বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--8


           বিষয় : সৈকত (২য়) , সাহিত্য বিষয়ে মন্তব্য সমূহ
          বিভাগ : বই
          শুরু করেছেন :oraphe
          IP Address : 340123.132.451223.86 (*)          Date:13 Aug 2018 -- 05:50 PM




Name:  h          

IP Address : 340123.132.451223.86 (*)          Date:13 Aug 2018 -- 05:52 PM

সৈকত ২য়ঃ

নইপল আমি একটিই পড়েছি আন আরেঅ ওফ ডর্ক্নেস্স, ষাটের দশকের মাঝামাঝি লেখা ট্রাভেলগ, নইপলের প্রথমবারের জন্য ভারতে আসা সে সময়ে। সারা বই জুড়ে ছড়িয়ে ছিল ভারতের প্রতি নইপলের অত্যন্ত ক্রিটিকাল দৃষ্টি, প্রায় কিছুই পছন্দের ছিলনা নইপলের ঐ যাত্রায়, বইয়ের নামেই সেটা স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশী অপছন্দের ছিল, চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অপরিষ্কার, নোংরা আর দারিদ্র। বইটা এদেশে ব্যানও হয়েছিল, ঐ দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য।

প্যরালাল টেক্স্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল ভারতে ফিরে আসার পরে এই দেশ সম্বন্ধে মোহনদাস গান্ধীর মতামত, চিঠি, লেখালেখি। "বাইরের" লোক হিসেবে গান্ধী যা দেখেছিল, দেশের লোকদের সেই সব চোখ এড়িয়ে যেত, বাইরের লোক যারা তারাই বেশী দেখে, এরকমই ছিল নইপলের বক্তব্য ! নিজেও সেটাই বলতে চেয়েছিলেন মনে হয়। (কলকাতাতেও এসেছিলেন । সমালোচনা প্রবনতা কিছুটা কম ছিল, কলকাতা নিয়ে ? মূলতঃ কলকাতা শহরকেন্দ্রিক সাহিত্য-শিল্প সংক্রান্ত কাজকর্মের খোঁজ পেয়ে। ) শেষ পর্যন্ত, উত্তর প্রদেশের সেই গ্রামে, যেখান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষরা চলে গিয়েছিল ত্রিনিদাদ, সেখানে পৌঁছে, যখন নইপলের মনে হল, গ্রামের লোকেরা অপেক্ষা করছে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা-আর্থিক সাহায্য, তখন প্রবল হয়ে ওঠে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে।

নইপল, তায়েব সালিহ নয়, নীলনদের জলে জলে ডুবে যেতে যেতে যে সাহায্যের জন্যে প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠবে। হয়ত কনরাড অনুসারীই বেশীটা, কলোনীর ক্ষত স্পষ্ট নয় বা তার থেকে আলাদা, কিছুটা বাইরে দাঁড়িয়ে।




Name:  সৈকত          

IP Address : 340112.99.675612.98 (*)          Date:04 Sep 2018 -- 12:26 PM

আর নুট হামসুন, লেখায় মডার্নিস্ট ধারার পুরোধা পুরুষ। টমাস মান, কাফকা, স্টিফেন জইগ হয়ে আইসাক বাশেভিস সিঙ্গার, সবাই কিছু না কিছু নিয়েছে হামসুনের লেখা থেকে। বিংশ শতক শুরুর আগে থেকে, ১৯২০ নাগাদ অবধি, হামসুনের লেখালেখির সেরা সময়। Hunger, Mysteries, Pan, Victoria হয়ে ১৯২০ তে নোবেল, মূলতঃ Growth of the Soil উপন্যাসের জন্য, সাগা বিশেষ। মোটামুটি একই সময়ে, হামসুন, স্ট্রিন্ডবার্গ আর এদোয়ার্ড মুঙ্খ, উপন্যাসে, নাটকে, আর ছবিতে - এক্সপ্রেসানিজমের চূড়ান্ত প্রকাশ, অন্তরমনের বিস্ফার !! স্ট্রীম অফ কনশাসনেস, ইন্টিরিয়র মনোলগ, ছেঁড়াখোঁড়া মানসিক অবস্থার প্রকাশ, মডার্নিস্ট লেখালেখির এই চিহ্নগুলো সবই` উপস্থিত নুট হামসুনের লেখায়।

এখানে তো প্রেমেন মিত্র চেয়েছিলেন, কল্লোলের আতিশয্যে, গোর্কি আর হামসুনের লেখাকে মিলিয়ে লিখবেন। মাণিকবাবু সে কথা শুনে, হামসুন পড়তে গিয়েছিলেন, বুঝতে পারেননি ঐ মেলানোটা কি ভাবে সম্ভব !!

রাজনীতি আর বক্তব্য যাই হোক, এসব লেখকদের, নাঃ, জাস্ট ছাড়া যায় না, শুধু দু-চারটে বইয়ের জন্যই ।




Name:  সৈকত          

IP Address : 340123.99.121223.134 (*)          Date:04 Sep 2018 -- 02:15 PM

- প্রসঙ্গটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাতেই ছিল। হয় 'লেখকের কথা' বইয়ের কোন লেখায়, অথবা মার্ক্সবাদী পত্রিকায় বিতর্কের সময়ে মাণিকবাবুর বড় প্রবন্ধটায়, অথবা শরৎচন্দ্রের "শেষ প্রশ্ন" উপন্যাসের সমালোচনায়।


Name:  i          

IP Address : 452312.169.9005612.240 (*)          Date:04 Sep 2018 -- 02:35 PM

'লেখকের কথায়' আছে। কালি কলমে প্রেমেন্দ্র মিত্র একটি চিঠি লেখেন- জীবনকে দেখাবার পাঠ নিতে যদি গোর্কি হ্যামসুনের পাঠশালায় গিয়েই থাকি তাতে দোষ কী-এযে জটিল দুর্বোধ্য জগৎ... ইত্যাদি। আরো লিখেছিলেন, এই জগতে এলে ইউক্লিডরা ফাঁপরে পড়ে।
মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন, হ্যামসুনের বই তিনি পড়েছিলেন (হাঙ্গার সম্ভবতঃ), এই চিঠি পড়ে গোর্কি পড়তে গেলেন এবং মাদার পড়তে পড়তে আশ্চর্য হয়ে ভাবলেন, হ্যামসুন আর গোর্কিকে প্রেমেন্দ্র মিত্র মেলাবেন কেমন করে...


Name:  সৈকত          

IP Address : 340112.99.675612.98 (*)          Date:11 Sep 2018 -- 08:48 AM

i-দিকে ধন্যবাদ জানালাম, ঠিক তথ্যটা দেয়ার জন্য।


Name:  ওরফে          

IP Address : 340123.99.121223.132 (*)          Date:11 Sep 2018 -- 03:14 PM

ইন্দোকে বলার, যে ড্যানিল খার্মস পড়তেই পার। যে কোনো অ্যাবসার্ডিস্ট লেখাপত্তর পড় উচিত, আরও উচিত ১৯২০-৩০ এর রাশিয়ার চরম আভাগার্দ লেখালেখিগুলো, শ্ক্লভস্কির ফর্ম্যালিস্ট স্কুলের সমালোচনা সাহিত্য সমেত !!


Name:  সৈকত          

IP Address : 342323.176.2389.171 (*)          Date:12 Sep 2018 -- 01:24 AM

ঈশানের আগের দুটো উপন্যাস, খেরোবাসনা ও মনেঞ্জোদারো, মূলতঃ প্যারানৈয়াক জগতের আখ্যান। প্রধাণ চরিত্রদুটি, ক্রমাগত তাদের চারপাশকে নিয়ন্ত্রন করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। খেরোবাসনায় সেটা শুধুই লোকজনকে লক্ষ্য করে যাওয়া, নোটবইতে তাদের সম্বন্ধে লিখে যাওয়া অথবা শিশুর ড্রয়িং-এর মত অদ্ভুত ছবি আঁকা; সবই যেন সে করে যাতে নিজের ওপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে না ফেলে, তার চেষ্টা। মহেঞ্জোদারোয়, জগতটা যেন আরও নিয়ন্ত্রনের বাইরে, তার চাপে বুনো, মুখ্য চরিত্রটি, নিজের চিন্তাভাবনাকেও পালটে ফেলতে চায়। সে যা চায় তা কখনই ঘটবে না জেনে, অথচ সেইগুলো ঘটুক সেরকমই ইচ্ছে বলে, নিজের চাওয়াগুলোও উল্টে দিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনার আকাঙ্খা করে, কারণ 'আশা' যে সেগুলোও সে সত্যিই চাইছে বলে, সেগুলোও না ঘ'টে যা সে চায় সেগুলোই ঘটবে !! কিন্তু শেষরক্ষা হয়না, যারা পড়েছেন তারা জানেন যে প্রথম লেখাটায় , শেষ পর্যন্ত চারপাশটা মা্ছের বাজার হয়ে ওঠে, চোর সন্দেহে নিরপরাধ একটি ছেলেকে গণপিটুনির মধ্যে দিয়ে তুমুল ভায়োলেন্স শুরু হয়, আর কিছুই করার থাকে না। পরের লেখাটি শেষ হয় বান্ধবী বিচ্ছেদে এবং প্রাণপণে এই (বিপরীত) চাওয়াতে যে সে আর বাঁচতে চায় না, সত্যি সত্যি যাতে সে বেঁচে থাকতে পারে, জীবনের সবকিছু নিয়ে !!

'দিনগুলি রাতগুলি'-তে প্যারানৈয়ার জগত অতখানি ব্যাপক নয়। একেবারে যে নেই, সেটাও নয়, উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদ শেষই হচ্ছে এই বোধ দিয়ে যে চরিত্রটি কোন মানুষের মুখই স্পষ্ট করে চিনতে পারে না, মাঝামাঝি অংশে ফিরে আসছে একই কথা, যে পরিপ্রেক্ষিত বদলে গেলে কোন লোককে সে চিনতে পারে না, অথবা নন্দন চত্বরের পরিচ্ছেদেও একই রকম ঘটে, সুবেশ-সুবেশা মানুষ-মানুষীর ভিড়ে, ঠ্যালা আর গুঁতো খেতে খেতে মাথার ভেতরে এই বোধটা স্থিরই থাকে যে সে পৃথিবীর কোন লোককেই চিনতে পারে না। যেন সে এক অবোধ শিশু অথবা অপরিপক্ক মষ্তিষ্কশুদ্ধ এক মানুষের বোধ তার !!

কিন্তু এর অরেও যে বুনো তার চারিদিককে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে না, তার কারণ সে নিজেকে যেন এক ঘোরের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে অথবা ঐ ঘোরের মধ্যে থেকে যাওয়াটাই তার একরকমের বেঁচে যাওয়া। এই ঘোরটা কামনার ছোঁয়া লাগা যৌনতা যা
পর্নোগ্রাফির শরীর নয় অথবা প্লেটোনিক কিছু, শিরশিরানিময় এক অনুভূতি, ডিজায়ার বলি যাকে, অপ্রাপণীয় যা, তার থেকে এই কামনার ইশারাটা সমানে সে ধরতে পারে, বুনো সেই জন্যই হয়ত শেষ পর্যন্ত দৈনন্দিনটা কাটিয়ে উঠতে পারে, আগের দুটো উপন্যাসের মত নিয়ন্ত্রনহীন অদ্ভুত পরিপার্শ্ব তার সম্পূর্ন জগত নয়।

চরিত্রের ক্রোনোলজি অনুযায়ী অথবা উপন্যাসের বাস্তব মানলে, দিনগুলি রাতগুলি যেন আগের ঘটনা, চরিত্রটি এরপর তার যৌবনকালকে ফেলে রেখে ধারালো পৃথিবীতে ঢুকে যাবে পরের দুটি লেখায়, কামনা বা যৌনতা সেখানে অনুপস্থিত, যা আছে তা সম্পর্ক নয়, সম্পর্কের ক্যরিকেচার, সেখানে ক্রন্দনেরও স্থান নাই। এও লক্ষ্য করে দেখি যে মহেঞ্জোদারো বা দিনগুলি রাতগুলিতে, দুটো উপন্যাসেই চরিত্রটির নাম বুনো ! খেরোবাসনায় কি ছিল মনে নেই, একই নাম থাকলেও বা না থাকলেও বিশেষ কিছু যায় আসে না বলেই মনে করি। অন্য কেউ নাম ধরে তাকে খুব কমই ডাকে (বুনো নামটিও অদ্ভুত, যেন কোন নামই নয়), প্রথম পুরুষে লেখা তিনটি উপন্যাসেই 'আমি'ই প্রধাণ, আমি-টি ক্রমাগতই নিজেকে একটা স্থিরতা দিতে চাইছে কারণ সে হয়তবা তার গৃহ হারিয়েছে।





Name:  ওরফে          

IP Address : 2345.110.123412.80 (*)          Date:14 Sep 2018 -- 05:35 AM

http://www.guruchandali.com/blog/guruchandali.Controller?portletId=8&p
orletPage=2&contentType=content&uri=content1321614002982


ওপেন ভেইনস এবং সকার ঈন শেডস অ্যন্ড সান খ‍্যাত এডুয়ারডো গালি য়ানো প্রসঙ্গে (সৈকত এবং কেসি)

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--8