বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2]     এই পাতায় আছে15--45


           বিষয় : নিমো গ্রামের গল্প
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সুকান্ত ঘোষ
          IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:14 Feb 2019 -- 08:24 PM




Name:  গবু          

IP Address : 2345.110.015612.152 (*)          Date:17 Feb 2019 -- 09:31 PM

দুর্দান্ত, দুষ্টুমীভরা, ইত্যাদি সব দুঃ যা হতে পারে! চলুক, চলুক!


Name:   I           

IP Address : 7845.15.126712.250 (*)          Date:17 Feb 2019 -- 09:40 PM

আমি রুচিরা র সাথে একমত।এই গল্প ইংরেজিতে বলতে হলে তো শেক্ষপীড় হয়ে জন্মাতে হবে!


Name:   I           

IP Address : 7845.15.9004523.48 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 12:37 AM

সুকি আমাদের অলরাউন্ডার।জিতা রহো বেটা।


Name:  সুকি          

IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 06:53 AM

যারা লেখা পড়ছেন সবাইকে ধন্যবাদ।

ডিডিদা, আস্তে আস্তে সব হবে।

ন্যাড়াদা, তোমার গল্প কই। হেবি হচ্ছিল তো?

হনুদা, ভালো থেকো। লেখা ভালো লেগেছে জেনে আমি আপ্লুত।

রুচিরা, আমি এই গল্পই বলে ছিলাম ইংরাজী তে, আর আমার ইংরাজী তো বুঝতেই পারছেন! এখন আপনাদের কথা শুনে মনে হল সাহেব গুলো গল্প নয়, আমার ইংরাজী বিদ্যার বহর দেখেই হাসত মনে হ্য!

বড় I কি ইন্দোদা? প্রণাম নেবেন।

গবু, sm কেও সুক্রিয়া


Name:  Atoz          

IP Address : 125612.141.5689.8 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 06:55 AM

না না, আইনস্টাইন ভুল করেন নি। ওই পোটেনশিয়াল এখন কাইনেটিক হয়েছে। ঃ-)


Name:  dd          

IP Address : 670112.51.90012.46 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 08:11 AM

না, না, তাড়া কিসের। এই ত্তো বাঘ,হাঁস পানকৌড়ি এসে গ্যাছে। এবারে দু একটা জলোহস্তী আর খ্যাঁকশ্যাল এলেও খুব জমবে।

তবে যেটা মিস করছি, নিমো গ্রামে কোনো নদী টদী নেই? একটাও না? নদী ছাড়া গ্রামের গপ্পো ক্যামন একটু ফ্যাকাশে লাগে। আমি বলি কি, বাঁকা নদীটাকে টেনে টুনে নিমো গাঁএর পাশে নিয়ে এলেই সবার মংগল হয়।


Name:  সিকি          

IP Address : 562312.19.4534.88 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 08:47 AM

এমনকি সী বীচও নেই। সেটাকেও একটু টেনে আনা যায় না?


Name:  amit          

IP Address : 340123.0.34.2 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 08:57 AM

বর্ধমানে সী- বিচ ? বলি হচ্ছেটা কি ?


Name:  সিকি          

IP Address : 562312.19.4534.88 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 09:01 AM

কোন্নগড়ে থাগলে বদ্ধোমান কী দোষ করল শুনি?


Name:  কুমু          

IP Address : 127812.79.3434.27 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 10:01 AM

সুকি,গল্পগুলো খুবি এনজয় করছি।অনেক লিখুন।
রামাশীষের প্রতি ক্রিয়া কী ছিল?


Name:  কুমু          

IP Address : 127812.79.3434.27 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 10:01 AM

সুকি,গল্পগুলো খুবি এনজয় করছি।অনেক লিখুন।
রামাশীষের প্রতি ক্রিয়া কী ছিল?


Name:  সুকি          

IP Address : 566712.225.450112.90 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 10:23 AM

আপনারা এই ভাবে নদী, সী-বিচ এই সব গল্পে ঢুকিয়ে আমাকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হতে বলবেন না প্লিজ! কারণ একবার যদি ইমাজিনেশন ব্যবহার করতে শুরু করি তা হলে কোথায় থামব নিজেই জানি না! হিমালয় থেকে সমুদ্র সব গল্প চলে আসবে।

তবে ডিডি-দার কথার সূত্র হতে বলি - একটা 'নদীর ধার' ছিল বা আছে তো এখনো আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে। সেই নদীর ধারে তো আবার আমাদের কয় বিঘে জমি আছে এখনো!

কুমু-দি, রামাশীষের কোন বক্তব্য ছিল না। মানে সেই সময়ে বড় দাদুর কাছে গিয়ে বক্তব্য পেশ করার মত ক্ষমতা রামাশীষ বা তার বাপ-মায়ের কারোই ছিল না!


Name:  দ          

IP Address : 453412.159.896712.72 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 10:42 AM

অ্যাই অ্যাই! কোন্নোগড়ের সিবিচ নিয়ে টানাটানি করবে না বলে দিচ্ছি। নিজেদের সিবিচ নিজেরা বানিয়ে নাও।

হ্যাঁ নিমোর ভুতেদের কথা জানতে চাই।


Name:  kumu          

IP Address : 127812.79.3434.27 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 11:06 AM

সুকি আমাকে চেনে দেখে যারপরনাই প্রীত হলাম।
হ্যাঁ,কোন্নগরের সীবীচ নিয়ে টানাটানি করবার আগে দমু,কুমু ইত্যাদিদের শ্রীমুখ মনে রাখা ভাল।


Name:  Suhasini          

IP Address : 90045.206.4512.103 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 11:18 AM

পাইয়ের এই আইডিয়া খুবই ভালো। এই সিরিজটা দারুণ প্রিয় - যে কোনও সময়ে মন ভালো করে দ্যায় শুধু নয়, রীতিমতো চাঙ্গা করে দ্যায়।


Name:  সুকি          

IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 08:34 PM

অপারেশন থিয়েটার, মানে বারান্দার শেষের ওরই মধ্যে একটু বড় রুমে ঢুকে যাবার আগে মুকুল এক ফিলসফিক্যাল প্রশ্ন নিক্ষেপ করল ডাক্তারের দিকে –

- ডাক্তার বাবু, আমি অপারেশনের পর আর বাবা হতে পারব তো?

আধ ঘন্টা দরাদরি করে যে আপারেশনের রেট ঠিক হয়েছে সেই রুগীর প্রতি ডাক্তারবাবুর দরদ কতটা থাকতে পারে সেটা তাঁর উত্তর শুনে আপনার ডিসাইড করে ফেলুন

- একটা থাপ্পড় লাগাবো চড়াম করে, বাবা হওয়া বেরিয়ে যাবে!

আমি কিন্তু হলফ করে বলতে পারি মুকুলের সেই কনসার্ণ প্রচন্ড জেনুইন ছিল। আমি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখেছি, আবার মুকুলকেও দেখছি সেই মুহুর্তে। ‘দাদা আমি বাঁচতে চাই’ বলে সুপ্রিয়ার সেই আকুতি জাষ্ট মুকুলের ধারেকাছে আসে না! মেজ-বড়-ছোট বৌ সিরিজ সিনেমার কালী ব্যানার্জী? বা যে কোন সিনেমার সুখেন দাস? নাঃ, তারাও আসবে না তুলনায়।

ঘটনা ঘটছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশের একটা ‘নার্সিংহোমে’। কলকাতা থেকে বর্ধমানের দিকে যাবার সময় এক জাংশান আসবে যার বাঁদিকে যাওয়া যায় মশাগ্রাম এবং ডানদিকে গেলে মেমারী। আর সেই সংযোগ স্থলেই এই বিখ্যাত নার্সিং হোম।
রোগের নাম ‘একশিরা’ – যার ইংরাজী নাম নাকি ‘হাইড্রোসিল’ – গোদা বাংলায় বলতে গেলে অন্ডকোষে জল জাতীয় কিছু জমে যাওয়া। এমন নয় যে নিমোর ছেলেদের কারো একশিরা হয় নি আগে বা নিমোর ছেলেদের অন্ডকোষে আগে ডাক্তারের হাত পড়ে নি। মূলত ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতে গিয়ে বল লেগে আমাদের অন্ডকোষ মাঝে মাঝে আউট অব্‌ সেপ হয়ে যেত – তবে বেশীর ভাগ সময়েই কিছুদিন নিজেরাই টেপাটিপি করলে অন্ডকোষেরা নিজেরাই আবার তাদের আকার ফিরে পেত!

কিন্তু মুকুলের কি করে একশিরা হল কে জানে! খেলাধূলা থেকে তার স্থান বহুদূরে – মনে হয় বেশী সাইকেল বা ভ্যান চালিয়ে সেই রোগ বাধিয়েছিল – স্ট্যাটিসটিক্যালি স্পিকিং কলকাতার বুকেও বেশীর ভাগ রিকাশা চালকের অন্ডকোষেও একশিরা জাতীয় রোগ হয়। তা যাক হোক ডাক্তার দেখানোর পর নিদেন এল যে মুকুলের অন্ডকোষে অপারেট করতে হবে। মুকুলের বাপ সীতা হালদারের কাছে খবর গেলে সীতা জানিয়ে দিল এই জাতীয় ফালতু রোগের অপারেশনের পিছনে সে পয়সা খরচ করতে রাজী নয়! তা যতই মুকুল নিজের ছেলে হোক না কেন! তেনার মতামত হল অন্ডকোষের তেজ দেখালেই তো হবে না সব সময় – তার সাইড এফেক্টও সহ্য করতে হবে!

কিন্তু বন্ধুর অন্ডকোষ আউট অব শেপ দেখে নিমো সোনার বাংলার ছেলেরা কতদিন আর চুপ থাকে। খোঁজ নিতে বের হল পাবলিক যে কোথায় সস্তায় অপারেশন করা যায়। খবর এল ওই উপরিউক্ত নার্সিংহোমটি সস্তায় নাকি দেদার একশিরা অপারেশন করিয়ে দিচ্ছে। দুনিয়ার রিক্সা, ভ্যান চালক ইত্যাদিরা ওখানে ভিড় জমাচ্ছে। চাঁদা তোলা শুরু হল মুকুলের একশিরা অপারেশনের জন্য। শুধু বন্ধু মহলে নাকি নিমো গ্রাম জুড়ে চাঁদা তোলা হবে সেই নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনা হয়ে গেল – কেউ একজন বলল যে দ্যাখ যেখানে মুকুলের নিজের বাপই ছেলের অন্ডকোষকে তেজ্য করেছে যেখানে গ্রামের লোক ওই অন্ডকোষের জন্য মায়া দেখাতে নাও পারে – সে যতই ফুলে থাকুক! ফলতঃ ঠিক হল শুধুমাত্র বন্ধুমহলে চাঁদা তুলেই মুকুলের অপারেশন হবে। সেই চাঁদা তুলে গুচ্ছ ছেলে পুলে নিয়ে যাওয়া গেল নার্সিংহোমে। ডাক্তার – নার্স ভাবল আমরা তাদের ক্যালাতে এবং ভাংচুড় করতে গেছি – কিন্তু চাঁদা তুলে একশিরা অপারেশনের প্রস্তাব শুনে তার থেকেও বেশী অবাক হল। তার থেকেও বেশী অবাক বাকি ছিল যখন নিমোর ছেলেরা অপারেশনের জন্য দরদাম করা শুরু করল!

তো আপনাদের আর টেনশনে রাখব না – একবারে শেষে গিয়ে ক্লাইমেক্স দিয়ে শেষ করা – এসব আমাদের ধাতে নেই। তাই বলেই দিই যে মুকুলের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছিল – এখন সে এক ছেলের বাপও বটে!

অন্য কেউ হলে হয়ত অন্ডকোষ শেপে চলে আসার আনন্দে প্রেম বিতরণের ধান্দায় বেরিয়ে পড়ত – কিন্তু মুকুলই একমাত্র অন্ডকোষের প্রকৃত কারণ বুঝেছিল, তা সে ডারউইন বিবর্তন না পড়ে থাকলেও! পুত্র উৎপাদন করা যাবে কিনা এবং প্রেম হলে তা বিয়েতে কনভার্ট হবে কিনা সেই নিয়েই তার ফোকাস ছিল। তাই নিমো গ্রামে মোবাইলের আগমণ এবং ফ্রী টক টাইম যখন আমাদের জীবনের ইকুইলিব্রাম নষ্ট করে দিচ্ছিল প্রায় – তখন একমাত্র মুকুলই ছিল অবিচলিত! নিমো বারোয়ারী তলায় বসে বসে গেঁজানো পাবলিক যারা সন্ধেবেলা সামনের মোড়লদের ড্রেন-এ ছড়ছড় করে প্রসাব করত তারা এই মোবাইল জামানায় দূর দূর প্রসাব করতে যেতে লাগল। রাত আটটার পর সব পাবলিকের একসাথে প্রসাব পাচ্ছে! সে এক জটিল কেস – আসলে সবাই নাকি তখন নাকি মোবাইলে প্রেম করতে ব্যস্ত – ওদিকে মেয়ে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ি ঢুকবে সেইটুকু উইন্ডোতেই ফোন করতে হবে – মানে রাত আটটা থেকে সাড়ে-আটটার মধ্যে।

সবাই প্রেম করছে, কিন্তু মুকুল অবিচলিত – শেষ পর্যন্ত আমাদেরই একজন কেউ তার তখনকার বান্ধবীকে ধরে তার বান্ধবীর সাথে মুকুলের লাইন লাগানোর ব্যবস্থা করল। আমাদেরই কারো মোবাইল ধার দেওয়া হল মুকুল-কে কথা বলতে। তাকে বলা হল তুই পাশে গিয়ে কথা বল। কিছুদিন পর দেখা গেল, মুকুলের বেশ ইন্টারেষ্ট এসেছে – নিজেই বলছে, ওই দে না একবার ফোনটা লাগিয়ে! স্বাভাবিক ভাবেই ছেলেদের ঔৎসুক্য জাগল যে পাশে মোবাইল নিয়ে গিয়ে মুকুল কি প্রেমের কথা বলছে! আড়ি পেতে নিন্মলিখি বার্তালাপ শোনা গেল –

- তুমি ছাগলের দুধ দুইতে পারবে?
- -------------------------
- আরে না না, আমার তো পনেরোটা মত ছাগল – চারটে দুধ দিচ্ছে এখন
- --------------------------
- আচ্ছা, তুমি গরুকে জাব দিতেও পারবে?
- -------------------------
- ও গোবর নেদ দিতেও পার?

এই ফালতু টাইপের প্রেমালাপ শোনার ধৈর্য কারো ছিল না বলাই বাহুল্য!

এক সময় মুলুকের বিয়েও হয়ে গেল। একত্রিশে ডিসেম্বর নিমো গেছি – সন্ধ্যেবেলা পিকনিক হবে তার তোড়জোড় হচ্ছে। মুকুলকে দেখলাম বৌ-বাচ্চা নিয়ে কোথা থেকে ফিরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কি রে মুকুল, থাকবি তো সন্ধ্যেবেলা?” পাশ থেকে রাজু হাঁসফাঁস করে উঠল, “আরে সুকান্তদা কর কি, কর কি – মুকুলের সাথে এখন কথা বল না!” আমি গেলাম ঘাবড়ে! মুকুল না থাকলে মদের চাট বানাবে কে আর মাল খাবার ঝাল ঝাল ‘চিলি পিস’ চিকেনটাই বা কে রান্না করবে! যা বোঝা গেল, এখন মুকুলের বাড়িতে বউ ফতোয়া জারি করেছে যে, সোনার বাংলার ছেলেদের সাথে নাকি মুকুলের মেশা যাবে না! এ এক অবাস্তব দাবী! আমাদের গ্রামের ছেলেরা বিয়ে করার আগেই (প্রেম বা সমন্ধ যা করেই হোক না কেন বিয়ে) মেয়ের সাথে ক্লীয়ার করে নেয় যে, সোনার বাংলার সাথে বরের ইন্টারেকশন নিয়ে কোন প্রকার নাক যেন গলানো না হয়।

মুকুলের বউ নাকি ওকে বলেছে, “আমি একা একা রাস্তা দিয়ে গেলে সোনার বাংলার ছেলেরা কেমন ভাবে তাকায়”! সোনার বাংলার ছেলেদের নানা প্রবলেম থাকলেও দুশ্চরিত্র এমন অববাদ কেউ দিতে পারবে না তেমন! মুকুল সেটা গর্ব করে বৌকে জানালে ব্যাপার টুইষ্ট হয়ে গেল – বৌ বলল “তাহলে তুমি আমাদের নিজেদের মধ্যে যা কথা হয় সেই সব কিছুই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো! আর সেই জন্যি তোমার বন্ধুরা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে-টাসে মনে হয়”! মুকুল সাধাসিধে মানুষ, বলে ফেলল, “যা বাবা, সুখ দুঃখের কথা বন্ধুদের ছাড়া আর কাকে বলব”! ব্যাস, এই কনফেশনের পর মুকুলের হয়ে গেল – বৌ পুরো থ্রেট দিয়ে রেখেছে, সোনার বাংলার ছেলেদের সাথে দেখলেই সেদিন বাইররের বাদান্দায় শুতে হবে!

মুকুলের কথা ভেবে কষ্ট হল – বেচারা ছেলেটা পুরো শুকিয়ে গেছে। এই সব ভাবতে ভাবতে ৩১ ডিসেম্বরের ফিষ্টির মাংসটা কষতে চাপিয়েছি, এমন সময় অন্ধকারে বৌকে লুকিয়ে মুকুল এসে হাজির পিকনিক স্পটে। আমাকে বললঃ

- কিছু মনে কর না সুকান্তদা, আজকে আর ফিষ্টি করতে পারব না।

সবাই পাশ থেকে বলে উঠল, “মুকুল – মরদ হ, মরদ – তুই দিন দিন ম্যাদা মেরে যাচ্ছিস। আর আজকে পিকনিক করলে কি করবে তোর বৌ? বড় জোর ঘরে ঢুকতে দেবে না – তাই তো? তুই আমাদের কারো ঘরে শুয়ে পড়বি”। মুকুল বললঃ

- মাগী কি কম চালাক নাকি! আমি বেরোবার আগে ছেলেটার মাথায় হাত দিয়ে দিব্বি দিয়ে নিল যেনো আমি ফিষ্টি না করি
এ ‘মাগী’ উচ্চারণ কোন ফেমিনিষ্ট টাইপের ব্যঙ্গ নয় – এ হল বঙ্কিম চন্দ্রীয় ‘মাগী’ – ভালোবেসে উচ্চারিত। আমি বললামঃ
- তা তোর বউয়ের প্রবলেমটা কোথায় তুই আমাদের সাথে মিশলে?
- *ড়া সেটা আর কে বলে! আমাকে বলবে তুমি সোনার বাংলায় গিয়ে ফুর্তি করবে, আর আমি বাড়িতে বসে থাকব সেটা হবে না!
- তা তুই বউকে নিয়ে ঘুরে আয় এদিক সেদিক
- সে কি আর বাকি রেখেছি? নিমো গ্রামের কোন ছেলে বউকে নিয়ে পাঁচ দিন ঠাকুর দেখতে গেছে? আমি সেই শালা ষষ্ঠির দিন থেকে বউকে নিয়ে ঘুরছি। তাতেও ভবি ভোলবার নয়। এই রাজু, তুই পার্টি থেকে কিছু একটা কর – আমি না হলে মরে যাব এবার।

রাজু বলল – “তোর বউ তো এমন ছিল না আগে! অন্য কেউ মাথায় বুদ্ধি দিচ্ছে নাকি?”

- সেটা *ড়া বলতে – ওই *লের সয়ম্ভর গোষ্টি নাকি কি হয়েছে নিমো পঞ্চায়েতে মেয়েদের, সেখানে গিয়ে গুজুর গুজুর, ওরাই সব প্ল্যান দিচ্ছে। রাজু তুই কিছু কর। ওরে বাবা, দশটা বেজে গ্যাছে – এর পর গেলে বাইরে শুতে হবে – আমি চললাম সুকান্তদা।
আমি রাজুকে বললাম, “তুই পঞ্চায়েত থেকে বিচার করতে গেলে কি করবি এই কেসটায়”?

রাজু বলল, “দ্যাখো সুকান্তদা – মুকুল আফটার অল আমাদের গ্রামের ছেলে – ওর দিকটা তো দেখতে হবে। ওদের বাড়ি গিয়ে হালকা ভয় দেখাতে হবে এই বলে বৌমাকে যে বেশী বাড়াবাড়ি করলে বাপের বাড়িতে বসিয়ে দিয়ে আসা হবে। আর মুকুলকে বলব যে – তুই বৌমার খেয়াল রাখবি – কোথায় বেড়াতে যেতে চায় নিয়ে যাবি”।

কিছুদিন পরে নিমো যাব আবার – মুকুলের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে নাকি আপডেট দেব ফিরে এসে!



Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 1278.202.5634.85 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 09:21 PM

ছুটি-টুটি ম্যানেজ করে এখনই একবার নিমো ঘুরে এস। খুব চিন্তায় আছি।


Name:  র২হ          

IP Address : 342323.176.011212.241 (*)          Date:18 Feb 2019 -- 10:32 PM

আমার ধারনা ছিল চড়াম অনুব্রত’র কয়েনেজ, আসলে দেখছি প্রচলিত বাগধারা।

আর অন্ডকোষের সেন্টি দিয়ে মুকুলবাবুকে ফিরে পাওয়া যায়না? খুবই ভ্যালিড পয়েন্ট তো। যাই হোক উদ্বেগে রইলাম।


Name:  amit          

IP Address : 340123.0.34.2 (*)          Date:19 Feb 2019 -- 05:47 AM

এই মুকুলের বাপটা কি পাষণ্ড মাইরি, নিজের বংশধরকে এরকম বাঁশ দিতে দুবার ভাবলো না ?

তবে প্রেমালাপটা সলিড। কাজের ছেলে একদম, বেকার না হেজিয়ে একদম পয়েন্ট বাই পয়েন্ট।


Name:  b          

IP Address : 4512.139.6790012.6 (*)          Date:19 Feb 2019 -- 06:46 AM

অহে সুকি, তোমরা অন্ডকোষ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে? বিশ্বাস করতে বলো?


Name:  সুকি          

IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:19 Feb 2019 -- 07:06 AM

অন্ডকোষ অবশ্যই ব্যবহার করতাম না। হাতুরে ডাক্তার কেজা গ্রামের মানু-কে দেখাতে গেলে সে তো অন্ডকোষ কি জিনিস বুঝতেই পারল না! বীচি-ই বলা হত। লেখাটা ফেসবুকে দিয়েছিলাম বলে এই পরিবর্তন


Name:  সুকি           

IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:20 Feb 2019 -- 08:36 PM

নষ্টালজিয়া এক অসুখের নাম – আর আমি সেই ফাঁদে বার বার পা দিই, যেমন আগের দিন কবি অরুণ ষোষের লেখা ‘শুয়োর’- সিরিজের কবিতাগুলি পড়তে গিয়ে দিলাম। সে দিন সকাল বেলা বিশেষ কোন কাজ না থাকায় কি মনে করে পুরানো ফাইল পত্র ঘাঁটে গিয়ে অরুণ-দার কবিতার খাতাটা পেয়ে গেলাম। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে ১৭ নম্বর কবিতাটি দিয়েই শুরু করলামঃ

শুয়োর – ১৭
--------------------
এখনও শুয়োরের বাচ্চারা জন্মায়
বহুত পয়সা কামায়
টাকা থাকলেই শুয়োর হয় না
আবার শুয়োর পুষলেই টাকা হয় না
শুয়োরের বাচ্ছা
দিল কি তোদের সাচ্চা?
লোকের পিছনে কাঠি করে
সারে জাঁহা সে আচ্ছা ।।

কবি অরুণ ঘোষ মানে আমাদের নিমোর অরুণ – ভারত সেবক সমাজের প্রিয় অরু-দা! অরুন-দা হল গিয়ে আমাদের নিমো গ্রামের বাল্মীকি – আদিকবি। অনেকে ফেসবুকে আমার লেখা পড়ে ভাবতে পারেন যে, আমি হয়ত নিমো গ্রামের লেখা লিখির জগতে কেউকাটা ছিলাম – ফার ফ্রম ইট! পড়াশুনার সাথে যে আমার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে, মায় সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে, তাই আমাদের গ্রামের অনেকের কাছে কল্পনাতীত ছিল। বুদ্ধিমান পাঠক প্রশ্ন করতে পারে – ভাই, অরুণের কবিতার খাতা তোমার কাছে এল কি করে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হল – আরো বাকি অনেক কিছুর মত আমি নিজের বাঁশ নিজেই টেনে এনেছিলাম। ঘটনা খুলে বলতে গেলে বেশ জটিল।
মেমারী স্টেশনের ডাউন প্লাটফর্মের ছাউনির তলায় বহুদিন যাবত এক হাতে লেখা দেওয়াল পত্রিকা বেরোত – যার নাম ছিল “কলমের মুখ”। আমাদের বন্ধু বাচ্চুর দাদা চালাত মূলত সেই পত্রিকা – রফিকদাই সম্পাদক, অবসর সময়ের ‘পাদুকালয়’ জুতোর দোকানের মালিক। জুতোর ব্যবসা বলতে গেলে সিজিন ব্যবসা গ্রামের দিকে। তাই পুজোর এবং বর্ষার সময় সেই হাতে লেখা দেওয়াল পত্রিকা অনিয়মিত হয়ে যেত, কারণ সম্পাদক স্যানডাক ও অজন্তা বিক্রি করে হাঁপাত। বছরের বাকি সময় রফিকদা কলমের মুখ নিয়ে ব্যস্ত, আগুন ঝরে পড়ত লেখাতে। এই আগুন ঝরা বক্তব্য আমার নয় – বাচ্চুই একদিন বলল যে দাদার লেখা নাকি ফুলকি ছোটাচ্ছে। মনে রাখবেন মেমারী সেই সময় সি পি এম পার্টির প্রাণকেন্দ্র – বুদ্ধদের কাছে বোধিগয়া যেমন।

লাইফে যেমন চিরকাল নিজের পায়েই নিজে কুড়ুল মেরে এসেছি – সেই দিনও আবার একবার মারলাম। বাচ্চুর মুখে তার দাদার কথা শুনে কি মনে করে বলে ফেললাম, “বাচ্চু, তোর দাদাকে বলে দ্যাখ না, যদি আমার একটা কবিতা ছাপতে রাজী হয়! আমি পুরো তুবড়ী ছুটিয়ে লিখেছি”। বাচ্চুর সাথে কবিতার সম্পর্ক ততটাই যতটা হল ওয়াটার পোলোর সাথে এমনি পোলো খেলার। বাচ্চু বলল, “দে তাহলে তোর লেখা যেটা কড়া আগুন ঝড়ানো কবিতা আছে”। আমি খাতা খুলে ভাবতে বসলাম যে কোন কবিতা দেওয়া যায় যাতে সম্পাদক ঝট করে ঘায়েল হইয়ে যায়। বেছে দিলাম সেই কবিতা যার শুরু হচ্ছে এইভাবে,

“ছুঁড়ে দেব তোর কলমের মুখে একদলা থুতু
মাঠ থেকে ধান ওঠার পরই না হয়
কবিতা করিস আবার
এখন গিয়ে গরুর গাড়ির চাকাটা ঠ্যাল!”

জমি থেকে ধান তুলতে গিয়ে গরুর গাড়ির চাকা বসে গ্যাছে নরম মাটিতে কিন্তু আসে পাশে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না ঠেলার জন্য – সেই ফ্রাশটেশন থেকেই এই আগুন কবিতার জন্ম। মনে হয় রফিক-দা রিলেট করতে পেরেছিল – এই কবিতা ছাপা হয়ে গেল পরের মাসের দেওয়াল পত্রিকায়! ব্যাস আমার শান্তির শেষ। নিমো গ্রামের দু-একজন জানতে পেরে গেল আমি নাকি কবিতা লিখি! হ্যাটা করা শুরু করে দিল – কিন্তু তার মাঝেই আরো বেশী প্রবলেমে পরে গেলাম অরুণ-দা আমার লেখা কবিতা দেখে ফেলায়! কারণ অরুণ-দা তখন নিমো গ্রামের ভিতর মধ্যে তার কবিতার খাতার উত্তরাধিকারী খুঁজে বেড়াচ্ছে পাগলের মত। সেই খাতা যার মধ্যে পুরো ‘শুয়োর’ সিরিজের কবিতাগুলি লেখা আছে!

অরুণ এবং তার ভাই বরুণ বার্ণপুর ইস্পাত কারখানা থেকে একদিন ফিরে এল গ্রামে – কেন ঠিক জানি না। লোকে শহর থেকে গ্রামে ফিরে পয়সা এবং শরীরে চর্বি নিয়ে। এই দুই ভাই ফিরে এল – গাঁজার নেশা এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে। অরুণ-দার সাথে বাড়তি ছিল কবিতার খাতা। আবার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে চলে গেলাম সেই ২২ নম্বর কবিতায়ঃ

শুয়োর – ২২
------------------
সভায় আগত সব শুয়োরের দল
করে কলবল
আর ভেউ ভেউ
যেন বাঘের পিছনে ফেউ
কে করেছে রে তোদের পয়দা?
আটা ছেড়ে খাস ময়দা
ময়দার লুচি হয় আটার রুটি
কোরো না ভ্রুকুটি
সামনের সারি
শুয়োরের দলও মারে ঝারি
কি যুগ এল মাইরি!

আমার মনে পড়ে গেল এই কবিতা অরুণদা পাঠ করেছিল নিমো সাহিত্য সভায়। আমাদের নিমো বারোয়ারী তলায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিনে বিকেলে হত এক ‘সাহিত্য সভা’। সে সভাতে আশে পাশের গ্রামের সাহিত্য মোদী পাবলিক, উঠতি কবি, এবং স্কুল মাষ্টারেরা আসত। নিমোতে এটা শুরু করেছিল সামাদ সাহেব। সামাদ সাহেবের গল্প অন্য একদিন করব, তবে সেই সাহিত্য সভা ঠিক ৬০ বছর চলার পর গত কয়েক বছর হল থেকে যায়। সামাদ সাহেব এবং তার পরে শচীন মাষ্টার এই দুই প্রধান উদ্যোক্তার মৃত্যুই এর প্রধান কারণ।

নিমোর পার্টিসিপেশনের মধ্যে ছিল সঞ্চালক অরুণ-দা, সামনের সারিতে জেলেদের তপি, মহাদেব পাইন, খ্যাপা গোপলা, পান গিন্নি, ডাক্তারদের কেনো এবং তদসহ আরো অনেক বড়, মেজ, ছোট পাবলিক। আমার কোন সাহিত্য সংযোগ ছিল না এই সভার সাথে – আমি কেবল চা বিলি করেই আমার কর্তব্য সীমাবদ্ধ রাখতাম। একবার দেখলাম বর্ধমান থেকে কোন এক পত্রিকার সম্পাদক-কে ডেকে আনা হয়েছে। তিনি ঠিক কি বললেন আমি বুঝতে পারলাম না – বারোয়ারী তলার সামনের কেয়া-ভাইঝি দের বাড়ি চা-টা গরম করে আনতে গেলাম, ভিতরে ঢুকে শুনি সাহিত্য সভা থেকে আওয়াজ আসছে “ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও – চলবে না, চলবে না” ইত্যাদি। এই সব আওয়াজ সি পি এম আমলে আমাদের গ্রামে নিত্য ঘটনা হলেও, আগে কোন দিন সাহিত্য সভায় এমন আওয়াজ শুনি নি! চা গরম না করেই ছুটে গিয়ে দেখি, সেই বর্ধমানের পত্রিকা সম্পাদক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছেন কিভাবে কলকাতার সাহিত্যিকেরা জেলার সাহিত্যিকদের বঞ্চিত করে রেখেছেন। কলকাতার কালো হাত নিয়ে কিছু করার দাবী জানিয়েছেন – এবং ততখনাত নিমো পাবলিকের কমন সাবজেক্ট পেয়ে ‘কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও বলে চিৎকার করতে শুরু করে দিয়েছে!

আরো নষ্টালজিক হয়ে পড়ালাম এটা মনে পড়ায় যে, এই সাহিত্য সভায় চাঁদা তুলতে গিয়েই ‘ঘোড়ার বাঁড়া’-র সাথে পরিচয়। নিমো প্রাইমারী ইস্কুলের পাশের খোকা-কার বাড়িতে যখন চাঁদা তুলতে পৌছালাম তখন বাইরের দুয়ারে বসে খোকার ভাই বুড়ো দাড়ি কামাচ্ছিল। আমার সাথে ছিল ময়রাদের চাঁদু। গিয়ে বললাম, “ও কাকা, চাঁদাটা দাও”। বুড়ো অবাক হয়ে জানতে চাইল, কিসের চাঁদা! সাহিত্য সভার চাঁদা চাইতে এসেছি জানতে পারার পর বুড়োকা বলল, “কি হবে সাহিত্য করে”? বলাই বাহুল্য এ উত্তর আমাদের জানা ছিল না – যেমন জানা ছিল না ‘লোকহিত’ নামক রবি ঠাকুরের প্রবন্ধও আমাদের পড়ে কি হয়। আমরা বললাম, “কাকা ওত জানি না, তুমি চাঁদাটা ছাড়ো না, আমরা অন্য বাড়ি যাই”। আমাদের তাড়া শুনে সাহিত্য করে কি হবে তার জবাবটা বুড়োকা নিজেই দিয়ে দিল, “সাহিত্য করে ঘোড়ার বাঁড়া হবে”। চাঁদা পাব না বুঝে গিয়ে ফেরার সময় চাঁদু-দা কে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি দেখেছ ঘোড়ার বাঁড়া”? তার মেজার খিঁচড়ে ছিল – “নিমোতে ঘোড়া আছে যে দেখব”?

অরুণদা কংগ্রেস করত – তাই তার কবিতাতে সি পি এমের কথাও এসেছেঃ

শুয়োর – ২৫
----------------------------
এসো শুয়োরের দল হাত ধরাধরি করে বলি
ভালোবাসি ভালোবাসি
তুমি তো খেতে ভালোবাস খাসি
খিল খিল হাসি
আবার নির্জনে বলি
আনারকলি আনারকলি
এমন দিন আয়েগা
দলে দলে শুয়োরভি গায়েগা
সা রে গা মা নি
তদপরে সিপিএম-র উদুম ক্যালানি।

সেই সি পি এমের সময়ে গ্রামের রাস্তা অত্যন্ত জঘন্য ছিল – সেই নিয়েও আক্ষেপ রয়ে গ্যাছে অরুণদার কবিতায় –

শুয়োর – ৩৩
--------------------------
শুয়োরের দল রাস্তাটা দিল না করে
রাস্তারই পাশে, নিদারুণ সুবাসে
ছড়নো গু তোরা খা প্রাণ ভরে
আমি চিৎকার করে বলি
আনমনে চলি
লেকিন কিঁউ লেকিন কিঁউ
কি বাজে ভিউ, কি বাজে ভিউ
ওরে শুয়োর, এই ভাবে কি পাওয়া যায় ভোট
যে যা পারিস লোট
তোদের যতই শেখাই, চামড়ায় তেল মাখাই
আদপে শুয়োরই তো
তেমনি হাগো মোতো।

এই ভাবেই কুমুদরঞ্জন, জসিমুদ্দীন নয় – আমাদের গ্রামের সময়ের দলিল হয়ে আছে এই ‘শুয়োর’ সিরিজের কবিতা।



Name:  dd          

IP Address : 90045.207.5656.182 (*)          Date:21 Feb 2019 -- 08:51 AM

অরুণবাবুর কিছু কবিতা তো আমার সংগ্রহেও আছে,

ঘোঁত ঘোঁত ঘোঁত ঘতাস
ধামসা শুয়োর নাক ঝাড়ে না
আমি বড়োই হতাশ।

এম্নি গরম, চরম গরম
মারছে ছ্যাঁকা কাঠের খড়ম
শুয়োরদের তো ভ্রুক্ষেপও নেই
গিলছে লুএর বাতাস

কিংবা যখন শীতের রাতে
মাদুর পেতে শুইছি ছাতে
শিশির মাখা হিমেল বাতাস
হচ্ছে হাড়গুলো সব হিমও

তখনো সেই শুয়োর গুলো
মাখছে কাদা মাখছে ধুলো
এমনি গেরাম নিমো।।

আপনেরা তো সবাই বুঝতেই পারলেন ইটি আদতে শুয়োর বিষয়ক পদ্য নয়। ইটি সাক্ষাত গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে এক প্রকৃতি সচতেন কবির নির্নিমেষ আকুতি ও হেঁচকি।




Name:  সুকি          

IP Address : 7845.15.788912.51 (*)          Date:11 Mar 2019 -- 02:05 PM

১২ই ফেব্রুয়ারী নাগাদ HDFC ব্যাঙ্ক যা দাগা দিল আমায়, এমন যাতনা, বেদনা, দুঃখ আমায় বহু দিন কেউ দেয়নি! ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য আমি কাগজ পত্র সব ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে এলাম – ওদের সিষ্টেমে এবার আমার নিমো গ্রামের ঠিকানা থাকবে। বাড়ি ফিরে আসার পর বিশাল এক কাজ করে এসেছি ভেবে খেয়ে দেয়ে একটু ন্যাপ নিতে গেছি, ওমা দেখি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ফোন করেছে। জিজ্ঞেস করে কি, “আচ্ছা, আপনার নিমো-র বাড়ির ঠিকানাটায় ‘ল্যান্ডমার্ক’ কি লিখব ?”

আমি বাকরুদ্ধ! নিমো গ্রামে ঢুকে সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব, এটা সাফিসিয়েন্ট না? আমার বাড়ি বোঝাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লাগবে? আমার কাছ থেকে এটুকুও তুমি কেড়ে নিলে! এই গরীবের আর বিশেষ কিছু ছিল না, গ্রামে এক ডাকে সবাই চেনে এই প্রাইড ছাড়া। অবশ্য এই একডাকে সবাই চেনে ব্যাপারটা নিমোতে শুধু আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এমন নয় – ভেলু বাপন, তবলা, পালেদের গণশা জ্যাঠা, মোটা শৈলেন, সুমন কুমার সহ আমরা প্রায় সবাই নিজেরা নিজেদের ল্যান্ডমার্ক! আমি এই কথোপকথন ভাবছিঃ

- দিদি, সুকান্ত ঘোষের বাড়ি যাব – কোনদিকে বলতে পারেন?

জেলেদের জয়ন্তী ঘুঁটে দিতে গিয়ে থেমে গিয়ে প্রশ্নকর্তাকে জিঞ্জেস করছে

- কোন সুকান্ত ঘোষ? ‘ল্যান্ডমার্ক’ জানা আছে বাড়ির?

এটা ভেবে আমার ঘুম এল না দুপুরে – খুব মন খারাপ করে শুয়ে রইলাম। চিরকাল চিঠি এসেছে, “সুকান্ত ঘোষ, নিমো, বর্ধমান, ওয়েষ্ট বেংগল” এই ঠিকানায়। সেই বিশে হালদার পোষ্টমাষ্টার – মিতা ময়রার চিঠি বিলি – আর গোষ্ট হালদারের ডাক নিয়ে আসা কম্বিনেশন থেকে ইদানিং সৃষ্টির পোষ্টমাষ্টার বউ আর সৃষ্টির নিজের চিঠি বিলি করা – এর কোন কিছুর মাঝেই তো ‘ল্যান্ডমার্ক’ আসে নি!

সুকান্ত ঘোষের চিঠি আসবে নিমো গ্রামে আর তাতে ‘ল্যান্ডমার্ক’ লেখা! এমন দিনও দেখতে হল প্রভু!


Name:   সুকি          

IP Address : 7845.15.788912.51 (*)          Date:11 Mar 2019 -- 02:08 PM

১২ই ফেব্রুয়ারী পর থেকে আমি আশঙ্কা করে যাচ্ছিলাম যে একটা ডিজাষ্টার হতে যাচ্ছে – মানে যখন ওই HDFC ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বাই ফোর্স আমার নিমোর ঠিকানায় ‘ল্যান্ডমার্ক’ উল্লেখ করতে বলে।

বলাই বাহুল্য আমার আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হল এই ৬ই মার্চ। চাপাচাপিতে পরে আমাকে ল্যান্ডমার্ক হিসাবে উল্লেখ করতে হয়েছিল ‘বারোয়ারী’ তলা।

সেই মুহুর্তে আমি লণ্ডনে – ইম্পিরিয়াল কলেজে একটা মিটিং করছি হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠল। একটা বিশেষ কারণে ফোন সচল রাখতে হয়েছিল – আমি ভাবলাম সেই কারণেই হয়ত ফোনটি এসেছে। মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে এলাম কল রিসিভ করব বলে – হাই হ্যালো কিছু নেই, ডাইরেক্ট প্রশ্ন –

- নিমো বারোয়ারী তলা কি ডান দিকে নাকি বাঁ-দিকে পড়বে?

আমি ভাবলাম স্প্যাম কল – কেটে দিতে যাচ্ছি, তারপর ভাবলাম, ওয়েট! স্প্যাম কলে তো কার লোন বা ক্রেডিট কার্ড নেবার কথা জিজ্ঞেস করে। নিমো বারোয়ারী তলা নিয়ে তো স্ক্যাম কোনদিন শুনি নি!

- হ্যালো, আপনি কে বলছেন?

- বলছি দাদা HDFC ব্যাঙ্ক থেকে চিঠি তো চলে এসেছে

এমন ভাবে বলল যে মনে হচ্ছে ব্যাঙ্ক থেকে আমার চাকুরীর খবর এনেছে! আমার মাথায় ফ্ল্যাশ ব্যাক খেলে গেল – কারণ আমার মাথাতেই ছিল যে ‘ল্যান্ডমার্ক’ নিয়ে কেউ না কেউ একটা কেলো করবে। এই ব্লু-ডার্টের ছেলে নিমো এসে এবার ল্যান্ডমার্ক খুঁজছে।

- আরে সামনের কাউকে জিজ্ঞেস করো না সুকান্তর বাড়ি যাব – দেখিয়ে দেবে।

ফোন কেটে দিলাম – মিটিং-য়ের মধ্যে আর বেশী কথা বলে কি হবে। মিটিং এ গিয়ে এদিকে মন বসছে না! যদি ডেলিভারী না দিয়ে চলে যায়! ওদের তো লিখে দিতে পারলেই হল ‘আন-ডেলিভারড’ – তার পরের হ্যাপা তো আমাকে পোয়াতে হবে!

আবার ফোন – ব্লু-ডার্টের আমার কথা বিশ্বাস হয় নি! এদিকে আমার বেশী কথা বলতেও মন চাইছে না – ইনকামিং কল তো আর পুরোপুরী ফ্রী নয়! কিন্তু দায়ে পরে বলতে হল

- বাঁদিকে যাব নাকি ডান দিকে?
- বাঁ দিকে
- ডান দিকে নয়?
- ভাই, তুমি কোন দিকে মুখ করে আছে – মেমারী নাকি রসুলপুর?
- মেমারীর দিকে
- তাহলে ডান দিকে যাও

ফোন রেখে দিলাম – এবং বুঝে নিলাম যে এ ছেলে ‘ল্যান্ডমার্ক’ ট্র্যাক করেই ছাড়বে। খানিক পরে যথারীতি –

- নিমো বারোয়ারী তলা এসে গেছি – আপনি এসে নিয়ে যান চিঠিটা, এখানে দাঁড়িয়ে আছি
- ভাই ইম্পিরিয়ালে আছি মিটিং-এ তো
- আরে তাতে কি হয়েছে! টুক করে মিটিং থেকে বেরিয়ে চিঠি নিয়ে আবার ঢুকে পড়বেন! আর হ্যাঁ আই ডি কার্ড আনবেন কিন্তু।

আমি বুঝলুম যে আমার মাথা খারাপ হয়ে গ্যাছে – ভুল জায়গায় মুখ খুলে ফেলেছি। বললাম

- বাড়িতে মা আছে একটু গিয়ে দিয়ে এসো না ভাই আমার। আশেপাশে কাউকে সুকান্তর বাড়ি বললেই দেখিয়ে দেবে
- ঠিক আছে আমি বাড়িতে দিয়ে আসছি – আপনি বলুন ল্যান্ডমার্ক থেকে কি করে আপনার বাড়ি যাব

বারবার ‘ল্যান্ডমার্ক’ শুনে আমার মাথা গেল খারাপ হয়ে। ইম্পিরিয়াল কলেজের ‘রয়েল স্কুল অব মাইনস’-এর করিডোরে হেনরী বিসিমার এর আবক্ষ মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমি প্রায় চিৎকার করে ব্লু-ডার্টকে ডাইরেকশন দিতে লাগলাম আমার বাড়ি যাবার

- বারোয়ারী তলা থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালে দেখবে মোড়লদের রঞ্জুর একটা কালো রঙের বাইক দাঁড় করানো আছে ওর বাড়ির সামনে – নতুন কিনেছে এল আই সি তে ভালো মাল কামিয়ে। সেই বাইক ছেড়ে প্রায় পনেরো মিটার এগিয়ে গেলে তুমি পাবে গিয়ে ডান হাতে ডাক্তারদের গাব গাছ। তোমার লাক ভালো হলে বাঁদিকে দেখবে নিতাই-য়ের গরু বাঁধা আছে পচা-গেড়ে পুকুরের পাড়ে। আরো দশ মিটার এগিয়ে গেলেই বাঁদিকে দেখবে সৈকতদের বাড়ি – সেই বাড়ির সামনে সৈকতের বাবাকে খড় কাটতে দেখার প্রবল সম্ভাবনা। সেটা ছাড়িয়ে ডানদিকে গণশা পালের গোয়াল। সেই গোয়ালের পাশে দিয়ে রাস্তাটা হালকা পুব দিকে বেঁকে গ্যাছে। রাস্তা হালকা ঘুরেই দেখবে সেটা প্রায় খানিক গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে কার্তিক হাজরার দুয়ারে। ওখান থেকে রাস্তা আবার আমাদের খামারের দিকে বেঁকে গ্যাছে। তবে অতটা যেতে হবে না – তার আগেই বিশ্বেসদের খেঁদির বাড়ি – আগে ওর বাড়ি মাটির ছিল, ইদানিং পাকা বাড়ি হয়েছে, তবে মাঝে মাঝে মনে হয় পাকা বাড়ির দেওয়ালেও মনে হয় খেঁদি ঘুঁটে দেয়। ওই খেঁদি আর পালেদের ভাদুর বাড়ির মাঝ দিয়ে যে সরু রাস্তাটা পাবে সেখান দিয়ে গেলেই

আমাকে আর কথা বলতে দিল না – ব্লু-ডার্টের ছেলে নিজেই এবার ফোন কেটে দিল। টেনশনে আছি – কি জানি আমার বাড়ি শেষ পর্যন্ত সে খুঁজে পেয়েছিল কিনা!


Name:  দ          

IP Address : 3490012.113.8945.7 (*)          Date:11 Mar 2019 -- 03:13 PM

ওরে বাবারে মারে সেজপিসীমা রে ফুলকাকা রে :-)))) আমি মিটিঙে মিউট করে হা হা করে হাসছি। পাশের ডেস্কের সহকর্মীও বধ্য হয়ে মিউট করে জিগ্যেস করছে "আররে কেয়া হুয়া? পগল হো গৈ কেয়া?"
:-))))


Name:  pi          

IP Address : 2345.110.894512.212 (*)          Date:12 Mar 2019 -- 08:25 PM

কী ভাগ্যে অফিসে পড়িনি!! :D :D


Name:   পারমিতা দাস           

IP Address : 892312.221.452323.207 (*)          Date:14 Mar 2019 -- 08:27 AM

ফাইন্ডিং নিমো এন্ড লাভিং ইট।


Name:  শঙ্খ          

IP Address : 2345.110.015612.42 (*)          Date:14 Mar 2019 -- 12:38 PM

😂🤣


Name:  সুকি           

IP Address : 348912.82.1223.58 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 08:29 PM

পচা মোড়লের নাতি আলম হল গিয়ে আমার সেই ছোট বেলার জিগড়ি দোস্ত। আমার বাবার ধারণা ছিল এই যে আলমের সাথে নিমো শিবতলায় গুলি বা ভ্যাঁটা খেলে খেলেই আমার পড়াশুনা সংক্রান্ত অধ:পতনের শুরু এবং ফলতঃ একটা সময়ের পর বাবার হাল ছেড়ে দেওয়া। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বাপ একটা চক্রান্ত টাইপের করেছিল আমাকে রামকৃষ্ণ মিশন নাকি ওই জাতীয় ইস্কুলে হোষ্টেলে পাঠাবে! সে এক অসহযোগ আন্দোলন – নিমো গ্রামের পীড়িতি, ক্রিকেট, ভ্যাঁটা খেলা, স্টেশনের আড্ডা, নিমো ভারত সেবক সমাজ, মোড়লদের খামার এই সব ছেড়ে রামকৃষ্ণ মিশনে পড়তে যাবার মূর্খতা কি করে আমি করতে পারি বাপ কি করে ভেবেছিল কে জানে!

যাই হোক – আলম ছিল আমাদের নানা বিষয়ের গাইড। ক্রিকেট নিয়ে গল্পে আলমের কেস কিছু লিখেছি। খেলা ছাড়াও লটারী এবং জুয়াতেও সেই ছিল আমাদের কান্ডারী। কিছু দিন গ্যাপের পর দেখা হয়ে গেলেই আজকাল দেখছি আলম ‘তুমি’ করে বলতে শুরু করে এবং তার সাথে ‘তুই’ মিশিয়ে ফেলছে। এই সপ্তাহ কয়েক আগে, নিমো গেছি খুব কম সময়ের জন্য – রাস্তায় আলমের সাথে দেখা – রশিদের জমিতে চারটে ছাগল বাঁধতে যাচ্ছে। আমি বললাম,

- কি রে কি খবর?

- আরে তুমি কবে এলে? খবর আর কি, জানিস আমি তো মরে যাচ্ছিলুম আর একটু হলে পরে। শালার ডাক্তার আমাকে প্রায় মেরে ফেলেছিল!

কি কেস জানতে চেয়ে বুঝতে পারলাম, আলমের পেটে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাথা হচ্ছে। ব্যাথা আগেও হত – সেই জন্য কিছু দিন হল মদ খাওয়া একটু কমিয়েছে, যদিও দাবী করে একদম খায় না। মেমারীতে এক ডাক্তার নাকি দেখে বলেছে আলমের পেটে জল জমেছে। সেই জল বের না করলে নাকি যন্ত্রণা কমবে না। তো সেই ডাক্তার শিয়ালদহের কাছে ডঃ মাসুদ না কি নাম, তার কাছে রেফার করে। আলমে যেটা বলল, সেই ডাক্তারের কাছে দেখাতে গিয়েছিল ‘প্লেট’ করে নিয়ে! এবার প্লেট মানে আল্ট্রাসাউন্ড নাকি এক্স-রে তা সে বলতে পারল না। মাসুদ দেখে বলে, বেশী কিছু চিন্তা নেই – পেটে জল জমেছে দেখা যাচ্ছে। হালকা আপারেশন করেই জল বের করে দেবে – পুরো অজ্ঞান করারো দরকার নেই। খানিকটা অবশ করেই কাজ হাসিল।

এই পর্যন্ত শুনে আমি বললাম,

- ভালোই তো – তাহলে প্রবলেম হল কোথা থেকে?

- আরে বাঁড়া শোন না। আপারেশন করাতে তো গেছি – পেটে ফুটো করে আঙুল ঢুকিয়ে বোকাচোদা মাসুদ জল খুঁজছে। আমি বলছি, ডাক্তার বাবু লাগছে কিন্তু। শালা বলেই যাচ্ছে, “আরে এই খানেই তো জল দেখলুম জমে রয়েছে। আর একটু খুঁজলেই পেয়ে যাব!” এই করে করে আমি ককিয়ে উঠছি – শেষে না পেরে আমি ঝেড়ে মেরে উঠে পড়ে পালিয়ে এলুম পেটে হাত চাপা দিয়ে। তুই বললে বিশ্বাস করবি না সুকান – বালের ডাক্তার প্লেট উলটো করে দেখেছে। আমার জল জমেছে ডান দিকে, সে খুঁজছিল বামদিকে।

- তা তুই কি করে জানলি জল কোনদিকে জমেছে?

- সেই তো মাসুদের নার্সিং হোম থেকে, আমি ছেলেকে বলনু, ব্যাঙ্গালোরে আমাকে নিয়ে না গেলে বাঁচব না। তৎকালে টিকিট পেলাম না। শেষে পেটে বালিশ চাপা দিয়ে প্লেনে করে ব্যাঙ্গালোরে গেনু বুঝলি। ওখানের ডাক্তার দেখেই তো বলল, তোমারে পেটে উলটো সাইডে ফুটো করে দিয়েছে কলাকাতায়। কলকাতায় বাঁড়া মানুষ যায় ডাক্তার দেখাতে! এর থেকে আমাদের কেজার মানু ডাক্তার অনেক ভালো।

আলমের দাদু পচা মোড়ল ছিল গিয়ে আমাদের গ্রামে চাল পোড়া, হাঁড়ি চালা, জল পোড়া, বাণ মারা – এই সব ব্যাপারে সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট। আমরা জোর জবরদস্তি করে আলমকে ওর দাদুর কাছ থেকে ক্রিকেট ম্যাচে টসে জেতার ডার্ক আর্টটা শিখে নিতে চাপ দিয়েছিলাম। আলম আমাদের নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন ছিল না ঠিকই – কিন্তু আমাদের হয়ে টস করতে ওই যেত। কেন না পচা মোড়লের নাতি আলম যে টসে জিতবে প্রতিবার এমনি আমাদের বিশ্বাস ছিল

শীতকালে আলমের ফুলটাইম জব ছিল ক্রিকেট কর্মকর্তা, গ্রীষ্মের সময় তখনও ফুটবল খেলা হত, ফলতঃ ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত, বর্ষা আর শরতের মাঝের সময়টায় সে ব্যস্ত থাকত মাছ ধরা নিয়ে – আর বছরের বাকি সময়টায় সে বড় ভাইয়ের আন্ডারে জামা কাপড়ের টেলারিং কাজ করত। এবং সমস্ত সময়েই আলমের কনস্ট্যান্ট সাথী ছিল লটারী এবং জুয়া। তবে সেই লটারী এবং জুয়া খেলার গল্প অন্য সময়। ওই বিষয় গুলি জটিল, অনেক গবেষণা এবং অনেক উত্থান-পতন তার মধ্যে জড়িয়ে আছে।

পচা মোড়ল জীন, পরী, আধিভৌতিক ব্যাপার নিয়ে কারবার করত বলে ওদের বাড়িতে একটা ছমছমে ব্যাপার ছিল। এবং সেই জন্যই মনে হয় বাকি অনেক বিষয়ে ডাকাবুকো হলেও আলমের ভূতের ভয় ছিল প্রচুর। তেমনি এক ঘটনা দিয়ে এখনকার মত আলম কাহিনী শেষ করব। আলমের কাকা নাকি কোন সময় বাড়িতে ইলেক্ট্রিকে হুকিং করত। তখনকার দিনে গ্রামে গঞ্জে বেআইনী হুকিং বেশ চলত এবং তাই মেমারী ইলেকট্রিক অফিস থেকে মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে লোক আসত ধরপাকড় করতে। একদিন ভোররাতে আলমদের বাড়ির সামনে দুটো হেডলাইট জ্বালিয়ে একটা গাড়ি দাঁড়াতে দ্যাখে আলমের মা। সেই সময় আলমের কাকা নাকি নাইট ডিউটিতে গিয়েছিল – চোরের মন বোঁচকার দিকে থাকার জন্য আলমের মা মনে করে ইলেক্ট্রিক অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে ধড়তে এসেছে হুকিং পার্টিকে। আলমের মা গেল আলমকে ঘুম থেকে উঠাতে দরজায় কড়া নেড়ে – দরজায় কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে বলল –

- এ্যাই আলম, আলম

বেশ কিছু ক্ষণ ডাকাডাকির পর আলমের ঘুম ভাঙে। কিন্তু সেই ফিস ফাস ডাক শুনে আলমের হয়ে গ্যাছে

- কে, কে ডাকছে
- কে কি রে? আমি তোর মা – দরজা খোল, জরুরী দরকার আছে

আলমের হয়ে গ্যাছে ভয়ে – এই ভাবেই নাকি ভোর রাতে নিশি ডাকে গলা নকল করে। কিন্তু যাচাই না করে তো আর দরজা খোলা যায় না। তাই আলম জানতে চাইল

- তুমি যদি আমার মা হও, তাহলে বলত মা আমি কি দিয়ে সন্ধ্যেবেলা ভাত খেয়েছিলাম?

- রাতের বেলায় ফাজলামো হচ্ছে? ওই তো পুঁটি মাছ যেগুলো ধরে আনলি সেটা বাটি ভাজা করে দিলাম।

আলমের ডাউট ক্লিয়ার হল – দরজা খোলার পর মা ওকে বলে চুপিচুপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এগিয়ে গিয়ে যেন ওর কাকা বাড়ি আসতে বারণ করে। কারণ বাড়ি এলেই পাকড়াবে।
এর পরের কথা আলমের মুখে

- জানিস বাঁড়া, বাড়ির সামনে দিয়ে তো বেরোতে পারছি না – গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে হেডলাইট জ্বেলে। তাই পাঁচিল ডিঙিয়ে ওই রাতে পুকুরের জল পেরিয়ে রাস্তার ওপারে কাকাকে খবর দিতে গেলাম। লুঙ্গিটা খুলে হাতে নিয়ে পুকুরটা হেঁটেই পেরিয়ে গেলাম – জল তো খুব বেশী ছিল না। ফেরার সময় ভাবলাম, সামনে দিয়েই ঢুকব বাড়িতে – যা হয় হবে। শালা বাড়ির সামনে এসে দেখি, কোথায় ইলেক্ট্রিক অফিসের গাড়ি! সন্তুদের পুকুরে মাছে ধরতে এসেছে ছোট হাতি নিয়ে – মাছ ধরে দূর্গাপুর নিয়ে যাবে! হেডলাইট দেখেই মা ভয় খেয়ে যায়।

আলমের ভূতের ভয় এখনো আছে – পরের বারে লটারী আর জুয়ার গল্প।


Name:  গবু          

IP Address : 2345.110.674512.18 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 09:50 PM

উফফ, সব ভারী লেখার মাঝে একদম প্রানের আরাম! ন্যারাপোড়াতে যেমন হলো, দোলেও হবে কি?

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2]     এই পাতায় আছে15--45