বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : সন্ত্রাসবাদের রাজনীতি বা রাজনীতির সন্ত্রাসবাদ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Soumya Sahin
          IP Address : 011212.225.45.129 (*)          Date:24 Apr 2019 -- 09:20 PM




Name:   Soumya Sahin           

IP Address : 011212.225.45.129 (*)          Date:24 Apr 2019 -- 09:22 PM

শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগজনক। পৃথিবীর বিভিন্ন কোণে একটার পর একটা সন্ত্রাসের ঘটনা নেমে আসে, আর আমাদের মানবিক মূল্যবোধের শিকড় ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। অবসাদে ডুবে যেতে যেতে আবার সেই মানবতাকে সম্বল করেই ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিতে হয়।

এই ঘটনার ফায়দা তুলতে মাঠে নেমে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যিনি প্রশাসনিক প্রধান থাকাকালীন গুজরাত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিলো। রাজ্যপ্রশাসন এতটাই বেআব্রু হয়ে যায় যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে রাজধর্ম পালন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সেই মোদীর ৫ বছরের শাসনকাল স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। দাভোলকর-কালবুর্গী-গৌরী লংকেশরা একের পর এক খুন হয়ে গেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটাও কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি। মব-লিনচিং এর ঘটনার পর অপরাধীদের শাস্তি হওয়া দুরস্থান, তাদের সরকারি চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আসিফার ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের মত দাগী আসামি যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মৃত মুসলমান রমণীদের কবর থেকে তুলে ধর্ষন করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন তিনি সস্নেহ প্রশ্রয়ে মৌন থেকেছেন। সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত (আপাতত বেলে মুক্ত) প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর আজ সংসদীয় গণতন্ত্রে মোদীত্বের প্রতিনিধি।

সেই মোদী ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনের কেন্দ্রীয় বিষয় করে তুলতে চাইছেন। অথচ তাঁর মতে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ একটা কৃত্রিম নির্মাণ, মহান ভারতীয় সভ্যতাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র। একথা একশোভাগ সত্যি, যে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ বলে কিছু হয়না। আরএসএস বা হিন্দু মহাসভার মতো দলগুলো কখনোই হিন্দুধর্মের ঠিকাদার নয়। কিন্তু সেই একই যুক্তিতে আইসিস ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি নয়। কোনো সাধারণ ধর্মপ্রিয় মুসলমান সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেনা। এই সহজ সত্যিটা আমাদের বুঝতেই হবে।

সন্ত্রাসবাদকে পুঁজিবাদের বিশ্বায়ন এবং geopolitics of oil এর প্রেক্ষিতে বুঝতে হবে, এর সল্যুশন শুধুমাত্র সামরিক পথে হওয়ার নয়। Concentration of monopoly capital, gun lobby, proliferation of capital intensive technology and concomitant job loss, rising income inequality, social exclusion.... এই পলিটিক্যাল ইকোনমি আসপেক্ট গুলোর থেকে আইডেন্টিটি পলিটিক্সকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা মুর্খামি।

ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ নামকরণের পিছনে একটা জনপ্রিয় যুক্তি হল অন্য কোনো সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে ধর্মকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সংগঠিত ভাবে যুদ্ধ চলছে না। সমস্যা হলো মধ্যপ্রাচ্যের মত তৈলভান্ডার পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে নেই, অতএব গ্লোবাল ক্যাপিটালের incentive নেই হিন্দু বা বৌদ্ধ নামধারী সন্ত্রাসবাদীদের ফান্ডিং করার।স্বাভাবিকভাবেই তাদের scale of operation ইসলামিক নামধারী সন্ত্রাসের কারবারীদের থেকে অনেক অনেক ছোট। কিন্তু সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করার potential এদের এতটুকুও কম নয়। তাই micro level এ জেহাদি জনের মুণ্ডচ্ছেদ করা আর শম্ভুলাল রেগরের আফরাজুলকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ভিডিও আমাদের অস্তিত্বকে একই ভাবে নাড়িয়ে দেয়।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1