বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3]     এই পাতায় আছে31--60


           বিষয় : দেশভাগঃ ফিরে দেখা(দ্বিতীয় পর্ব)
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :I
          IP Address : 57.15.9.41 (*)          Date:26 Oct 2017 -- 10:02 PM




Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.249 (*)          Date:05 Nov 2017 -- 01:51 PM

পড়ছি।


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.249 (*)          Date:05 Nov 2017 -- 01:51 PM

পড়ছি।


Name:  I          

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:06 Nov 2017 -- 01:05 AM

হিন্দুত্ব তথা হিন্দুরাষ্ট্রের একটি পরিষ্কার রূপরেখা আমরা প্রথম দেখতে পাবো বিনায়ক দামোদর সাভারকরের লেখাতে। মারাঠী চিতপাবন ব্রাহ্মণ- বংশীয়[1] এই নেতা ব্রিটিশ-বিরোধী চরমপন্থী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১০ সালে ফ্রান্সের মার্সেই থেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁকে ৫০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্দামানে দ্বীপান্তরিত করা হয়। সেলুলার জেলে থাকাকালীন তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ৪ বার ক্ষমাভিক্ষা চেয়ে পিটিশন পাঠান। নিজেকে ব্রিটিশ সরকারের prodigal son হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন তাঁকে parental doors of the Government-এর কাছে ফিরবার সুযোগ দেওয়া হবে। বলেন "Moreover, my conversion to the constitutional line would bring back all those misled young men in India and abroad who were once looking up to me as their guide. I am ready to serve the government in any capacity they like, for as my conversion is conscientious so I hope my future conduct would be. By keeping me in jail, nothing can be got in comparison to what would be otherwise." [2] অবশেষে ১৯২১ সালে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে প্রথমে আন্দামান থেকে মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলে স্থানান্তরিত করে এবং ১৯২৪ সালে মুক্তি দেয়। মুক্তির শর্তটি ছিল তিনি রত্নগিরি জেলা ত্যাগ করতে পারবেন না এবং আগামী ৫ বছর কোনোরকম রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হতে পারবেন না। ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র মনে করেন , জেল থেকে বেরিয়ে সাভারকর সে শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন; আর কোনোদিন তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী কাজকর্মে অংশ নেবেন না।

রত্নগিরি জেলে থাকাকালীনই সাভারকর তাঁর হিন্দুত্ববাদী ধারণাকে রূপ দেন "হিন্দুত্বঃ হিন্দু কে?" বইতে। হিন্দু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বইটির গুরুত্ব প্রবল।স্বঘোষিত নাস্তিক সাভারকর দাবী করেন 'হিন্দুধর্ম' হিন্দুত্ববাদের একটি অংশমাত্র, ধর্ম ছাড়াও হিন্দুত্ববাদ ও হিন্দুরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি নির্ণায়ক রয়েছে। হিন্দুরাষ্ট্রের সর্বপ্রথম নির্ণায়ক হল পবিত্র আর্যাবর্ত্যের ভৌগোলিক সীমা (সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ-সাভারকর যাকে অভিহিত করবেন "অখণ্ড ভারত" বলে)। দ্বিতীয় নির্ণায়কটি হল জাতি- সাভারকরের মতে হিন্দু জাতি সেই বৈদিক পিতৃপিতামহের বংশধর, যাঁরা এই আর্যভূমিতে সুপ্রাচীনকাল ধরে বসবাস করতেন। অপর একটি নির্ণায়ক হল ভাষা-যা হিন্দুত্ববাদের অপর একটি স্তম্ভ। সেই ভাষা হল সংস্কৃত ও হিন্দি। সহজভাবে বললে সাভারকরের হিন্দু জাতীয়বাদ হল-'হিন্দু, হিন্দি, হিন্দুস্তান'-ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও পবিত্র ভৌগোলিক সীমার একটি সমাহার।[3]।

সাভারকরের মতে হিন্দুত্বই হল ভারতীয়ত্বর সার। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণই হল প্রকৃত ভারতীয়; কেবলমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলেই নয়, তারা এই আর্যাবর্তের প্রাচীনতম বাসিন্দা এবং সাভারকর নির্মিত 'হিন্দুত্ব'র অন্যান্য যোগ্যতাও একমাত্র তারাই পূরণ করতে পারে। বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখরাও হিন্দুত্বের এই প্রকল্পের অংশ। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিম বা খ্রীষ্টান জনগোষ্ঠী নয়, কেননা তারা বহিরাগত ও অ-ভারতীয়। তাদের অব্শ্যই ভারতীয় তথা হিন্দু সংস্কৃতিকে মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগত পরিসরে তারা তাদের নিজস্ব ঈশ্বরের উপাসনা ও নিজ নিজ রিচ্যুয়াল পালন করতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে তারা অবশ্যই হিন্দু প্রতীকসমূহ ('সিম্বল') মেনে চলতে বাধ্য। মুসলিমদের প্রতি সাভারকরের বিদ্বেষ ছিল দৃঢ়; তিনি তাঁদের ফিফ্থ কলামনিস্ট মনে করতেন, যাদের আনুগত্য শুধুমাত্র মক্কা ও ইস্তাম্বুলের প্রতি। সংখ্যালঘু হলেও তারা তাদের প্যান-ইসলামিজম ও আগ্রাসী সংগঠনের কারণে হিন্দুত্বের পক্ষে বিপজ্জনক, এই ছিল সাভারকরের মত ।[4] । মুসলিমদের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনে নিযুক্তির তিনি বিরোধী ছিলেন ; অস্ত্র কারখানায় মুসলিম মালিকানা ও নিয়োগ নিষিদ্ধ করবার দাবী করেছিলেন তিনি।

হিন্দুত্বের এই নির্মাণকে শক্তিশালী করতে সাভারকর জাতিভেদ-প্রথা ও অস্পৃশ্যতাকে সমালোচনা করেন। আর্য সমাজের পুনর্ধর্মান্তরকরণের প্রক্রিয়াটিকেও তিনি গ্রহণ করেন। তিনি নিজে বেশ কিছু ধর্মান্তরিত হিন্দুকে পুনর্ধর্মান্তরিত করেন।

সাভারকরের বিভিন্ন বক্তৃতা ও লেখালিখিতে জার্মান নাজিদলের প্রতি সুস্পষ্ট অনুরাগ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি প্রায়শঃ জার্মানীর সংখ্যাগরিষ্ঠ জার্মান ও সংখ্যালঘু ইহুদিদের সঙ্গে ভারতের হিন্দু ও মুসলিমদের তুলনা করতেন। ১৯৩৮ সালে তিনি লেখেন "if we Hindus in India grow stronger in time, these Moslem friends of the league type will have to play the part of German Jews." এবং বলেন যে ভারতবর্ষ "must be a Hindu land, reserved for Hindus".[5]

সাভারকরের এই সংখ্যালঘু-নীতি ও ফ্যাসিবাদী ঝোঁককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন আর এস এস-এর দ্বিতীয় সরসংঘচালক মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত We or our Nationhood Defined বইতে তিনি হিটলারের নেতৃত্বে সেমিটিক জাতির পার্জিংয়ের প্রশংসা করবেন এবং বলবেন যে জাতি নির্মাণের এটি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ যা থেকে 'হিন্দুস্তান' শিক্ষালাভ করে উপকৃত হতে পারে। বলবেন ঃ "From this stand point, sanctioned by the experience of shrewd old nations, the foreign races in Hindusthan must either adopt the Hindu culture and language, must learn to respect and hold in reverence Hindu religion, must entertain no idea but those of the glorification of the Hindu race and culture, i.e., of the Hindu nation and must lose their separate existence to merge in the Hindu race, or may stay in the country, wholly subordinated to the Hindu Nation, claiming nothing, deserving no privileges, far less any preferential treatment not even citizen’s rights. .... We are an old nation:let us deal, as old nations ought to and do deal, with the foreign races who have chosen to live in our country.[6] ।

Notes:
1. মারাঠী চিতপাবন ব্রাহ্মণরা পেশোয়াদের বংশধর। এঁরা নিজেদের একইসঙ্গে পুরোহিত ও যোদ্ধা জাতি বলে মনে করতেন। ব্রিটিশ শাসনের সূচনায় মারাঠী তথা ভারতীয় রাজনীতিতে এঁদের প্রাধান্য খর্ব হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের চরমপন্থী ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বেশ কিছু নেতা এই চিতপাবন ব্রাহ্মণদের মধ্য থেকে উঠে এসেছেন। এঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক। এবং অবশ্যই বিনায়ক দামোদর সাভারকর। সাভারকরের মধ্যে এঁদের অনেকেই হিন্দু তথা পেশোয়া মারাঠী পুনরুজ্জীবনবাদের সম্ভাবনা দেখতে পান এবং সাভারকরের নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনে যোগদান করেন। উল্লেখযোগ্য, গান্ধি-হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন চিতপাবন ব্রাহ্মণ। সেই সঙ্গে
অবশ্য একথাও উল্লেখ করা উচিৎ, গান্ধি ও জিন্না উভয়ের রাজনৈতিক গুরু গোপালকৃষ্ণ গোখলে,গান্ধিবাদী বিনোবা ভাবে, সমাজসংস্কারক ও নারীবাদী পন্ডিতা রমাবাই ছিলেন চিতপাবন ব্রাহ্মণ বংশীয়।
2.Savarkar had begged the British for mercy". Times of India. Times of India. May 3, 2002. Retrieved May 29, 2015.
3.Hindu Nationalism - A Reader: edited by Christophe Jaffrelot,Prineton University Press,2007 vol.,p.15.
4. ibid p.16.
5.Griffin, Roger (2012), Terrorist's Creed: Fanatical Violence and the Human Need for Meaning, Palgrave Macmillan, pp. 120–121, ISBN 978-0-230-24129-9.
6.M.S. Golwalkar, We or Our Nationhood Defined (Nagpur: Bharat Publications, 1939), p. 47-48।






Name:  aranya          

IP Address : 172.118.16.5 (*)          Date:06 Nov 2017 -- 04:47 AM

পড়ছি। ভাল লাগছে


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.9.171 (*)          Date:11 Nov 2017 -- 05:34 PM

আজ আসছে তো?


Name:  Du          

IP Address : 57.184.42.117 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 09:48 PM

আমিও আশা করে এসেছিলাম


Name:  I          

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:16 Nov 2017 -- 11:45 PM

সাভারকর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির তাত্বিক ভিত্তি তৈরী করে দিয়েছিলেন; এর সাংগঠনিক ভিতটি তৈরী করলেন হেডগেওয়ার। ১৯২৫ সালে আর এস এস তৈরীতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বি এস মুঞ্জে, এল ভি পরাঞ্জপে, বি বি থোলকার ও গনেশ সাভারকর (শেষোক্তজন বিনায়ক দামোদর সাভারকারের দাদা )। ১৯২০ সালের নাগপুর কংগ্রেস সম্মেলনের সময় হেডগেওয়ার ও পরাঞ্জপে 'ভারত স্বয়ংসেবক মণ্ডল' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার সদস্যদের কাজ ছিল সম্মেলনের ব্যবস্থাপনা ও দেখভাল করা। এই সংগঠনের ইউনিফর্মই আর এস এস ইউনিফর্ম হিসেবে গ্রহণ করা হল- কালো টুপি, খাকি শার্ট (পরবর্তীকালে সাদা) ও খাকি হাফপ্যান্ট। সদস্যদের লাঠি খেলা, ছোরা-ছুরি ও বল্লমচালনা শেখানোর বন্দোবস্ত করা হল। হিন্দু রাষ্ট্র ও হিন্দু জাতীয় নেতাদের গৌরবগাথা সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য তাঁদের বৌদ্ধিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। শিবাজীর ভাগোয়া ঝান্ডা সংগঠনের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হল। সদস্যদের সামাজিক দয়িত্ব হল হিন্দু মেলা-উৎসবে পুন্যার্থীদের দেখভাল করা; মসজিদের সামনে দিয়ে হিন্দু ধর্মীয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা ও ঝামেলাঝঞ্ঝাট বাঁধলে প্রত্যাঘাত করা [1]

সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হেডগেওয়ার গ্রামে -মফঃস্বলে আর এস এস শাখা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করলেন। শাখাগুলির দায়িত্বে থাকবেন একদল প্রচারক। কমিউনিষ্ট পার্টির হোলটাইমারদের মতই এই প্রচারকরা হবেন আর এস এসের সর্বসময়ের কর্মী, সংঘের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এই প্রচারক এবং স্বয়ংসেবকরা (স্বেচ্ছাসেবী) প্রথমে সংঘকে নাগপুরে, পরে মহারাষ্ট্র জুড়ে এবং পরবর্তীকালে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দেবেন। ৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময়ে আর এস এস-এর স্বয়ংসেবকদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৬ লাখ।[2]

বিশের দশকের দাঙ্গার আবহে আর এস এস-এর প্রতিষ্ঠা। হেডগেওয়ারের অবশ্য বেশ কিছু আগে থেকেই কংগ্রেসী রাজনীতির প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছিল। হিন্দু স্বার্থ রক্ষা, বিশেষ করে গোরক্ষা কংগ্রেসের অ্যাজেন্ডায় না থাকাটা হেডগেওয়ারের মত আরো অনেক তিলকপন্থীদের কখনোই তেমন পছন্দ হয় নি।[3] অসহযোগ আন্দোলনকে খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা এঁদের উষ্মা আরো বাড়িয়ে দেয়। এঁদের মনে হয়েছিল খিলাফৎ আন্দোলন চরিত্রগত ভাবে প্যান-ইসলামিস্ট ও আরব-তুর্কীস্তানের প্রতি মুসলিম -আনুগত্যের পরিষ্কার উদাহরণ। ভারতীয় মুসলিমরা যে গোষ্ঠী হিসেবে ভারতরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নয়, খিলাফৎ আন্দোলনকে এঁরা তার প্রমাণ হিসেবে হাজির করলেন, আন্দোলনটির সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অনুষঙ্গ সম্বন্ধে সুবিধেমত নীরব থাকলেন।

এতদসত্বেও কেন হেডগেওয়ার অসহযোগ-খিলাফৎ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, সেটা বলা মুশকিল। আর এস এস-এর একটি প্রচার-পুস্তিকা উদ্ধৃত করি ঃ ‘Doctorji disapproved of Gandhiji’s policy of launching the non-co-operation movement with Khilafat as its major plank. The Khilafat agitation aiming to restore the Caliphate in Turkey, Doctorji argued, would only breed extra-territorial religious fanaticism among the Muslims here. But he was not the one to stand aloof as a passive spectator during a national struggle merely because it did not come up to his expectations on all points.’[4] আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। মনে রাখতে হবে, তখনো অবধি তিনি কিন্তু কংগ্রেস সদস্য।

১৯২২ সালে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর অবশ্য হেডগেওয়ার আর কংগ্রেসের দিকে ফিরে তাকাবেন না। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যসাধনের জন্য গান্ধির প্রচেষ্টাকে তিনি সমালোচনা করবেন এবং জাতীয়তাবাদকে বুঝবেন হিন্দুরাষ্ট্র স্থাপনার আন্দোলন হিসেবে। বলবেন ঃ‘As a result of the non-cooperation movement of Mahatma Gandhi the enthusiasm in the country was cooling down and the evils in social life which that movement generated were menacingly raising their head . . . . The yavana-snakes [i.e. Muslims] reared on the milk of non-cooperation were provoking riots in the nation with their poisonous hissing.’[5] ১৯২৩-এর নাগপুর দাঙ্গার বিদ্বেষ হেডগেওয়ারের হিন্দুত্ববাদকে আরো শাণিত করে। এই সময়েই তিনি বিনায়ক দামোদর সাভারকরের "হিন্দুত্ব" বইটি পড়েন। এবং অবশেষে ১৯২৫ সালে আর এস এস প্রতিষ্ঠা।

আর এস এস এর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ভূমিকা নিয়ে সংঘ পরিবার মুখর হলেও প্রকৃত সত্য এই যে সংগঠন হিসেবে আর এস এস সযত্নে ব্রিটিশ-বিরোধিতা তাদের অ্যাজেন্ডা থেকে বাদ দিয়ে রেখেছিল। এ কথার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে হেডগেওয়ার-পরবর্তী সরসংঘচালক গোলওয়ালকরের মন্তব্যে। ব্রিটিশ বিরোধিতাকে তিনি রেঅ্তিওনর‌্য দৃষ্টিভঙ্গি বলে বর্ণনা করে বলেন-'Anti-Britishism(sic.) was equated with patriotism and nationalism. This reactionary view has had disastrous effects upon the entire course of the freedom movement, its leaders and the common people.’[6] ব্রিটিশ-বিরোধিতার বিপরীতে আর এস এস -এর কাজ হবে হিন্দুত্ববাদ প্রচার ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণকে নতুন করে শারীরিক বলে বলীয়ান করা।[7] ১৯২৯ সালের লাহোর সম্মেলনে কংগ্রেস পূর্ন স্বরাজ-এর ডাক দেয় এবং আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি দেশ জুড়ে তেরঙ্গা ঝাণ্ডা উত্তোলন ও স্বাধীনতা দিবস পালনের আহ্বান জানায়। হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে আর এস এস দিনটিকে পালন করে সংগঠনের প্রতীক ভাগোয়া ঝাণ্ডা উত্তোলন করে ও 'স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ' প্রচার করে।[8] (পরবর্তীকালেও আর এস এস -এর এই তেরঙ্গা-বিরোধিতা অব্যহত থাকবে-গোলওয়ালকরের স্বাধীনতা-পরবর্তী বক্তৃতায় যার প্রমাণ মেলে।) ১৯৩০ সালেই গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেস লবণ-আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলে হেডগেওয়ার জানালেন সংগঠন হিসেবে আর এস এস এই আন্দোলনে যোগদান করবে না; যদিও ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর এস এস কর্মী আন্দোলনে যোগদান করতে পারেন। হেডগেওয়ার স্বয়ং এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন; অবশ্য তার কারণটি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণটি জেনে নেওয়া যাক হেডগেওয়ারের জীবনীকারের লেখা থেকে-‘Dr Saheb had the confidence that with a freedom-loving, self-sacrificing and reputed group of people inside with him there,he would discuss the Sangh with them and win them over for its work...Doctor Saheb did not let the work of the Sangh get away from his mind (aankhon se aujhal nahin hone diya) even for a moment during his imprisonment. He established close links with all the leaders and activists [of the Congress] who were in prison, made them understand the work of the Sangh and obtained from them promise of cooperation in work for the future. [9]’ অর্থাৎ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি কোনো আনুগত্য থেকে নয়, হেডগেওয়ার জেলে গেছিলেন কেবলমাত্র দল ভাঙাতে। ১৯৩৪ সাল নাগাদ এই সব অন্তর্ঘাতকারীদের প্রতি কংগ্রেসের নজর ফেরে এবং কংগ্রেসে সদস্যদের একইসাথে আর এস এস , হিন্দু মহাসভা কিম্বা মুসলিম লিগের সদস্যপদ গ্রহণ বন্ধ করা হয়।

হেডগেওয়ারের পরবর্তী সরসংঘচালক গোলওয়ালকরও এই ব্রিটিশ-আনুগত্যের লাইন থেকে সরেন নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি ব্রিটিশ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া যাবতীয় বিধিনিষেধ বাধ্য ছাত্রের মত মেনে চলেন; এমনকি সাময়িকভাবে আর এস এস-এর সামরিক শাখাটি বন্ধ রাখেন ।[10] ১৯৪০ সালে সরকারকে আর এস এস জানাবে - "it had no intentions of offending against the orders of the Government". [11] ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকেও তারা দূরে থাকবে। বিনিময়ে সরকার তাদের অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে যেতে অবাধ অনুমতি দেবে।

এর বিপ্রতীপে আর এস এস সেই কাজটি চালিয়ে যাবে, যার জন্য তাদের জন্ম। তা হল 'হিন্দু আত্মরক্ষা' ও 'মুসলিম আগ্রাসন' প্রতিরোধ। ১৯২৭ সালে নাগপুরে গণেশ পূজার একটি মিছিল ঢাক বাজাতে বাজাতে মসজিদের সামনে দিয়ে যাবে; হেডগেওয়ার সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন। লক্ষ্মীপূজার দিন এরকম একটি মিছিল নাগপুরের মহল এলাকার মসজিদের সামনে এলে মুসলিমরা বাধা দেয়। বিকেলের দিকে একদল মুসলিম স্থানীয় হিন্দু মহল্লা আক্রমণ করতে আসে। আর এস এস কর্মীরা তৈরীই ছিল; মুসলিম দলটিকে তারা পিটিয়ে তাড়ায়। তিন দিন ধরে দাঙ্গা চলে; অবশেষে সেনা নামিয়ে তা থামাতে হয়। ১৯২৭-এর এই নাগপুর দাঙ্গার পর থেকেই হিন্দুসমাজে আর এস এস -এর মর্যাদা ও প্রতিপত্তির বেশ বাড়বাড়ন্ত হয় ।[12]

Notes
1.Jaffrelot, Christophe (1996), The Hindu Nationalist Movement and Indian Politics, C. Hurst & Co. Publishers, ISBN 978-1850653011 pp 33-39.
2. J.A. Curran, Militant Hinduism in Indian Politics—A Study of the RSS (N.P.: Institute of Pacific Relations, 1951).
3.Andersen, Walter. “The Rashtriya Swayamsevak Sangh: I: Early Concerns.” Economic and Political Weekly, vol. 7, no. 11, 1972, pp. 589–597. JSTOR,JSTOR,www.jstor.org/stable/4361126.
4.H.V. Seshadri (ed.), Dr Hedgewar the Epoch Maker (Bangalore: Sahitya Sindhu,
1981), p. 50.
5.Tapan Basu, Pradip Dutta, Sumit Sarkar, Tanika Sarkar and Sanbudh Sen, Khaki Shorts, Saffron Flags (Hyderabad/New Delhi: Orient Longman, 1993), p. 14.
6.M.S. Golwalkar, Bunch of Thoughts (Bangalore: Sahitya Sindhu Prakashana, 1996),
p. 138.
7.Jaffrelot, Christophe (2010). Religion, Caste, and Politics in India. Primus Books. p. 46. ISBN 9789380607047.
8.Shamsul Islam, RSS and the Raj, Religion, Power and Violence: Expression of Politics in Contemporary Times, Ed. Ram Puniyani , Sage Publication ,1 June 2005 edition, p. 141.
9.C.P. Bhishikar, Sangh-viraksh Ke Beej: Dr Keshav Rao Hedgewar (New Delhi: Suruchi
Prakashan, 1994), p. 9.
10. Andersen, Walter K.; Damle, Shridhar D. (1987), The Brotherhood in Saffron: The Rashtriya Swayamsevak Sangh and Hindu Revivalism, Delhi: Vistaar Publications.
11. Sumit Sarkar (2005). Beyond Nationalist Frames: Relocating Postmodernism, Hindutva, History. Permanent Black. pp. 258–. ISBN 978-81-7824-086-2.
12.Tapan Basu, Pradip Dutta, Sumit Sarkar, Tanika Sarkar and Sanbudh Sen, Khaki Shorts, Saffron Flags (Hyderabad/New Delhi: Orient Longman, 1993)pp. 19-20.


Name:  I          

IP Address : 57.15.1.14 (*)          Date:26 Nov 2017 -- 12:34 AM

মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিফর্মের ফলাফল খতিয়ে দেখতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে সাত সদস্যের একটি কমিশন তৈরী করল। কমিশনের সদস্যরা সকলেই ব্রিটিশ এম পি। চেয়ারম্যান হলেন স্যার জন সাইমন। সদস্যদের একজন ছিলেন ক্লেমেন্ট অ্যাটলী-সেসময় একজন জুনিয়র লেবার এম পি। সাইমন কমিশনে কাজ করবার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ভারত সমপর্কে তাঁর মতামত তৈরীতে অনেক সাহায্য করবে;ভবিষ্যতে তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নিয়ে সবচেয়ে মুখর ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের একজন হবেন। ১৯৪৫ সালে স্যার উইনস্টন চার্চিলকে হারিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ হবে ভারতের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি ত্বরাণ্বিত করা।[1].

কমিটিতে কোনো ভারতীয় সদস্য'র জায়গা না হওয়াটা ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা খুব ভালোভাবে নেন নি। ১৯২৭এর ডিসেম্বর মাসে মাদ্রাজ সম্মেলনে জাতীয় কংগ্রেস সাইমন কমিশন বয়কট করবার সিদ্ধান্ত নেয়। জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লিগের একটি অংশও সাইমন কমিশন বয়কট করে। জওহরলাল নেহরুর ছোট বোন কৃষ্ণা তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন-'.. by lack of elementary tact, the British did for us what we could not seem to do ourselves; they unified India.'[2]
অবশ্য তাঁর এত উল্লসিত হবার কারণ ছিল না। মুসলিম লিগের একটি অংশ এবং সেন্ট্রাল শিখ লিগ সাইমন কমিশনকে সমর্থন জানায়। সর্বভারতীয় হিন্দু মহসভা বয়কট করলেও পাঞ্জাব হিন্দুসভা কমিশনকে সমর্থন করে। পাঞ্জাব হিন্দুসভার নেতা ভাই পরমানন্দ পরবর্তীকালে সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভার সাইমন কমিশন বয়কটের সিদ্ধান্তটিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে বর্ণনা করেন; বলেন-সরকার-বিরোধিতার রাজনীতি ছেড়ে হিন্দুদের উচিৎ সরকারকে তুষ্ট রেখে সরকারী সহযোগিতা ও সমর্থনের সুযোগ নেওয়া।[3] পাঞ্জাব প্রাদেশিক হিন্দুসভার নেতা নরেন্দ্র নাথ ও গোকুল চাঁদ নারাং পাঞ্জাব রিফর্মস কমিটিতে নির্বাচিত হন। লালা লাজপত রাইয়ের নেতৃত্বে পাঞ্জাব হিন্দু প্রাদেশিক সভারই অপর একটি অংশ যদিও সংগঠনের এই ভূমিকায় (বিশেষ করে নরেন্দ্র নাথের ব্রিটিশ-তোষণকারী মন্তব্যে) প্রবল ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীকালে আমরা লাজপত রাইকে সাইমন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে প্রবলভাবে জড়িয়ে পড়তে দেখবো। [4]

ব্রিটিশ সরকারের একটি সম্পূর্ণ ভুল পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ -বিরোধী আন্দোলনের নতুন ঢেউ তুলল। ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কমিশনের সদস্যরা বম্বে শহরে পা দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কমিশন-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়ে গেল। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী কালো পতাকা হাতে "সাইমন গো ব্যাক" ধ্বনিতে কমিশনকে অভ্যর্থনা জানালেন। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ভারতের বিভিন্ন শহরে একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়ালো। ৩০শে অক্টোবর কমিশন লাহোরে পদার্পণ করলে লালা লাজপত রাই স্বয়ং কমিশন -বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে পুলিশি নির্যাতনের সামনা করলেন। লাঠিচার্জে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন। সেই চোট আর সারে নি। সে বছরই নভেম্বর মাসে তিনি মারা যান।[5]

সাইমন কমিশন প্রত্যাখ্যাত হল। ভারতের সেক্রেটারি অফ স্টেট লর্ড বার্কেনহেড তাঁর হাউজ অফ লর্ডসে দেওয়া বক্তৃতায় ভারতীয় নেতাদের চ্যালেঞ্জ করলেন- একটি সর্বসম্মত সংবিধানের খসড়া রচনা করে দেখান। বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ বেশ স্পষ্ট- ভারতীয়রা কোনোদিনই তাদের অজস্র জাতি-গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ের নিজ নিজ স্বার্থের উর্ধে উঠে একটি সর্বসম্মত সংবিধান রচনা তথা দেশ চালনার কাজ করে উঠতে পারবে না।

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ১৯২৮ সালে একটি অল পার্টি কনফারেন্সের আয়োজন করা হল এবং সেই কনফারেন্স থেকে মতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে একটি কমিটির হাতে দায়িত্ব দেওয়া হল ভারতের সংবিধানের খসড়া রচনা করবার। এই কাজে মতিলালকে সেক্রেটারি হিসেবে সাহায্য করবেন তাঁর ছেলে জওহরলাল। নেহরু রিপোর্টের মূল বিষয়গুলো দাঁড়ালো এরকম-
১। ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস-এর বরাদ্দ (জওহরলাল নেহরু ও সুভাষচন্দ্র বোস সমেত কংগ্রেসের তরুণ তুর্কীরা এতে প্রবল আপত্তি করলেন-তাঁদের দাবী ছিল পূর্ণ স্বাধীনতা)।
২।পৃথক ইলেকটোরেট বাতিল করে জয়েন্ট ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা, যদিও কেন্দ্রীয় আইনসভা ও মুসলিম সংখ্যালঘু রাজ্যে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বন্দোবস্ত। সংরক্ষিত আসনের বাইরে মুসলিমরা চাইলে অন্য আসনেও প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারেন।
৩। যুক্তরাষ্ট্রীয় (ফেডারেল) কাঠামোর সরকার গঠন; রেসিডুয়ারি পাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে।
৪। ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠন।
৫। নারীর সমানাধিকার, ইউনিয়ন গঠনের অধিকার, প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারসহ ১৯টি মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি।
৬। রাষ্ট্রকে সম্পূর্নভাবে ধর্ম থেকে বিযুক্ত করা।

নেহরু রিপোর্ট সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল না। এর আগে ১৯২৭ সালের ডিসেম্বরে মুসলিম লিগের দিল্লী সম্মেলনে ৪ টি প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিলঃ
১। পৃথক ইলেকটোরেটের বদলে জয়েন্ট ইলেকটোরেটে সম্মতি; অবশ্য মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণের রক্ষাকবচ থাকতে হবে।
২। কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলিমদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন বরাদ্দ করা।
৩। বাংলা ও পাঞ্জাবে মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বরাদ্দ।
৪। তিনটি নতুন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য গঠন-সিন্ধ, বালুচিস্তান ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ।

এই প্রস্তাবগুলি কংগ্রেসের ১৯২৭ সালের মাদ্রাজ সম্মেলনে আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। কিন্তু হিন্দু মহাসভা লিগের প্রস্তাবে প্রবল আপত্তি জানায়। কাজেই নেহরু কমিটির কাজ খুব একটা সহজ ছিল না। ৪টি প্রস্তাবের প্রথমটিতে সহমত হতে তাঁদের তেমন অসুবিধে ছিল না। রফাসূত্র হিসেবে তাঁরা সিন্ধকে পৃথ্ক রাজ্য হিসেবে মেনে নিতে স্বীকার করেন, কিন্তু বলেন তা কেবলমাত্র ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস অর্জন করবার পরেই লাগু হবে। সিন্ধ-এর সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

মুসলিম লিগ অব্শ্য তেমন খুশি হল না। '২৯ সালের দিল্লি সম্মেলনে জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লিগ ১৪ দফা দাবীসনদ তৈরী করে। এর পর থেকে এই চোদ্দ দফা দাবীই হবে মুসলিম লিগের যাবতীয় প্রচার- পরিকল্পনা ও দর কষাকষির ভিত্তি। লিগ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মেনে নেয়, কিন্তু দাবী করে রেসিডুয়ারি পাওয়ার থাকতে হবে রাজ্যগুলির হাতে রাজ্যগুলিকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দিতে হবে (অর্থাৎ শক্তপোক্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বিপরীতে তারা চায় একটি দুর্বল কেন্দ্র ও রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতা)। জয়েন্ট ইলেকটোরেটের পরিবর্তে পৃথক ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা করতে হবে ( যা লিগের আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা)। সিন্ধকে অবশ্যই বম্বে প্রদেশ থেকে পৃথক করতে হবে। পাঞ্জাব, বাংলা ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের সীমানার এমন কোনো পুনর্বিন্যাস করা চলবে না, যাতে ঐ প্রদেশগুলির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যহত হয়। কেন্দ্র বা রাজ্যের যে কোনো ক্যাবিনেটে এক তৃতীয়াংশ আসন মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। সকল গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা স্বীকার করতে হবে।

কংগ্রেস লিগের এই চোদ্দ দফা দাবী অস্বীকার করে। জওহরলাল নেহরু এর নাম দেন "Jinnah's ridiculous fourteen points"। কংগ্রেস-লিগ বিভাজন আরো একবার প্রকট হয়ে উঠল। সাইমন কমিশন বিরোধী-বিক্ষোভ দেশের এক বড় অংশের মানুষকে এক করেছিল। নেহরু রিপোর্ট নিয়ে মতপার্থক্য তাদের আবার আলাদা করে দিল।

Notes
1.R.J. Moore, Escape from Empire: The Attlee Government & the Indian Problem (1983).
2.We Nehrus, by Krishna (Nehru) Hutheesing with Alden Hatch. Holt, Rinehart and Winston; 1967, p 78.
3.Communalism in Modern India, Bipan Chandra,p. 135.
4. Neeti Nair: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011, p.86.
5. Nair, Neeti (May 2009). "Bhagat Singh as 'Satyagrahi': The Limits to Non-violence in Late Colonial India". Modern Asian Studies. Cambridge University Press. 43 (3): 649–681.





Name:  I          

IP Address : 57.15.6.192 (*)          Date:30 Nov 2017 -- 08:54 PM

সাইমন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ এক নতুন ভারতীয় নেতার জন্ম দিল। সর্দার ভগৎ সিং। স্ফুলিঙ্গের মত তাঁর জ্বলে ওঠা, স্ফুলিঙ্গের মতই তিনি দ্রুত নিভে যান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তাঁর ফাঁসি হয়। কিন্তু ঐ অল্প কালের মধ্যেই তিনি ভারতীয় লোকগাথায় এক কিংবদন্তীতে পরিণত হয়ে গেলেন।

১৯০৭ সালে এক শিখ জাঠ পরিবারে ভগৎ সিংয়ের জন্ম। পুরোদস্তুর স্বাধীনতা-সংগ্রামী পরিবার। ভগৎ সিং যেদিন জন্মান, সেদিনই তাঁর বাবা ও দুই কাকা জেল থেকে ছাড়া পান। এঁরা সকলেই গদর পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। অজিত সিং ১৯০৭ সালের কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে মান্দালয় জেলে বন্দী হন। জেলে তাঁর সহবন্দী ছিলেন লালা লাজপত রাই।পরবর্তীকালে তিনি রাজরোষ থেকে বাঁচতে ইরান পালিয়ে যান।

কাজেই স্বাধীনতার চেতনা ছিল ভগৎ সিংয়ের রক্তে। ১৯২৫ সালে তিনি নও জওয়ান ভারত সভা (NJBS) নামে একটি বামপন্থী সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন।নন-কোঅপারেশন-খিলাফৎ আন্দোলন পরবর্তী পাঞ্জাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো ছিল এই সংগঠনের একটি উদ্দেশ্য। যদিও ধর্ম কিংবা ভূমি সংস্কারের মত ইস্যুতে এই সংগঠনের র‌্যাডিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি এদের তেমন জনপ্রিয় হতে দেয় নি।

একই সঙ্গে ভগৎ সিং চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনকে (HRA) পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নামেন। HRA স্বাধীন ভারতীয় রিপাবলিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাস করত। প্রকাশ্যে এরা শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করার কাজ চালাত। কিন্তু এদের গোপন কর্মসূচী ছিল বিপ্লবীদের বিদেশে পাঠিয়ে সামরিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। ১৯২৫ সালে কাকোরি ট্রেন ডাকাতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা ধরা পড়েন; অনেকের দ্বীপান্তর বা দীর্ঘমেয়াদী কারাদন্ড হয়; রাম প্রসাদ বিসমিল ও আসফাকউল্লা সহ ৪ জনের ফাঁসি হয়। কাকোরি মামলার একমাত্র ফেরার আসামী চন্দ্রশেখর আজাদ ভগৎ সিংকে সঙ্গে নিয়ে নতুন উদ্যমে ভেঙ্গে পড়া সংগঠনের হাল ধরেন।

সাইমন কমিশন বিরোধী-বিক্ষোভ চলাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে HRA-র সদস্যরা দিল্লিতে মিলিত হয়ে একটি কেন্দ্রীয় কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে। ভগৎ সিংয়ের প্রস্তাবে HRAনতুন নাম নেয় হিন্দুস্তান সোশ্যালিষ্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন (HSRA)।[1] Jatinder Nath Sanyal, Sardar Bhagat Singh (Nagpur,1983),pp 25-26. কমিটিতে ভগৎ সিং সাইমন কমিশনের সদস্যদের বোমা মারার প্রস্তাব আনেন; সেটিও গৃহীত হয়।[2] Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011, p.114.

কিন্তু ঘটনার গতিপ্রকৃতি অন্য দিকে মোড় নেয়। সাইমন কমিশন-বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে লালা লাজপত রাই পুলিশের লাঠিচার্জে ভয়ানক আহত হন, যে কথা আগেই বলা হয়েছে। এর দু সপ্তাহ পরেই তিনি মারা যান। HSRA লাজপত রাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প করে। পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট J.A.Scott-এর ব্যাটনের আঘাতে লাজপত রাই আহত হয়েছিলেন; ভগৎ সিং, সুখদেব থাপার, শিবরাম রাজগুরু ও চন্দ্রশেখর আজাদ স্কটহত্যার দায়িত্ব নেন। কিন্তু ভুলবশতঃ তাঁরা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেন্ডেন্ট সন্ডার্সকে গুলি করে হত্যা করেন। হেড ইনস্পেকটর চনন সিং তাঁদের পিছনে ধাওয়া করলে তাঁকেও গুলি করে মারা হয়।দিনটি ছিল ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯২৮ সাল। [3]Gupta, Amit Kumar (September–October 1997), "Defying Death: Nationalist Revolutionism in India, 1897–1938", Social Scientist, 25 (9/10): 3–27.

পুলিশ বিপ্লবীদের ধরতে গোটা লাহোর জুড়ে চিরুনি-তল্লাশি শুরু করে। লাহোরে ঢোকার ও বেরোনোর সব রাস্তা সিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিপ্লবীরা অধরাই থেকে যান। HSRA-এর আরেক সদস্য ভগবতী চরণ ভোরা-র স্ত্রী দুর্গাবতী দেবী[4] তাঁদের পালাতে সাহায্য করেন। চুলদাড়ি কাটা- মাথায় হ্যাটসহ পশ্চিমী পোষাক-পরা ভগৎ সিং দুর্গাবতী ও তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে এক তরুণ দম্পতির ছদ্মবেশে হাওড়াগামী ট্রেনে উঠে বসেন। রাজগুরু তাঁদের ভৃত্য সাজেন। লক্ষ্ণৌতে রাজগুরু তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে বেনারস চলে যান। ভগৎ সিং ও দুর্গাবতী শিশুটিকে নিয়ে হাওড়া চলে আসেন।

সন্ডার্স-চনন হত্যার এই ঘটনাটি ভারতীয় প্রচার-মাধ্যম-রাজনৈতিক নেতৃত্ব-সাধারণ মানুষ কারো কাছেই তেমন জনপ্রিয় হয় নি। গান্ধি এই হত্যার নিন্দা করেন। গান্ধির সুরে সুর মিলিয়ে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেসও এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সমালোচনা করে। এমন কি লাজপত রাই প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক পত্রিকা The People-ও "বলরাজ"এর (ভগৎ সিং এই ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন সন্ডার্স-হত্যার পরে প্রচারিত লিফলেটে) এই কাজকে বর্ণনা করে-"nothing but desparate action" বলে।[5] "Gandhi or Balraj-Neither?" The People,18 April, 1929.এই ঘটনার পরে ণ্য-আহুত সভাগুলিতে জনতার উপস্থিতির হার রীতিমত কমে যায়।

জনগণকে নিজেদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং একটি অভিনব পন্থার কথা ভাবেন। ফরাসী অ্যানার্কিস্ট Auguste Vaillantকে (ইনি প্যারিসের চেম্বার অফ ডেপুটিজ-এ বোমা ছুঁড়েছিলেন) অনুসরণ করে তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা ছুঁড়বার পরিকল্পনা করেন।[6]Bakshi, S. R.; Gajrani, S.; Singh, Hari (2005), Early Aryans to Swaraj, 10: Modern India, New Delhi: Sarup & Sons, ISBN 9788176255370, archived from the original on 1 October 2015. HSRA নেতৃত্ব প্রথমে এই কাজে সায় দেন নি; কেননা তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন এই কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়বে;ব্রিটিশ গোয়েন্দাবিভাগ নিশ্চিতভাবেই সন্ডার্স-হত্যার দায়ে সিংকে জড়িয়ে ফেলবে। কিন্তু শেষমেশ তাঁরা রাজী হয়ে যান; এ কাজে ভগৎ সিংয়ের চেয়ে উপযুক্ত কেউ ছিলেন না। ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিল ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত সভা চলাকালীন অ্যাসেম্বলির পাবলিক গ্যালারি থেকে অফিসার্স গ্যালারির দিকে দুটি বোম ছুঁড়ে মারেন। বোমার সঙ্গে তাঁরা বেশ কিছু লিফলেটও ছুঁড়ে দেন। সেই লিফলেটের প্রারম্ভিক বাক্যটি ছিল-"It takes a loud voice to make the deaf hear." ধোঁয়ায় অ্যাসেম্বলি ভরে যায়। কেউ মারা যান নি, কেননা বোম দুটি মানুষ মারার উদ্দেশ্যে তৈরীই করা হয় নি।তাড়াহুড়োয় পালাতে গিয়ে কয়েকজন সামান্য চোট পান। মানুষের হুড়োহুড়ি ও ধোঁয়ার সুযোগ নিয়ে সিং ও দত্ত পালাতে পারতেন; আত্মরক্ষার জন্য তাঁদের কাছে রিভলভারও ছিল। কিন্তু তাঁরা ইনকিলাব জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আরো একবার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী জাতীয় নেতারা নিন্দায় মুখর হয়ে ওঠেন। কিন্তু বিপ্লবীযুগল অবিচলিত ছিলেন। বিচার-চলাকালীন তাঁরা একটি যুগ্ম বিবৃতি দেন। স্মালোচনার জবাবে তাঁরা লেখেন -"We hold human life sacred beyond words. We are neither perpetrators of dastardly outrages ... nor are we 'lunatics' as the Tribune of Lahore and some others would have it believed ... Force when aggressively applied is 'violence' and is, therefore, morally unjustifiable, but when it is used in the furtherance of a legitimate cause, it has its moral justification.The elimination of force at all costs is Utopian." [7] Bhagat Singh and B. K. Dutt, 6 June 1929,"Trial in the Sessions Court," Tribune, 8 June, 1929. অভিযুক্তরা বোমার কম্পোজিশন বিশদে বুঝিয়ে বলেন মানুষ-মারা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। চাইলেই তাঁরা অ্যাসেম্বলির অনেক সদস্যকে সেদিন হত্যা করতে পারেন, সে সুযোগ তাঁদের কাছে ছিল। কিন্তু তাঁরা তা করেন নি। "বিপ্লব" বলতে তাঁরা কী বোঝেন সে প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা লেখেন বিপ্লব তাঁদের কাছে বোমা ও পিস্তলের কাল্ট অনুসরণ করা নয়; বিদ্যমান সমাজে যে অসাম্য , তার অবসান ঘটানোই হল বিপ্লব।শোষিত মানুষের শোষনের অবসান করাই বিপ্লব। সে বিপ্লব আসতে পারে একমাত্র সমাজতান্ত্রিক পথে।[8] Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,pp116-117. বিচারে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়।




Name:  I          

IP Address : 57.15.6.192 (*)          Date:30 Nov 2017 -- 09:07 PM

Notes
[1] Jatinder Nath Sanyal, Sardar Bhagat Singh (Nagpur,1983),pp 25-26.
2] Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011, p.114.
[3]Gupta, Amit Kumar (September–October 1997), "Defying Death: Nationalist Revolutionism in India, 1897–1938", Social Scientist, 25 (9/10): 3–27.
[5]জন্মসূত্রে বাঙালী এই বীরাঙ্গনা বিপ্লবী মহলে দুর্গাভাবী নামে পরিচিত ছিলেন। বিপ্লবী যতীন দাসের মৃত্যুর পর ইনিই যতীন দাসের মরদেহ নিয়ে লাহোর থেকে কলকাতা যাত্রা করেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ইনি সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। ১৯৯৯ সালে ৯২ বছর বয়সে গাজিয়াবাদে ইনি মারা যান।
[5] "Gandhi or Balraj-Neither?" The People,18 April, 1929.
[6]Bakshi, S. R.; Gajrani, S.; Singh, Hari (2005), Early Aryans to Swaraj, 10: Modern India, New Delhi: Sarup & Sons, ISBN 9788176255370, archived from the original on 1 October 2015.
[7] Bhagat Singh and B. K. Dutt, 6 June 1929,"Trial in the Sessions Court," Tribune, 8 June, 1929.
[8] Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,pp116-117.


Name:  aranya          

IP Address : 172.118.16.5 (*)          Date:01 Dec 2017 -- 07:54 AM

'We hold human life sacred beyond words'

- কত তফাৎ, আজকের টেররিস্ট-দের সফ্ট টার্গেট - যত বেশি সাধারণ মানুষ মারতে চাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে

কেউ কেউ বলেন ভারতের প্রাক-স্বাধীনতা যুগের সশস্ত্র বিপ্লবীরা নাকি টেররিস্ট-ই ছিল - হাঃ


Name:  aranya          

IP Address : 172.118.16.5 (*)          Date:01 Dec 2017 -- 07:55 AM

লেখা খুবই ভাল লাগছে - বলাই বাহুল্য


Name:  I          

IP Address : 57.15.6.239 (*)          Date:02 Dec 2017 -- 10:49 PM

এপ্রিলের মাঝ-বরাবর পুলিশ HSRA-র লাহোর ও সাহারানপুরের বোমার কারখানার হদিশ পায়। সেই সূত্র ধরে সুখদেব, রাজগুরু সহ বেশ কিছু বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপ্লবীদের মধ্য থেকে হংসরাজ ভোরা ও জয়গোপাল পুলিশের অ্যাপ্রুভার হতে রাজী হয়ে যান। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সন্ডার্স-হত্যার অপরাধীদের সনাক্ত করে ওঠে। ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরু সহ আরো ২১ জনকে সন্ডার্স-হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়। শুরু হয় দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা। ভগৎ সিংকে দিল্লি জেল থেকে রাওয়ালপিণ্ডির মিয়াঁওয়ালি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়।(চন্দ্রশেখর আজাদ অবশ্য ধরা পড়েন নি। আরো দু বছর পরে এলাহাবাদে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ গুলির লড়াই চালানোর পর তিনি শেষ বুলেটটি দিয়ে আত্মহত্যা করবেন।)

কমরেডরা গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত ভুখ হরতাল শুরু করেছিলেন। তাঁদের দাবী ছিল, তাঁদের রাজবন্দী বলে স্বীকার করা হোক এবং ইউরোপীয় "স্পেশ্যাল ক্লাস" বন্দীর সমমর্যাদা দেওয়া হোক। সামান্যই চাহিদা-ইঁদুর-আরশোলামুক্ত একটু ভালো খাবার, নিয়মিত কাচা পোষাক,বইপত্র, একটি দৈনিকপত্র,তেল-সাবানের ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক শ্রমের অবসান। কিন্তু সরকারের পক্ষে নীতিগতভাবে সশস্ত্র বিপ্লবপন্থীদের রাজবন্দী বলে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ালো।

বন্দীদের ভুখ-হরতালের খবর জেলের বাইরে এলে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৩০ শে জুন পাঞ্জাব জুড়ে ভগৎ সিং-বটুকেশ্বর দত্ত দিবস পালন করা হয়। লাহোরে নগর কংগ্রেস কমিটির ডাকা সভায় প্রায় দশ হাজার মানুষ যোগদান করেন। অমৃতসরে অনুরূপ একটি সভায় হাজার পাঁচেক মানুষ জড়ো হন। ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তকে যথাক্রমে পাঞ্জাব ও বাংলার গৌরব বলে বর্ণনা করা হয়। শিগগিরই খবর আসে লাহোর জেলেও বিচারাধীন বন্দীরা ভুখ হরতাল শুরু করেছেন। লাহোরে কংগ্রেস ও যুব লিগের কর্মীরা লাল কাপড়ে অনশনরত বন্দীদের ছবি টাঙিয়ে মিছিল করেন। মিছিলের ব্যানারে লেখা-"Dutt is at the point of death, all for country`s honour sixteen young men are starving to death in your Lahore" [1]. লাহোরে ১৪৪ ধারা জারি হয়। কংগ্রেস, অকালি দল ও NJBS-এর সদস্যরা ইনকিলাব জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে কারাবরণ করেন। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের ডিফেন্স স্টেটমেন্ট ১লা জুলাইয়ের কংগ্রেস বুলেটিনে প্রকাশিত হয়। ক্ষুব্ধ গান্ধি কংগ্রেস পার্টির সাধারণ সম্পাদক জওহরলাল নেহরুকে চিঠি লিখে জানান, কংগ্রেস দলের কার্যকলাপের খবর পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট বুলেটিনে এই বয়ানটির প্রকাশ একেবারেই " out of place"; বন্দীদের অনশনকে তিনি " an irrelevant performance" বলে বর্ণনা করেন। [2] জওহরলাল নেহরু অবশ্য মিয়াঁওয়ালি জেলে গিয়ে সিং ও অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে দেখা করেন। ফিরে এসে তিনি বলবেন ঃ "I was very much pained to see the distress of the heroes. They have staked their lives in this struggle. They want that political prisoners should be treated as political prisoners. I am quite hopeful that their sacrifice would be crowned with success.[3]

অনশনরত বন্দীদের সমর্থনে জিন্না অ্যাসেম্বলিতে তাঁর ভাষণে বলেন ঃ"The man who goes on hunger strike has a soul. He is moved by that soul, and he believes in the justice of his cause ... however much you deplore them and, however, much you say they are misguided, it is the system, this damnable system of governance, which is resented by the people."[4] NJBS-এর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে conspiracy Case Defence Committee তৈরী করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলারা অনশনরত বন্দীদের উদ্দেশ্যে রক্তে-ভেজানো রাখী উপহার পাঠান।

অগাস্টের শুরুতে অ্যাসেম্বলি-সদস্য ডঃ গোপিচাঁদকে পাঠানো হয় অনশনকারীদের বুঝিয়েসুঝিয়ে অনশন ভাঙ্বার জন্য। কিন্তু তিনি ফিরে এসে পাঞ্জাব সরকারের কাছে নিজের ব্যর্থতা কবুল করেন। অনশন ভাঙবার উদ্দেশ্যে জেল কমিটি জেলের বিভিন্ন জায়গায় খাবার রাখা, জলের কলসিতে দুধ ভরে রাখার মত নানান কৌশলের আশ্রয় নেয়; কিন্তু বন্দীদের মনোবল অটুট থাকে। অনশন চলতেই থাকে। জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। যতীন দাশের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সহবন্দী যতীন্দ্রনাথ সান্যল ও অজয় ঘোষ পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন যে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটা খিদের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল নিজেকে-বাঁচানোর ইন্সটিংক্টের বিরুদ্ধে। যতীন্দ্রনাথ সান্যাল যতীন দাশের শেষ ক'টি দিন খুব কাছে থেকে লক্ষ্য করেছিলেন; প্রথমে পায়ের আঙুলগুলি অসাড় হয়ে যায়, তারপর গোটা পা, হাত এবং সবশেষে চোখের পাতা।

জনমতের চাপে ভাইসরয় লর্ড আরউইন তাঁর সিমলা ভ্রমণ কাটছাঁট করে ছুটে আসেন জেল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করবার জন্য। নবনিযুক্ত জেল কমিটির সদস্য লালা দুনিচাঁদকে পাঠানো হয় বন্দীদের দাবীর কথা নতুন করে শুনবার জন্য। বন্দীরা জানান, তাঁদের দাবী হল রাজনৈতিক বন্দীর মর্যাদা আদায়, কনস্পিরেসি কেসের সব বন্দীদের একত্রে একটি জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন ব্যারাকে স্থান দেওয়া এবং যতীন দাশের অবিলম্ব ও নিঃশর্ত মুক্তিদান। জেল কমিটি প্রতিশ্রুতি দেয়, তাঁদের সমস্ত দাবীই পূরণ করা হবে।

কিন্তু ভারত সরকার বেঁকে বসে; দেশের সব স্থানীয় জেল কমিটির কাছ থেকে সুপারিশ না পাওয়া অবধি বন্দীদের স্পেশ্যাল ক্লাসের মর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারটি স্থগিত রাখা হয়।

এইসব নিয়মের গেরো, টালবাহানার মধ্যে ১৯২৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর যতীন দাশ মারা যান। টানা ৬৩ দিন অনশনের পর। সেন্ট্রাল লেজিস্লেটিভ অ্যাসেম্বলি সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব আনে। ভাষণ দিতে উঠে মতিলাল নেহরু বলেন-"It is not a question , Sir, of sections or of procedure or substantive or adjective law.It is, Sir, a question of humanity , of the elementary duty of a Government to save life, to save the lives not only of those who seek its protection, but also of those who want to destroy their own lives." গোপিচাঁদ ভার্গব ও মহম্মদ আলম পাঞ্জাব প্রাদেশিক আইনসভা থেকে পদত্যাগ করেন। দুর্গাভাবী যতীন দাশের মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে লাহোর থেকে ট্রেনে হাওড়া অভিমুখে রওনা হন। লাহোরে পঞ্চাশ হাজার মানুষ শোকমিছিলে পা মেলান। প্রতিটি স্টেশনে শহীদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। হাওড়া স্টেশনে সুভাষ চন্দ্র বসু যতীন দাশের মরদেহ গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগের মুহূর্তে যতীন দাশের অন্তিম অনুরোধে তাঁকে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনানো হয়েছিল- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে/তবে একলা চলো রে। এবার তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ভেঙে পড়েন। কবি তখন তপতী নাটকটি লিখছিলেন। শহীদের স্মৃতিতে তিনি লেখেন-

সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ-
হে ভৈরব, শক্তি দাও, ভক্ত-পানে চাহো।
দূর করো মহারুদ্র যাহা মুগ্ধ যাহা ক্ষুদ্র-
মৃত্যুরে করিবে তুচ্ছ প্রাণের উৎসাহ।
দুঃখের মন্থনবেগে উঠিবে অমৃত,
শঙ্কা হতে রক্ষা পাবে যারা মৃত্যুভীত।
তব দীপ্ত রৌদ্রতেজে নির্ঝরিয়া গলিবে যে
প্রস্তরশৃঙ্খলোন্মুক্ত ত্যাগের প্রবাহ।

এই গানটি দিয়েই তপতী নাটকের সূচনা হয়।[5]

যতীন দাশের মৃত্যুতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতা প্রতিবাদমুখর হন। সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে আরেক অনশনে মৃত শহীদ টেরেন্স ম্যাকসুইনির[6] বোন মেরি ম্যাকসুইনি টেলিগ্রাম পাঠান-"Freedom will come."

নীরব থাকেন শুধু একজন।মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি।[7]

Notes:
1.Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,p.118.
2.ibid, p.118.
3.Nayar, Kuldip (2000), The Martyr Bhagat Singh: Experiments in Revolution, Har-Anand Publications, ISBN 978-81-241-0700-3.
4. "When Jinnah defended Bhagat Singh". The Hindu. Chennai, India. 8 August 2005. Archived from the original on 30 September 2015.
৫Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,p.122
6. টেরেন্স ম্যাকসুইনি আইরিশ স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা। ইংল্যান্ডের ব্রিক্সটন জেলে ৭৪ দিন অনশনের পর ইনি ১৯২০ সালের অক্টোবর মাসে মারা যান।
7.Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,p.122.





Name:  Du          

IP Address : 182.58.104.77 (*)          Date:03 Dec 2017 -- 12:15 AM

গৌরবের ইতিহাস। তার আগের চোদ্দ দফা দাবী ইত্যাদির অংশগুলো হচ্ছে সেই ভাগ যেগুলো ক্লাসে পড়ার সময় কিশোর মনে জিন্না এক দুর্যোধনরূপে এবং ইন জেনারেল স্বাধীনতার ইতিহাসে মুসলিম জনগোষ্ঠীর এক বিরুপ ছবি আঁকা হয়ে যায়। তাঁর বাকি সব রয়ে যায় অগোচরে যা জানতে পারলে মঙ্গল হতো দেশের। আশা করি এই লেখা অনেকে পড়বে।


Name:  I          

IP Address : 57.15.9.106 (*)          Date:04 Dec 2017 -- 12:14 AM

গান্ধি পরে বলবেন, তাঁর এই 'নীরবতা' কেবলমাত্র 'জাতীয় স্বার্থ'র কথা ভেবে। [1] সুখদেব একটি চিঠিতে তাঁকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন ব্রিটিশ আমলাদের মত বিপ্লবীদের সম্বন্ধে খবরের কাগজে বিবৃতি না দিয়ে জেলখানায় এসে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।তার উত্তরে গান্ধি বলেন, বিপ্লবীদের কার্যকলাপও গোপনীয়তায় মোড়া।বিপ্লবীরা যখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ও ভারতীয় পুঁজিবাদীদের সঙ্গে আপোস করবার অভিযোগ আনেন, তখন তিনি তাঁদের অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিপ্লবীদের হিংসার রাজনীতির নিন্দা করেন।[2]

যতীন দাশের মৃত্যু ও বন্দীদের শ্রেণীবিভাজনের নীতি খতিয়ে দেখার সরকারী প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে বাকী বন্দীরা অনশন প্রত্যাহার করেন। কিন্তু সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো সদিচ্ছাই না দেখানোয় বন্দীরা পুনরায় অনশনের হুমকি দেন। নিমরাজি হয়ে সরকার রাজবন্দীদের স্পেশাল ক্লাস-এর মর্যাদা মঞ্জুর করে, কিন্তু স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরে সেই মর্যাদা-দানের বিষয়টি ন্যস্ত করা হয়।

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হলে কোর্টরুমের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বন্দী প্রেম দত্ত ভার্মা রাজসাক্ষী জয় গোপালের দিকে চপ্পল ছুঁড়ে মারেন। এই ঘটনার পর ম্যাজিস্ট্রেট বন্দীদের হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করবার নির্দেশ দেন। বন্দীরা হাতকড়া পরতে নারাজ হলে ভগৎ সিং সহ অন্যান্য বন্দীদের নির্মম ভাবে পেটানো হয়। বন্দীরা আদালতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। ম্যাজিস্ট্রেট বন্দীদের অনুপস্থিতিতেই মামলার শুনানি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। মামলা তাড়াতাড়ি শেষ করবার উদ্দেশ্যে ভাইসরয় একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন; যদিও ট্রাইব্যুনাল গঠনের এই অর্ডিন্যান্সটি কখনোই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাশ হয় নি। এই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একমাত্র ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলেই আবেদন করা যেতে পারে।

৭ই অক্টোবর, ১৯৩০ সালে ট্রাইব্যুনাল তার রায় দেয়। ২১ জন অভিযুক্তর মধ্যে ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসির আদেশ হয়। ডিফেন্স কমিটি প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করবার প্রস্তুতি নেয়। ভগৎ সিং শুরুতে এই আপীলের ব্যাপারে রাজী ছিলেন না; কিন্তু পরে তাঁর মনে হয় আপীল করলে ব্রিটেনে HSRA-র পক্ষে জনমত গঠিত হতে পারে। প্রিভি কাউন্সিলে অবশ্য আপীলটি খারিজ হয়ে যায়। শেষ চেষ্টা হিসেবে কংগ্রেস সভাপতি মদন মোহন মালব্য ভাইসরয়ের কাছে একটি মার্সি পিটিশন দাখিল করেন। সেটিও যথারীতি খারিজ হয়। কিছু বিপ্লবী গান্ধীকে হস্তক্ষেপ করতে বলেন। নীরবতা ভেঙে ১৯শে মার্চ, ১৯৩১ সালে ভাইসরয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত মিটিংয়ে এই বিষয় নিয়ে গান্ধি কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাইসরয় ব্যাপারটি উড়িয়ে দেন; পরে ভাইসরয় লর্ড আরউইন বলেন -"I explained to him that I had given a very careful thought to it but I did not find any basis to convince myself to commute the sentence. It appeared he found my reasoning weighty."[3] তার চারদিন পরে ২৩শে মার্চ সন্ধে সাড়ে সাতটার সময় লাহোর জেলে ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসি হয়ে যায়।

জেলখানা থেকে তাঁর লেখা শেষদিককার চিঠিগুলিতে ভগৎ সিং বলেন-"ম্যায়ঁ আতংকারি নহিঁ হুঁ, ম্যায়ঁ এক ক্রান্তিকারি হুঁ। "বলেন, বিপ্লবী জীবনের শুরুর দিককার কিছুদিন বাদ দিলে তিনি কখনো সন্ত্রাসবাদে আগ্রহ দেখান নি। এ-ও বলেন- "বম ফেঁকনা না সির্ফ বেকার, বলকি নুকসানদায়ক হ্যায়।"[4]বোমা-বন্দুক কেবলমাত্র কিছু বিশেষ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করবার দরকার হতে পারে, কিন্তু আসল কাজ কৃষক-শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা। ভবিষ্যতের কমিউনিস্ট পার্টিতে সামরিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা তিনি স্বীকার করেন, কিন্তু তা যেন সর্বদাই পার্টির অধীনস্থ থাকে। সিং ততদিনে বাকুনিন পেরিয়ে মার্ক্স, লেনিন ও ট্রটস্কি আত্মস্থ করেছেন। তাঁর অনুরাগীদের তিনি মনে করিয়ে দেন, উদ্দেশ্যসাধনের জন্য মৃত্যুবরণ করাই একমাত্র জরুরি কাজ নয়, বেঁচে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়াও জরুরি। পাঞ্জাব স্টুডেন্ট্স কনফারেন্সের সদস্যদের তিনি বলেন বোমা-পিস্তল ছেড়ে গান্ধীবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে। যখন জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁর শেষ ইচ্ছা কী, তিনি বলেন- লেনিনের জীবনী পড়তে শুরু করেছেন,ফাঁসির আগে তিনি সেটি শেষ করে যেতে চান। [5]

২৩শে মার্চ সন্ধ্যাবেলা তিন বিপ্লবীর ফাঁসির সময় নিয়মমাফিক কোনো ম্যাজিস্ট্রেট লাহোর জেলে উপস্থিত ছিলেন না। জেল কর্তৃপক্ষ জেলের পেছন দিককার দেওয়াল ভেঙে শহীদদের দেহ গোপনে বের করে নিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। শবদেহের আধপোড়া ছাই শতদ্রু নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

দেশের নানান জায়গায় হরতাল আর শোকসভার আয়োজন করা হয়। করাচিতে কংগ্রেসের বাৎসরিক সম্মেলনের আগে শোকাহত,ক্রুদ্ধ যুবকরা গান্ধিকে কালো পতাকা দেখান। সম্প্রদায়নির্বিশেষে মানুষ তিন বিপ্লবীর প্রতি দেশজুড়ে শ্রদ্ধা জানান। জীবিত ভগৎ সিং সাম্প্রদায়িকতার বিষ দূর করতে পারেন নি; মৃত ভগৎ সিং তা করলেন। অন্ততঃ কিছুদিনের জন্য হলেও।

স্বাধীনতা আন্দোলন জুড়ে হিন্দু -মুসলিম-শিখ সাম্প্রদায়িক চেতনা অদ্ভুত পেন্ডুলামের মত দুলেছে। কখনো সম্প্রদায়্গুলি কাছে এসেছে, কখনো বিদ্বেষে দূরে সরে গেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা ভাবলে ত্রিশের দশক খুব সুখের সময় ছিল না। তবু তারই মধ্যে ভগৎ সিং ও তাঁর কমরেডদের বীরত্ব আর আত্মাহুতি এক ঝলক তাজা হাওয়া বয়ে এনেছিল। জীবনের শেষদিনগুলিতে ভগৎ সিংয়ের রাজনৈতিক চেতনার এক উত্তরণ ঘটছিল- গান্ধীবাদী অনশন-সত্যাগ্রহ'র [6]মধ্য দিয়ে (যদিও গান্ধি কখনো তা স্বীকার করেন নি), বামপন্থী বিপ্লবী চিন্তাধারা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে।কিন্তু ব্রিটিশ সরকারী ছাপ্পা-মারা "সন্ত্রাসবাদী" তকমা তাঁর জীবন থেকে যায় নি।

ভগৎ সিংয়ের অবশ্য তাতে কিছু এসে যায় না। তিনি জানতেন - "It is easy to kill individuals but you cannot kill the ideas. Great empires crumbled, while the ideas survived."[7]

Notes:
1. M.K .Gandhi ,"My Silence", Young India, 17th October, 1929.
2.Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,p.126.
3.Rana, Bhawan Singh (2005a), Bhagat Singh, Diamond Pocket Books (P) Ltd., ISBN 978-81-288-0827-2, archived from the original on 1 October 2015.
4. Bhagat Singh, "Krantikari karyakram ka masauda",2 Feb 1931,in Bhagat Singh aur unke sathiyon ke dastavez, ed. Jagmohan Singh and Chamanlal (Delhi[1987],2005), p. 397.
5. Chinmohan Sehanavis. "Impact of Lenin on Bhagat Singh's Life". Mainstream Weekly. Archived from the original on 30 September 2015. Retrieved 2011-10-28.
6.Nair,Neeti: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011,p.125.
7."Leaflet thrown in the Central Assembly Hall, New Delhi at the time of the throwing bombs". Letters, Writings and Statements of Shaheed Bhagat Singh and his Copatriots. Shahid Bhagat Singh Research Committee, Ludhiana. Archived from the original on 30 September 2015. Retrieved 2011-10-11.







Name:  এলেবেলে          

IP Address : 212.142.96.33 (*)          Date:04 Dec 2017 -- 10:35 PM

লেখাটা ভালো লাগছে ।
আজাদ লিখেছেন “When in July 1944, I read the report that Gandhiji was corresponding with Mr Jinnah and going to Bombay to meet him, I told my colleagues that Gandhiji was making a great mistake. His action would not help to solve, but on the contrary aggravate the Indian political situation. Later events proved that my apprehensions were correct. Mr Jinnah exploited the situation fully and built up his own position but did not say or do anything which could in any way help the cause of Indian freedom”.

আসল ঘটনা হল ১৯৪৪ সালের ৮ই এপ্রিল গান্ধীর অনুমতি নিয়ে চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী জিন্নার কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন । কিন্তু গান্ধী এই প্রস্তাব নিয়ে নিজে হাজির হননি এই অজুহাত দেখিয়ে জিন্না জুলাই মাসে ওই ফর্মুলা নাকচ করে দেন । ২৪শে সেপ্টেম্বর গান্ধী মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতের মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলির বিচ্ছিন্নতার অধিকার মেনে নিয়ে জিন্নার কাছে ফের প্রস্তাব পাঠান । সে হিসেবে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গান্ধীর ‘অবদান’ খুব কম নয় !



Name:  I          

IP Address : 57.15.5.35 (*)          Date:05 Dec 2017 -- 08:44 PM

এলেবেলে,
আরো লিখুন।সকলেই লিখুন।


Name:  এলেবেলে          

IP Address : 212.142.80.55 (*)          Date:06 Dec 2017 -- 11:55 PM

গান্ধী জিন্নার সাথে এই ন্যাকামিটা ১৯৪৪এই সেরে ফেলে ৩১.০৩.৪৭ এ মৌলানা আজাদকে লিখছেন – “If the Congress wishes to accept partition, it will be only on my dead body. So long as I am alive, I will never agree to the partition of India. Nor will I, if I can help it, allow Congress to accept it.”

ঠিক এর দু'মাস পরে ৩ জুন, ১৯৪৭ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি দেশবিভাগের প্রস্তাব গ্রহণ করে । কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি দেশভাগের প্রস্তাব মেনে নিলেও তা ছিল এআইসিসি-র অনুমোদনসাপেক্ষ । ১৬ জুন এআইসিসি-র অধিবেশন ডাকা হয় । সেখানে গান্ধী ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেয়ে বলেন ‘… Although the House had the right to accept or reject the Working Committee’s decision, they must remember that the Working Committee as their representative had accepted the plan and it was the duty of the AICC to stand by them…’ [My Days with Gandhi, নির্মল কুমার বসু, পৃ.২৪৫].


Name:  I          

IP Address : 57.15.12.136 (*)          Date:11 Dec 2017 -- 11:55 PM

যে কথা বলতে ভুলে গেছিলাম
--------------------------------
শুধু গান্ধিই নন, আরো কেউ কেউ ভগৎ সিংদের নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে একটি বিশেষ সংগঠন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। আর এস এসের তৃতীয় সরসঙ্ঘচালক বালাসাহেব দেওরসের জবানীতেই শোনা যাক -

"... কলেজে পড়বার সময় (আমরা)যুবকরা স্বাভাবিকভাবেই ভগৎ সিংয়ের মত বিপ্লবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হই।প্রায়ই মনে হয়, ভগৎ সিংয়ের মত দুঃসাহসিক কিছু একটা করি।আমাদের তখন সঙ্ঘের(আর এস এস) দিকে টান কম, কেননা সেসময়কার রাজনীতি, বিপ্লব ইত্যাদি যা যা চিন্তা তরুণমনকে আকৃষ্ট করে, সেসবের আলোচনা সঙ্ঘে তেমন একটা হত না। যখন ভ্গৎ সিং ও তাঁর সাথীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল, তখন আমরা এতই উত্তেজিত যে কয়েক বন্ধু মিলে ঠিক করলাম সাঙ্ঘাতিক একটা কিছু করে ফেলব; কিন্তু তার জন্য আগে বাড়ি থেকে পালাতে হবে। এদিকে ডক্টরজিকে না জানিয়েও বাড়ি থেকে পালানো ঠিক হবে না। বন্ধুরা আমাকেই এগিয়ে দিল। আমরা সবাই মিলে ডক্টরজির কাছে গেলাম;অনেক সাহসটাহস করে আমি ডক্টরজিকে আমাদের মনের কথা খুলে বলেই ফেললাম। আমাদের কথা শুনে ডক্টরজি আমাদের নিয়ে মিটিংয়ে বসলেন; বোঝালেন আমাদের প্ল্যানটা কতদূর বোকাবোকা; আর বোঝালেন সঙ্ঘের কাজের কী মাহাত্ম্য । সাতদিন ধরে প্রতি রাত দশটা থেকে তিনটে অবধি এই মিটিং চলেছিল। ডক্টরজি'র অসাধারণ ভাবনাচিন্তা আর তাঁর মহৎ নেতৃত্ব আমাদের চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন এনে দিল। সেই দিন থেকে আমরা মূর্খের মত চিন্তা- ভাবনা করা ছাড়লাম; জীবনে নতুন দিশা এল, সঙ্ঘের কাজে পুরো মনোনিবেশ করলাম..."[1]

শুধু বালাসাহেবই নন, গোলওয়ালকরও রাখঢাক না করেই বিপ্লবীদের সম্বন্ধে তাঁর মূল্যায়ন রেখে গেছেন লিখিতভাবে-"We have not looked upon their martyrdom as the highest point of greatness to which men should aspire. For, after all, they failed in achieving their ideal, and failure implies some fatal flaw in them."[2].

এবং উদ্ধৃত করা যাক ডক্টরজি হেডগেওয়ারের জীবনী-‘Patriotism is not only going to prison. It is not correct to be carried away by such superficial patriotism.
[3]

দেশের দুর্ভাগ্য, ভগৎ সিং-রাজগুরু-সুখদেব-বটুকেশ্বর-আসফাকউল্লা'র মত superficial patriot ডক্টরজির সংস্পর্শে আসেন নি।

Notes:
1.H.V. Pingle (ed.), Smritikan-Param Pujiye Dr Hedgewar Ke Jeewan Kee Vibhin Gahtnaon Ka Sankalan (a collection of memoirs of persons close to Hedgewar in Hindi) (Nagpur: RSS Prakashan Vibhag, 1962), pp. 47–48.
2.Golwalkar, Bunch of Thoughts, p. 283.
3.Bhishikar, Sangh-viraksh Ke Beej, p. 21.


Name:  amit          

IP Address : 213.0.3.2 (*)          Date:12 Dec 2017 -- 05:36 AM

সন্ত্রাসী বা বিপ্লবীদের মূল্যায়ন সব সময়েই নানা পক্ষের কাছে আলাদা হবে, সব দেশেই তাই । আজকে কাশ্মীর এ যারা পাথর ছুড়ছে, হয়তো ভারত সরকারের বা আমাদের অনেকের কাছে কাছে তারা সন্ত্রাসী, কিন্তু কে জানে 30-৫০ বছর পরে কাশ্মীর আলাদা দেশ হলে তারাই তাদের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামী হবে। মুক্তি যোদ্ধা রা পাকিস্তানের কাছে সন্ত্রাসী, কিন্তু বাংলাদেশ এ শহীদ। সে রকম ক্ষুদিরাম কে আমরা বিপ্লবী ভাবলেও তার ছোড়া বোমাতে দুজন নিরীহ মহিলা প্রাণ হারিয়েছিলেন। সুতরাং ব্রিটিশরা তাকে সন্ত্রাসী ভাবলে তাদের দিক থেকে তারাও একদম ঠিক।

এটা গান্ধী বা আরএসএস কে ডিফেন্ড করার জন্য লিখছিনা। কিন্তু সেই সময় সবাইকে ভগৎ সিং-রাজগুরু-সুখদেব- ক্ষুদিরাম সবার কাজ পছন্দ হতে হবে বা তাদের কে সমর্থন করে বিবৃতি দিতে হবে এটা হয়তো একটু এক পেশে চিন্তা ধারা। আর 1920-৩০ এ কারোর পক্ষে চিন্তা করা বোধহয় অবাস্তব ছিল যে ১৯৩৯ এ বিশ্বযুদ্ধ বাধবে, পুরো দুনিয়া ওলোট পালট হবে আর ১৯৪৭ এ ইন্ডিয়া স্বাধীন হবে দু টুকরো হয়ে । সবাই যার যার মতো রাজনৈতিক ঘুটি সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন বা সশস্ত্র সন্ত্রাসের খেলার নেশায় মেতেছিলেন।

লেখা চলুক, খুব ভালো হচ্ছে।


Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:18 Mar 2018 -- 10:00 AM

১৯৩০ সালে গান্ধির নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস লবণ আইন অমান্য শুরু করে। ১২ই মার্চ ৭৯ জন সহযাত্রীকে নিয়ে গান্ধি সবরমতি আশ্রম থেকে আরব সাগর উপকূলে ডান্ডির দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তাঁরা ডান্ডি এসে পৌঁছন ৬ই এপ্রিল। সেদিন সকালের ভজন শেষে গান্ধি ও তাঁর অনুগামীরা সমুদ্রতীরে এসে জমায়েত হলেন। বেলাভূমি থেকে একমুঠো নুন তুলে নিয়ে গান্ধি ঘোষণা করলেন -এই একমুষ্টি লবণ উত্তোলনের সাথে সাথে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিদায়ের সূচনা করা হল।

ভারতবর্ষে লবণ করের ইতিহাস অনেক পুরনো; মৌর্যযুগ থেকে এই কর চলে আসছে। কিন্তু ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি এসে লবণ করকে এক দুঃসহ জায়গায় নিয়ে যায়। পলাশীর যুদ্ধজয়ের দু'বছর পর থেকে ক্লাইভ কোম্পানির লবণ কর চালু করেন। কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের লবণ বিক্রির একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়।খোদ ইংল্যান্ডে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। এতটাই, যে ১৭৬৮ সালে কোম্পানি বাধ্য হয় "সল্ট মনোপলি" প্রত্যাহার করতে। কিন্তু ১৭৭২ সালে বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংস লবণব্যবসাকে আবার কোম্পানির দখলে নিয়ে আসেন। পশ্চিম উপকূলের কচ্ছের রণ ও পূর্ব উপকূলের ওড়িশা ছিল লবণ তৈরীর দুই কেন্দ্র। কিন্তু প্রায়শঃই কোম্পানির লাভের গুড় চোরাচালানকারী পিঁপড়ে এসে খেয়ে যেত। চোরাচালান বন্ধ করতে ১৮৪০ সাল নাগাদ বেঙ্গল প্রভিন্সের পশ্চিম সীমান্ত বরাবর এক লম্বা কাঁটাঝোপের বেড়া লাগানোর কাজ শুরু হয়। (কাঁটাঝোপের বেড়ার এই অদ্ভুত আইডিয়াটির জনক হলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম।[1] হিউম ছিলেন তত্কালীন উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের কাস্টমস কমিশনার; ফলতঃ তাঁকেই দেওয়া হয়েছিল ইনল্যান্ড কাস্টমস লাইনের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব। যথেষ্ট পরিমাণ পাথরের অভাবে দেওয়াল বানানোর কাজ যখন পণ্ড হতে বসেছে, তখনই বটানিস্ট হিউমের মাথায় এই আইডিয়া আসে। তিনি লক্ষ করেছিলেন ঐ লাইনের জায়গায় জায়গায় আগে থেকেই একধরণের কাঁটা ঝোপের বাড়বাড়ন্ত।তাদেরই নানাভাবে বাড়িয়ে এই সবুজ দেওয়াল খাড়া করা হয়। ইতিহাসের এও এক পরিহাস যে তাঁরই অপর এক আইডিয়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভবিষ্যতে লবণ আইন ভাঙতে এক মরীয়া আন্দোলনের ডাক দেবে।)১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের পর এই কাঁটাঝোপের বেড়াকে বাড়িয়ে লম্বায় প্রায় ২৫০০ মাইলে গিয়ে দাঁড় করানো হয়। ভারতের এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ("সিন্ধুনদ থেকে মাদ্রাজের মহানদী অবধি"[2]) গজানো ১২ ফিট উঁচু এই কাঁটাঝোপ পাহারা দিতেন ১২০০০ কর্মী। স্ট্রাচি ভ্রাতৃদ্বয়ের (প্রশাসক সার জন ও সার রিচার্ড) লেখা থেকে উদ্ধৃত করলাম - "... it consisted principally of an immense impenetrable hedge of thorny trees and bushes, supplemented by stone wall and ditches, across which no human being or beast of burden or vehicle could pass without being subject to detention or search" . (উৎসাহীরা রয় মক্সহ্যামের লেখা "The Great Hedge of India" পড়ে নিতে পারেন; প্রকাশক হার্পার কলিন্স। বাংলায় একটি উপন্যাস রয়েছে অনিরুদ্ধ দেবের লেখা- "হিম্মতরাম";প্রকাশক অনুষা।)

১৮৭৮ সালে ভারত জুড়ে ব্রিটিশ সরকার একটি অভিন্ন লবণ কর চালু করে। প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসনাধীন অঞ্চলগুলির সঙ্গে ভারতের করদ রাজ্যগুলিকেও এর আওতায় আনা হয়। ব্রিটিশ-শাসিত অঞ্চলে লবণের ব্যবসায় সরকারের একচেটিয়া অধিকার আগে থেকেই ছিল। অন্য কেউ লবণ তৈরী বা বিক্রি করলে জরিমানা ও ৬ মাস অবধি জেলের বিধান ছিল। এবার করদ রাজ্যগুলিতেও এই আইন লাগু হয়। ভারতে তৈরী লবণের উপর চড়া হারে কর চাপানোয় ভারতীয় লবণের দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়ে যায় ; গরীবের পক্ষে নুন কিনে খাওয়া একরকম দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। সরকার সস্তা দরের চেশায়ার লবণ ভারতে আমদানী ও ভারতীয় লবণ বিদেশে রপ্তানি শুরু করে। কিন্তু চেশায়ার নুন ছিল ভারতীয় নুনের তুলনায় অনেক নিম্নমানের। নুনের অভাবে অজস্র গরীব ও প্রান্তিক ভারতীয়র শরীরে লবণ ও আয়োডিনের স্বল্পতাজনিত রোগ দেখা দিতে থাকে। ভারতে এই লবণকরের বিরুদ্ধে নানা সময় বিক্ষিপ্তভাবে নানা প্রতিবাদ উঠতে থাকে। কিন্তু প্রয়োজন ছিল এইসব বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদগুলিকে এক সঙ্ঘবদ্ধ রূপ দেওয়ার। গান্ধি সেটাই করেন।

লবণ আইন অমান্য আন্দোলনে অভুতপূর্ব সাড়া পড়ে; সম্ভবতঃ তা দেশের গরীব-গুর্বো মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে গিয়েছিল বলে। গান্ধি এমনকি এও ঘোষণা করেন, আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠলেও (যেমনটা ঘটেছিলে চৌরিচৌরায়), তিনি এবার আর তা প্রত্যাহার করবেন না[3]। দেশের ৫০০০ মাইল ব্যাপী সমুদ্রতট জুড়ে হাজার হাজার মানুষ লবণ সত্যাগ্রহে যোগ দেন। সরকার গান্ধী-নেহরু সমেত কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করে। প্রায় ২৫০০০ কংগ্রেস নেতা ও কর্মী গ্রেপ্তার হ'ন। এর প্রতিবাদে বম্বে শহরে এক লাখ মানুষের জমায়েত হয়। সরোজিনী নাইডুর ওপর ভার পড়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। লবণ সত্যাগ্রহের খবর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য মার্কিন সাংবাদিক ওয়েব মিলারের অবদান; তিনি এই আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ আমেরিকা তথা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। ব্রিটিশ পুলিশ-প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে মিলার বম্বেতে সরোজিনী নাইডু ও গান্ধিপুত্র মণিলালের নেতৃত্বে লবণ আইন অমান্যকারীদের আন্দোলন সামনে থেকে দেখেছিলেন। সাদা খদ্দরের পোষাক -পরিহিত প্রায় ২৫০০ সত্যাগ্রহী পুলিশের বাধা আমান্য করে সমুদ্রতটের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। "Not one of the marchers even raised an arm to fend off the blow"- মিলার লিখছেন।শ'য়ে শ'য়ে আহত শরীরের স্তূপ জমা হতে থাকে; ভাঙা হাড়, ছিন্ন মাংসপেশী, রক্তে ভেজা খদ্দরের পোষাক। কিন্তু একজন সত্যাগ্রহীও পাল্টা মার দেওয়ার চেষ্টা করেন নি। সেই অপরাহ্ণে মিলারের হিসেব মত ৩২০ জন আহত হন; দু'জন মারা যান।

সে বছরের শেষের দিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‌্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ভারতের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবার জন্য লন্ডনে প্রথম গোল টেবিল বৈঠকের ডাক দেন। ভারতের বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আহ্বান করা হয় এই বৈঠকে। জাতীয় কংগ্রেস অবশ্য এই বৈঠক বয়কট করে।

১২ই নভেম্বর রাশি রাশি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে প্রভূত উদ্দীপনার মধ্যে প্রথম গোল টেবিল বৈঠক শুরু হয়।ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য শিগগিরই হতাশ হবেন। ১৮ই ডিসেম্বর তাঁর ডায়েরির এন্ট্রিতে তিনি লেখেন-" Hindu-Moslem not coming together. They have no mutual confidence & Hindu too nimble for Mosl: brethern."[4]

নোটঃ
1.https://inews.co.uk/opinion/britain-built-wall-great-hedge-india.
2.Strachey and Strachey: The Finances and Public Works of India (1882), p. 219-20.
3. Nehru, An Autobiography, p85.
4.MacDonald's diary , 18 December 1930. Cited in Marquand, Ramsay Macdonald, p.581.




Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:18 Mar 2018 -- 10:18 PM

1931 er jaanuyaari maase gaandhi-neharu sah ka`mgres netaader jel theke mukti deoyaa hay. shaantisthaapaner uddeshye barhalaaT larD aarauin gaandhike bhaaisaray-pyaalese aalochanaay aamantraN jaanaan. gaandhi sekhaane nijer byabahaarer janya nijer toiree nun niye Jaan; aarauin taa dekheo naa-dekhaar bhaan karen. Jadio lanDane chaarchil ei ghaTanaa niye prachur shoragol tolen; ek "ardhanagna siDishaas phakir" bhaaisaray praasaader si`nrhi beye uThachhe - e dRishyake chaarchil "bibamishhaa-udrekakaaree" bale barNanaa karen. aaraiun abashya chaarchilake paattaa den ni.

15i phebruyaari theke 5i maarch abadhi aalochanaara par gaandhi-aarauin chukti swaaxarit hay.Thik hay ka`mgres taader ahi`msa satyaagraha aandolan o briTish paNyabarjan pratyaahaar karabe eba`m dwiteey golaTebil boiThake pratinidhi paaThaabe. paribarte sarakaar raajanoitik bandeeder mukti debe, "swadeshee" aandolane baadhaa debe naa eba`m upakoolabartee bhaarateeyader opar theke labaN toireer nishhedhaaj`Naa pratyaahaar karabe. neharu abashya ei chuktike bishwaasaghaatakataa mane karechhilen. upakool a`Nchale labaN toiree anumodit haleo bikrir opar nishhedhaaj`Naa bahaal rail; satyaagraheeder opar pulishi atyaachaarer kono tadante sarakaar sammat hala naa. kRishhakader opare chaapaano charhaa khaajanaa pratyaahRit hala naa. Dominiyan sTyaaTaas niyeo kono uchchabaachya karaa hal naa.

k`mgreser ekamaatra pratinidhi hisebe gaandhi lanDan pou`nchhalen.chaarli chyaapalin takhan laNDane chhilen.gaandhir sa`Mge taa`nr saaxaa`t hay. chyaapalin jaanaan , tini bhaarater swaadheenataa aandolaner prati sahaanubhutisheel; sei saaxaate gaandhi aadhunik Jantrasabhyataar prati taa`nr biraag prakaash karen. er paa`ncha bachhar baade chyaapalin "marDaan Taaimas" toiree karaben. gaandhir sa`Mge saaxaater kono prabhaab taa`nr ei chalachchitra toirir opare parhechhil kinaa, taa abashya balaa kaThin.

baaki`mhaam pyaalese abashya gaandhir kapaale teman samaadar joTe ni.. raajaa pa`Ncham jarja deshajorhaa ashaantir janya gaandhike abhiJukt karen. aswastikar boiThakasheshhe gaandhi Jakhan beriye aasachhen, takhano raajaa balate chhaarhen ni-"Remember Mr. Gandhi, I won't have any attacks on my empire." গান্ধি সবিনয়ে উত্তর দেন-" I must not be drawn into political argument in Your Majesty's Palace after receiving Your Majesty's hospitality."[1]

বৈঠক থেকে কংগ্রেসের খুব একটা কিছু পাওয়ার আশা ছিল না। শুরু থেকেই গান্ধিকে অন্যান্য প্রতিনিধিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। বাকি প্রতিনিধিদের প্রবল বিরুদ্ধতার মধ্যে গান্ধি দাবী করেন জাতীয় কংগ্রেসই ভারতের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী দল। এই বৈঠকে গান্ধি ও আম্বেদকরের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকটভাবে দেখা দেয়। প্রথম গোল টেবিল বৈঠকের সময় থেকেই আম্বেদকর দলিত ও অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের দাবী করে আসছিলেন। গান্ধি এই দাবীর প্রবল বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, দলিতরা হিন্দুধর্মেরই অংশ; তাঁরা কোনোভাবেই সংখ্যালঘু নন।

ব্যর্থ বৈঠক শেষে শূন্যহাতে ফিরে এলেন গান্ধি। দেশেও তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল বিরোধিতা। বম্বে পৌঁছে তাঁকে শ'দুয়েক দলিত বিক্ষোভকারীর কালো পতাকার সামনে পড়তে হয়।[2]

এর কয়েক মাস পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‌্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ভারতবর্ষের জন্য কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করলেন। উচ্চবর্ণ হিন্দু, তপশিলী উপজাতি, দলিত, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, শিখ, ভারতীয় খ্রীস্টান, ইউরোপীয়, অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান প্রভৃতি গোষ্ঠীর জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা করা হয়। আম্বেদকর একে স্বাগত জানান। কিন্তু দলিত ও অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের তীব্র বিরোধিতা করেন গান্ধি। পুনার ইয়েরওয়াদা জেলে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইণ্ডিয়া সার স্যামুয়েল হোরকে লেখেন-" For me religion is one in essence, but it has many branches and if I, the Hindu branch, fail in my duty to the parent trunk, I am an unworthy follower of that one indivisible, visible religion…. My nationalism and my religion are not exclusive, but inclusive and they must be so consistently with the welfare of life.[3]"


অনশনরত গান্ধির স্বাস্থ্য যত খারাপ হতে থাকে, আম্বেদকরের ওপর চাপ ততই বাড়তে থাকে। অনশনে গান্ধির মৃত্যু হলে সারা দেশজুড়ে দলিতদের ওপর আক্রমণ নেমে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি সমঝোতায় রাজী হন। কারাগারে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে গান্ধি একটি আপোষপ্রস্তাবে সম্মতি দেন। এই পুনা-চুক্তি অনুযায়ী আম্বেদকর দলিতদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের দাবী থেকে সরে আসেন; একটিই অভিন্ন হিন্দু ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা হয়, তবে তার মধ্যে দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের বন্দোবস্ত হয়। বেশ কিছুকাল পরে আম্বেদকর লিখবেন-"..The Fast was not for the benefit of the Untouchables. It was against them and was the worst form of coercion against a helpless people to give up the constitutional safeguards [which had been awarded to them]."

ম্যাকডোনাল্ডের এই কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড ভারতের দুই প্রান্তের দুটি প্রদেশ- বাংলা ও পাঞ্জাবের রাজনীতিতে মেরুকরণের প্রক্রিয়াটি ত্বরাণ্বিত করে, যার অনিবার্য ফল হিসেবে আরো ১৫ বছর পরে ভারতের স্বাধীনতার লগ্নে এই দুটি প্রদেশ দু-টুকরো হয়ে যাবে। জাতীয় রাজনীতির মূলস্রোত থেকে কিছুসময়ের জন্য সরে এসে এই দুই প্রদেশের রাজনীতির চেহারা এবার একটু দেখে নেওয়া যেতে পারে।

নোটঃ
1.Kenneth Rose, King George V, p. 353.
2.Malcom Muggeridge:The Thirties in Great Britain, p.75.
3. https://www.thequint.com/news/politics/fast-unto-vote-gandhi-ambedkar-
and-separate-electorates-for-dalits






Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:18 Mar 2018 -- 10:19 PM

এঃ, গোলমাল হয়ে গেছে। ঠিক করছি।


Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:18 Mar 2018 -- 10:22 PM

১৯৩১ এর জানুয়ারি মাসে গান্ধি-নেহরু সহ কংগ্রেস নেতাদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। শান্তিস্থাপনের উদ্দেশ্যে বড়লাট লর্ড আরউইন গান্ধিকে ভাইসরয়-প্যালেসে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানান। গান্ধি সেখানে নিজের ব্যবহারের জন্য নিজের তৈরী নুন নিয়ে যান; আরউইন তা দেখেও না-দেখার ভান করেন। যদিও লন্ডনে চার্চিল এই ঘটনা নিয়ে প্রচুর শোরগোল তোলেন; এক "অর্ধনগ্ন সিডিশাস ফকির" ভাইসরয় প্রাসাদের সিঁড়ি বেয়ে উঠছে - এ দৃশ্যকে চার্চিল "বিবমিষা-উদ্রেককারী" বলে বর্ণনা করেন। আরইউন অবশ্য চার্চিলকে পাত্তা দেন নি।

১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ই মার্চ অবধি আলোচনার পর গান্ধি-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।ঠিক হয় কংগ্রেস তাদের অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন ও ব্রিটিশ পণ্যবর্জন প্রত্যাহার করবে এবং দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাবে। পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেবে, "স্বদেশী" আন্দোলনে বাধা দেবে না এবং উপকূলবর্তী ভারতীয়দের ওপর থেকে লবণ তৈরীর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। নেহরু অবশ্য এই চুক্তিকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেছিলেন। উপকূল অঞ্চলে লবণ তৈরী অনুমোদিত হলেও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল; সত্যাগ্রহীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের কোনো তদন্তে সরকার সম্মত হল না। কৃষকদের ওপরে চাপানো চড়া খাজনা প্রত্যাহৃত হল না। ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস নিয়েও কোনো উচ্চবাচ্য করা হল না।

কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে গান্ধি লন্ডন পৌঁছলেন।চার্লি চ্যাপলিন তখন লণ্ডনে ছিলেন।গান্ধির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। চ্যাপলিন জানান , তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি সহানুভুতিশীল; সেই সাক্ষাতে গান্ধি আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার প্রতি তাঁর বিরাগ প্রকাশ করেন। এর পাঁচ বছর বাদে চ্যাপলিন "মর্ডান টাইমস" তৈরী করবেন। গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো প্রভাব তাঁর এই চলচ্চিত্র তৈরির ওপরে পড়েছিল কিনা, তা অবশ্য বলা কঠিন।

বাকিংহাম প্যালেসে অবশ্য গান্ধির কপালে তেমন সমাদর জোটে নি।। রাজা পঞ্চম জর্জ দেশজোড়া অশান্তির জন্য গান্ধিকে অভিযুক্ত করেন। অস্বস্তিকর বৈঠকশেষে গান্ধি যখন বেরিয়ে আসছেন, তখনো রাজা বলতে ছাড়েন নি-"Remember Mr. Gandhi, I won't have any attacks on my empire." গান্ধি সবিনয়ে উত্তর দেন-" I must not be drawn into political argument in Your Majesty's Palace after receiving Your Majesty's hospitality."[1]

বৈঠক থেকে কংগ্রেসের খুব একটা কিছু পাওয়ার আশা ছিল না। শুরু থেকেই গান্ধিকে অন্যান্য প্রতিনিধিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। বাকি প্রতিনিধিদের প্রবল বিরুদ্ধতার মধ্যে গান্ধি দাবী করেন জাতীয় কংগ্রেসই ভারতের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী দল। এই বৈঠকে গান্ধি ও আম্বেদকরের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকটভাবে দেখা দেয়। প্রথম গোল টেবিল বৈঠকের সময় থেকেই আম্বেদকর দলিত ও অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের দাবী করে আসছিলেন। গান্ধি এই দাবীর প্রবল বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, দলিতরা হিন্দুধর্মেরই অংশ; তাঁরা কোনোভাবেই সংখ্যালঘু নন।

ব্যর্থ বৈঠক শেষে শূন্যহাতে ফিরে এলেন গান্ধি। দেশেও তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল বিরোধিতা। বম্বে পৌঁছে তাঁকে শ'দুয়েক দলিত বিক্ষোভকারীর কালো পতাকার সামনে পড়তে হয়।[2]

এর কয়েক মাস পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‌্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ভারতবর্ষের জন্য কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করলেন। উচ্চবর্ণ হিন্দু, তপশিলী উপজাতি, দলিত, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, শিখ, ভারতীয় খ্রীস্টান, ইউরোপীয়, অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান প্রভৃতি গোষ্ঠীর জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা করা হয়। আম্বেদকর একে স্বাগত জানান। কিন্তু দলিত ও অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের তীব্র বিরোধিতা করেন গান্ধি। পুনার ইয়েরওয়াদা জেলে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইণ্ডিয়া সার স্যামুয়েল হোরকে লেখেন-" For me religion is one in essence, but it has many branches and if I, the Hindu branch, fail in my duty to the parent trunk, I am an unworthy follower of that one indivisible, visible religion…. My nationalism and my religion are not exclusive, but inclusive and they must be so consistently with the welfare of life.[3]"


অনশনরত গান্ধির স্বাস্থ্য যত খারাপ হতে থাকে, আম্বেদকরের ওপর চাপ ততই বাড়তে থাকে। অনশনে গান্ধির মৃত্যু হলে সারা দেশজুড়ে দলিতদের ওপর আক্রমণ নেমে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি সমঝোতায় রাজী হন। কারাগারে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে গান্ধি একটি আপোষপ্রস্তাবে সম্মতি দেন। এই পুনা-চুক্তি অনুযায়ী আম্বেদকর দলিতদের জন্য পৃথক ইলেকটোরেটের দাবী থেকে সরে আসেন; একটিই অভিন্ন হিন্দু ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা হয়, তবে তার মধ্যে দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের বন্দোবস্ত হয়। বেশ কিছুকাল পরে আম্বেদকর লিখবেন-"..The Fast was not for the benefit of the Untouchables. It was against them and was the worst form of coercion against a helpless people to give up the constitutional safeguards [which had been awarded to them]."

ম্যাকডোনাল্ডের এই কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড ভারতের দুই প্রান্তের দুটি প্রদেশ- বাংলা ও পাঞ্জাবের রাজনীতিতে মেরুকরণের প্রক্রিয়াটি ত্বরাণ্বিত করে, যার অনিবার্য ফল হিসেবে আরো ১৫ বছর পরে ভারতের স্বাধীনতার লগ্নে এই দুটি প্রদেশ দু-টুকরো হয়ে যাবে। জাতীয় রাজনীতির মূলস্রোত থেকে কিছুসময়ের জন্য সরে এসে এই দুই প্রদেশের রাজনীতির চেহারা এবার একটু দেখে নেওয়া যেতে পারে।

নোটঃ
1.Kenneth Rose, King George V, p. 353.
2.Malcom Muggeridge:The Thirties in Great Britain, p.75.
3. https://www.thequint.com/news/politics/fast-unto-vote-gandhi-ambedkar-
and-separate-electorates-for-dalits


Name:   সিকি           

IP Address : 233.185.219.154 (*)          Date:19 Mar 2018 -- 07:05 AM

বাঃ, অনেকদিন পর।

পড়ছি।


Name:  dd          

IP Address : 59.205.217.195 (*)          Date:19 Mar 2018 -- 09:09 AM

আচ্ছা, আবার লিখতে শুরু করেছেন দেখছি। যদিও ঈকটুখানি মাত্র।

ভালো ভালো।


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.60.227 (*)          Date:19 Mar 2018 -- 10:37 AM

পড়ছি। অনেক ডিটেল জানছি, ধন্যবাদ


Name:  I          

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:25 Mar 2018 -- 01:48 AM

ভাবলে আশ্চর্য লাগে যে, ১৯০৫ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের বর্শামুখ যাঁরা ছিলেন, সেই হিন্দু বাঙালী "ভদ্রলোক" শ্রেণী তার ৪২ বছর পরে দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গের মুখে দাঁড়িয়ে কিভাবে আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিলেন। বিরোধিতা তো দূরের কথা, তাঁরা প্রবলভাবে( কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে) ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাভাগের দাবীতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এভাবেই বৃত্তটি সম্পূর্ণ হয়, ১৯০৫ সালের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ১৯৪৭ সালে এসে পরিণত হয় একটি প্রাদেশিক, জাতীয়তাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক আন্দোলনে। গবেষক জয়া চ্যাটার্জী তাঁর "Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition, 1932-1947" বইটিতে হিন্দু "ভদ্রলোক" বাঙালীর এই উলটপুরাণের খুঁটিনাটি বর্ণনা দিয়েছেন। যদিও এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে বাঙালী মুসলমান সম্প্রদায় দেশভাগ ও তজ্জনিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামায় সম্পূর্ণ নির্দোষ ও অসহায় প্রতিপক্ষের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আগেও বলা হয়েছে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতার মধ্যেকার সম্পর্ক চিরকালই বেশ জটিল থেকে গিয়েছে; কখনো তা বিরোধী, কখনো একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু একটা কথা সম্ভবতঃ নির্দ্বিধায় বলে ফেলা যায়, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ কখনোই সাম্প্রদায়িকতার "অপর" হিসেবে নির্মিত হয় নি।[1] জাতীয়তাবাদের সেকুলার আদর্শ হল "সর্বধর্মসম্ভব" [2] ; কিন্তু জাতীয়তাবাদী নেতাদের অধিকাংশই জাতীয় আন্দোলনকে ধর্মীয় অনুষঙ্গে ভাবতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ভারতীয়ত্বকে তাঁরা হিন্দুত্বের সঙ্গে এক করে দেখতেন, সচেতনে অথবা অবচেতনে। বাংলার ক্ষেত্রে কথাটি আরো বেশী সত্যি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বা স্বামী বিবেকানন্দ'র লেখালিখি, চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলনের হিন্দু রিচ্যুয়ালসমূহের কথা মনে করুন।[3]

অবশ্য এ কথা খুব সত্যি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এই মূল ধারা যদি সেকুলার না-ও হয়, তবুও তা সর্বার্থে সাম্প্রদায়িক কখনোই ছিল না। অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা এই আন্দোলনের সচেতন লক্ষ ছিল না; নেতারা ধর্মকে ব্যবহার করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র করতে, ধর্মীয় হানাহানির উদ্দেশ্যে নয়। উল্টোদিকে সাম্প্রদায়িক দলগুলির উদ্দেশ্যই ছিল ধর্মীয় বিভেদের জিগির তুলে রাজনৈতিক মাইলেজ যোগাড় করা। এই জায়গায় তারা শাসক ইংরেজের মতই বিশ্বাস করত -ভারত একটি নানান বিরুদ্ধ-মতাবলম্বী সম্প্রদায়ের সমাহার, যাদের মধ্যে কোনোদিনই মিলন সম্ভব নয়। ব্রিটিশ এই ভাবধারায় পুষ্ট এই দলগুলি স্বভাবতঃ কোনোকালেই উগ্র ব্রিটিশ-বিরোধিতার অবস্থানে যায় নি, তা সে হিন্দু মহাসভাই হোক কি মুসলিম লিগ। পরিবর্তে ব্রিটিশ সরকারও নিজের সুবিধামত তার স্নেহহাত বরাবরই এই দলগুলির মাথায় রেখেছে ( যেমন জাতীয় রাজনীতিতে মুসলিম লিগকে তার প্রাপ্যের তুলনায় বেশী মর্যাদা দেওয়া, অবিভক্ত বঙ্গে কংগ্রেস অথবা কৃষক প্রজা পার্টি'র বদলে হিন্দু মহাসভা অথবা মুসলিম লিগের সঙ্গে আলোচনায় অধিকতর আগ্রহ প্রকাশ)।

বাঙালী হিন্দু "ভদ্রলোক" শ্রেণী বলতে কী বোঝায়, সে বিষয়ে নানা ইতিহাসবিদ ও সমাজতাত্বিক নানা মত পোষণ করেছেন; সম্ভবতঃ কেউই একমত হতে পারেন নি। তবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের উপজাত এই ভদ্রলোক শ্রেণীর সম্পদের আসল উৎস ছিল জমি, সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত নন। এবং জমিজমার পরিমাণের হিসেব ধরলে ভদ্রলোক শ্রেণীর সর্বোচ্চ অংশ জমিদার থেকে সর্বনিম্ন অংশ তালুকদার অবধি বিভিন্ন স্তরে এঁদের আয়ের পার্থক্য ছিল অনেক। কিন্তু মিল ছিল এক জায়গায়-জমির খাজনা ছিল এঁদের সকলেরি মূল আয়ের উৎস। আয়ের জন্য এঁরা সাধারণতঃ শিল্প-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না; বরং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি এঁরা কিছুটা বিরূপ মনোভাবই পোষণ করতেন। ভদ্রলোকদের একটি অংশ ইংরেজী শিক্ষা ও সভ্যতাকে সাগ্রহে বরণ করে নিয়েছিলেন, যেমন করে একদা তাঁদের পুর্বপুরুষেরা মুঘ্ল ও নবাবী জমানায় ফারসি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রশাসনিক পদে নাম লিখিয়েছিলেন। অপর একটি অংশ অবশ্য ইংরেজী শিক্ষাকে বেশ বাঁকা চোখে দেখতেন, যদিও কালের ফেরে তাঁদের সে প্রতিরোধ টেঁকে নি। "বাবু" শব্দটি বঙ্কিমী গদ্যে নানাবিধ অর্থ নিয়ে উপস্থিত হলেও উনিশ শতকে বাবু বলতে জমিজমার মালিক হিন্দু উচ্চবর্ণ(অধিকাংশ ক্ষেত্রে), ইংরেজী-শিক্ষিত, ইংরেজ-ঘেঁষা মানুষজনকেই বোঝাতো।[4]

১৮৮৫ সালের বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্টের দৌলতে জমিদারী থেকে প্রাপ্ত খাজনার পরিমাণ যথেষ্ট কমে আসে; খাজনা আদায় করাও দুষ্কর হয়ে ওঠে। জমিমালিকেরা আয় বজায় রাখতে আরো বেশী করে ইংরেজীশিক্ষাকে আঁকড়ে ধরেন। রাজা রামমোহন রায় যতই Practical training ও "Useful science"-এর কথা বলুন না কেন, মেহনতে অনভ্যস্ত বাবু সম্প্রদায়ের ছাত্রদের মধ্যে সাহিত্য ও হিউম্যানিটিজ-এর কদর ছিল সবচেয়ে বেশী। পেশাদারী শিক্ষার মধ্যে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা ও আইনের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ছিল; কিন্তু উভয় পেশাতেই আর্থিক সচ্ছলতা লাভ এখনকার মতই তখনো ছিল সময়্সাপেক্ষ ব্যাপার। কেবলমাত্র বিত্তশালী পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হত দীর্ঘকাল ধরে ডাক্তারী ও আইনের ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা যুগিয়ে যাওয়া। স্বভাবতঃই এইসব পেশাতে উচ্চবিত্ত হিন্দুরাই টিকে থাকতে পারতেন। এইভাবে জমিদারী প্রথার অস্তাচলের কালেও ইংরেজী শিক্ষার হাত ধরে হিন্দু ভদ্রলোক সম্প্রদায় সমাজে তাঁদের প্রাধান্য ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। বঙ্গীয় রেনেসাঁসের উত্তরাধিকারী হিসেবে এঁরা প্রগতি ও আধুনিকতার মশাল-বাহক হিসেবে নিজেদের চিনতে শিখবেন ও সেই সুবাদে বাঙ্গালী সমাজে নিজেদের পুরনো প্রাধান্য বজায় রাখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

আলোকপ্রাপ্ত আধুনিক "শিক্ষিত সম্প্রদায়" বা "শিক্ষিত মধ্যবিত্ত" এই বহিরঙ্গের ভেতরে যদিও থেকে যাবে গ্রামীণ Landed Elite-এর মর্যাদা, জাতিভেদ প্রথার উচ্চতর ধাপে অবস্থানের সুবিধা,ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় কর্তৃত্বের সুযোগ- ইত্যকার নানাবিধ দ্বন্দ্ব। হিন্দু ভদ্রলোকদের প্রতিষ্ঠিত শুরুর দিককার রাজনৈতিক সংগঠনগুলির একটি ছিল "Landholder's Society"। দুধ ও তামাক কোনোটাই না ছাড়ার এই ভদ্রলোকীয় প্রবৃত্তির প্রতিফলন পড়বে তার রাজনীতিতেও। ঠিক যেমন ভদ্রলোকের এক পা ছিল শহরের "বাসা"য় ও অন্য পা গ্রামের "বাড়ি"তে, তেমনি তার রাজনীতির রেটোরিক কলকাতা-কেন্দ্রিক ও নাগরিক হলেও জমিদারী ও খাজনা-আদায় সংক্রান্ত ইস্যুতে তার দায়বদ্ধতা ছিল দর্শনীয়। এই টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় পাশ্চাত্য শিক্ষা-সভ্যতা ও আধুনিকতার ঝলমলে আলোর পেছনে অলক্ষে গজিয়ে উঠবে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদী আদর্শের খড়-কাঠামো।[5] কেম্ব্রিজ-শিক্ষিত অরবিন্দ ঘোষ প্রচার করবেন "রাজনৈতিক বেদান্ত", ব্রাহ্ম বিপিন চন্দ্র পাল ও সরলা দেবী স্বাধীনতা-আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করবেন কালীপূজা ও শিবাজি-উৎসবকে।[6] সশস্ত্র বিপ্লবী সমিতিগুলির ভেতরে কাজ করে চলবে শাক্ত দর্শন।[7].

নোটঃ
1. Gyanendra Pandey, The Construction of Communalism in Colonial North India, New Delhi, 1990, pp. 2, 241.

2. Prakash Chandra Upadhyaya, 'The Politics of Indian Secularism', Modern Asian Studies, vol. 26,4, 1992, pp. 815-853.

3. Partha Chatterjee, 'Transferring a Political Theory: Early Nationalist Thought in India',Economic and Political Weekly, vol. 21, 3, 18 January 1986; Barbara Southard, 'The Political Strategy of Aurobindo Ghosh'; Swami Vivekananda (edited by Eknath Ranade), Utthishtat! Jagrat! Hindu Rashtra ha Amar Sandesh, ('Arise! Awaken! The Immortal
Message of the Hindu Nation'), Lucknow, 1972.

4. S. N. Mukherjee notes that the word 'babu', of Persian origin, was 'always used as a term
of respect for Bengali Hindus of the higher orders'. 'Bhadralok in Bengali Language and
Literature. An Essay on the Language of Caste and Status', Bengal Past and Present, vol.
181, 1976, p. 233.

5.Tapan Raychaudhuri, Europe Reconsidered. Perceptions of the West in Nineteenth Century Bengal, New Delhi, 1988, pp. 8-9.

6.Barbara Southard, 'The Political Strategy of Aurobindo Ghosh', p. 366; Sumit Sarkar,
The Swadeshi Movement, pp. 304-305.

7.Rajat Kanta Ray, Social Conflict and Political Unrest in Bengal, p. 177.




Name:  I          

IP Address : 160.129.133.218 (*)          Date:25 Mar 2018 -- 11:51 PM


বিশ শতকের শুরুতে গোটা বাংলার হিসেব ধরলে মুসলিমরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ (হিন্দুদের তুলনায় সামান্যই বেশী, কিন্তু তাও সংখ্যাগরিষ্ঠ); পূর্ববাংলায় অবশ্য তাদের সংখ্যা ছিল অনেকই বেশী। সংখ্যার হিসেবে পিছিয়ে থাকলেও হিন্দু ভদ্রলোক তার "কালচারাল" তথা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাধান্য বজায় রেখেছিল। মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিফর্মের ডায়ার্কি বন্দোবস্ত তাতে কিছুটা ধাক্কা মারলেও অবস্থা বিশেষ একটা পাল্টায় নি। বেঙ্গল কাউন্সিলে তখনো মুসলিমদের তুলনায় হিন্দুদের পরিষ্কার সংখ্যাধিক্য (৩৯ বনাম ৪৬)।[1] কিন্তু ম্যাকডোনাল্ডের কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড এসে পাশার দান সম্পূর্ণই উল্টে দিল। এর পরপরই গান্ধি-আম্বেদকরের পুনা চুক্তি বর্ণহিন্দুদের রাজনৈতিক আকাঙ্খার গোড়ায় ছাই ঢেলে দেয়। এত কিছুর পরেও হিন্দু ভদ্রলোক বাঙ্গালী হয়তো চালিয়ে নিতে পারতো, কিন্তু ১৯৩০-এর মহামন্দা তাদের অবস্থা খারাপ করে দেয়। কৃষিপণ্যের দাম ও গ্রামীণ সুদ হঠাৎই চড়চড় করে নেমে আসে। খাজনা ও পাওনা আদায় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে- অথচ এসবই ছিল ভদ্রলোকদের আয়ের মূল উৎস। পাওনা আদায়কারীদের ক্ষমতা কমে আসার সাথে সাথে বর্ধিষ্ণু রায়তদের ক্ষমতাও ক্রমেই বাড়তে থাকে। এইসব বর্ধিষ্ণু রায়তদের অধিকাংশ ছিল মুসলিম। বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে তারা ক্রমেই জমিদারদের অমান্য করে গ্রামীণ সমাজে নিজেদের আর্থিক-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বাড়িয়ে চলে। ১৯৩৫-এর ভারত শাসন আইন বর্ধিষ্ণু কৃষকদের ভোটাধিকার দিলে আইনসভাতেও তারা তাদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করে। এদের সমানে উৎসাহ যুগিয়ে যেতে থাকে একটি ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুসলিম বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী।

ম্যাকডোনাল্ডের কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড আসন বন্টনের ক্ষেত্রে গোষ্ঠীগুলির জনসংখ্যার অনুপাতের পরিবর্তে তাদের "গুরুত্ব"-র (বকলমে ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্য) ওপরে বেশী প্রাধান্য দিয়েছিল। ফলতঃ বাংলার জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম হওয়া সত্বেও ইউরোপীয়ান জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ শতাংশ আসনের বরাদ্দ করা হয়; অনুন্নত জাতিসহ হিন্দুরা পায় ৮০ টি আসন (অর্থাৎ ৩২ শতাংশ), যদিও ১৯৩১এর জনগণনা অনুযায়ী তাদের জনসংখ্যার অনুপাত ছিল ৪৪ শতাংশ। মুসলিমরাও তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের শিকার হয়, যদিও তাদের অবস্থা ছিল হিন্দুদের তুলনায় ভালো। জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ হওয়া সত্বেও তারা পায় ১১৯ টি (মোট আসনের ৪৭.৮ শতাংশ) আসন।[2]পুনা চুক্তির সৌজন্যে হিন্দুদের এই ৮০ টি আসনের মধ্যে আবার ১০টি আসন বরাদ্দ ছিল অনুন্নত শ্রেণীর জন্য। ফলতঃ ২৫০ আসন বিশিষ্ট বঙ্গীয় আইনসভায় বর্ণহিন্দুদের ভাগে জুটল ৭০ টি আসন। মুসলিমরা এই প্রথম আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেটল্যান্ড এর ফলে সাম্প্রদায়িক অশান্তিবৃদ্ধি হতে পারে, এই আশঙ্কা করে দিল্লিকে জরুরী চিঠি পাঠান; বলা বাহুল্য, দিল্লি সে চিঠি অগ্রাহ্য করে।

কিন্তু জেটল্যান্ডের আশঙ্কার যথাযথ কারণ ছিল। হিন্দু ভদ্রলোকদের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া হল মারাত্মক। চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর তাঁর তখত দখল করা নিয়ে বাংলার কংগ্রেস (বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কংগ্রেস কমিটি) দুটি প্রতিদ্বন্দী শিবিরে বিভক্ত ছিল-দুই শিবিরের নেতা ছিলেন যথাক্রমে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও সুভাষ চন্দ্র বসু। গান্ধির আইন অমান্য আন্দোলনের ডাকেও দুই শিবির এক হয় নি, যে যার মত করে কর্মসূচী পালন করেছিল। কিন্তু কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড এই দুই শিবিরকে এক করল। সেনগুপ্ত শিবিরের মুখপত্র আদ্ভে পত্রিকায় লেখা হল-'.... the claims of the Hindus have been ignored completely and perhaps deliberately'. সরকারকে সতর্ক করে আরো লেখা হল-...( the Hindus) would not 'submit to such a sweeping, almost revolutionary change'. বসু শিবিরের পত্রিকা Liberty তে লেখা হল-....The Hindus are rendered politically impotent, and the reaction of this process on the cultural, economic and political life of the province will be disastrous.[3].

প্রতিক্রিয়ার এই ধরণটা ছিল বিপজ্জনক। ভারত সরকারের ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতি, ইউরোপীয়দের অন্যায্যভাবে বেশী আসন পাইয়ে দেওয়া, গভর্নরের ডিসক্রিশনারী পাওয়ার -এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার বদলে হিন্দু ভদ্রলোক (কংগ্রেস-অকংগ্রেস নির্বিশেষে) তাঁদের ক্রোধের অভিমুখটি ঘুরিয়ে দিলেন মুসলিমদের দিকে। কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড যে আসলে মুসলিমদেরই চক্রান্ত (ব্রিটিশদের নয়) এমন ধারণা তৈরী হতে থাকল। হিন্দু সভার বি। সি চ্যাটার্জি একে বর্ণনা করলেন বাঙ্গালী হিন্দু "জিনিয়াস"-এর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে। বললেন, মুসলমানকে গদিতে ফিরিয়ে আনার অর্থ হবে পলাশীর যুদ্ধের আগেকার অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়া।[4] ব্রিটিশ শাসনকে মুসলিম শাসনের তুলনায় কাঙ্খিত বলে প্রচার করা শুরু হল। কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাঙ্গালী হিন্দুদের কী করণীয়, এই বিষয়ে একটি সভা আহুত হল অ্যালবার্ট হলে। তাতে যেমন উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের শরৎ চন্দ্র বসু, তেমনি ছিলেন হিন্দু সভার ডঃ রাধাকুমুদ মুখার্জি, এমনকি কট্টর ব্রিটিশভক্ত ব্যবসায়ী সার বিজয় প্রসাদ সিংহ রায়। উপস্থিত মান্যগণ্যদের অনেকেই "Bengal Anti-communal Award Movement" এর পদাধিকারী হলেন। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় বা মতাদর্শগত ভেদাভেদ ছিল না।

অ্যাওয়ার্ড-বিরোধী প্রচারে বলা হল হিন্দু সমাজ একটি সুসংবদ্ধ , ঐক্যবদ্ধ মনোলিথিক সমাজ। কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ড এই মহান সম্প্রদায়কে চিরকালের জন্য সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিকভাবে অনুন্নত মুসলমানদের দাসে পরিণত করবে। যে কথা বলা হল না , তা হল তথাকথিত এই "সংস্কৃতি" মূলত হিন্দু ভদ্রলোকের সংস্কৃতি। তার সঙ্গে হিন্দু সমাজের গরিষ্ঠ অংশ রাজবংশী, মাহিষ্য, কৈবর্ত, সদগোপ কিংবা অস্পৃশ্য হাঁড়ি-ডোম-বাগদি-বাউরির সংস্কৃতির কোনো মিল নেই।

সেই সময়কার একটি প্রভূত-পঠিত মেমোরিয়ালে বাংলার গভর্নরকে লেখা হল -
"...the enormously predominant part [the Hindus of Bengal] ... have played under the British in the intellectual, the cultural, the political, the professional, and the commercial life of the province ... The Hindus of Bengal, though numerically a
minority, are overwhelmingly superior culturally, constituting as much as 64 percent of the literate population ... while their economic preponderance is equally manifest in the spheres of the independent professions.[5]
এই মেমোরিয়ালের স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ভদ্রলোক বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র; যথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ব্রজেন্দ্র নাথ সীল, ডঃ প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রমুখ।

নোট;
1.Parliamentary Papers on the Montagu-Chelmsford Reforms, Command 812, pp. 295-299.
2. Census of India 1931, Bengal and Sikkim, vol. V, part 1. Report by A. E. Porter, pp. 381-388.
3. Advance, 17 August 1932, Liberty, 17 August 1932.
4.The Betrayal of Britain and Bengal, by B. C. Chatterjee, undated. Zetland Collection, IOLR MSS Eur D/609/21/(h)b.
5. Memorial by Hindu leaders, forwarded by the Maharaja of Burdwan to Lord Zetland, 4 June 1936. Zetland Collection, IOLR MSS Eur 207/6.33.


Name:   I           

IP Address : 57.15.104.66 (*)          Date:14 Apr 2018 -- 09:25 PM

বাঙালী মুসলিমদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোকদের মত এমন একবগ্গা ছিল না।বিশের দশকের শেষদিক থেকেই বাঙালী মুসলিমদের মধ্যে কংগ্রেসের প্রভাব ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। চিত্তরঞ্জন দাস তাঁর জীবৎকালে মুসলিমদের কংগ্রেসে ধরে রাখার জন্য একটি চুক্তি করেছিলেন। এই চুক্তিতে পৃথক ইলেকটোরেটকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং ঠিক হয়েছিল, যে জেলায় যে সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তারা সেই জেলার স্থানীয় নির্বাচনে ৬০ % আসন দখলে রাখতে পারবে। সেই হিসেব ধরলে অবিভক্ত বাংলার ১৬টি জেলায় মুসলিমরা এবং ৯টি জেলায় হিন্দুরা ৬০% আসনের দখলদার হয়; কিন্তু কংগ্রেসের হিন্দুপ্রধান নেতৃত্ব এর প্রবল বিরোধিতা করে, সেটিকে কার্যকরী হতে দেয় না; অবশেষে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে দাস-চুক্তিরও চিরতরে অবসান ঘটে।[1] অনেক মুসলিম কংগ্রেসীই এতে আহত , অপমানিত বোধ করেন ও কংগ্রেস ছেড়ে দেন। সত্যাগ্রহ ও খিলাফৎ আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক মৈত্রীও আন্দোলন- অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ফুরিয়ে আসে। কংগ্রেস যে মূলতঃ একটি হিন্দুদের সংগঠন, সে ধারণা ক্রমেই বাঙালী মুসলিম জনমানসে বদ্ধমূল হতে শুরু করে। ১৯২৮ সালে বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল আনা হলে কংগ্রেস/স্বরাজ্যপার্টির সবস্তরের নেতারা রায়তের বিরুদ্ধে জমিদারের স্বার্থরক্ষার জন্য বিলের বিরোধিতায় হই হই করে নেমে পড়েন। স্বভাবতই রায়তরা, যাঁদের অধিকাংশই মুসলিম, বড়লোক হিন্দু জমিদারদের জন্য কংগ্রেসের এই প্রীতি ভালো চোখে দেখেন নি।

কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এলেও বাঙালী মুসলিমরা তখনো একটি নির্দিষ্ট দল বা সংগঠনের ছত্রছায়ায় এসে দাঁড়াতে পারেন নি। অন্ততঃ ১৯৩২ সালে ম্যাকডোনাল্ড অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা হওয়ার সময়ে তো নয়। বিভিন্ন মুসলিম নেতা বিভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়া জানান। জাতীয়তাবাদী মুসলিম নেতারা, যেমন ফজলুল হক এই অ্যাওয়ার্ডের তীব্র বিরোধিতা করেন; তাঁর মনে হয়েছিল এই অ্যাওয়ার্ড সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়িয়ে তুলবে( যদিও ঠিক তার পরদিনই তিনি তাঁর সুর নরম করে ফেলবেন)। অনেক মুসলিম নেতা আবার মনে করছিলেন পৃথক ইলেকটোরেটের সাহায্য ছাড়াই তাঁরা তাঁদের প্রতিনিধিদের জিতিয়ে আনতে পারবেন( বস্তুতঃ পূব বাংলার বিস্তীর্ণ মফস্বঃলের স্থানীয় নির্বাচনগুলিতে এমন ঘটনা সত্যিই ঘটছিল)। তাঁরা বরং চেয়েছিলেন শিক্ষা ও জমি-মালিকানা নির্বিশেষে সর্বসাধারণের ভোটাধিকার ( সেসময় একুশ বছর-বয়স্ক বা তদুর্ধ পুরুষ, ন্যুনতম ম্যট্রিকুলেশন পাশ জমিমালিক, যাঁরা কমপক্ষে ৮ আনা সেস অথবা ৬ আনা চৌকিদারী কর দিতেন, তাঁদেরই ভোট দেওয়ার অধিকার স্বীকৃত ছিল)[2]; সেক্ষেত্রে তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা আরো জোরদার হত।

কিন্তু অ্যাওয়ার্ডের বিরোধিতায় হিন্দু নেতাদের এককাট্টা হতে দেখে মুসলিম নেতৃত্বর সুরবদল ঘটে। তাঁরাও ঐক্যবদ্ধভাবে অ্যাওয়ার্ডকে সমর্থন করতে শুরু করেন। ফজলুল হক পর্যন্ত বলে বসেন- 'I am prepared to be hanged if I cannot demonstrate to the satisfaction of any judge that the Hindus of Bengal constitute the very personification of communalism based on intense selfishness'. [3] সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিষবাষ্পে ছেয়ে যায় বঙ্গীয় রাজনীতির আকাশ।

ম্যাকডোনাল্ডের অ্যাওয়ার্ডের থেকেও গান্ধি-আম্বেদকরের পুনা চুক্তি বর্ণহিন্দু বাঙালীর পক্ষে বেশী বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এক তো এর ফলে বঙ্গীয় আইনসভায় বর্ণহিন্দু বাঙালীর আসনসংখ্যা ৩২% থেকে কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিপদ ঘটে মতাদর্শগত স্তরে। বর্ণহিন্দু নেতারা সম্প্রদায় হিসেবে হিন্দু বাঙ্গালীর যে একটি মনোলিথিক ধারণা তুলে ধরছিলেন, যারা শিক্ষা-সংস্কৃতি-সভ্যতায় মুসলিম বাঙালীদের তুলনায় অনেক উন্নত এবং সেকারণেই বাংলার রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক/সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের যোগ্য, সে ধারণাটিতে বড়সড় আঘাত হানে এই পুনা চুক্তি। এই চুক্তির হিসেবে বাঙালী হিন্দুর ৫০ শতাংশই "নীচ জাতি", যারা অচ্ছ্যুত যদি নাও হয়, অন্ততঃ "সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অনগ্রসর"।[4] বাঙালী হিন্দু নেতারা দাবী করেন , বাংলায় জাতিভেদ প্রথার বাড়াবাড়ি নেই; অচ্ছ্যুতের সংখ্যা যৎসামান্য। গোটা ভারতবর্ষের প্রেক্ষিত মনে রাখলে তাঁদের বক্তব্যে কিছুটা সারবত্তা ছিল বলেই মনে হয়; তবে তাঁরা যতখানি দাবী করেছিলেন, ছবিটা মোটেও তত ভ্রাতৃত্বমূলক ছিল না। সেন্সাস কমিশনারের হিসেবমত ১৯৩১ সালে বাংলায় ৬০ লক্ষের বেশী মানুষ অচ্ছ্যুত বলে চিহ্নিত হতেন। এঁদের মধ্যে মেথরের কাজ-করা ডোম, ভুঁইমালি, হাঁড়ি, ক্যাওড়া ছাড়াও ছিলেন আরো অন্ততঃ ৪০ টি গোষ্ঠী- চামার, মুচি, শুঁড়ি, পাটনি,বাগদি, বাউড়ি, হাজং প্রভৃতি। এঁরা ছাড়াও ছিলেন আরো ১৮টি আদিবাসী গোষ্ঠী ও আরো ৪০ টি নীচু জাত, যাঁরা সরাসরি অচ্ছ্যুত না হলেও , কমিশনারের ভাষায়- 'whose social, economic and other circumstances are such that [they] will be unable to secure adequate representation of [their] political views or adequate protection of [their] interests without some form of franchise concession'.[5]

দেশ জুড়েই বর্ণহিন্দুর এই বিপন্নতা প্রশাসক ইংরেজরা লক্ষ করেছিলেন। ফ্র্যানচাইজি কমিশনার লোথিয়ান লিখছেন-'... caste Hindus who are desperately afraid that the great mass of Hindu society is going to be split by the breaking away of the depressed classes into a separate political entity, thereby endangering their majority in India as a whole . . . and producing a situation in which the Moslems,depressed classes and other minorities may be able to combine to make a majority against them'. [6] এই প্রবণতাকে রোধ করতেই গান্ধি অনশনে বসেন ও পুনা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যদিও বাংলার বর্ণহিন্দুদের ক্ষেত্রে তা 'উল্টা বুঝলি রাম' হয়ে দাঁড়ায়।

নোটঃ
1.Ujjwalkanti Das, 'The Bengal Pact of 1923 and its Reactions', Bengal Past and Present, vol. 99, I, 188, 1980, pp. 29-45.
2.Bengal Village Self-Government Act of 1919, Union Board Manual, vol. I, Alipore 1937.
3.Kenneth MacPherson, The Muslim Microcosm, p.126.
4. Joya Chatterjee, Bengal Divided : Hindu Communalism and Partition, 1932-47, Cambridge University Press (2002), p.36.
5. Census of India, vol. V, p. 499.
6. Lothian to Anderson, 4 May 1932. John Anderson Collection, IOLR MSS Eur F/207/3.





এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3]     এই পাতায় আছে31--60