বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : উমা রিভিউ
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন :সুদেব ভট্টাচার্য
          IP Address : 7845.15.0123.230 (*)          Date:11 Jun 2018 -- 12:43 AM




Name:  সুদেব ভট্টাচার্য           

IP Address : 7845.15.0123.230 (*)          Date:11 Jun 2018 -- 12:49 AM

সতর্কীকরণঃ 'উমা রিভিউ' (স্পয়লার রয়েছে)


হ্যাঁ উমা দেখব বলেই ঢুকেছিলাম কড়কড়ে ২২০ টাকার টিকিট কেটে আইনক্সে। বুঝতে পারিনি বিসর্গটা সাইলেন্ট ছিল।টাকাগুলি বাবুঘাটে বিসর্জন দিয়ে হল থেকে বেরোনোর পরে আমাদের সত্যিই তখন ‘উঃ মাগো’ দশা!
আদ্যন্ত অ্যাবসার্ড একটি সিনেমা। আবেগমথিত হয়ে অন্ধের মত স্ক্রীপ্ট লিখলে যা দাঁড়ায় তারই উদাহরণ উমা। শুধু আবেগটাই আছে। কিন্তু আবেগটাকে বাস্তবের পথে ফ্লো করানোর ব্যাপার নজরে আসেনি। ডিরেক্টর সিনেমাটিকে বাস্তবের পটভূমিকায় কেন করেছেন বুঝলাম না। এর থেকে উমা ইন ওয়াণ্ডারল্যাণ্ড হলে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হত।
বাবার নাম হিমাদ্রি (হিমালয়)। মায়ের নাম মেনকা। ভিলেইনের নাম মহীতোষ শূর (পড়ুন মহিষাসুর)। আর মূল চরিত্র উমা! সিরিয়াসলি? এত মোটা দাগে বোঝাতে হল!
একটি টার্মিনাল রোগে আক্রান্ত মেয়ের শেষ ইচ্ছাপূর্ণ করতে নেমেছেন তার বাবা হিমাদ্রি। তিনি তাই মার্চ মাসে ঠাঠাপোড়া রোদে দুর্গাপুজো তৈরী করতে চান কলকাতা শহর জুড়ে। হ্যাঁ পুরো কলকাতা জুড়েই হল সেই প্ল্যান। হিমাদ্রি একজন এন-আর-আই ধনকুবের। তাই খোলামকুচির মত টাকা ওড়ানোটা কোনো ফ্যাক্টরই নয়। সুতরাং এয়ারপোর্ট থেকে বেলগাছিয়া জুড়ে লাগানো হল লাইট, হোর্ডিং। কেবল চ্যানেলে দেখানো হল পাঁচ দিন ধরে ফেক পুজোর খবর। এমনকি 'আনন্দবাজার', 'এই সময়' ইত্যাদি সব খবরের কাগজেও ছাপিয়ে নেওয়া হল হেডলাইনসহ পঞ্চমী থেকে বিজয়ার গোটা পাঁচেক সংস্করণ। এখানেই শেষ নয়। নিউ ইয়র্ক, ব্যাংকক আর লণ্ডনের থিমে দুদিনের মধ্যে গড়ে উঠল বিশাল বিশাল প্যাণ্ডেল দেশপ্রিয় পার্ক, মুদিয়ালি, কলেজস্কোয়ারে। (ক্লাবের পার্মিশন, সরকারী অনুমতি, পুলিশের অনুমতি, বাঁশ পোঁতা, কাঠামো বানানো, থিম পুজোর যাবতীয় সরঞ্জাম, আইস্ক্রিমওয়ালা, ভেঁপু ওয়ালা, বেলুন থেকে সি ই এস সির পার্মিশন, হোর্ডিং লাগানো, লাইট ডেকরেশন, মূর্তি আনা, ফেক পুরোহিত, নকল ভিড়, রেডিও অ্যানাউন্সমেন্ট, মাইক বাজানো, ট্রাফিক জ্যামের সুব্যবস্থা – সঅঅঅব হয়ে গেল দুদিনের মধ্যে।)
একটা গোটা আবাসন ভাড়া নেওয়া হল। আবাসিকদের স্যাক্রিফাইস দেখে চোখে জল চলে আসে মাইরি। আহা! দুদিন আগে যাকে এরা কেউ চিনত না, তার মেয়ের জন্য আবাসিকরা দুর্গাপুজো করার অনুমতি দিল, তাদের বাড়িতে ঝুলল লাইট, পাঁচ দিন ধরে নতুন জামা কাপড় পরে তারা নাটক করতে লাগল, অফিস কামাই থেকে নকল পুজোর ঘোরার প্ল্যান সবই করতে লাগল। এমনকি মেয়েটির মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিয়ে আসা হল শ্রাবন্তীকে, অন্যান্য ভূমিকায় সবাই অভিনয় করতে লাগল। এমনকি বিসর্জনের দিন একগাদা লরি আর নকল ভিড় ভাড়া করে বাবুঘাটে দেব, নুসরত, প্রসেনজিত,মিমি মায় গোটা টলিউড নেচে এল কোমর দুলিয়ে। সত্যিই তো এরকম কলকাতা ভাগ্যিস সৃজিত দেখালেন আমাদের। না হলে জানতামই না এত স্যাক্রিফাইস, এত পরের জন্য ভালবাসা, এত মেলোড্রামা আমার শহরের কোনায় কোনায় লুকিয়ে আছে।

ফেসবুকের প্রতি চরম তাচ্ছিল্য ও ব্যক্তিগত বিরূপ মনোভাব সৃজিত কায়দা করে ঢুকিয়েছেন অঞ্জন দত্তের ডায়ালগে। বোধহয় আগের সিনেমাগুলির কড়া সমালোচনার তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল এই ফেসবুক বিরোধিতা। এভাবেই ব্যক্তিগত মতামত ঢোকানোর ছলে তিনি নিজেও একবার ঢুকে পড়লেন সিনেমাতে (হালের ফ্যাশন)। ইনিয়ে বিনিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে অনেক কিছুই করলেন কিন্তু জমলো না।
অন্য দিকে জ্বলন্ত চাড্ডি সমস্যাকে তুলে ধরতে নিয়ে এলেন এক চাড্ডি আবাসিককে (ভিলেন মহিতোষ শূর)। কিন্তু তিনিও শেষ অবধি আর চাড্ডি রইলেন না। উমার গদগদ ‘আংকল’ ডাকে তিনিও একগাদা ছানার সন্দেশ মুখে দিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন। অন্যদিকে সৃজিতবাবু আসল চাড্ডিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে সিনেমায় নিয়ে এলেন বাবুল বাবুকে। তিনিও অনতিবিলম্বেই মহীতোষ বাবুর মত রত্নাকর থেকে বাল্মিকি হলেন। সিংহের বিক্রমে 'তোড় দেঙ্গে ফাঁড় দেঙ্গে' করতে করতে ছুটে আসা বিহারী গুণ্ডা (বাবুল) উমার ডাক শুনেই নস্টালজিয়ায় ভিজে মিউ মিউ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন। এমনকি শেষে ছট পুজোর ঠেকুয়া খেতেও নেমন্তন্ন দিলেন।
সারা সিনেমা জুড়ে ছানাকাটা অভিনয়, নেতিয়ে পড়া গল্প আর গ্যাদগ্যদে বাস্তববর্জিত আবেগের মধ্যে একটু খানি ঠাণ্ডা বাতাস অঞ্জন বাবু এবং অনির্বাণের অভিনয় আর সুইৎজারল্যাণ্ডের ল্যান্ডস্কেপ।
সিনেমাতে একটি জায়গায় একটি চরিত্র তার সহ অভিনেতাকে বলেছিলেন, “গাঁজা খেয়েছ নাকি?”
সিনেমার শেষে আমারও এই একই প্রশ্ন রইল ডিরেক্টরের প্রতি।


Name:  ব          

IP Address : 232312.163.3478.154 (*)          Date:06 Aug 2018 -- 02:46 PM

অসাধারণ সিনেমা রিভিউ


Name:  শঙ্খ          

IP Address : 2345.110.9003412.96 (*)          Date:09 Aug 2018 -- 09:08 PM

হ্যাহ হ্যাহ হ্যাহ। গোলা হয়েছে রিভিউ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3