ে মেরে ছিলো ওরইএক পুরনো সহযোগী। মেরে, লাশ ফেলে দিয়েছিলো জুলখার খালের ধারে। সেও সাত আট বছর হয়ে গেলো।


Name:  dd          

IP Address : 670112.51.2323.234 (*)          Date:26 Apr 2019 -- 08:33 PM

নাঃ, মনে করতে পারছি না। হবে হয়তো "চোরাবালি" - এরকম একটা নাম। গুগুল করেও আর খুঁজে পেলাম না।

টেলেফিল্ম? না কি সিনেমাই? মোটকথা বছর ছ' সাত আগে টিভিতে দেখেছিলাম। ঘন্টা দুয়েকের ফিল্ম।

ঐ হেমেন মন্ডলকে নিয়ে। নাম গুলো সামান্য অদল বদল করা আছে। চিনতে কোনোই অসুবিধে নেই। হেমেনের মেন্টর ছিলো অজিত পাঁজা। সেটাও হুবহু দেখিয়েছে। সবই অনামা অ্যাকটর।

আপনেরা কেউ দেখেছিলেন ? মনে করতে পারেন ?

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--7